Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আমার বাঙলা

একর্ষি একর্ষি 

সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশে ‘ আমার বাঙলা ‘ ,------ বাঙালীর , আমার বাঙলা‘র সংস্কৃতিই বাঙলার -, বাঙালীর পরিচয় ঃ ------ ২৩
প্রখ্যাত বাঙালী ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় বাঙালীর সংস্কৃতি প্রসঙ্গে আলচনার শুরুতে বললেন‘‘ দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবন , আমাদের প্রতিদিনের অশন-বসন-, বিলাস-ব্যসন , চলন-বলন , আমোদ ---উৎসব , খেলাধুলা প্রভৃতি যা আমাদের মনন ও কল্পনা , অভ্যাস ও সংস্কারকে ব্যক্ত করে , অর্থাৎ এগুলি যা আমাদের মানস-সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে , এ সম্বন্ধে আমরা যথাষ্ট সচেতন নই৷ কোনও দেশকালবদ্ধ নরনারীর মনন-কল্পনা, ধ্যান-ধারণা , চিন্তা-ভাবনা প্রভৃতি শুধু ধর্মকর্ম-শিল্পকলা-জ্ঞানবিজ্ঞানেই আবদ্ধ নয় , এবং ইহাদের মধ্যে শেষও নয় , জীবনের প্রতিটি কর্মে ও ব্যবহারে , শীলাচরণ ও দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনচর‌্যার মধ্যেও তাহা ব্যক্ত হয় ৷ চর্চা যেমন সংস্কৃতির লক্ষণ , চর‌্যা বা আচরণও তাহাই এক হিসেবে চর‌্যা বা আচরণই চর্চাকে সার্থকতা দান করে , এবং উভয়ে মিলিয়া সংস্কৃতি গড়িয়া তোলে ৷ চর‌্যার ক্ষেত্র সুবিস্তৃত ৷ জীবনের এমন কোনও দিক বা ক্ষেত্র নাই যেখানে মানুষ মনন-কল্পনা বা ধ্যান-ধারণালব্ধ গভীর সত্য ও সৌন্দর‌্যকে জীবনের আচরণে ফুটাইয়া তুলিতে না পারে ৷ দৈনন্দিন জীবনাচরণের ভিতর দিয়া এই সত্য ও সৌন্দর‌্যকে প্রকাশ করাই তো সংস্কৃতির মৌলিক বিকাশ৷ দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারিক দিকটায় এই আচরণ যতটুকু প্রকাশ পায় তাহার সবটুকুই সেই হেতু মানুষের মানস সংস্কৃতিরই পরিচয় , এবং বোধ হয় তাহার মৌলিক পরিচয়ও বটে ৷ 
‘‘ স্বনামধন্য ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার বললেন----‘‘ দীর্ঘকাল এক রাজ্যের অধীনে এবং পরস্পর পাশাপাশি বাস করিবার ফলে , তাহাদের সম্বন্ধ ক্রমশই ঘনিষ্ট হইয়া উঠিতেছিল এবং তাহারাই ভারতের অন্যান্য প্রদেশ হইতে পৃথক হইয়া কতকগুলি বিষয়ে বিশিষ্ট স্বাতন্ত্র্য অবলম্বন করিতেছিল ‘৷দৃষ্টান্ত স্বরূপ তাহাদের মৎস্য-মাংস-ভোজন , কোনপ্রকার শিরোভূষণের অব্যবহার , তান্ত্রিক ও শাক্তপূজার প্রাধান্য , প্রাচীন বঙ্গভাষা ও লিপির উৎপত্তি এবং শিল্পের বৈশিষ্ট্য প্রভৃতির উল্লেখ করা যাইতে পারে৷ইহাদের সবগুলি তাহাদিগকে নিকটবর্তী অন্যান্য প্রদেশের অধিবাসী হইতে পৃথক করিয়া একটি বৈশিষ্ট্য দান করিয়াছিল৷‘‘ এই বৈশিষ্ট্য বাঙালীর সাংস্কৃতিক জীবনকেও পুষ্ট করেছে৷ 
প্রশ্ণ হ’ল আদতে সংস্কৃতি ব্যাপারটা কী ? সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনের সকল বহুমুখী অভিপ্রকাশ বা অভিব্যক্তির সামুহিক রূপ বা সমাহার ৷ কথাটাকে একটু অন্যভাবে বললে দাঁড়ায়--- অভিব্যক্তির যেটা সূক্ষ্মতর ও মধুরতর ভাব সেটাকে আমরা সাধারণত বলে থাকি সংস্কৃতি৷ আবার এর থেকে দুটো কথা পরিষ্কার --- ১. সংস্কৃতি হচ্ছে বৌদ্ধিক স্তরের ব্যাপার , আর ( ২ ). সংস্কৃতির একই অঙ্গে দুটি রূপ ,-- একটি জড়াভিমুখী বা স্থূল বা অমার্জিত , দ্বিতীয়টি সূক্ষ্ম বা মার্জিত-পরিশীলিত ৷ মানুষের সামুহিক অভিপ্রকাশের জড়াভিমুখী স্থূল রূপটাকে এককথায় কলা হয় ‘ কৃষ্টি ‘ ৷ তাহলে দাঁড়াল , জীবনের অভিজ্ঞতার স্থূল ও সূক্ষ্ম অভিব্যক্তির সমষ্টিগত রূপই হচ্ছে সংস্কৃতি , আর কৃষ্টি হ’ল সংস্কৃতির অংশ বিশেষ৷ কার‌্যতঃ , ‘ কৃষ্টি ’ অভিব্যক্তির ক্রিয়াত্মিকা রূপ , আর তার বৌদ্ধিক স্ততরের পরিশীলিত ভাবটুকুর নাম সংস্কৃতি৷ যেমন হাত-পা-মুখ না ধুয়ে খাওয়াটা নয় , শুদ্ধাচার ও স্বাস্থ্য সম্মত বিধি অনুযায়ী খাওয়াটাই হচ্ছে সংস্কৃতি ৷ কাজেই , মানব গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে কৃষ্টিগত পার্থক্য থাকতে পারে , কিন্তু বিশ্বের সকল মানুষের সংস্কৃতি সব সময়ই এক৷ খাওয়া , পরা ,বাসকরা , শিক্ষা , চিকিৎসা , গান গাওয়া , সিনেমা-নাটক-সাহিত্য ছবি আঁকা ইত্যাদি অভিব্যক্তিগুলি কেবল মানুষের ধরণ , পশুদের নেই৷ তথাপি , অবশ্য লক্ষ্যনীয় , বিভিন্ন জায়গায় মানুষের সার্বিক অভিব্যক্তির ধরণ-ধারণে স্থানিক পার্থক্য এসেই যায়৷ তাই বাঙলা ও বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বাঙলার মাটির দান , আশীর্বাদ ৷বাঙলার প্রকৃতিই বাঙালীর ব্যতিক্রমী সভ্যতা ও সংস্কৃতির রূপকার৷ 
সংস্কৃতি’র সঙ্গে আর একটি শব্দ একই তরঙ্গে উচ্চারিত হয় তা হ’ল ‘ সভ্যতা ‘৷ আমাদের জীবনের অভিব্যক্ত বিভিন্ন ভাবের মধ্যে শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্ম ভাবটির সংস্পর্শে আমরা আসি তাকেই বলে ‘ সভ্যতা ‘৷ সংস্কৃতির মধ্যে ভাল-মন্দ দুটো দিকই থাকে, কিন্তু শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্ম ভাব সেটাই সভ্যতার কষ্টিপাথর৷ এই প্রসঙ্গে একটা কথা স্মরণীয়, --- সংস্কৃতি বা কালচারের মধ্যমে শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্মবোধ পাওয়া যায় সেটা মানুষের সূক্ষ্ম বিচার ক্ষমতা বাড়ায়৷ তাই কাজে- কর্মে , আচার-আচরণে বিচারের সমর্থন যতটা বেশি থাকবে, সভ্যতার প্রকাশ তথা বিকাশ তত বেশী হবে৷ যাহোক, সংস্কৃতির সঙ্গে সভ্যতার পার্থক্য তো আছেই, তবে সে পার্থক্য খুবই সূক্ষ্ম৷ * সংস্কৃতি জীবনের সকল অভিব্যক্তির সামূহিক রূপ , আর সভ্যতা-সংস্কৃতি জাত শিষ্টাচারের সূক্ষ্মবোধ৷*সংস্কৃতি বৌদ্ধিক স্তরের অভিব্যক্তি , কিন্তু সভ্যতা ভৌতিক স্তরের অভিব্যক্তি ৷ * একজন মানসিক বিকাশের দিক থেকে সংস্কৃতি সমপন্ন নাও হতে পারে , কিন্তু সে ভৌতিক উন্নতির দিক দিয়ে সভ্য হতে পারে৷ * আরো তাৎপর্যপূর্ণ কথা হচ্ছে যে সংস্কৃতির মধ্যে থেকে মানুষের বৌদ্ধিক বিকাশ হয় , মানুষ বিচারশীল হয় ৷ আর এখানেই উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বৌদ্ধিক বিকাশ না-হলে , বিচারশীল না-হলে সভ্য হওয়া যায় না৷ তাই সভ্যতা ও সংস্কৃতি একই মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠের মতো ৷ 
কোন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবনের কথা বলতে গেলে তার ভূতাত্ত্বিক-ভৌগোলিক তথা প্রাকৃতিক পটভূমির দিকটাও নজর করা দরকার৷ এশিয়া বা ভারতবর্ষের মানচিত্রের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায় যে বিস্তীর্ণ বঙ্গ-মহাভূমি বা মহাসংস্থানএর ভূমি-চৌহদ্দিকে প্রকৃতি দেবী একটা স্বতন্ত্র-অখণ্ডতা ---বিশিষ্ট ‘ ভৌগোলিক অঞ্চল ‘ বা সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন ৷ ( অবশ্য ‘‘ ভুগোল , ইতিহাস , অর্থনীতি , সংস্কৃতি , ভাষাতত্ত্ব প্রভৃতি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে ভারতবর্ষেও স্বাভাবিক কয়েকটি ভৌগোলিক বিভাগ দেখতে পাওয়া যায় , যথা----- বঙ্গদেশ , পঞ্জাব ---ইত্যাদি ৷ এইসব ভূখণ্ডের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভাষা,নিজস্ব কৃষ্টি, নিজস্ব ইতিহাস,নিজস্ব নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্য, নিজস্ব অর্থনৈতিক এবং নিজস্ব সামাজিক সমস্যা আছে৷ ‘‘ভবিষ্যতের বাঙালী---এস. ওয়াজেদ আলি )৷ এই স্বাভাবিক ভৌগোলিক বিভাগ বঙ্গদেশের উত্তরে হিমালয়, উত্তর পূর্বে --- পূর্বে দুর্গম পার্বত্যভূমি, দক্ষিণে সীমাহীন সমুদ্র , পশ্চিমে বিন্ধ্যপর্বতের শাখা সারি - উচ্চ মালূমি-ওগভীর অরণ্যাণী, মাঝে বহু নদী বাহিত পলল সমভূমই৷ এখানেই আছে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি -ম্যানগ্রোভ শোভিত ব-দ্বীপ অঞ্চল, বিশ্বের সর্র্বেৎকৃষ্ট উর্বর সমভূমি, অফুরন্ত নানাবিধ প্রাকৃতিক সম্পদ৷ এখানকার মাটির গুণ-স্বভাব স্থানীয় অধিবাসীদের দিয়েছে বাঙালী পরিচয় -বাঙালীয়ানা সীলমোহর৷ এজন্যে বিশ্বের জনসমুদ্রের মাঝখান থেকে খুব সহজেই বাঙালীকে চিনে নেয়া যায়৷ এক কথায় বাঙালীর সংস্কৃতিই এটা কে বহন করছে , বাঙালীর বুকের-মুখের ভাষা এর দোসর, বাঙলার স্বয়ম্ভর অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য এর চালিকা-শক্তি, হাজার হাজার বছরের সমসমাজ-তত্ত্ব আধারিত সামাজিক ঐতিহ্যে এর পথ চলা৷ (চলবে ) 
 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (59)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved