সংবাদ দর্পণ

হলদিবাড়িতে কীর্ত্তন সেমিনার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কোচবিহার  জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের দেওয়ানগঞ্জে গত ২৪শে এপ্রিল ব্লক স্তরের সেমিনার ও তিনঘন্টা অখণ্ড াা নাম কেবলম্‌ কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ এই উপলক্ষ্যে হলদিবাড়ি ব্লকের সমস্ত মার্গী ভাইবোন সেমিনার স্থলে উপস্থিত হন৷ সেমিনারের আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় ইয়ূনিটের মার্গী ভাই বোনেরা৷

প্রথমে সকাল থেকে তিনঘন্টা অখণ্ড ‘াা নাম কেবলম্‌’ কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তনের সূরমূর্চ্ছনায় এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরী হয়৷ বহু সাধারণ মানুষও কীর্ত্তনে অংশগ্রহণ করেন৷ কীর্ত্তনশেষে মিলিত সাধনা ও স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়৷  এরপর মূল আলোচনা সভা শুরু হয়৷

আনন্দমার্গ দর্শনে সামাজিক, আর্থিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়৷ আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক, অর্থনৈতিক তত্ত্ব তথা প্রগতিশীল উপযোগতত্ত্ব  আধ্যাত্মিক ও নব্যমানবতাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সুসন্তুলিত বিকেন্দ্রীত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা৷

বর্তমান সামাজিক বিভেদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আনন্দমার্গের পক্ষ্যেই সম্ভব আদর্শ সমাজ ঘটন করা৷ আলোচনার এটাই সারকথা ছিল৷

 

প্রকৃতির রুদ্ররূপ মানুষের অপকর্মের ফল

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

কোলকাতায় দুমাস বৃষ্টি হয়নি৷ শেষ বৃষ্টি হয়েছিল ২৮শে ফেব্রুয়ারী৷ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে৷ চৈত্র পার হয়ে বৈশাখের অর্ধেক শেষ৷ এখনও কালবৈশাখীর মুখ দেখলো না দক্ষিণবঙ্গ৷ আবহাওয়াবিদদের মতে এই সময়ের মধ্যে ছয়-সাতটা ঝড় হয়ে যাওয়ার কথা৷  তবে শুধু বাঙলাই নয়৷ বিশ্বের বহু জায়গায় এমন অবস্থা চলছে৷ ভারতে ১২২ বছরের মধ্যে উষ্ণতম অবস্থা এবার৷  জলবায়ু বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় বলেন ---বাতাসের স্তরে জলীয় বাষ্পের উচ্চতার ওপর বৃষ্টিপাত নির্ভর করে৷ বৃষ্টির জন্যে দরকার ১২-১৪ কিলোমিটার পুরু জলীয় বাষ্পের স্তর৷ সেখানে এখনো পর্যন্ত বাতাসে জলীয় বাষ্পের স্তর ২-৩ কিলোমিটার৷ বৃষ্টি না হওয়ার অন্যতম কারণ এটাই৷

মানুষের সীমাহীন লোভ, লালসা,জঙ্গল ধবংস, বিজ্ঞানের  প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিণামদর্শী ব্যবহার এই তাপপ্রবাহের কারণ৷ প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের কারণ হিসেবে লণ্ডন ইম্পিরিয়াল কলেজের দুই গবেষকের বিশ্লেষণ---মানুষের অবিবেচক কার্যকলাপের ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে৷ পরিবেশ ও প্রকৃতির ক্ষতির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে ভারতে৷ সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে জানা যায় ভারতে প্রতিবছর ২৩ লক্ষ হেক্টর বনভূমি ধবংস হচ্ছে৷ এখনও পর্যন্ত ভারতে ২কোটি ৫০ হাজার হেক্টর অরণ্য ধবংস হয়ে গেছে৷ তারই পরিণতি এই তাপপ্রবাহ৷

 

ভারতে ধর্মীয় হিংসা বাড়ায় উদ্বেগ আমেরিকায়

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আচ্ছে দিনের ভারতে ধর্মীয় হিংসা বাড়ছে৷ আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মার্কিন বিদেশ দপ্তরকে জানায় ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে৷ কমিশনের বক্তব্য হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে ভারতে বিপন্ন ধর্মীয় স্বাধীনতা, কমিশন মার্কিন সরকারের কাছে সুপারিস করেছে বিশ্বের যেসব দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন সেই তালিকায় ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক৷ এই স্বাধীন সংস্থা গত দু’বছরও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা উদ্বেগজনক ছিল৷ সেই পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি৷

