‘ভারতীয় সংবিধান’ প্রকাশ থেকে শুরু করে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ একাধিক ভাষা ব্যবহার হলেও ব্রাত্য রইলো বাংলা ভাষা! কেন্দ্রের হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বাংলা ও বাঙালী বিদ্বেষের তীব্র প্রতিবাদ জানালো ‘আমরা বাঙালী’
গত ২৬শে নভেম্বর ‘সংবিধান দিবসে’ ৯টি ভাষায় সংবিধান প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলা ভাষায় সংবিধান প্রকাশ না করা, সংসদে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘জয় হিন্দ’ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’এ নিষেধাজ্ঞা ও কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র টেলিফোন নম্বরে ৬টি ভাষায় কথা বলার সুযোগ থাকলেও ব্রাত্য রইলো বাংলা ভাষা!! এইগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলা ভাষা ও বাঙালী জাতি বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করলো ‘আমরা বাঙালী’ দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস৷
তিনি আরো বলেন--- গত ২৬শে নভেম্বর সংবিধান দিবসে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশ নেপালের নেপালী ভাষা, মালায়ালম, পঞ্জাবী, বোড়ো, কশ্মীরী, তেলেগু, ওড়িয়া, অহমিয়া--এই ভাষা গুলোয় সংবিধান প্রকাশ করলেও ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা, যে ভাষায় ভারতের জাতীয় সঙ্গীত সেই ‘বাংলা ভাষা’য় সংবিধান প্রকাশ করলো না৷ নেপাল কি ভারতবর্ষের কোনো রাজ্য ? না, নেপাল বিদেশী রাষ্ট্র৷ যে নেপাল চীনের দালালি করে, যে গোর্খারা পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে আলাদা ‘গোর্খাল্যাণ্ডে’র নামে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করার চেষ্টা করে, তাদের নেপালী ভাষাতেও সংবিধান প্রকাশিত হলো, অথচ যে বাঙালী জাতির রক্তে ভারতবর্ষ ব্রিটিশ মুক্ত হলো, সেই বাঙালী জাতির মাতৃভাষা বাংলা ভাষায় সংবিধান প্রকাশ না করা একদিকে বাঙালী জাতির চরম অপমান, পাশাপাশি এই অপমান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাঙালী বিপ্লবীদের অপমান!! আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাবী রাখছি, অবিলম্বে ভারতীয় সংবিধান বাংলা ভাষায় প্রকাশ করতে হবে৷
ভোটের স্বার্থে মুখে ‘সোণার বাংলা’র কথা বললেও মনেমনে এই কেন্দ্রীয় সরকার যে চরম বাংলা ভাষা ও বাঙালী বিদ্বেষী তার আর এক প্রমান, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র টেলিফোন সংযোগে হিন্দী, ইংরেজী, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালম ভাষায় কথা বলার অপশন থাকলেও অবহেলার স্বীকার বাঙালী জাতির মাতৃভাষা বাংলা ভাষা!! এতে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা সহ বহু অঞ্চলের বাংলাভাষীরা অসম্মানিত বোধ করছেন৷ অতীতেও দেখেছি সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়নি, আমাদের তীব্র আন্দোলন ও লোকসভা নির্বাচনের স্বার্থে ওরা বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হলো৷ অবাক হয়ে দেখেছি সংসদে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দেমাতরম’ ধবনি দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারির গেরুয়া ফতেয়া!! আমরা তো জানি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দেমাতরম’ ধবনি শুনলে ব্রিটিশের আত্মারাম খাঁচা হয়ে যায়, বিজেপির তো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়, তাহলে কি ‘জয় হিন্দ’র সষ্ট্রা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ‘বন্দেমাতরমে’র সষ্ট্রা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এঁনারা বাঙালী বলেই কি বিজেপির চালিকা শক্তি আর.এস.এসে-র সমস্যা?? এসব আর বাঙালী জাতি সহ্য করবে না৷ অবিলম্বে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র টেলিফোন অপশনে বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, নয়তো বাঙালী বৃহত্তর গণ আন্দোলনের পথে হাঁটবে৷ এরা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, উদারতা, মহানুভবতাকে এরা দুর্বলতা মনে করে৷ লক্ষ্য করলেই দেখা যাচ্ছে এরা কিন্তু দক্ষিণী ভাষাগুলোকে ব্রাত্য রেখে কোনো প্রকল্প চালু করতে পারছে না, কারন ভাষার ক্ষেত্রে দক্ষিণীরা পার্টি নয় জাতিকে গুরুত্ব দেয় , আর বাঙালীরা এতদিন উদারতা দেখিয়ে অনেক সহ্য করেছে, এবার সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে৷ অবিলম্বে বাংলা ভাষা ও বাঙালী জাতি বিদ্বেষী কার্যকলাপ বন্ধ না হলে ‘আমরা বাঙালী’র নেতৃত্বে বৃহত্তর গণ আন্দোলন সংঘটিত হবে৷ তাই বাঙালীর শত্রুরা সাবধান৷
- Log in to post comments