Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

কথায় ও কাজে ফারাক---বিপন্ন শৈশব

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

গত উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি এক নির্বাচনী প্রচার সভায় বলেছিলেন---আমার কোন সন্তান নেই, আপনাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ তৈরী করতে আমি বদ্ধ পরিকর৷ সেদিন প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত জনতা বিশেষ করে মহিলারা আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন৷

প্রধানমন্ত্রীর আগেই শিশু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্র্ত ছিল--- প্রতিটি সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্পে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিতে হবে৷ একটি শিশু তরু যেভাবে জল আলো বাতাসের পরিচর্যায় মহীরুহ হয়ে ওঠে একটি মানব শিশুও সেইভাবে সেবা যত্ন পেলে একদিন রাষ্ট্রের রত্ন হয়ে উঠবে৷ তাই আজকের শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্যে অর্থ বিনিয়োগ করলে, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে একদিন তার প্রতিদান পাওয়া যাবে৷ উত্তর প্রদেশের ওই জনসভায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্রমোদিও সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু আমাদের দেশের নেতা-মন্ত্রীদের মুখের ভাষায় আর হাতের কাজে বিস্তর ফারাক৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তার ব্যতিক্রম নন৷ ব্যতিক্রম যে নন তার প্রমাণ দিতে বহু শিশুর শৈশব শেষ হয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে গিয়ে৷

সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সমীক্ষার প্রতিবেদন শিশু-বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ও কাজের তফাৎটা নগ্ণ করে দিয়েছে৷ প্রতিটি শিশুর জন্যে সুস্থভাবে জীবন যাপনের ছ’টি প্রাথমিক প্রয়োজন --- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাস, পুষ্টি, পানীয় জল ও শৌচ৷ মোদির ভারতের ২০ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু এই ছটি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত৷ সংখ্যাটা দেশের মোট শিশুর অর্দ্ধেক৷ ইউনেস্কোর সমীক্ষার প্রতিবেদনে এমনটাই প্রকাশ পেয়েছে৷ ৬ কোটি ২০ লক্ষ শিশু দুটি বা তার বেশী পরিষেবা থেকে বঞ্চিত৷ তবে এসব প্রতিবেদনে মোদি সরকারের টনক নড়ে না৷ সরকার এগুলিকে ধর্তব্যের মধ্যে নেয় না৷ অনেক সময় প্রতিবেদনটাই অস্বীকার করে৷ নতুবা ইউনেস্কোর সমীক্ষায় ভারতে শিশুদের এই করুণ চিত্র ধরা পড়তো না৷

কয়েকবছর আগে এইরকমই একটি সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু, ইউনিসেফ ও ল্যানসেট মেডিকেল৷ সে সমীক্ষার প্রতিবেদনেও ভারতের শিশুদের দুর্বিষহ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছিল৷ সেই সময় যদি সরকার সজাগ হতো তাহলে দেশের শিশুদের শৈশব এমন বিপন্ন অবস্থা হতো না৷ ১৮৮টি দেশকে নিয়ে তৈরী ওই সমীক্ষার বিষয় ছিল শিশুদের খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত কিনা, সামাজিকভাবে নিরাপদ কিনা, হিংসার শিকার হতে হয় কি না, শিশু আত্মহত্যার হার কত, পাঁচবছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার কত---এই সব প্রশ্ণের ভিত্তিতে তৈরী ওই প্রতিবেদনে ১৮৮টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৩৩তম৷ চিত্রটি কি খুব আশাব্যঞ্জক! ওই সমীক্ষাকদের মতে ভারতে শিশুদের সামাজিক সুরক্ষার মান অত্যন্ত নীচে৷

কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা এন.সি, আর.বি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশে গত দু-দশকে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ দশগুণ বেড়েছে৷ ২০২৩ সালে প্রতি তিন মিনিটে একটি করে অপরাধ ঘটেছে শিশুদের বিরুদ্ধে৷ নরেন্দ্র মোদির শাসনে ৩১ শতাংশ শিশুর ওজন অপুষ্টির কারণে কম৷ প্রায় ৭০ লক্ষ শিশু ২৪ ঘন্টায় কোন খাদ্য পায় না৷

মোদি সরকার ২০৪৭ সাল নিয়ে দেশবাসীকে স্বপ্ণ দেখাচ্ছে৷ কিন্তু গত ১১ বছরে শুধু বিরোধীদের জব্দ করতে আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে নিত্যনোতুন আইন তৈরীতে ব্যস্ত থেকেছে৷ কিন্তু দেশের সার্বিক বিকাশ শিশুদের উপেক্ষা করে হয় না৷ এই বোধটাই যেন সরকারের নেই৷ যদিও শিশুদের বিকাশের জন্যে বহু প্রকল্প সরকারের আছে--- মিড ডে মিল, স্বচ্ছ ভারত মিশন, বেটি বাঁচাও, বেটি পড়া, সমগ্র শিক্ষা, পি.এম. পোষন অভিযান ইত্যাদি৷ তবে এস নিয়ে কাজের কাজ যতটা না হয়েছে তার চেয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার অনেক বেশী হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার ইডি সিবিআইকে ব্যবহার করে অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে অস্থির করে রেখেছে৷ তার ওপর আর্থিক বঞ্চনা তো আছেই৷ মোদি সরকার এবার একটু নিজের দিকে তাকান৷ বিভিন্ন শিশু প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কত টাকা খরচ হয়েছে, বরাদ্দ অর্থ যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা এসব প্রশ্ণেরও যথাযথ উত্তর খোঁজার সময় হয়েছে৷ সরকার এখনই যদি শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা, তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান, স্বাস্থ্যরক্ষার সুব্যবস্থা, শিক্ষার সুব্যবস্থা না করে ২০৪৭ সালের অনেক আগেই দেশ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে৷ আজকের শিশু ২০৪৭ সালে যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠবে৷ বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে একটা কথা পরিষ্কার মোদি সরকারের আমলে শিশুরা বিপন্ন৷ আজকের বিপন্ন শিশু আগামী দিনে দেশকে বিপন্ন করবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved