সংবাদ দর্পণ

দুর্লভপুরে চিকিৎসা শিবির

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৯শে জুন বাঁকুড়া দুর্লভপুর আনন্দমার্গ স্কুলে একটি নিঃশুল্ক চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে প্রায় ৮০০ রোগীর চিকিৎসা হয় উক্ত শিবিরে৷ শিবিরের উদ্বোধন করেন আচার্য ভবেশানন্দ অবধূত৷ এছাড়াও আভা সেবাসদন নামে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে ওই আনন্দমার্গ স্কুলে৷ সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন স্কুলের অধ্যক্ষ আচার্য সত্যনিষ্ঠানন্দ অবধূত, সহশিক্ষক বৃন্দ ও স্থানীয় মার্গী ভাইবোনেরা৷

আমরা বাঙালীর বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বাঙলা ভাঙার কেন্দ্রীয় চক্রান্তের  বিরুদ্ধে  ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে ২০শে জুন ২০২২ বাগবাজার বাটার মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়৷ বক্তব্য রাখেন-সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা, নরেশ রায়, সাংঘটনিক সচিব জয়ন্ত দাশ, যুব সমাজ সচিব তপোময় বিশ্বাস, অরূপ মজুমদার কলকাতা জেলা সচিব হিতাংশু ব্যানার্জী, বাপী পাল প্রমুখ বাঙলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ১৯শে জুন ২০২২ বিরাটিতে ‘আমরা বাঙালী’র বিক্ষোভ মিছিল৷ নেতৃত্বে ছিলেন, জয়ন্ত দাশ, বিকাশ বিশ্বাস, তপোময় বিশ্বাস, সাগরিকা পাল, অরূপ মজুমদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷

অসমে বন্যাত্রাণে আনন্দমার্গ রিলিফ টিম

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসমে সম্প্রতি বন্যা বিপর্যস্ত গুয়াহাটি হোজাই শিলচরে আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্র্সল রিলিফ টিম ব্যাপক ত্রাণকার্য করছে৷ গত এক সপ্তাহ বন্যার্তদের হাতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, ত্রিপল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দিচ্ছে এ্যামার্ট টিম৷ এ্যামার্টের এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শিলিগুড়ি সূর্যসেন কলেজের ছাত্ররা৷ অবধূতিকা আনন্দ অরুন্ধুতী আচার্যা, অভিজিৎ ও প্রদীপ এই ত্রাণ কাজ পরিচালনা করছেন৷

আমরা বাঙালীর কর্মী সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৯শে জুন ২০২২, উত্তর ২৪ পরগণার বিরাটিতে ‘‘আমরা বাঙালী’’ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় কর্মী প্রশিক্ষণ শিবির ও কেন্দ্রীয় বার্ষিক সাধারণ সভা৷

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট প্রাউটিষ্ট শ্রী সুবোধ কর, প্রধান অতিথি হিসেবে আসন আলোকিত করেন শ্রী অসিত দত্ত৷ এছাড়া মঞ্চে ছিলেন কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিন্‌হা সহ সচিব বিকাশ বিশ্বাস, সাংঘটনিক সচিব জয়ন্ত দাশ, কেন্দ্রীয় যুব সমাজ সচিব তপোময় বিশ্বাস,  কেন্দ্রীয় বাঙালী মহিলা সমাজ সচিব প্রণতি পাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷

সভায় বাঙালীস্তানের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিগণ ও জেলাসচিবগণ তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জেলায় সংঘটনকে মজবুত করার বিষয়৷ প্রত্যেকেই বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজ আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয় জোর দেন৷ বর্তমানে বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক বৈষম্য চরম সীমায় পৌঁছেছে৷

এছাড়াও পুরাতন ও নতুন কর্মীদের সমন্বয়ে সংঘটনের প্রচার ও প্রসারের কাজে গতি বৃদ্ধি করতে কর্মীদের সর্ববিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রীতপোময় বিশ্বাস, এছাড়া আগত প্রতিনিধিদের দেখাশুনা খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব নিজে হাতে তুলে নেন কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সচিব শ্রীশেখরচন্দ্র সাহা৷

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১শে জুন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কর্মী ও সদস্যরা বিশ্বের সর্বত্র আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করেন৷ ঐ দিন মূল অনুষ্ঠান হয় আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কলিকাতা কেন্দ্রীয় আশ্রম তিলজলা ভি.আই.পি নগরে৷ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরূপে উপস্থিত ছিলেন কলিকাতা সাহিত্য একাডেমীর আঞ্চলিক সম্পাদক ডঃ দেবেন্দ্রকুমার দেবেশ৷ প্রধান অতিথির ভাষনের মূল বিষয় ছিল যোগ সাধনা ও শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী বহুবিধ অবদান৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় প্রভাত সঙ্গীত৷ বিশিষ্ট যোগ প্রশিক্ষক শ্রী বিভাংশু মাইতি, তাণ্ডব ও কৌশিক নৃত্য প্রদর্শন করেন৷ আচার্য সুতীর্থানন্দ অবধূত মানব জীবনে যোগের গুরুত্ব বিষয়ে বলেন৷ তিনি বলেন শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর দর্শনে মানুষের ত্রিবিধ অস্তিত্ব বিষয়ে বলেছেন---শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক৷ যোগ মানে কেবল আসন নয়, যোগের অর্থ ঈশ্বরের সাথে একইকরণ হয়ে যাওয়া৷ তিনি যোগের তিনটি সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করেন৷ পতঞ্জলির মতে সমস্ত প্রবৃত্তির অবসান হল যোগ৷ যোগের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা সমস্ত উদ্বেগ থেকে মনকে মুক্ত রাখাই হল যোগ৷ কিন্তু যোগের আসল অর্থ হল--- জল ও চিনির মতো একইকরণ৷ চিনি যেমন জলের মধ্যে মিশে গিয়ে নিজের পৃথক অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে৷ তেমনি যোগ হল সাধনার দ্বারা মানুষের মন ভূমা-মনের সাথে মিলেমিশে এক হয়ে যাওয়া৷ তাই যোগ কেবল আসন নয়, যোগ হল সাধনা৷ অনুষ্ঠানের শেষে শ্রীবিভাংশু মাইতি কয়েকটি আসন প্রদর্শণ করেন৷ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সচিব আচার্য সুধাক্ষরানন্দ অবধূত ও অবধূতিকা আনন্দ করুণা আচার্যা৷

এছাড়া ওড়িষা, ঝাড়খণ্ড সহ ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যেই আনন্দমার্গের কর্মীর সমর্থকরা আসন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে যোগ দিবস পালন করে৷ বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও আনন্দমার্গীরা যোগ দিবস পালন করেন৷

পটনায় কলেজ অব কমার্স আর্টস এ্যাণ্ড সায়েন্স বিভিন্ন গণসংঘটনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হয়৷ উক্ত অনুষ্ঠানে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘকেও  আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে আচার্য প্রিয়কৃষ্ণানন্দ অবধূত অনুষ্ঠানে যোগ দেন৷ তিনি আনন্দমার্গ দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত যোগের ব্যাখ্যা করেন ও বলেন যোগ সাধনার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ সম্ভব৷

প্রাউটিষ্টদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরতে চাই সমাজ আন্দোলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

প্রবীন প্রাউটিষ্ট নেতা শ্রী প্রভাত খাঁ গত ২২শে জুন শ্রীরামপুরে এক আলোচনায় চার বছরের চুক্তিতে সেনা নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন---পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থার অঙ্গ এই আন্দোলন আন্দোলন খেলা৷ এই আন্দোলনের শেষ পরিণতি কিছু প্রাণহাণি ও রাষ্ট্রের সম্পদ হানি৷ ফ্যাসিষ্ট শোষক ও তাদের তাঁবেদার রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে প্রকৃত আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে এই সব আন্দোলনের উৎস তৈরী  করে৷ কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় শাসকদলে  এক নেত্রীর ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে আন্দোলনের ঝড় বয়ে গেল৷ ট্রেন বাস পুড়লো৷ সেই আন্দোলনের রেশ থামার আগেই সরকার সেনাবাহিনীতে চার বছরের চুক্তিতে নিয়োগের কথা ঘোষণা করে বসলেন৷ শুরু হলো দেশজুড়ে আর এক আন্দোলন, সেই ট্রেন বাস পুড়লো৷ অর্থাৎ আন্দোলনের উৎস আলাদা আলাদা হলেও ধারা একই---অবরোধ, প্রাণহানি সম্পদহানি৷ শ্রী খাঁ বলেন---আন্দোলন তো সেইদিন হওয়া উচিত ছিল---যখন ২০২০ সালে অক্সফাম ইণ্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল দেশের ৬৩ জন মানুষের হাতে সেই সম্পদ আছে যা দেশের ৯১ কোটি মানুষের হাতে যে সম্পদ আছে তার চারগুন বেশী৷ অর্থনৈতিক বৈষম্য কোথায় পৌঁচেছে একবার ভেবে দেখুন৷ অথচ এসব নিয়ে আন্দোলনের কথা নেতারা বলেন না৷ শোষণ  ও শোষকের বিরুদ্ধে যাতে কোন আন্দোলন না হয় তাই এই সব আন্দোলন আন্দোলন খেলা৷

শ্রী খাঁ বলেন---রাজনৈতিক নেতারা শোষকের তাঁবেদার হয়ে গেছে৷ তাই আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই৷ এই সময় প্রাউটিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে৷ প্রথমত জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে শোষণ ও শোষকের হালচাল বিষয়ে৷ দ্বিতীয়ত প্রাউট অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য সমাজ আন্দোলন৷ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে এই সমাজ আন্দোলনে সামিল করতে হবে৷ সমাজ আন্দোলনের মাধ্যমে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রাউটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিকেন্দ্রিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷ ভারতবর্ষ ৪৪টি জনগোষ্ঠীর দেশ৷ প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতি আছে, আর্থিক সম্পদও আছে৷ এসবের ওপর নির্ভর করেই সমাজ অনুযায়ী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে৷ তবেই ধন বৈষম্য দূর হবে মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার রসদ পাবে৷ স্বাধীনতার ৭৫ বছরেও রাজনৈতিক দলের নেতারা ও অর্থনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দের বিষয়ে কোন চিন্তাই করেননি৷ পুঁজিবাদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ করেছে৷ তিনি দেশের অর্থনীতিবিদদের প্রাউট সম্পর্কে অবগত হওয়া ও তার বাস্তবায়নের জন্যে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান৷

প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহতা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ভারত সরকারের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গীর উদাহরণ হিসেবে ৰাঙলার দৃষ্টান্তটা নাও৷ সেই সময়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনে ৰাঙলার বিধানসভায় সৃষ্ট হয়েছিল ২৫০টি আসন৷ এই ২৫০টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল ১২০টি আসন, অ–মুসলমানদের জন্য ৮০টি আসন, ২৫টি আসন ছিল ব্রিটিশ বণিকদের জন্যে (কলকাতার ব্রিটিশ বণিকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জন্যে), কিছু আসন ছিল জমিদারদের জন্যে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্যে আর কিছু ছিল শ্রমিক নেতাদের জন্যে৷ সব মিলে ২৫০টি আসন৷ সেই সময়ে ৰাঙলার ৪৫% অধিবাসী ছিল মুসলমান আর বাকী ৫৫% ছিল অ–মুসলমান৷ অর্থাৎ কিনা ৰাঙলার শুধু দেশটারই বিভাজন হ’ল না৷ মানসিক বিভাজনও হ’ল যার পরিণামস্বরূপ সাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে ৰাঙলা বিভক্ত হয়ে গেল৷

সাম্প্রদায়িকতা অস্বাভাবিক৷ আজ মুর্খ নেতারা, রাজনৈতিক নেতারা, এই সেন্টিমেন্টটাকেই আবার উস্কে দিচ্ছে৷ আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে যদি এটাকে ঠিক সময়ে (এটাই সঠিক সময়) সংযত না করা হয় তবে দেশটা আরও খণ্ডিত হয়ে যাবে৷

ভারত সরকারের সেই সময়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত বাস্তবপক্ষে তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেল৷ ৰাঙলা দুইভাগে বিভক্ত হ’ল৷ পঞ্জাব দুই ভাগে বিভক্ত হ’ল৷ অসম দুইভাগে বিভক্ত হ’ল৷ সিন্ধু ও উত্তর–পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ভারতের বাইরে চলে গেল৷ সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারার ফল হ’ল এটাই৷ মুর্খ নেতারা, নির্ৰোধ নেতারা এই সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারাকে সমর্থন করেছিলেন৷ ইতিহাস থেকে তাঁরা শিক্ষাও নেয় নি৷

(ব্রিটিশ) পলিসি ছিল ‘বিভেদ সৃষ্টি কর ও শাসন কর’ স্তুন্লন্স্তুন্দ্ব স্তু ব্জব্ভপ্তন্দ্বগ্গ৷ একটা দল বলত ‘‘জয় হিন্দ’’, তো আরেকটি দল বলত ‘‘তাকাশি মে হিন্দ’’৷ একদল বলত ভারতের জয় আর অন্য দলটি বলত ‘ভারত ভাগ কর’৷ তখনকার দিনে এটাই ছিল শ্লোগান৷ কোনো সুস্থ পরিবেশ ছিল না৷ এই সেন্টিমেন্টটা ভৌম সেন্টিমেন্টও ছিল না৷ এর মূলে ছিল নিছক একটা ভাবাবেগ ও হীন স্বার্থপরতা৷ এর পর থেকে ভারতবর্ষ থেকে সুস্থ রাজনীতি লোপ পেয়ে গেল৷ নেহেরু দেশ ভাগকে সমর্থন করেছিলেন কারণ তাঁর স্বপ্ণ ছিল দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া–তা সে অবিভক্ত ভারতের হোক বা বিভক্ত ভারতের হোক৷ মন্টেগু চেমসফোর্ড দেখলেন যে দলগুলি দলাদলিতে বিভক্ত৷ তিনি স্থির করতে পারলেন না কাদের হাতে তিনি ক্ষমতা অর্পণ করবেন৷ সেই সময় (সম্প্রদায়গুলির মধ্যে) পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷ পারস্পরিক কোনো বোঝাপড়া ছিল না৷ সেই জন্যই তো দেশটা ভাগ হয়ে গেল৷ নতুবা ব্রিটিশরা দেশটাকে ভাগ করতে পারত না৷ উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে ভৌতিক সংহতি ও মানসিক (মানস–সামাজিক) সংহতি দু’টোই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷ সংখ্যালঘুদের অধিকাংশই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি৷ আর সেইজন্য ভীত হয়ে তারা দেশকে ভাগ করতে চাইল৷ ৰাঙলা ও পঞ্জাবে হিন্দু সংখ্যালঘুরা মুসলমান সংখ্যাগুরুদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি৷ তাই তারাও এই দুই প্রদেশকে ভাগ করতে চাইল৷ এই মনস্তত্ব আজও রয়েছে৷ সেই সময়ে দেশে কিছুমাত্র রাজনৈতিক শিক্ষা বা রাজনৈতিক চেতনা ছিল না৷

প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন অনুসারে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের বলা হত প্রধানমন্ত্রী৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলে কেউ ছিল না৷ লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউস থেকে মোটামুটি ভাবে ভারতকে নিয়ন্ত্রণ করা হত৷

ভারতের দেশীয় রাজ্যগুলি ১৯৩৫–এর এই রোয়েদাদের বাইরে ছিল৷ সেই কারণের দেশীয় রাজ্যগুলির সাম্প্রদায়িক স্থিতি ভারতের বাকী অংশের চাইতে অনেক ভাল ছিল৷ কশ্মীরে সাম্প্রদায়িকতা কিছুমাত্র ছিল না যদিও সেখানে মুসলমান প্রজারা হিন্দু রাজার অধীনে বাস করত৷ অনুরূপভাবে হায়দরাবাদে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের মুসলমান শাসক থাকলেও সেখানে কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িকতা ছিল না৷ এর কারণ ছিল এই যে দেশীয় রাজ্যগুলি সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারার বাইরে ছিল৷ ব্রিটিশের সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা সেখানে প্রযুক্ত হয় নি৷

নাগিনীরা এখন চারিদিকে বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলছে৷ (সংগ্রাম করার) এটাই সঠিক মুহূর্ত্ত৷ এটাই উপযুক্ত মুহূর্ত্ত৷ এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ৷

                ‘‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস,

                শান্তির ললিত বাণী শুনাইবে ব্যর্থ পরিহাস৷

                বিদায় নেবার বেলা তাই ডাক দিয়ে যাই

                দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে

                প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে৷’’

নাগিনীরা চারিদিকে বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলছে৷ এই সংকটময় মুহূর্ত্তে আমরা কি শুধু শান্তির বাণী প্রচার করে যাব? না, না, না, না৷ তাই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার আগে আমি এই দানবদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছি৷ তোমরা কি ৰুঝতে পারছ? ৬০ বৎসর আগে রবীন্দ্রনাথ যা বলে গিয়েছেন তা আজ এই বিংশ শতাব্দীর শেষভাগেও সমান সত্য৷

বঙ্গে বাড়ছে করোনা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

করোনার চতুর্থ ঢেউ কি আসন্ন!  গত দুদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার সেই আশঙ্কাই করাচ্ছে৷ গত ১৪ই জুন দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ১৩৫ জন৷ কিন্তু ১৫ই জুন আক্রান্তের হার প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৩০জন আক্রান্ত৷ এর মধ্যে কোলকাতাতেই আক্রান্ত ১০৫ জন৷ উত্তর ২৪ পরগণায় ৬৮জন দক্ষিণ ২৪ পরগণায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩জন হাওড়ায় ৮ ও হুগলীতে ৫ জন৷ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা বঙ্গে করোনার প্রত্যাবর্তন শুরু হয়ে গেছে৷ তাঁদের অভিমত অবিলম্বে করোনা বিধি মেনে চলার ওপর জোর দিতে পথে ঘাটে মাস্ক পরা মানুষ চোখেই পড়ে না৷ এই পরিস্থিতি চতুর্থ ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরী করছে৷

আমরা বাঙালীর স্মারকলিপি

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

রাজ্য পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগে ১০০ ভাগ বাঙালী নিয়োগের দাবীতে আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে সল্টলেক আরক্ষ ভবনে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়৷  উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংঘটনিক সচিব জয়ন্ত দাশ, তপোময় বিশ্বাস প্রমুখ৷

আমরা বাঙালী জেলা সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১২ই জুন পুরুলিয়া রাঢ় ভবনে ‘‘আমরা বাঙালী’’ পুরুলিয়া জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংঘটন সচিব জয়ন্ত দাস ও ছাত্র-যুব নেতা তপোময় বিশ্বাস, রাঢ় সংঘটন সচিব সুনীল মাহাত৷ সম্মেলন ২০ জুনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরী হয়৷ জেলা সচিব হলেন মানস রায়৷