সম্পাদকীয়

মানুষকে বিশ্বমানব হয়ে উঠতে হবে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

সম্প্রতি এক রাজনৈতিক নেত্রীর ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য দেশ ও দেশের বাইরে ভারত সরকারকে যথেষ্ট বিব্রত হতে হয়েছে৷ এমন নয়, এই নেতারা বেআক্কেলের মতো এমন মন্তব্য করেছে৷ তারা জেনে বুঝে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ও কর্মীদের চাঙ্গা করতে কখনো ও কখনোও রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরণের মন্তব্য করতে হয়৷ আদর্শহীন ও আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতির এটাই ধারা৷

রাজনীতি ও বিভাজন নীতি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোসণা হয়েছে. শাসক ও বিরোধী শিবিরেও শুরু হয়েছে বিভাজনের রাজনীতি৷ তিনি একসময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন--- গত বারে রামনাথ কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্যে মনোনীত করা হয়েছিল, কারণ তিনি দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বলে৷ বাংলায় যাকে বলে ‘নীচু জাতে’র---সিডিউল কাষ্টের মানুষ৷ উদ্দেশ্য কী? আগামী লোকসভা নির্র্বচনে যাতে এই তথাকথিত ‘দলিত শ্রেণীর মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়৷ বিজেপি’র নেতারা তাঁদের এই রণকৌশলের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন৷

বিশ্ব পরিবেশ প্রসঙ্গে ভিন্ন চিন্তা

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস---কাজটা মহৎ, কিন্তু উদ্দেশ্য কতটা মহৎ, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়৷ এত দিবস পালনের হুড়োহুড়ি--- পরিবেশ দিবস, মাতৃদিবস, পিতৃদিবস....দিবসের ছড়াছড়ি৷ কিন্তু লাভের লাভ হচ্ছেটা কি! সত্যি বলতে কি নানা দিবস পালনের উদ্দেশ্য ও মাহাত্ম্য বোঝাতে যে সব যুক্তির অবতারণা করা হয় তাকে তো অস্বীকার করার উপায় নেই৷ পৃথিবীর পরিবেশ দিন দিন মনুষ্য বাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে, একথা স্বীকার না করে উপায় নেই৷ বিজ্ঞান যেমন অঞ্জলি ভরে দিচ্ছে, তেমনি হৃদয় নিঙড়ে নিয়েও নিচ্ছে৷ কিন্তু মানুষকে সচেতন করতে একটি বিশেষ দিনে কয়েকটা গাছ লাগিয়েই কর্ম যজ্ঞ শেষ!

জিডিপি নয় অর্থনীতিকে হতে হবে বাস্তবমুখী

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

জিডিপির হার নিম্নমুখী৷ গত ৩১শে মে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারী---মার্চ ত্রৈমাসিক আর্থিক বৃদ্ধির হার কমেছে৷ অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির হার ছিল ৫.৪ শতাংশ৷ জানুয়ারী-মার্চে কমে হয়েছে ৪.১ শতাংশ৷

জিডিপির ওঠানাম নিয়ে দেশের আর্থিক মানদণ্ড নির্ণয় করা হয়৷ কিন্তু এই জিডিপি কি দেশের  প্রকৃত আর্থিক চিত্র তুলে ধরতে পারে৷ দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই জিডিপির সম্পর্ক কতটুকুই বা৷

‘জিডিপি’ ‘জিডিপি’ করে সরকার দেশবাসীকে চমকে দিচ্ছে৷ সরকার বলতে চাইছেন,  দেশ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে ---যা কল্পনা করা কষ্টকর৷

শিক্ষাকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করতে হবে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

শিক্ষাই মানব সমাজের মেরুদণ্ড৷ পশু জন্ম থেকেই পশু কিন্তু একটা মানুষ জন্ম থেকে মানুষের গুণাবলী অর্জন করে না, মনুষত্বের বিকাশের জন্যে, সমাজ-চেতনার বিকাশের জন্যে তাকে শিক্ষার ওপর নির্ভর করতে হয়৷ তাই প্রকৃত শিক্ষার ব্যবস্থা যদি না থাকে, শিক্ষা-ব্যবস্থা যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে যথার্থ মানুষ তৈরী হবে না, সমাজ অমানুষে ভরে যাবে, ও সমাজ-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, ব্যাভিচার প্রভৃতি প্রবল রূপ নেবে৷ বর্তমানে সমাজে যে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলতা, সমাজ-চেতনাহীনতা, ব্যাভিচারিতা তার মূল কারণ এটাই৷ তাই বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দেশনেতাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য৷ আর শিক্ষার জন্যে একটা শান্ত পরিব

পরিপূর্ণ আনন্দপ্রাপ্তির পথে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

১৯২১সালের পূর্ণিমা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী জন্মতিথি  আর এই কারণে, এই বৈশাখী পূর্ণিমার এই পুণ্যতিথিটি আনন্দমার্গের অনুগামীদের কাছে ‘আনন্দপূর্ণিমা’ রূপে পরিচিত৷ মানবসমাজে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী অবদান কী–তা আমাদের জানতে হবে৷ তবে আমরা এই আনন্দপূর্ণিমার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারব৷

আনন্দপূর্ণিমার পুণ্য তিথি স্মরণে শোষণমুক্ত নোতুন পৃথিবী গড়ার ব্রত নিন

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

১৬ই মে, বৈশাখী পূর্ণিমা প্রাউট–প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার, যিনি ধর্মগুরু মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী নামে বিশ্ববাসীর কাছে সমধিক পরিচিত–তাঁর শুভ ১০১তম আবির্ভাব তিথি সারা বিশ্বের আনন্দমার্গীদের কাছে এই বৈশাখী পূর্ণিমা আনন্দপূর্ণিমা রূপে পরিচিত৷ এই পুণ্য তিথিতে মহাসমারোহে সর্বত্র মার্গগুরুদেবের ১০১তম জন্ম জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে৷

সমাজ কলুষমুক্ত হবে কোন পথে?

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

ধনতন্ত্রের নিষ্ঠুর শোষনে ও শাসনে মানুষের সমাজ ও সভ্যতা আজ বিপর্যস্ত৷ প্রতিমুহুর্তে পরিলক্ষিত হচ্ছে মনুষ্যত্বহীন মানুষের পাশবিক রূপ৷ এক একটা নক্কার জনক ঘটনা ঘটছে, অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবীতে সরব হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ৷ কিন্তু আইন করে কি এই অপরাধ দমন  করা যাবে? আইন হয়েছে, প্রয়োগও হয়েছে তবু সমাজে নারী-নিগ্রহ, নারী-ধর্ষণ, খুন প্রভৃতি  সমানে চলেছে৷ কয়েক বছর আগে দিল্লীর এক গণধর্ষণের পর সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, ধর্ষণ আটকাতে কড়া আইন তৈরী করতে হবে৷ সেই আইন আনা হ’ল৷ কিন্তু তাতেও কোনও পরিবর্তন দেখা গেল না৷ 

১৯৮২–র ৩০শে এপ্রিল প্রসঙ্গে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল৷ কলকাতার বিজন সেতুর ওপরে ও নীচে ও নিকটস্থ বন্ডেল গেটে একই সময়ে ঘটে গিয়েছিল এ শতাব্দীর নৃশংসতম ও বীভৎসতম ঘটনা৷ সি পি এম’এর কর্ত্যব্যষ্টিদের নির্দেশে ওদের হার্মাদ বাহিনী আনন্দমার্গের ১৭ জন সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পেট্রোল ঢ়েলে জীবন্ত দগ্ধ করে৷ ওখান থেকে নিকটেই দু–দুটো থানা৷ একদিকে বালিগঞ্জ থানা, অন্যদিকে কসবা থানা৷ কিন্তু খুনীরা কয়েক ঘন্টা ধরে অবাধে এই পৈশাচিক কান্ড ঘটিয়ে গেল৷ কেউ গ্রেপ্তার হল না৷ কোনো মন্ত্রীও ঘটনাস্থলে এলেন না৷ বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দরে (উত্তর বঙ্গ যাওয়ার সময়) এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্ণে

প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের বিকল্প নেই

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজিপতি পরিচালিত শিল্পের একটা বড় রোগ হ’ল, বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই ও হঠাৎ কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া৷ যার ফলে বহু শ্রমিক হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারকে অশেষ দুর্ভেগের মুখে পড়তে হয়৷ বহু ক্ষেত্রে তারা অনাহারে, অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যায় বা আত্মহত্যা করে, সাংসারিক অশান্তি থেকে রেহাই পাাবার রাস্তা খুঁজে নেয়৷