প্রভাতী

হায় সভ্যতা !

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

এ কোন সভ্যতার বিকাশ------

চতুর্দিকে সর্বদাই  মানবতার দেখি সর্বনাশ৷

নরপিশাচের ঘৃণ্য লালসার আস্ফালন

বিদ্যার অঙ্গনে চালায় চরম শিশু নির্র্যতন৷

প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রাঘাতে নরহত্যা

ক্যামেরার সামনে পেট্রোল সহযোগে জ্বলন্ত চিতা৷

বঙ্গের আফরাজুল জীবন্ত দগ্দ রাজস্থানে

হায় সভ্যতা ! এ কার পাপে,  কোন বিধানে?

*     *      *

মনে পড়ে, ১৯৮২-র তিরিশে এপ্রিলের কথা৷

সুন্দরী তিলোত্তমা কল্লোলিনী কলকাতা---   

বিজন সেতু, বন্ডেল গেটের আশে পাশে,

কেঁপেছিল মানুষ পশু-পক্ষী

অসহায়ের আর্তনাদে, ত্রাসে

ধর্মনিষ্ঠ, সর্বত্যাগী সতেরো সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীগণ

জগৎ কল্যাণে যাঁরা সঁপেছিল অমূল্য জীবন

মানবতার শত্রু নররূপী হিংস্র হায়েনার দল

সেবাব্রতীদের দেহ খুঁচিয়ে,

চোখ উপড়ে,ঢেলেছিল পেট্রোল

সপ্তদশ দধীচির চিতার আগুনে  পুড়েছিল সভ্যতা

সমগ্র পৃথিবী হেনেছিল ক্ষোভ,ঘৃণা, মর্মব্যথা৷

 

আজও কি মানুষ র’বে নিশ্চিন্ত, নির্লিপ্ত

বিক্ষোভের আগ্ণেয়গিরি হ’তে 

লাভাস্রোত হবে না নিক্ষিপ্ত

রোষের দাবানল উঠবে না লেলিহান শিখায় জ্বলে---

বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষ 

মরবে শুধু  শোষণের জাঁতাকলে?

 

ওই দেখ, পূর্র্বকাশে রক্তিম লালিমার ঊন্মেষ

অনাচার, ব্যাভিচার, শোষণ, অত্যাচার করিবারে শেষ

ডাকে নোতুন দিনের সূর্য্য, জাগো সবে আজ

গড়তেই হবে নোতুন সভ্যতা,

নোতুন পৃথিবী, শোষণমুক্ত সমাজ৷

 

সে ও তুমি

লেখক
সাধনা সরকার

হূদয় তন্ত্রীতে অদ্ভূত এক সুর

তোমাকেই চাই

আমি তোমাকেই চাই

সুর     বাজে সুর

এসে গেছো তুমি

এসে গেছো খুব ভেতরে

            এক সূক্ষ্ম তারে

কে যেন নাচছে

তা থৈ থৈ থৈ

তুমি ছিলে

আছ তুমি

নিখিল বিশ্বের তালে তালে

তোমার জন্যেই বেঁচে থাকা

মরণ   সেও তুমি.............৷

খানার মর্ম সবাই বোঝে না

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘কৌশিকা’ শব্দের একটি অর্থ হ’ল রেকাবি, পিরীচ (পেয়ালা–পিরীচ), ডিশ, প্লেট (চায়ের প্লেট), জলখাবারের জন্যে ব্যবহার করা ছোট আকারের কানা–উঁচু থালা, ফুলকাটা থালা, সরা প্রভৃতি৷ প্রাচীন ভারতে এই প্রত্যেকটি জিনিসই ‘কৌশিকা’ নামে পরিচিত ছিল ও জলখাবারের জন্যে এই বাসনই সাধারণতঃ ব্যবহার করা হত৷ প্রাচীন রােে রান্না করা জলখাবারের জন্যে ‘কৌশিকা’–ই ব্যবহার করা হত৷ কিন্তু না–রাঁধা জলখাবারের জন্যে ছোট আকারের একপ্রকার পাত্র যাকে ছোট ধুচুনী বা পেত্তে বলা হয় বা বলা হত তা–ই ব্যবহার করা হত৷ রাঢ়ের পণ্ডিতেরা এই জন্যে ছোট আকারের ধুচুনী বা পেত্তের জন্যে সংসৃক্ত ‘কৌশিকা’ শব্দ ব্যবহার করতেন৷

পাশ্চাত্ত্য প্রভাবে মানুষ বাঁশ–বেতের ভোজনপাত্রের ব্যবহার কমিয়ে ফেলেছিল৷ বাঙলায় যখন সাহেবরা আসেন তখন ভোজনপাত্র হিসেবে বাঁশ–বেতের আধার ব্যবহূত হত৷ পাশ্চাত্ত্য প্রভাবে বাঙালী যখন একটি ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজ গড়ে তুলেছিল এই কলকাতা শহরেরই বিভিন্ন অংশে, ডিরোজিওর প্রতিপত্তি যখন তুঙ্গে সেইরকম সময়ের মানুষেরা সাধারণ বাঙালীর খাদ্যকে ‘খাবার’ তথা ভাল বাঙলায় ‘আহার’ বা ‘ভোজন’ বলত৷ সাহেবী খানাকে তারা ইচ্ছে করেই ‘খানা’ বলতে  শুরু করে৷ বাংলা ভাষায় ‘খানা’ শব্দটি চলে আসছে ৭০০ বছর ধরে ঠিকই কিন্তু ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজে ‘খানা’ শব্দটি ব্যবহূত হতে থাকে বিশেষ করে সাহেবী চালের খাবারের জন্যে......আরও বিশেষ করে ভোজ্যে শূকরমাংসের ব্যবহার থাকলে৷ সেই সময়কার একটি ছোট্ট গল্পের কথা মনে পড়ল৷

তোমরা নিশ্চয় অনেকেই জান হুগলী জেলার জনাই ছিল ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের একটি শ্লাঘার বস্তু৷ বেশ সুশিক্ষিত গ্রাম৷ সংস্কৃতের জ্ঞানের জন্যে রাা–বাঙলায় এই জনাবতীপুর (জনাই) অনেকের কাছেই পরিচিত ছিল৷ বৌদ্ধযুগে ও বৌদ্ধোত্তর যুগে বাঙলায় এর প্রভাব দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল৷ বৌদ্ধোত্তর যুগের শেষ চরণে জনাই–এরও প্রতিদ্বন্দ্বী জুটে গেল৷ যারা জুটল তারা হচ্ছে পণ্ডিত কায়স্থদের গ্রাম বাক্সা (বাকসারিকা), কৈকালা (কপিত্থকলিকা) ব্রাহ্মণ–গ্রাম ভাণ্ডারহাটী, সিঙ্গুর (সিংহপুর) প্রভৃতি৷ ইংরেজ আমলের মাঝামাঝি সময়ে এদের অনেকে রাক্ষসী ম্যালেরিয়ার আক্রমণে ধ্বংস হতে বসেছিল৷ এখন কেউ কেউ টাল সামলে নিয়েছে.....কেউ আর তা পারেনি৷ সে যুগে এদের সবাইকার মধ্যে চলেছিল একটা বন্ধুত্বপূর্ণ বৈদগ্ধ্য প্রতিযোগিতা৷ প্রাক্–পাঠানযুগের ঠিক পূর্ব চরণে ভাণ্ডারহাটী একটি নামজাদা পণ্ডিত–গ্রাম রূপে পরিচিত ছিল৷ ভাণ্ডারহাটীর তো বটেই, ভাণ্ডারহাটীর কাছাকাছি গ্রামের বসবাসকারী পণ্ডিতেরাও নিজেদের ভাণ্ডারহাটী গোষ্ঠীর মানুষ বলে পরিচয় দিতেন৷ ঠিক তেমনই ভাণ্ডারহাটী গোষ্ঠীর একজন স্বনামধন্য মানুষ ছিলেন বিদ্যাভূষণ বাচষ্পতি৷ বাচষ্পতি মশায় ছিলেন তীক্ষ্ণধী প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব সম্পন্ন এক বিরাট পণ্ডিত৷ কাব্য, সাংখ্য, ব্যাকরণ, স্মৃতি সবেতেই ছিল তাঁর সমান দখল৷ অথচ মানুষটি ছিলেন সদালাপি, নিরহঙ্কার৷ দেখে কে বুঝবে, তিনি অত বড় পণ্ডিত৷ কেউ তাঁকে শ্লেষ বর্ষণ করে কথা বললে, ঠোক্কর তুলে ঘা দিলে তিনি তাকে সেইভাবে প্রত্যুত্তর দিতেন না–দিতেন হাস্যরসিকতার মাধ্যমে, বৈদুষ্যমণ্ডিত ভাষায়৷

