আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

পাপ ও পুণ্য

কিছু দিন আগে বা৷ালোরে সাধকদের সামনে পাপ ও পুণ্য সম্পর্কে কিছু বলেছিলুম কিন্তু এখানে একটি ছেলে আমাকে অনুরোধ করেছে সে সম্পর্কে আরও কিছু বলবার জন্যে৷ তাই আমি তার ‘আদেশ’ প্রতিপালন করছি মাত্র৷ বলা হয়েছে,

‘‘ত্যজ দুর্জনসংসর্গং ভজ সাধুসমাগমম্

কুরুপুণ্যমহোরাত্রং স্মর নিত্যমনিত্যতাম্“

মুক্তির অধিকারী

আত্মজ্ঞানই হ’ল মুক্তির লক্ষণ, আর এই আত্মজ্ঞান মানুষ তখনই পায় যখন সে নিজ সুকর্মের ফলে মানুষের শরীর লাভ করে৷ মানবদেহ লাভ করলে তবে আত্মজ্ঞান হয়৷ দেখ, পশুজীবন ও মানবজীবন এই দু’য়ের মধ্যে মুখ্য পার্থক্য কী? দুই–ই পরমাত্মার সন্তান৷ একটি কুকুর, একটি বিড়াল আর একজন মানুষ–সবই পরমাত্মার সন্তান৷ কিন্তু দু’য়ের মধ্যে পার্থক্যটা এই যে, মানুষের ৰুদ্ধি উন্নত৷ মানুষ ৰোঝে যে শ্রেয় ও প্রেয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

আনন্দমার্গোক্ত অষ্টাঙ্গিক যোগসাধনা

...বৈবহারিক ক্ষেত্রে কোন জিনিস কতটা সার্থক সেটা বিচার করে মন৷ পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে কোন ব্যবস্থাপত্র কতখানি মানিয়ে চলতে পারে সে বিচারও করে মন৷ খেয়ে পরে শান্তিতে থাকা–এগুলোও করা হয় মানসিক তৃপ্তির জন্যে৷ আর সব চাইতে বড় কথা, যে কোন মতবাদ সম্বন্ধেই বলা হোক না কেন, সমর্থনশাস্ত্র মননশীলতার ওপরই নির্ভরশীল৷ মানসিক ব্যাধি বা আধ্যাত্মিক ব্যাধিমাত্রই মায়াবাদ নয়৷ মাটির পৃথিবীর সঙ্গে, মানুষের মনের সঙ্গে যোগসূত্র রেখেও আধ্যাত্ম দর্শন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে৷ আনন্দমার্গ তেমনি একটা দর্শন৷

শ্রাবণী পূর্ণিমা

.....আমাদের এই শ্রাবণী পূর্ণিমা–অনেকেই জান, এটা জানা জিনিস আমি তখন খুৰই ছোট্ট৷ তখন বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ি৷ একদিন সন্ধ্যায় একটা ঘটনা ঘটল৷ একজন লোক–সে লোকটি দুষ্ট প্রকৃতির ছিল৷ আমরা এই কথাটা ব্যবহার করছি এই জন্যে যে আজ যে মানুষটা দুষ্ট, কাল সে সাধু হতে পারে৷ আজ যে মূর্খ কাল সে জ্ঞানী হতে পারে–এ সৰকিছু আপেক্ষিক জগতের আপেক্ষিকতার দ্বারা অভিষিক্ত৷ তাই এর কোন শাশ্বত রূপ নেই৷ কোন মানুষকে স্থায়ীভাবে দুষ্ট ৰলা চলে না৷ সৰ সময় মনে রাখতে হক্ষে যে আমি এই দুষ্টের ভেতরে যে ভাল জিনিসগুলো নিহিত রয়েছে সেইগুলোকেই জাগিয়ে দিয়ে, ৰাড়িয়ে দিয়ে একে ভাল করে তুলৰো৷ ভাল মানে কী?–না, সংসৃক্ত ‘ভদ্র’ শব্দ থেকে ‘ভাল’ শব্দটা

মানবজীবনে সাফল্য লাভের রহস্য

বলা হয়েছে, পরমাত্মার কৃপা হলে ‘মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙঘয়তে গিরিম্’৷ অর্থাৎ যে মূক–বোবা সেও বাচাল হয়ে যায়, খুব কথা বলতে থাকে, আর পঙ্গুও পর্বত লঙঘন করতে পারে৷ পরমপুরুষের কৃপাতেই যে তা সম্ভব, এটা খুব সহজেই ক্ষোঝা যায়৷ কিন্তু আমি বলতে চাই– যে কোনো কাজই, মনে কর, মূক হয়তো বাচাল হচ্ছে না, কিন্তু কিছুটা কথা বলছে, পঙ্গু পর্বত লঙঘন করছে না, কিন্তু ধীরে ধীরে পাহাড়ে উঠছে– এটা কি মানুষ তার নিজের শক্তির সাহায্যে করে?

আনন্দমার্গের সূত্রপাত

অনেকদিন পর্যন্ত সমাজসেবার কাজে লিপ্ত থাকার পর যখন প্রকৃত মানুষ তৈরী করার কথা ভাবা হল তখন ১৯৫৫ সালের ৯ জানুয়ারী আনন্দমার্গের প্রতিষ্ঠা হয়ে গেল৷ প্রকৃতপক্ষে এর কিছু পূর্বেই আনন্দমার্গের কাজের সূত্রপাত হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যেটা হ

আত্মোপলব্ধি ও মানবতার সেবা

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

বুদ্ধি মানুষের সমস্ত কর্মকেই নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু মদ্যপান তাকে ধ্বংস করে দেয়৷ মদ তাই অত্যন্ত খারাপ জিনিস৷

জড়বাদও সমানভাবে খারাপ৷ এও ৰুদ্ধিকে ধ্বংস করে দিয়ে মানুষকে ইট–পাথরে পরিণত করে দেয়৷ জড়বাদী দর্শন তাই সমাজের পক্ষে একজন ডাকাতের চেয়েও বেশী বিপজ্জনক৷ তোমাদের জড়বাদী দর্শনের বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করতে হবে, কারণ এটা মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু৷

অসতো মা সদ্গমো …..

আজ প্রশ্ণোত্তরের মাধ্যমে কিছু আলোচনা করব৷ অনেক সময় এমনি আলোচনার পরিবর্তে প্রশ্ণোত্তরের মাধ্যমে আলোচনা ভাল হয়৷

সংসৃক্তে একটা সূক্ত আছে৷ ঋক্বেদের শ্লোকগুলোকে শ্লোক না বলে বলা হয় ‘সূক্ত’৷ ‘সু’+ ‘উক্ত’= সূক্ত৷ ‘সু’ অর্থাৎ সুন্দর ভাবে, ‘বচ’ ধাতুর উত্তর ‘ক্ত’ প্রত্যয় যোগে নিষ্পন্ন হয় ‘উক্ত’ অর্থাৎ যা বলা হয়েছে৷ এমনি একটা সূক্ত হ’ল ঃ

‘‘অসতো মা সদ্গময়ো তমসো মা জ্যোতির্গময়ো

মৃত্যোর্মা অমৃতংগময়ো আবিরাবিঃ ময়ৈধি৷৷

রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখম্ তেন মাং পাহি নিতাম্৷৷’’

আদর্শ জীবন

‘‘যচ্ছেদ্ বাঙ্মনসী প্রাজ্ঞস্তদ্

যচ্ছেদ্জ্ঞান আত্মনি৷

জ্ঞানমাত্মনি মহতি নিযচ্ছেৎ

তদ্ যচ্ছেচ্ছান্ত আত্মনি৷৷’’

মনকে ভারমুক্ত রাখ  

বুদ্ধির মান অনুযায়ী জীবকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে–পশু, মানব আর দেবতা৷ আমাদের মানব সমাজেও আমরা পাই মানবীয় আধারে পশু, মানবীয় আধারে মানব আর মানবীয় আধারে দেবতা৷