এদিকে দেশের ১০০ জনেরও বেশী আমলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীকে চিঠি দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব হলেন৷ তাঁরা বিজেপি শাসিত কতকগুলি রাজ্যের উল্লেখ করে লেখেন যা ঘটেছে তা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক নীতি ও আইনের শাসনের পরিপন্থী৷ চিঠিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের  জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ান হচ্ছে বলে লেখা হয়৷

 

নেতাজী অন্তর্ধান রহস্য বিতর্কে বসু পরিবারের সদস্য

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে নূতন করে বিতর্ক দানা বাঁধলো বসু পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসুর এক পত্রে৷ জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে চিতাভস্ম এনে নেতাজীর পারলৌকিক ক্রিয়া করার জন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন বিজেপিতে যোগদানকারী চন্দ্র কুমার বসু৷ নেতাজী সুভাষচন্দ্রের অসাম্প্রদায়িক আদর্শের কথা সর্বজন বিদিত৷ সেই পরিবারের সদস্য বিজেপি নেতা হঠাৎ করে নেতাজীর শ্রাদ্ধ করতে চাইছেন কেন? আসলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বাঙলায় তিনি বিজেপির জন্যে দৃষ্টান্তমূলক কিছু করতে পারেন নি৷ তাই এই মুহূর্তে বিজেপিতে তাঁর কোন কদর নেই৷ তাই প্রচারের আলোয় আসতে ভারতীয় রাজনীতির  চিরকালীন বিতর্কিত বিষয়টিকে হাতিয়ার করেছেন৷

এ বিষয়ে মক্ষম প্রশ্ণ তুলেছেন নেতাজী বিষয়ে গবেষক ইতিহাসবিদ চন্দ্রচূড় ঘোষ৷ প্রথমেই তিনি তোপ দেগেছেন চন্দ্রবসুকে৷ চন্দ্রচূড় ঘোষ বলেন---রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও  সংকীর্ণ ব্যষ্টিস্বার্থে চন্দ্র বসু এই চিঠি লিখেছেন৷ চন্দ্রচূড়ের কথায়---এতদিন পরে কিসের ভিত্তিতে চন্দ্রবাবু তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু বিষয়ে নিশ্চিত হলেন৷ বসু  পরিবারের আর এক সদস্য জয়ন্তী রক্ষিত চন্দ্র বসুর বক্তব্যের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ণ তুলেছেন৷

চন্দ্রচূড় ঘোষের প্রশ্ণ---মনোজ মুখার্জী কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছিল তা কেন মানা হয়নি৷ তাইওয়ান সরকার  দুর্ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন৷ তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে অনড় কেন চন্দ্রবাবু? বেসরকারী বিশেষজ্ঞদের মত উড়িয়ে দিয়ে কেন শুধু সরকারী বিশেষজ্ঞদের মত নেওয়া হয়েছে৷ এমনি একগুচ্ছ প্রশ্ণ তুলে চন্দ্রচূড় ঘোষ বলেন--- নেতাজী সংক্রান্ত গোপন ফাইল প্রকাশের ছ’বছর পরে চন্দ্র বসু কি এমন প্রমাণ পেলেন যে তাহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু হয়েছে? চিতাভস্ম এনে নেতাজীর  পারলৌকিক ক্রিয়া করার আগে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট করা চন্দ্র বসুর নৈতিক দায়িত্ব৷ জয়ন্তী রক্ষিত কটাক্ষ করে বলেন---স্বার্থসিদ্ধি বললে শুণতে খারাপ  লাগে৷ ও তো আমাদের পরিবারের একজন৷ তবে শুণেছি বিজেপিতে পাত্তা পায় না৷ নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসে যে কটা ফাইল প্রকাশ করেছেন তা প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকেই নেহেরুর চিঠি দেখেছেন বসু পরিবারের সদস্যরা৷ সেই চিঠিতেও নেতাজীর মৃত্যুর কোন প্রমাণ নেই৷

 

বিজনসেতু থেকে বগটুই---পাপ পুঞ্জীভূত আকার ধারণ করেছে - ৩০শে এপ্রিল বিচারের  দাবীতে বিজনসেতুতে  সমাবেশ  

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

করোনার কারণে দুবছর পর ৩০শে এপ্রিল বিজনসেতুতে আনন্দমার্গের পূর্র্ণঙ্গরূপে সভা হচ্ছে৷ ১৯৮২ সালের ৩০শে এপিল সেদিনের শাসক সিপিএমের ঘাতক বাহিনী আনন্দমার্গের ১৭ জন সন্ন্যাসী সন্ন্যাসিনীকে নির্মমভাবে হত্যা করে৷ তারপর থেকে প্রতিবছরই আনন্দমার্গীরা ন্যায় বিচারের দাবীতে ৩০শে এপ্রিল বিজনসেতুতে সভা করে৷

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের জনসংযোগ সচিব আচার্য দিব্যচেতনানন্দ অবধূত জানান করোনার কারণে গত দুবছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দধীচিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান  হয়েছে৷ কিন্তু এবছর করোনার  প্রকোপ কমে যাওয়ায়  ও বিধি নিষেধ শিথিল হওয়ায় বিজন সেতুতে পূর্ণাঙ্গরূপে সভা অনুষ্ঠিত  হবে৷ তিনি জানান দুপুর দুটা থেকে দুটা ত্রিশ মিনিটের মধ্যে, দেশপ্রিয় পার্ক থেকে মিছিল শুরু হবে৷ মিছিল বিজনসেতুতে পৌঁছানোর পর প্রথমে দধীচিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হবে৷ এরপর শুরু হবে প্রতিবাদ সভা৷ সভায় বক্তাদের  কন্ঠে  মূল দাবী থাকবে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার ও লালা কমিশনের  তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ৷

আচার্য কৃষ্ণেশ্বরানন্দ অবধূত জানান---রাজ্যে শাসক দলের   পরিবর্তন এলে  আমরা বিজন সেতুর  হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বার করতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্তের দাবী জানিয়ে ছিলাম৷ আমাদের দাবী মেনে রাজ্য সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন৷ বিচারপতি  অমিতাভ লালার নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠিত হয়৷ ২০১৯ সালের সেপ্ঢেম্বর সেই তদন্তের প্রতিবেদন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে জমা পড়ে৷ কিন্তু  আজও সেই প্রতিবেদন বিধানসভায় পেশ করা হয়নে৷ কারণ অজ্ঞাত৷ ইতিমধ্যে বিচারপতি লালার জীবন অবসান হয়৷ আচার্য কৃষ্ণেশ্বরানন্দ অবধূতও দাবী করেন লালা কমিশনের  প্রতিবেদন প্রকাশের৷

 

দেশে বিদ্বেষ---ক্ষুদ্ধ সুপ্রিম কোর্ট

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বিজেপি শাসিত রাজ্যে রাজ্যে ধর্ম সংসদের নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখছেন বিভিন্ন বক্তা ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে৷ এই ধরণের  বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিষয়ে তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সাংবাদিক কুরবান আলি ও পটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশ, বিচারপতি এ এম খানউইলকরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন কপিল সিবাল৷ গত ২৬শে এপ্রিল শুনানির  পর তিন সদস্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেন ধর্ম সংসদে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখলে তার দায় নিতে হবে রাজ্য সরকারকে৷ দায় বর্তাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও শীর্ষ পুলিশ কর্র্তদের ওপর৷ নির্দেশে বলা হয়েছে ধর্ম সংসদে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধে রাজ্য সরকার ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র সচিবকে তলব করবে সুপ্রিম কোর্ট৷

 

শক্তির স্পর্ধা পতনের পথ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত৷ বিংশ শতাব্দীর পৈশাচিকতম ঘটনাটি ঘটেছিল সভ্যতা ও সংসৃকতির পীঠস্থান কলিকাতা মহানগরীর বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে বিজন সেতুর উপর৷ বিজন সেতু কোন বিজন উপবন নয়৷ শহরের মাঝে ঠিক বালিগঞ্জ স্টেশনের পাশেই রেল লাইনের ওপর দিয়ে ব্রীজটি একপাশে ব্যস্ততম গড়িয়াহাট ওপর দিকে কসবা ই.এম বাইপাস সংযোগ৷ যা আজকের মত এতটা জমজমাট ছিল না৷ তবে সেতুর দুইপাশে জনবসতি, দোকান বাজার, কাঁচা সবজির বাজার---সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষের  আসা-যাওয়া শুরু হয়ে যায়৷ এই জনবহুল স্থানকেই বেছে নিয়েছিল সেদিনের শাসক দলের ঘাতক বাহিনী আনন্দমার্গকে নিশ্চিহ্ণ করতে৷