এহেন বিদ্যাভূষণ বাচষ্পতি মশায় কলকাতায় খুব কমই আসতেন৷ কলকাতার ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজের সঙ্গে তিনি মানিয়ে চলতে পারতেন না৷ সংসৃক্ত কলেজের পণ্ডিত মশায়রা চাইতেন তিনি কলকাতায় আসুন–তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন৷ কিন্তু বাচষ্পতি মশায়ের কলকাতার প্রতি এই অনীহা তাঁদের ব্যথিত করত৷

একবার তিনি কলকাতা এলেন৷ তাঁকে দেখেই ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজ কিছুটা বিরক্ত হ’ল.......দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হ’ল কারণ বাচষ্পতি মশায় কারোর খাতির রেখে কথা বলতেন না৷ যদিও কথা বলতেন অত্যন্ত ভদ্রভাবে৷ সেবার কলকাতায় দু’চার দিন থেকে গেলেন৷ বাচষ্পতি মশায় এবার গ্রামে ফিরবেন৷ ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজ প্রতিপদেই তাঁর উপস্থিতিতে পর্যুদস্ত হয়ে চলেছিল৷ তাঁরা ভাবলেন একবার অন্ততঃ বাচষ্পতি মশায়কে অপ্রতিভ করতে হবে–একটা অন্ততঃ ভাল রকমের ঠোক্কর দিতে হবে৷

ইঙ্গ–বঙ্গ সমাজের কয়েকজন তাগড়া তাগড়া মানুষ শূকর মাংসের খাদ্য খাচ্ছিলেন৷ তাঁরা ভাবলেন, এটাই তো মোক্ষম সুযোগ৷ তাঁরা বাচষ্পতি মশায়কে বললেন–‘‘আচ্ছা বাচষ্পতি মশায়, আপনি তো পাণ্ডিত্যের সমুদ্র–যেমন উদার তেমনই ব্যাপক৷ তাহলে আমাদের সঙ্গে বসে একবার খানা খেয়ে আমাদের কৃতার্থ করে দিয়ে যান৷’’ বাচষ্পতি মশায় এর উত্তরে একগাল হেসে বললেন, ‘‘দেখো, আমি একে হুগলী জেলার গ্রাম্য মানুষ–তার ওপর আবার গরীব৷ আমি তোমাদের ওই খানাটানা চোখেও দেখিনি কখনও........জানিও না, তাই খাই–ও না৷ আমরা গেঁয়ো ভূত৷ আমরা খানা–ডোবায় মলত্যাগই করতে যাই৷’’ বাচষ্পতি মশায় তাঁর স্বগ্রামে ফিরে গেলেন৷

থেকো আমার মনে

লেখক
বিভাংশু মাইতি

প্রভু থেকো আমার মনে

ভোরের বেলায় শিউলি তলায়

দিনে বেণুবনে৷

পড়াশুণার ধারাপাতে

তারায় ভরা নীরব রাতে

সকল কাজে সবার মাঝে

সদাই সবখানে

তুমি থেকো আমার মনে

প্রভু থেকো আমার মনে৷

তুমি চাইলে সবই হয়

অন্ধজনও দেখতে পায়

মূকও কথা কয়

তুমি চাইলে সবই হয়৷

তুমি চাইলে সবই হয়

পাথরেও ফুল ফোটে গো

উজানে নদী বয়৷

তুমি চাইলে সবই হয়

তোমার কৃপায় অনায়াসে

করব তোমায় জয়

তুমি চাইলে সবই হয়৷

ভোর

লেখক
সাধনা সরকার

ভোরের অজস্র মাধবীলতা ফুটে থাকা গাছটার দিকে তাকিয়ে সৌম্যর সমস্ত মনটা আনচান করে ওঠে৷

এত ফুল!

আর আমি কিনা অতুল বাবার চরণে একটা ফুলও তুলে দিতে পারি না৷ ভোরের রোদটা সবে চনমনে হয়ে উঠেছে তখন বেচারা সৌম্য গিয়ে দেখে সব নাগালের কাছের ফুলগুলো কে যেন নিয়ে গেছে৷

বেচারার চোখে জল এসে যায়৷ অমন সুন্দর ফুলগুলো নিজে সে তুলে নিতে পারে না আরও ভোরে এসে তাকে দেখতেই হবে কে সে! ফুলচোরটা কে?

সেদিন খুব ভোরবেলা৷ সূয্যিমামা তখনও আকাশে ওঠেনি৷ পূব দিকের আকাশটা সবে লাল হয়েছে৷ সে চুপটি করে বসে থাকে মাধবী লতার থোকা থোকা ফুল পাতার আড়ালে৷ হঠাৎ কাণে এল খুব সতর্ক পায়ের একটা মৃদু শব্দ৷ কে যেন আসছে৷ সৌম্য ভাবল এইবারে বোধহয় ফুলচোরকে ধরা যাবে৷ মৃদু পায়ের শব্দ সৌম্যের কাছাকাছি আসছে অবাক দু’টো বড় বড় চোখে সে দেখল, আরে এ যে তার চেয়েও ছোট পঁুচকে একটা মেয়ে৷ কী সুন্দর টলটলে তার মুখ৷ যেন ভোরের আলো দিয়ে ধোয়া৷ অবাক দু’টো চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে! আরে এই মেয়েটাই তবে ফুল তুলে নিয়ে যায়?

চোখে পড়ল মাধবী লতার নীচের দিকের ঝাড়ে বড় বড় থোকা থোকা ফুলগুলোয় সে হাত দিচ্ছে৷ সৌম্য বেশ জোরেই চিৎকার করে উঠল---এইবার বুঝতে পেরেছি ফুল চোর কে৷

মেয়েটা হক্চকিয়ে চারিদিকে তাকায়৷ বেচারী বুঝতে পারে এতদিনে সে ধরা পড়ে গেছে৷ কিন্তু সে আর নিজেকে সাজাবার জন্যে ফুল নিয়ে যায় না৷

আস্তে করে সে বলল---আমি চোর নই গো৷ আমরা বড্ড গরীব৷ আমার বাবা একদিন চারিদিকের নিরালা রাতে কোথায় যেন চলে গেছেন৷ কার যেন ডাক শুণে৷ সেই জন্যে ফুল কেনবার পয়সা তো আমাদের নেই৷ খুব ভোরে উঠে তোমাদের মাধবীলতার গাছ থেকে হাতের কাছে যে ফুলগুলো থাকে সেগুলো আঁচল ভরে নিয়ে যাই৷ সাজাই আমার বাবাকে৷

তাছাড়া আমার বাবা যাঁর ডাক শুণে চলে গেছেন তাঁর চরণেই ফুলগুলো হয়তো ঝরে পড়বে৷ আমি বড় মমতায় এগুলোই তুলে নিয়ে যাই৷

বিসুকটের টিনে কী ছিল

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

কুলাল+ ঠক্ করে ‘কৌলালক’ শব্দটি পাচ্ছি৷ শব্দটির  অর্থ হল চীনে মাটির  বাসনপত্র ও চীনে মাটির অন্যান্য পণ্য যেমন ফুলদানি, পিকদানি, সুর্র্মদানি প্রভৃতি৷

সে আজ অনেকদিন হয়ে গেল৷ বাংলা সাহিত্যে কেদার বাঁড়ুজ্যে মশায় তখন সুপ্রতিষ্ঠিত৷  শুধু উঠতি সাহিত্যিকেরাই নয়, প্রতিষ্ঠিত  সাহিত্যিকেরাও  কেউ কেউ তাকে ‘দাদামশায়’ কেউবা ‘দাদু’ বলে ডাকতেন৷ তাঁর প্রতিভা বেশী ফুটে উঠেছিল হাস্যরসের গল্পে৷  তবে সাহিত্যের অন্যান্য শাখাকেও  তিনি  ছোননি  এমন কথা বলা চলে না ৷  এহেন কেদার বাঁড়ুজ্যে  মশায় একবার নাকি  চীনে গেছলেন৷ তিনি যখন চীনে যান তখন তার মুড়িভাজার খোলা কোচি, পিটুলি গোলা, হলুদবাটা,  শিল-নোড়া, ডেঁয়ো ঢাকনা, নারকোল  মালা, রঙীন  ক্ষুরি রঙবেরঙের চ্যাঁচারিতে তৈরী বাঁশের কুলো তো ছিলই,  আর ছিল একটি সুদৃশ্য বিসুকটের টিন-ভর্ত্তি কি যেন একটা জিনিস৷ বাংলার নামীনামী-উঠতি বাড়তি-পড়তি সাহিত্যিকেরা দলে দলে জাহাজ ঘাটায়  এসেছিলেন তাঁকে  দিায়- অভিনন্দন  জানাতে৷ বাঁড়ুজ্যে মশায় সবাইকার সঙ্গে হাসি মুখে কথা বললেন, শ্রিম্ভালাপ করলেন৷ হঠাৎ একটি উঠতি বয়সের ছোকরা সাহিত্যিক বিসুকটের টিনটা দেখিয়ে বললেন---দাদু বিসুকটতো চীনে অনেক পাওয়া যায়...সস্তা মচমচে ও মুখরোচকও৷ অমন মুখরোচক বিষুকট এদেশে পাওয়াই যায় না৷ আমি তো  নিশ্চয় বলব চীনের বিসুকটের মতো মুখরোচক  জিনিস পৃথিবীতে নেই৷

বাঁড়ুজ্যে মশায় বললেন--- চীনের  বিষ্কুটের  চেয়েও  মুখরোচক জিনিস আছে আর তাতে তোমাদের ঠোঁট-জিব বেশ তড়বড় করে নড়ৰে৷

কোন একজন সাহিত্যিক ললেন--- হ্যাঁ, বিস্কুটের  চেয়েও  মুখরোচক হচ্ছে এদেশের ডালমুট৷

বাঁড়ুজ্যে মশায় বললেন--- হল না, হল না, একটু ত্রুটি রয় গেল৷

সাহিত্যিকেরা ললেন--- ডালমুটের চেয়েও  মুখরোচক হল নুনে-ঝালে  আঃ-উঃ করানো চানাচুর৷

বাঁড়ুজ্যে মশায় ললেন  হল না, হল না৷

সাহিতিকেরা বাঁড়ুজ্যে মশাইকে ললেন তবে আপনিই বলুন  সবচেয়ে মুখরোচক  জিনিস কী৷

বাঁড়ুজ্যে মশাই ললেন---সবচেয়ে মুখরোচক হচ্ছে পরনিন্দা, পরচর্চা আর প্রকাশ্যে যার খাই-পরি আড়ালে  তার শ্রাদ্ধ করি...‘‘যার শিল যার নোড়া / তারই ভাঙ্গি দাঁতের গোড়া... যার খাই যার পরি  তারই নিন্দাবাদ’’ ---হেমচন্দ্র৷  এই পরনিন্দা , পরচর্চা অথবা প্রকাশ্যে যার খাই -পরি আড়ালে তার নিন্দা করি--- এই তিনটি জিনিস মিশিয়ে যে ভোজ্যটি তৈরী হয় সেটিই সবচেয়ে ৰেশী মুখরোচক৷

তখন উঠতি বয়সের তরুণ সাহিত্যিক ললেন--- তবে ওই বিস্কুটের টিনে কী নিয়ে যাচ্ছেন?

কেদার বাঁড়ুজ্যে ললেন---টিনটা খুলেই দেখো না!

তরুণ সাহিত্যিক টিনটি  খুললেন৷ দেখলেন-নির্ভেজাল  ৰাংলার মাটি--- যে মাটি আমরা আশে পাশে পথে ঘাটে আকছার  হামেশাই দেখে থাকি৷ সবাই সমস্বরে জিজ্ঞেস  করলেন--- এ যে মাটি! মাটি নিয়ে  কি কেউ যাত্রা করে! মাটি নিয়ে কি কেউ ভিন্ দেশে যায়!

বাঁড়ুজ্যে মশায় ললেন---চীনে গিয়ে তো আমাকে শৌচালয়ে যেতে হবে৷ আমাকে তো হাতে মাটি করতে হবে৷

সাহিত্যিকরা বললেন---হাতে মাটি করবার জন্যে মাটি তো  সে দেশেই রয়েছে৷

বাঁড়ুজ্যে মশায়  ললেন--- ওখানেই  তো ভুল করলে৷ এটা যে তোমাদের  ঠিকেয় ভুল৷ তোমরা দেশটার নামই ভুলে গেলে৷ ওদেশে হাতে-মাটি করবার মাটি কী করে পর্া! দেশটা যে চীন দেশ৷ ওখানকার সই যে চীনে মাটি৷

সাহিত্যিকেরা তাঁদের ঠিকেয় ভুল মেনে নিলেন৷

জীবন দেবতা

লেখক
শ্রীপথিক

সমস্ত ফুল নিয়ে একটি বাগিচা

সমস্ত শব্দ নিয়ে একটি কবিতা

সমস্ত তারকা নিয়ে একটি আকাশ

সমগ্র বিশ্ব নিয়ে একটি দেবতা

সে আমার জীবন দেবতা৷

শীতটা আসে থাকতে পাশে

লেখক
শিবরাম চক্রবর্ত্তী

শীতকালটা লাগে ভাল    একঘেয়েমী যায়

পরমপুরুষ তাই শীতকে সময়মত পাঠায়৷

শীতকালটা লাগে ভাল তুলোর লেপে শুয়ে

তাই তো মলয় আনন্দে ঘুমোয় সময়ের জ্ঞান খুইয়ে৷

শীতকালটা লাগে ভাল পিঠে পড়লে পেটে

আর যদি পাই নলেন গুড় তারে খুব খাই চেটে৷

শীতকালটা লাগে ভাল শীতের নানান সব্জি

গিন্নি রেঁধে পাতে দিতে খাই ডুবিয়ে কব্জি৷

শীতকালটা লাগে ভাল বয়স্করা যদি

গরম জলে নাইতে পারে লাগে না তার সর্দি৷

শীতকালটা লাগে ভাল যদি গরীবের দল

পায় যদি শীতের সম্বল একটি গরম কম্বল৷

শীতকালটা লাগে ভাল চাষীর এই সময়

যে ধান ফলায় তার মূল্য তারা যদি ঠিক পায়৷

 

 

ঐক্যের গান

লেখক
আচার্য ত্রিগুণাতীতনন্দ অবধূত

বাঙলা মোদের দেশ

বাঙলা মোদের ভাষা

বাঙলা মোদের গান

বাঙলা মোদের আশা৷

বাঙলা মোদের মাতৃভূমি

বাঙলা মোদের রত্ন

বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি

বাংলায় দেখি স্বপ্ণ৷

এই বাঙলা ছিন্ন ভিন্ন

মনেতে শান্তি নেই

ভাঙ্গা বাঙলাকে জুড়তে তাই

ঐক্যের গান গাই৷

 

প্রশ্ণ

লেখক
রবীন্দ্রনাথ মন্ডল

ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা বলে গুণী জনে

তবু কেন প্রশ্ণ জাগে মনের গোপনে৷

এ জগতে বিষ্ণু কেন এলেন তবে বারে বারে ?

শত দুঃখ সহ্য করে  অসুর কেন সংহারে ?

এত রূপ রস গন্ধ কেন এই  সে ভূবনে?

আছে জন্ম আছে মৃত্যু আলো অন্ধকার

জয় পরাজয় দিয়ে মোদের নেয় সে শিক্ষাভার

এমন নিখঁুত গড়া জগৎ, মিথ্যা ভাবি কেমনে

সৃষ্টি দেখে স্রষ্টা খঁুজি জানতে পারি তাঁকে

সৃষ্টি মাঝে শক্তি তাহার গোপন করে  রাখে

এ জগৎটা গড়লো বলো কিসের কারণে?