Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

১৪ই সেপ্ঢেম্বর প্রভাত সঙ্গীত দিবসে কলকাতায় প্রভাত সঙ্গীত উৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা
Fri, 20-09-2019

গত ১৪ই সেপ্ঢেম্বর প্রভাত সঙ্গীতের ৩৭ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে কলকাতায় আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কেন্দ্রীয় আশ্রমে মহাসমারোহে প্রভাত সঙ্গীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়৷  এখানে উল্লেখ্য এখন থেকে ৩৭ বছর পূর্বে ১৯৮২ সালের ১৪ই সেপ্ঢেম্বর দেওঘরের শান্ত স্নিগ্দ পরিবেশে মহান দার্শনিক পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার  (মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী) প্রভাত সঙ্গীত রচনা শুরু করেন৷ সেদিন থেকে ১৯৯০ সালের ২০শে অক্টোবর তাঁর মহাপ্রয়াণের আগের  দিন পর্যন্ত ৫০১৮ টি প্রভাত সঙ্গীত রচনা ও সুরারোপণ করেন৷

গত ১৪ই সেপ্ঢেম্বর, প্রভাতসঙ্গীত দিবসে কলকাতায় আনন্দমার্গ আশ্রমের জাগৃতি ভবনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ প্রথমে  প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন এর পর কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর প্রভাত সঙ্গীত উৎসবের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংঘের  কার্যরত সাধারণ সম্পাদক  আচার্য সুতীর্র্থনন্দ অবধূত৷ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কার্র্যলয় সচিব আচার্য সুধাক্ষরানন্দ অবধূত,  জনসংযোগ সচিব আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত, মহিলা বিভাগের সচিব অবধূতিকা আনন্দ বিশোকা আচার্যা. অবধূতিকা আনন্দ করুণা আচার্য প্রমুখ৷ প্রভাত সংগীতকার পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকারের প্রতিকৃতিতে সবাই মাল্যদান  করেন, এরপর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা করেন৷ তিনি তাঁর বক্তব্যে  বলেন ১৯৮২ সালে পরম শ্রদ্ধেয় ‘বাবা’ প্রভাত সঙ্গীত রচনা শুরু করার সময় তিনি অষ্ট্রেলিয়ায় ছিলেন৷ ‘বাবা’র সঙ্গীত রচনার সঙ্গে সঙ্গেই সারা পৃথিবীতে সমস্ত ভাষাভাষী আনন্দমার্গীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিলেন ও সবাই  প্রভাত সঙ্গীত অভ্যাস শুরু করে দিয়েছিলেন৷ আচার্য সুতীর্থানন্দজী বললেন, তখন তিনি অষ্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে ছিলেন৷ ওখানকার  আনন্দমার্গীরা একটা  প্রভাত সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন৷ সংযোগ বশতঃ কলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার এক  সাংবাদিক তখন  পার্থ শহরে  ছিলেন৷ হঠাৎ  তাঁর  কানে আসে বাংলা ভাষায় গানের  সুর৷ বিদেশ বিভুঁইয়ে বাংলা ভাষায় গানের সুর অনুসরণ করে  অনুষ্ঠান-হলের  সামনে আসেন৷ রিশেপসন অফিসে এসে বাংলা গানের  অনুষ্ঠান  সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করতেই  অনুষ্ঠানের  উদ্যোক্তারা তাঁকে অনুষ্ঠান হলে নিয়ে যান৷ তিনি  বিদেশীদের কন্ঠে বাংলা প্রভাত সঙ্গীত শুনে  আনন্দে উদ্বেলিত  হয়ে উঠেন৷ পরে আনন্দবাজারে তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ তাতে  অষ্ট্রেলিয়ার বাংলা প্রভাতসঙ্গীতের অনুষ্ঠান শুনে তিনি দারুণ আনন্দ ও বিস্ময়ের ভাব প্রকাশ করেন৷ এইভাবে সব দেশের আনন্দমার্গীদের মধ্যেই প্রভাতসঙ্গীত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷

আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সেই সময়কার বাবার সঙ্গে একটি ঘটনার কথা বলেন৷ তন্ময়ানন্দজী সন্ন্যাসী হওয়ার আগে থেকেই তবলার চর্চা করতেন৷ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তব্লাও বাজাতেন৷  বাবা যখন প্রথম প্রথম প্রভাত সঙ্গীত দিচ্ছেন, সেই সময় তন্ময়ানন্দজী একদিন ভাবলেন, বাবা যদি ক্ল্যাসিক্যাল সুরে  প্রভাত সঙ্গীত দিতেন তো খুব ভাল হ’ত৷ সেদিন বাবার সামনে অনেকে বসেছিলেন৷ বাবা একজন সন্ন্যাসীকে বললেন তুমি  ঠুংরিতে একটা  গান গাওতো৷ সন্ন্যাসীটি বল্লেন, বাবা,  আমি তো গান গাইতে পারি না ৷  বাবা তখন দৃশ্যতঃ খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ করলেন৷ তারপর তন্ময়ানন্দজি বসেছিলেন৷ তন্ময়ানন্দজীকে বললেন, তুমি ক্ল্যাসিক্যাল সুরে  একটা গান গাও৷ তন্ময়ানন্দজী বললেন, বাবা আমি তবলা বাজাই ক্ল্যাসিক্যাল সুর আমার  খুবই প্রিয়, কিন্তু  আমি তো গান গাইতে পারি না৷ তখন বাবা দৃশ্যতঃ বিরক্তি প্রকাশ করে একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন৷ এরপর বাবা  নিজেই  মালকোষ সুরে আলাপ শুরু  করলেন৷  তন্ময়ানন্দজী বললেন, আমি তো বাবার কন্ঠে  অত্যন্ত সুমধুর সুরে  এই আলাপ শুণে আনন্দে  আত্মহারা হয়ে উঠলুম৷ বাবা এবার থেমে তন্ময়ানন্দজী  দিকে তাকালেন৷ তন্ময়ানন্দজী আবেগ তাড়িত হয়ে বলে উঠলেন, এইটাই তো  মালকোষ সুর বাবা, দারুণ ভাল  লাগছে৷  বাবা একটু  মুচকি হাসলেন  বললেন, আমিও তাহলে  একটু আধটু মালকোষ জানি৷  কী বল!

এরপর বাবা একের পর এক বিভিন্ন ভাব, ভাষা, সুর ও ছন্দে প্রভাতসঙ্গীতের ডালি পূর্ণ করে চললেন৷  এইভাবে ধ্রুপদী, ঝুমুর, বাউল, টপ্পা, গজল, কীর্ত্তন প্রভৃতি  সুরের পাশাপাশি পার্সিয়ান, চাইনিজ, ইজরায়েলী,স্ক্যাণ্ডিনেভিয়ান,  আইবেরিয়ান সুরেও  বাবা গান দিয়েছেন ৷  এমনকি আড়াই  হাজার বছর  আগে লুপ্ত হওয়া বৌদ্ধ সুরও  তিনি বাদ দেননি৷  সমস্ত সুর মিলেমিশে  প্রভাত সঙ্গীতের  ঝর্ণাধারায় এক অপূর্ব সিঞ্জিন সৃষ্টি হয়েছে৷

প্রভাত সঙ্গীত ও প্রভাত সঙ্গীতের স্রষ্টার ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর রাওয়া (রেণেশাঁ আর্টিষ্ট এ্যণ্ড রাইটার্স এ্যাসোসিয়েশন) শিল্পিদের দ্বারা প্রভাত সঙ্গীতের বিপুল ভাণ্ডার থেকে কয়েকটি  সঙ্গীত পরিবেশন ও কিছু সঙ্গীতের ওপর  নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে এদিনের প্রভাত সঙ্গীত উৎসব আনন্দমূখর হয়ে ওঠে৷ প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন এককভাবে আচার্য প্রিয়শিবানন্দ অবধূত, শুভেন্দু দাশ, অসিতিমা দেবনাথ, কণিকা দেবনাথ, শুভঙ্কর হালদার ও শিশু শিল্পী দিব্যজ্যোতি রায়৷

এছাড়া অবধূতিকা আনন্দ অভীষা আচার্যা  ও কলকাতার ভুক্তিপ্রধান শ্রীমতী সুনন্দা সাহার পরিচালনার সমবেত কন্ঠেও  প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়৷

প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে বেশ কয়েকটি নৃত্য পরিবেশন করে নরেন্দ্রপুর আনন্দমার্গ শিশুসদনের  মেয়েরা, তারা সমবেত কন্ঠে প্রভাত সঙ্গীত  পরিবেশন করে ও  দর্শকদের আনন্দ দেয়৷ উৎসব শেষে সবাই  প্রসাদ গ্রহণ করেন৷

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved