সংবাদ দর্পণ

যোগ দিবসে অসমের আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগপ্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগদিবস উপলক্ষ্যে অসমের আমবাগান আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা ও একই সঙ্গে যোগ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়৷ যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী৷ তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে প্রায় ৭ হাজার বছর পূর্বে ভগবান শিব মানুষের সর্র্বত্মক কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যা মানুষের সমাজে প্রচার করেছিলেন৷ শিবের পর শ্রীকৃষ্ণ এই যোগবিদ্যাকে প্রচার করেন৷ আড়াইহ াজার বছর পূর্বে মহর্ষি পতঞ্জলি এই যোগবিদ্যার ওপর দর্শন রচনা করেন৷ বর্তমান কালে মহাযোগী পরমারাধ্য গুরুদেব শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী সর্বসাধারণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যাকে ৪টি স্তরে বিভাজিত করেন৷ সেগুলি হ’ল প্রারম্ভিক যোগ, সাধারণ যোগ, সহজ যোগ ও বিশেষ যোগ৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী বলেছেন , এই যোগসাধনা নিয়মিত অভ্যাসের দ্বারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা , বৃদ্ধ-বৃদ্ধা স্কুল-কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনরত ছাত্র-ছাত্রা, গবেষক, সবাই নিজেদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে পারে৷ বক্তব্যের শেষে আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী উপস্থিত কয়েকশ উৎসাহী মানুষকে যোগাসন প্রদর্শন করেন৷

ভূস্বর্গে ব্যর্থ সরকারের শাসনে কেন্দ্রের শাসন কায়েম হয়েছে পুনরায়, তাই জনগণ আশা করে কিছুটা শান্তি

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

সমস্যা সংকুল জম্মু-কশ্মীরে বিজেপি সমর্থিত পিডিপি সরকারের পতন ঘটলো ১৯শে জুন৷ কারণ বিজেপি দল মেহেবুবা মুফতির সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়৷ এরপর মেহেবুবা রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন৷ এই জম্মু-কশ্মীরে গত ২০০৮, ২০১৫, ২০১৬ ও বর্ত্তমান রাজ্যপালের শাসন চালান বর্তমানের রাজ্যপাল মিঃ এন.এন ভোরা ৷ এবারে তাঁর ২য় বারের শাসন কালের মাত্র কয়েকদিন আছে যদিও তিনি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাততঃ ২৬ শে আগষ্ট পর্যন্ত অমরনাথ যাত্রা পর্যন্ত রাজভবনে থেকে যাবেন৷ হয়তো তাঁর রাজ্যপালের মেয়াদ বেড়ে যেতে পারে৷ এই ভূস্বর্গে বিধানসভা নির্র্বচন মনে হয় আগামী ২০১৯-এর প্রথম দিকে একসঙ্গে লোকসভা নির্বাচন হতে পারে৷

ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যেভাবে রাজ্য ও কেন্দ্র শাসন চলে সেই কাঠামোতে সংবিধান মতে ভারত ধর্ম (ধর্মমত) নিরপেক্ষ রাষ্ট্র৷ তবে এই ভূস্বর্গ (জম্মু ও কশ্মীর) কিন্তু অনেক ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে সেটা সকলের অজানা নয়৷ গরিব ভারতের রক্তজল করা কর বাবদ অর্থ এই ভূস্বর্গের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অকাতরে ব্যয় করে থাকে৷ আর পাকিস্তানি প্রতিবেশীদের এক নাগাড়ে জঙ্গী আক্রমণে ও সীমান্তে পাকিস্তানী সৈন্যের আক্রমণে এদেশের জোয়ান ও জনগণ প্রাণ হারাচ্ছেন! আর এখানকার রাজ্যসরকারও তেমন দক্ষ নয়৷ অধিকাংশ সময় নড়বড়ে৷ এই এলাকার আয়ের উৎস মূলতঃ পর্যটন শিল্প৷ কেন্দ্রকে অনেক ব্যাপারেই অনুদান দিতে হয়৷ বলতে দ্বিধা নেই যে এই ভূখণ্ডটি ভারতের শরীরে এক দুরারোগ্য ব্যাধির মতোই আজন্ম বিদ্যমান৷

তাছাড়া , পাকিস্তান জোর করে কশ্মীরের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছিনিয়ে নিয়ে ‘আজাদ কশ্মীর’ নামে ভোগ দখল করছে অবৈধভাবে ৷ ইউ.এন ও নীরব দর্শক৷

তাঁদের উপদেশ, দুই রাষ্ট্র আলাপ আলোচনার করে মিটমাট করুক৷ পাকিস্তানের দোসর চীন এই এলাকায় মাথা গলিয়ে অশান্তি করে চলেছে৷ ভারত উত্তর পশ্চিম সীমান্তে এক চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে৷ সীমান্তে বিভিন্ন রাজ্যের তরতাজা তরুণ জোয়ানরা প্রাণ হারাচ্ছেন৷ কশ্মীরের হিন্দুপণ্ডিতগণ রাজ্যছাড়া হয়ে উদ্বাস্তুদের মত জীবন যাপন করে চলেছেন৷ সরকার এঁদের মাতৃভূমিতে ফেরৎ পাঠাতে পারেননি ভারত কেশরী শ্যামপ্রসাদের অকালমৃত্যুর অদ্যাবধি কোন তদন্ত হলো না৷ এই মাটিতে সাংবাদিক ও তাঁর দেহ রক্ষীদের সম্প্রতি যে হত্যা করা হয়েছে সেটাও বড়ই মর্র্মন্তিক, বেদনাজনক ঘটনা৷

দুঃখের কথা বিজেপি ও পিডিপি সরকার এখানকার সমস্যার কোন সমাধান করতে সবম হননি৷ পদত্যাগকারী মুখ্যমন্ত্রীর শাসনকালে মানুষ নোতুন কোনো আশার আলো দেখতে পায়নি৷  বরং মনে হয় কোন অদৃশ্য কারণে পাকিস্তান আগের চেয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করেছে ভারতের মাটিতে আর পাকিস্তানপন্থী দলগুলো ‘ইনধন’ যুগিয়েছে পাকিস্তানী জঙ্গীদের৷ পরিশেষে দেশ আশা করে রাজ্যপালের শাসনে যেন এই এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ কিছুটা শান্তিতে বসবাস করতে সবম হয়৷ 

শিলিগুড়ি ও পুরুলিয়ায় আনন্দমার্গের সেমিনার

সংবাদদাতা
পি এন এ.
সময়

গত ২২, ২৩ ও ২৪ জুন ঃ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ও দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া শহরে নডিহাতে আনন্দমার্গের প্রথম ডায়োসিস স্তরীয় দু’টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হ’ল৷ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্ত্তিত আনন্দমার্গ দর্শনের ‘ব্রহ্ম সদ্ভাব’ ও ‘সামাজিক-অর্থনৈতিক দর্শন---‘প্রাউট’-এর সুসংবদ্ধ কৃষি ও সামাজিক সুবিচার প্রভৃতি বিষয় ছিল---এই সেমিনারের আলোচ্য বিষয়৷

শিলিগুড়িতে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতনগর আনন্দমার্গ স্কুলে৷ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার থেকে প্রায় ২৫০ জন আনন্দমার্গী ভাই-বেনেরা এই সেমিনারে যোগদান করেন৷

‘ব্রহ্মসদ্ভাব’ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে আচার্য রবীশানন্দ অবধূত বলেন, সকল বস্তুরই একটা ভিত্তি থাকা চাই৷ জীবন দৃঢ়ভিত্তিক না হলে সামান্য ঝড়েই তা ভেঙ্গে পড়ে৷ ব্রহ্মভিত্তিই দৃঢ়তম ভিত্তি৷ তিনি বলেন, ব্রহ্ম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরম বিকাশ ঘটাতে পারে, তেমনই সমস্ত প্রকার কুসংস্কার তথা ডগমার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারে৷

তিদিন ব্যাপী দর্শন ও আদর্শের আলোচনা ছাড়াও প্রতিদিন ভোরে ‘পাঞ্চজন্য’, কীর্ত্তন পরিক্রমা, মিলিত প্রভাতসঙ্গীত, কীর্ত্তন, মিলিত সাধনা প্রভৃতিও ছিল প্রাত্যহীক কর্মসূচীর অঙ্গ৷ এছাড়া দ্বিতীয় দিন আনন্দমার্গীদের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শিলিগুড়ি শহর পরিক্রমা করে৷ মিছিলের পর ইণ্ডোর ষ্টেডিয়ানের সামনে এক ধর্মসভারও আয়োজন করা হয়৷ এই ধর্মসভায় সভাপত্তিত্ব করে প্রবীণ আনন্দমার্গী কেশব সিন্হা৷ আচার্য বিশ্বমিত্রানন্দ অবধূত, আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দ অবধূত প্রমুখ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী সর্বানুসূ্যত আদর্শের ওপর বক্তব্য রাখেন৷ তাঁরা বলেন, আজকের সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক সমস্ত দিকেই মানুষ দিশা হারিয়েছে, ফলে দেখা দিয়েছে সর্বক্ষেত্রেই চরম অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা৷ আনন্দমার্গের সর্বানুসূ্যত দর্শন প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে তার যথার্থ পথনির্দেশনা দিয়েছে৷

আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দজী বিশেষ করে ‘প্রাউট’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্ত প্রকার সমস্যারই সমাধান রয়েছে ‘প্রাউটে’৷

নারী নির্যাতনে ভারত শীর্ষে

সংবাদদাতা
পি এন এ.
সময়

বিশ্বের বৃহত্তম সংবাদ সংস্থা রয়টারের সেবামূলক এক সংঘটন---‘দ্য টমসন রয়টার্স ফাউণ্ডেশন’ -এর এক বিশ্ব সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতবর্ষ বর্তমানে নারীদের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্র৷ এখানে নারীর স্বাধিকার সবচেয়ে বেশী অস্বীকৃত৷ নারী নির্যাতন, সামাজিক কুপ্রথা, নারী পাচার, বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্ত্রী-পুরুষের বৈষম্য, নারী স্বাস্থ্য, যৌন নিগ্রহ প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে সমগ্র বিশ্বের ৫৪৮ জন তথ্য বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট পেশ করেছে রয়টার্সের এই শাখা সংঘটনটি৷ তাদের সমীক্ষায় প্রকাশ, সাত বছর আগে যখন এই সমীক্ষা করা হয়েছিল তখন ভারতের স্থান ছিল চার নম্বরে৷ এক নম্বরে ছিল আফগানিস্তান৷ বর্তমানে আফগানিস্তান, পাকিস্তান বা বাঙলাদেশের চেয়ে ভারতের অবস্থা খারাপ৷

শুধু বিদেশী সংস্থার সমীক্ষাতেই নয়, এদেশের সরকারী তথ্যেও এদেশের নারীদের শোচনীয় অবস্থার চিত্র ধরা পড়েছে৷ শুধু তাই নয়, বছর বছর এখানে নারীদের দুরবস্থা আরও বাড়ছে৷ তথ্য বলছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা শতকরা ৮৩ ভাগ বেড়েছে৷ এদেশে প্রতি ঘণ্টায় চারটি করে বলাৎকারের ঘটনা ঘটছে৷ দিল্লীর নির্ভয়া কাণ্ডের পর অনেক মোমবাতি মিছিল হ’ল, কঠোর আইনও পাশ হ’ল কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হ’ল না৷

সমীক্ষা বলছে, ২০০৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে দুই কোটি মহিলা শুধুমাত্র হেনস্থার কারণে চাকরী ছেড়েছেন৷ এতে যৌন হেনস্থা থেকে কটুক্তি সবই আছে৷

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে অ্যাসিড হামলা, জোর করে বিয়ে দেওয়া, পাথর মারা, শারীরিক নির্যাতন, জেনিট্যাল মিউটিলেশন, ভ্রুন হত্যা---এসব ব্যাপারে ভারত রয়েছে শীর্ষে৷

ভয়াবহ জল সংকট আসছে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

ভারতের ‘কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগ’ কমিটি থেকে দেশের ভয়াবহ জলসংকটের ওপর একটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বর্তমানে দেশের ৬০ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছে না৷ পরিশ্রুত জল না পেয়ে প্রতি বছর ২ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে৷ আর ২০৩০ সালে দেশের এই জলসংকট ভয়াবহ রূপ নেবে৷

এই রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে, দেশের ২১টি বড় শহরে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর খুব কমে আসছে৷ ২০৩০ সালে তা মারাত্মক পর্যায়ে এসে পৌঁছবে৷

যেভাবে গভীর নলকূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করা হচ্ছে, চাষের জন্যেও যেভাবে ব্যাপকভাবে মাটির নীচের জল তুলে নেওয়া হচ্ছে, তাতে জলাভাবে মানুষ, গাছপালা সবকিছুই ধবংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷

এর একমাত্র সমাধান, ব্যাপক বনাঞ্চল সৃষ্টি করা, বেশি করে গাছ লাগানো৷ তাছাড়া, সেচের জন্যে মাটির নীচে জলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে৷ এছাড়া উপায় নেই৷

যে কোনও কারণে ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলা বন্ধ করতেই হবে৷ শহরে পানীয় জলের জন্যে গভীর নলকূপ বসিয়ে জল ওঠানোও বন্ধ করতে হবে, অন্ততঃ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে হবে৷

প্রকৃতি বর্ষাকালে যে বৃষ্টির জল ঢেলে দেয়, ওই জলের সংরক্ষণ করা হয় না৷ ওই জল প্রায় সবটাই সমুদ্রে বয়ে যায়৷

এই অগাধ জলরাশিতে ঠিকভাবে ধরে রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থাই করা হচ্ছে না৷  এজন্যে ছোট-বড় নদী, খাল-বিলগুলিকে ব্যাপকভাবে সংস্কার করতে হবে৷ ছোট-বড় নদীগুলির ওপর বিভিন্নস্থানে জলাধার তৈরী করে, দেশে ব্যাপকভাবে পুকুর, সায়র,বাঁধ গড়ে তুলে বর্ষার জলের একটা বড় অংশকে সারা বছরের জন্যে ধরে রেখে সেই জলে চাষের কাজ করা ও সেই জলকে পরিশ্রুত করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত৷

এ ব্যাপারে প্রাউট-প্রবক্তা মহান দার্শনিক পরমশ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন,এই ব্যাপক জলসংকটের ‘‘একমাত্র সমাধান হল বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভর করা৷ অমাদের বৃষ্টির জলধারা সঞ্চয় করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে জলভরা মেঘ যা সমুদ্রে বৃষ্টিপাত ঘটায় তা স্থলভূমির দিকে টেনে আনতে হবে৷

অধিক থেকে অধিকতর সংখ্যায় গভীর নলকূপ খনন করে চলা কোনো সমাধানই নয়৷ বরং বৃষ্টি যেখানে হচ্ছে, ঠিক সেই জায়গায় জলকে সংগ্রহ করে রাখবার চেষ্টা করতে হবে৷ এই জন্যে অবিলম্বে ওইসব জায়গায় অনেক পুকুর, খাল,ছোট বাঁধ, জলাধার, হ্রদ তৈরী করে বৃষ্টির জলকে পানীয় জল হিসাবে ব্যবহারের জন্যে সঞ্চয় করে রাখতে হবে৷ অদূর ভবিষ্যতে মানবতা যে জল-সংকটের-সম্মুখীন হবে তা থেকে বাঁচবার এই হচ্ছে একমাত্র উপায়৷

‘‘অষ্টাঙ্গিক যোগ সাধনা  পীড়িত মানবতার মুক্তির পথ’’ - আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

যোগ দিবস ১২১শে জুন ঃ আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে সর্বত্র যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে৷ আনন্দমার্গের প্রচারকগণ বিভিন্ন স্কুল, কলেজে ও বিভিন্ন স্থানে মঞ্চ তৈরী করে যোগের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্যে সভাসমিতি করছেন ও যোগাসন ও যোগসাধনা শেখাচ্ছেন৷  আচার্য বিশুদ্ধাত্মানন্দজী বলেন, মানুষের তিনটি দেহ---স্থূল দেহ হ’ল আমাদের ভৌতিক (Physical) শরীর, এরপর মন হ’ল সূক্ষ্ম দেহ, আর আত্মা হ’ল অতি সূক্ষ্ম কারণ দেহ৷ আমাদের শরীরকে যেমন সুস্থ রাখতে হবে, মনকেও সুস্থ রাখতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে মনেরযোগ দিবস ২ বিকাশ প্রয়োজন৷ যে মনের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করি, এই মন হ’ল স্থূল মন৷ এই মন ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে কাজ করে ও খাওয়া-পরা প্রভৃতি স্থূল চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে৷ এই মনটিকে মনের কামময় কোষও বলা হয়৷ এরপরে মনের যে সূক্ষ্ম স্তর এটিকে বলা হয় মনোময় কোষ৷ মনোময় কোষের বিকাশ যতই হয় ততই মানুষের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে৷ এর চেয়ে সূক্ষ্মতর হ’ল মনের অতিমানস কোষ৷ যে কোষে মন নান্দনিক আনন্দ অনুভব করে ও অতিন্দ্রিয় আধ্যাত্মিক আনন্দের প্রতিও আকৃষ্ট হয়৷ এর পরের স্তর হ’ল মনের বিজ্ঞানময় কোষ৷ মনের এই কোষের বিকাশ হলে মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত হয় ও আধ্যাত্মিক আকর্ষণ প্রবল হয়৷ মানুষের মধ্যে লোভ, ক্রোধ প্রভৃতি স্থূল বৃত্তির প্রভাব থাকে না বললেই চলে৷ এরও পরে মনের যে সূক্ষ্ম স্তর তা হ’ল হিরন্ময় কোষ৷ এই হিরন্ময় কোষে মানুষ আধ্যাত্মিক আনন্দে বিভোর থাকে৷ এরপর হ’ল আত্মার অধিষ্ঠান যা বিশুদ্ধ চৈতন্য স্তর৷ বৈবহারিক ক্ষেত্রে আত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোনও তফাৎ নেই৷

যোগ সাধনার নিয়মিত অনুশীলনে মানুষের শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি মনের সূক্ষ্ম স্তরগুলির বিকাশ ঘটে৷ ও ধীরে ধীরে আত্মজ্ঞান লাভ করে৷ এইভাবে যোগ সাধনা মানুষের জীবনে পূর্ণত্ব এনে দেয়৷ মানুষের জীবনকে সার্থক ও আনন্দময় করে তোলে৷ আজকের সমাজে যে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি দেখা দিয়েছে, মানুষের জীবনে বিশৃঙ্খলা, সমাজে যে ব্যাপকভাবে অন্যায়-অবিচার-ব্যাভিচার চলছে, এই সংক্রামক ব্যাধি থেকে সমাজকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হ’ল যোগ৷ এখানে বলা বাহুল্য যোগ বলতে কেবল যোগ-ব্যায়াম বা যোগাসন বোঝায় না, অষ্টাঙ্গিক যোগসাধনা বোঝায়---যার মধ্যে যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি ইত্যাদি অঙ্গ রয়েছে৷ এক কথাতেই বলতে হয় অষ্টাঙ্গিক যোগ সাধনা পীড়িত মানবতার মুক্তির পথ৷

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি স্মরণ  করাতে  ১০০০ মাইল  পদযাত্রা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

৩ বছর ওড়িশার  রাউরকেল্লায় সেখানকার  ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালটিকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ কিন্তু  সে প্রতিশ্রুতি  পালিত  হয়নি৷ তাই সেই কথা  স্মরণ করিয়ে  দেওয়ার  জন্যে  রাউরকেল্লার মুক্তিকান্ত বিসওয়ালা (বয়স ৩০)  রাউরকেল্লা থেকে পায়ে  হেঁটে দিল্লি যাত্রা করেন৷ এই হাসপাতাল  ছাড়া  আরও  একটি দাবী তাঁর৷ রাউরকেল্লার ব্রাহ্মণী নদীর ওপর একটি সেতু খানিকটা তৈরী হয়ে আজও  পড়ে আছে৷ কাজ বন্ধ৷ এমতবস্থায়  তাঁর দাবী এই যে সেতুর কাজও পুরো করতে হবে৷  এটাও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির  অন্যতম৷

গত এপ্রিল মাসে মুক্তিকান্ত তাঁর পথযাত্রা শুরু করেছিলেন৷৷ ৩ মাস  হেঁটে আগ্রার হাইওয়ের  ধারে  অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি৷ তাঁকে হাসপাতালে  ভর্তি করা হয়েছে৷  হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে আবার  তিনি যাত্রা শুরু করবেন  ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদিকে তাঁর প্রতিশ্রুতি  পূরণের দাবী  জানাতে তাঁর সঙ্গে  দেখা করবেন৷

 

আনন্দমার্গীয় বিধিতে অন্নপ্রাশন ও নামকরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল, বর্ধমান ঃ গত ৩রা জুন আসানসোলের বিশিষ্ট আনন্দমার্গী শ্রী সঞ্জিৎ মজুমদার ও শ্রীমতী বনশ্রী মজুমদারের  পুরে অন্নপ্রাশন  ও নামকরণ আনন্দমার্গের সমাজশাস্ত্র চর্র্যচর্য অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়  আনন্দমার্গের কুমারপুর আশ্রমে৷ মার্গীভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে  অনুষ্ঠানটি আনন্দমুখর হয়ে ওঠে৷ অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে সকাল ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত তিনঘন্টা অখন্ড  কীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়৷ কীর্ত্তন পরিচালনা করেন শ্রীমতী দীপ্তি মাইতি ও আচার্য শুভপ্রসন্নানন্দ অবধূত৷ অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আচার্য মোহনানন্দ অবধূত৷ অনুষ্ঠানে শিশুপুরে নামকরণ করা হয়  অর্চিষ্মান৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবধূতিকা আনন্দসুধা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দসুমিতা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দ সর্বাণী আচার্যা প্রমুখ৷ প্রায় দুইশত অতিথি অভ্যাগতদের মিলিতভোজে আপ্যায়িত করা হয়৷

আনন্দমার্গের অখন্ডকীর্ত্তন  ও সমাজসেবা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ময়ূরভঞ্জ ঃ গত ১৭ই জুন  ময়ূরভঞ্জের  ঠাকুরমুন্ডা ব্লকের  গিরিধারা গ্রামে  আনন্দমার্গের  পক্ষ থেকে  অখন্ড কীর্ত্তন ও সমাজসেবার  বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়৷

অখন্ড কীর্ত্তন পরিচালনা করেন আচার্য ব্রতনিষ্ঠানন্দ অবধূত৷ অখন্ড কীর্ত্তনের পর যথারীতি মিলিত সাধনা, ধর্মসভা ও নারায়ণসেবার  আয়োজন করা হয়৷ এর পাশাপাশি বিনাব্যয়ে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন  করা হয়  ও ডাঃ যুধিষ্ঠির মোহান্ত ও ডাঃ সুমন্ত মাহাত দুঃস্থ রোগীদের  ফ্রি চিকিৎসা করেন  ও বিনাব্যয়ে  তাদের  ওষুধপত্রও দেন৷ এইভাবে গ্রামের  শতাধিক  দুঃস্থ রোগীর সেবা করা হয়৷

খেড়ুয়া ঃ বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া ব্লকের  খেড়ুয়াতে  গত ১০ই মে  ৩ঘন্টা ব্যাপী  ‘বাবা নাম কেবলম্’ মহামন্ত্রের অখন্ড নামসংকীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়৷

এই কীর্ত্তনের আয়োজন করেন রবীন্দ্রনাথ গড়াই, কীর্ত্তন  পরিচালনায় করেন মানবেন্দ্র নাথ ঘোষাল৷ বীরভূম জেলার বিভিন্ন স্থান  থেকে বহু আনন্দমার্গী এই অখন্ড কীর্ত্তনে যোগদান করেন৷ কীর্ত্তনের  মিলিত সাধনা ও গুরুপূজার পর  মার্গগুরুদেবের পুস্তক থেকে স্বাধ্যায় করে শোনান জেলার ভুক্তিপ্রধান শ্রীকেশব সিনহা৷

ধর্মসভার আয়োজন করা হয়৷  ধর্মসভায়  সাধনা,ভক্তিতত্ত্ব ও কীর্ত্তন মাহাত্ম্যের ওপর বক্তব্য রাখেন শ্রী অনন্ত মালকার ও শ্রী মহাদেব সেন৷

তাঁরা বলেন, আধ্যাত্মিক সাধনা প্রতিটি মানুষের  অবশ্য করণীয়৷ আর আধ্যাত্মিকতার মূল কথা হল ঈশ্বরভক্তি৷ ভক্তিই হ’ল মানব জীবনের  সবচেয়ে বড় সম্পদ৷ আর প্রাণ খুলে কীর্ত্তন ভক্তিলাভের শ্রেষ্ঠ উপায়৷

ধর্মসভার পর যথারীতি নারায়ণ সেবারও আয়োজন করা হয়৷ পাশাপাশি এক চিকিৎসা  শিবিরেরও আয়োজন করা হয়৷  এই চিকিৎসা শিবিরে গ্রামের দুঃস্থ মানুষদের বিনাব্যয়ে চিকিৎসা করা হয় ও তাদের ফ্র্রি ওষুধও দেওয়া হয়৷ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ  বিপ্লব দেব৷

এছাড়া ভোলানাথ  দাস মহাশয় ২০০ জন দুঃস্থ গ্রামবাসীকে বস্ত্রদান করেন৷ এই সমস্ত সেবা কাজে  সহযোগিতা করেন শ্রী প্রদীপ গড়াই৷

 

কোচবিহারে  আমরা বাঙালীর  একাদশ কেন্দ্রীয় সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
সন্মেলন

কোচবিহার ১৫ই জুন ঃ কোচবিহার শহরের কাছারী মোড়ের  সন্নিকটে  জেলা পরিষদের  অতিথি নিবাস হলে গত ১৫ই জুন থেকে ১৭ই জুন  তিন দিন ব্যাপী ‘আমরা বাঙালী’ দলের  একাদশ ত্রৈবার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হল৷ উক্ত অনুষ্ঠানে  পঃবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম,মণিপুর ও ঝাড়খন্ডের   বিভিন্ন এলাকা  থেকে প্রায় তিনশত প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন৷ সম্মেলনে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন হয় ও বকুল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় সচিব রূপে পুনর্নির্বাচিত হন৷

সম্মেলনের প্রথম দিনে অর্র্থৎ ১৫ জুন  বেলা  ১২টায় অনুষ্ঠানের  শুরুতে  মিলিত কন্ঠে  ‘বাঙলা আমার দেশ’ প্রভাত সঙ্গীত সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত  হয়৷  এরপর  আমরা বাঙালীর  কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায় ‘আমরা বাঙালী দলের  পতাকা উত্তলন  করেন ও তারপর  প্রাউট দর্শনের  প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন৷ তারপর এক এক করে  বাংলার মহান মনীষীদের প্রতিকৃতিতে মাল্যর্পণ  করা হয়, যাঁদের মধ্যে  ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম বসু ও কোচবিহারের অন্যতম বিশিষ্ট সমাজসেবক ঠাকুর পঞ্চানন বর্র্ম প্রমুখ৷

মিলিত আহারের  পর বেলা ২ টা থেকে ৪টা  পর্যন্ত এক বর্র্ণঢ্য শোভাযাত্রা কোচবিহার শহরের বিভিন্ন এলাকা  পরিক্রমণ করে’ অতিথি নিবাসের সন্নিকটে  অনুষ্ঠিত জনসভায় সকলেই উপস্থিত  হন৷ উক্ত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন  আমরা বাঙালীর  ত্রিপুরা রাজ্যের সচিব  হরিগোপাল দেবনাথ, বক্তাদের মধ্যে  ছিলেন কেন্দ্রীয় সচিব  বকুল চন্দ্র রায়, উজ্জ্বল ঘোষ, সুবোধ বর্মন, সাগরিকা পাল ও জয়ন্ত দাস৷ উক্ত পথসভায় জাগরণী সঙ্গীত  পরিবেশন করেন শ্রীমতী শ্যামা দে৷ পথসভায় বিভিন্ন বক্তা পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলা ভাষী বিভিন্ন এলাকায় বাংলা ভাষার সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী কাজের দাবী রাখেন৷ অসমে নোতুন নাগরিকপঞ্জী তৈরীর মাধ্যমে এক কোটি ঊণচল্লিশ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে৷ এর বাইরেও পুরুষানুক্রমে অসমে বসবাসকারী বাঙালীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চলছে৷ ‘আমরা বাঙালী’র নেতৃবৃন্দ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন ও এর বিরুদ্ধে সমস্ত বাঙালীদের আন্দোলনের আহ্বান জানান৷

সন্ধ্যে ৬টার পর যাত্রী নিবাস হলে মণিপুরে বাঙালীদের ভাষা-সংসৃকতি রক্ষার জন্যে যিনি তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মণিপুর থেকে আগত   সেই ‘আমরা বাঙালী’ সমর্থিত এম.এল.এ মোঃ আদারউদ্দিনকে সংবর্ধনার  আয়োজন  করা হয়৷ উক্ত অনুষ্ঠানের  সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাদল মজুমদার৷  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোঃ আদারউদ্দিন বাংলা ভাষা ও সংসৃকতি রক্ষার্থে মণিপুর, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড সর্বত্রই বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামের আহ্বান জানান৷

এই সভায় কোচবিহারের ৩২ জন ‘আমরা বাঙালী’র একনিষ্ঠ কর্মী যাঁরা বিভিন্ন আন্দোলনে অনেক বার কারাবরণ করেছেন তাদের  সবাইকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে  সম্মানিত করা হয়৷ এরপর মণিপুরের এম.এল.এর উদ্দেশ্যে একটি মানপত্র পাঠ করার পর মানপত্রটি মোঃ আদারউদ্দিন সাহেবের  হাতে তুলে দেন কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়৷

সবশেষে  সভাপতি  শ্রী বাদল মজুমদার  তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সর্বত্র বাঙালীদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে  দল-মত ভুলে আন্দোলনের ডাক দেন৷ উক্ত অনুষ্ঠানের  সঞ্চালক হিসাবে  উপস্থিত ছিলেন  শ্রী শুভেন্দু  ঘোষ৷

দ্বিতীয় দিনে কেন্দ্রীয় সচিব গত তিন বৎসরের ‘আমরা বাঙালী’-র কাজের  প্রতিবেদন পাঠ করেন৷ আর্থিক প্রতিবেদন পাঠ করেন সহসচিব তারাপদ বিশ্বাস৷ এরপরে এই দুই প্রতিবেদনের  উপর প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগহণ করেন৷

তৃতীয় দিনে ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন হয় ও ১৭জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন৷ বকুল চন্দ্র রায় সর্বসম্মতিক্রমে কেন্দ্রীয় সচিব হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন৷

জম্মু-কশ্মীর সরকারে ভাঙ্গন

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

জম্মু-কশ্মীরে বিজেপি- পিডিপি জোট  সরকার ভেঙ্গে গেল৷ ১৯শে জুন  বিজেপি জোট সরকার  থেকে সমর্থন  প্রত্যাহার করায়  মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি  (পিডিপি নেত্রী) রাজ্যপাল  এন এন ভোরার কাছে  ইস্তফাপত্র  পাঠিয়ে  দেন৷ মেহবুবার ইস্তফা গৃহীত  হলে স্বাভাবিক ভাবে  সেখানে রাষ্ট্রপতি  শাসন চালু হবে৷ কারণ এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস বা ওমর আবদুল্লার ন্যাশান্যাল  কনফারেন্স  জোট বেঁধে সরকার গড়ার দাবী জানাতে প্রস্তুত নয় বলে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন৷ ২০১৪ সালের  বিধানসভা নির্র্বচনে  মোট  ৮৭টি আসনের মধ্যে  কংগ্রেস পেয়েছিল  ১২টি, এন.সি ১৫, পিডিপি ২৮টি ও বিজেপি ২৫টি৷