জনমানসে প্রশ্ণ আসা স্বাভাবিক---আনন্দমার্গের ওপর এত আক্রোশ কেন সিপিএমের৷ উত্তর খুব সহজ আনন্দমার্গের জীবন দর্শন৷ কম্যুনিষ্ট মতাদর্শে ধর্ম আফিম৷ আনন্দমার্গ দর্শন যুক্তি ও বিজ্ঞান সমস্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রকৃত মানব ধর্ম কি৷ সেইসঙ্গে এও বুঝিয়ে দিয়েছে ধর্মবিহীন মানব জীবন পশুর চেয়ে অধম জীবন৷ মানুষের আর্থিক মুক্তির ক্ষেত্রেও কম্যুনিজমের ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে সুষ্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পথ নির্দেশনা দিয়েছে আনন্দমার্গ দর্শনের প্রাউট তত্ত্ব  প্রতিটি মানুষের জীবনধারণের নূ্যনতম প্রয়োজনের পূর্ত্তির নিশ্চিততা ও সমাজের সকল মানুষের, সব শ্রেণীর মানুষের সার্বিক কল্যাণের  বাস্তব সম্মত পথ নির্দেশনা দিয়েছে৷ অর্থনীতিকে আধ্যাত্মিক ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে সর্বাঙ্গ সুন্দর আদর্শ সমাজ গড়ে মানুষকে প্রকৃত প্রগতির পথ নির্দেশনা দিয়েছে প্রাউট তত্ত্ব৷ তাই আনন্দমার্গের অভ্যুত্থানে সমাজতন্ত্রের অসার বুলি সর্বস্ব কম্যুনিজমের অকাল মৃত্যুর ঘন্টা ধবনি বেজে গিয়েছিল৷ তাই আনন্দমার্গের আত্মপ্রকাশে আতঙ্কিত সিপিএম আনন্দমার্গকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল৷ শাসন ক্ষমতা দখল করেই রাষ্ট্রশক্তির স্পর্ধায় স্পর্ধিত সিপিএম শুধু বিজন সেতু নয় তার আগে পরেও আনন্দমার্গের ওপর আক্রমন করেছে, সন্ন্যাসী হত্যা করেছে সিপিএম৷

কিন্তু সেদিন রাষ্ট্রশক্তির ক্ষমতায় অন্ধ শাসক বুঝেনে  কয়েক জন সন্ন্যাসীকে হত্যা করে আদর্শকে শেষ করা যায়নে৷

চল্লিশ বছর আগে যে ক্ষমতায় দম্ভ সি.পি.এম আনন্দমার্গকে শেষ করার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল সেই ঔদ্ধত্যই সিপিএম কে বিনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে৷ আনন্দমার্গ আজও এগিয়ে চলেছে তার সুমহান আদর্শকে অবলম্বন করে দুর্বার গতিতে৷

 

 

ইউ.জি.সি-এর ছাত্র স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বাঙালী ছাত্র/যুব সমাজ ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় ছাত্র/ছাত্রা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে। রাজ্য ছাত্র সচিব শ্রী বিপ্লব দাস জানায়-ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীন রাজ্যের প্রতিটি সরকারী ডিগ্রী কলেজে ভর্তির জন্য জাতীয় স্তরের এন্ট্রান্সের পরীক্ষায় বসতে আবেদন করার জন্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সী গত ৬ ই এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারী করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের আশীর্বাদ পুষ্ট বিশ্ব বিদ্যালয় কমিশন ইউজিসি আচমকা দেশের ছাত্র/ছাত্রাদের স্বার্থবিরোধী এধরনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত প্রথমবারের মতো গ্রহণ করল। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর যেহেতু ইউজিসির গাইডলাইন লঙ্ঘন করতে পারবে না তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, এমবিবি বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এমবিবি কলেজ,বিবিএমসির মতো কলেজগুলিতে ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে উল্লেখিত নিয়মনীতি চালু হবে। এখন প্রশ্ন হলো-ইউজিসির জাতীয় স্তরের কম্পিউটারাইজড ভিত্তিক এন্ট্রান্স পরীক্ষায় কাট অব মার্ক্স অর্জন করতে না পারে, তবে দ্বাদশে উত্তীর্ণ ছাত্র -ছাত্রারা কী কলেজে ভর্তি পারবে না - এমনকি দ্বাদশে ৮০/৯০ শতাংশ নম্বর পেলেও? উল্লেখিত জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্যে কী ভবিষ্যতে অনেক ছাত্র-ছাত্রার উচ্চ শিক্ষার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে? বাঙালী ছাত্র/যুব সমাজ ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি সঙ্গত কারণেই ছাত্র-ছাত্রার স্বার্থে পরিপন্থী উল্লেখিত সরকারী সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী। আমাদের দাবী- ১. রাজ্যে দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ সমস্ত ছাত্র -ছাত্রাদের কলেজ তথা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। কলেজে ভর্তির  ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা রাখা চলবে না। ২. প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক করতে হবে। ৩. শিক্ষান্তে প্রতিটি বেকারের নিশ্চিত কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিতে হবে। ৪. একাদশ-দ্বাদশ  শ্রেণীতে বাংলা ভাষাকে ঐচ্ছিকের পরিবর্তে আবশ্যিক  করতে হবে। ৫. সরকারী-বেসরকারী সমস্ত কাজে স্থানীয় ভাষা তথা বাংলার প্রচলন করতে হবে। ৬. অবিলম্বে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয় স্তরে বিষয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পানিসাগরে আমরা বাঙালীর বিক্ষোভ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১২ই এপ্রিল উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগম ছাড়া মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘আমরা বাঙালী’বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ উপস্থিত ছিলেন জেলা সচিব অরুণনাথ, রাজ্য কমিটির সদস্য গোপালকৃষ্ণ দেব, হেমেন্দ্র দেবনাথ, জ্যোতিষনাথ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ৷

জেলাসচিব অরুণনাথ বলেন---কেন্দ্রীত অর্থনীতির অবশ্যম্ভাবী পরিণতির এই মূল্য বৃদ্ধি৷ এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে জনগণকে আর্থিক মুক্তি দিতে চাই প্রাউটের বিকেন্দ্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন৷

 

কোভিড আতঙ্ক কাটিয়ে মহাসমারোহে বর্ষবরণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

দুবছর চেনা ছবিতে দেখা গেল নববর্ষের চেহারা৷ করোনা বিধির বন্দীদশা কাটিয়ে বাঙালীর নববর্ষ পয়লা বৈশাখ আবার ছন্দে ফিরল৷ এই দিন বাঙালী ব্যবসায়ী হালখাতার পূজা করেন, তাই কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর তারাপীঠ সর্বত্রই ভিড়েঠাসা দুবছর আগের ছবি৷ বিভিন্ন গণসংঘটন ও রাজনৈতিক দলগুলিও নানা অনুষ্ঠানের  মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসব পালন করে৷ কচি-কাঁচাদের  নিয়ে পথে পথে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত বর্ষবরণের  সবরকম উপাচারেই ভরপুর ছিল পয়লা বৈশাখ৷ এদিন কলকাতা ভি.আই.পি নগরে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় আশ্রমেও বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়৷ সকালে তিনঘন্টা অখণ্ড ‘বাবা নাম কেবলম্‌’কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ এরপর শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী নববর্ষ বিষয়ে প্রবচন পাঠ করে শোনান আচার্য নিত্যসত্যানন্দ অবধূত৷ এরপর প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীবৃন্দ৷ এইদিন আগরতলা শহরে বাঙালী মহিলা সমাজের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে দুঃস্থ ও ভরঘুরেদের মিষ্টি বিতরণ করা হয়৷

অসম ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ডের ও বিহার উড়িষ্যার বাঙালী অধ্যাস্থিত অঞ্চলগুলিতে আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে কীর্ত্তন, সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশন প্রভৃতি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়৷