প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

এ্যাটম ব্যোম কি মানবসভ্যতাকে ধবংস করতে পারে?

কিছুদিন আগে জনৈক সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘এ্যাটম বোমের বিধবংসী কার্যকারিতা সম্বন্ধে ও মানুষ জাতির ওপর তার ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে আপনার মত কী?’’ সাধারণতঃ সাংবাদিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকে না৷ কিন্তু আমি এই প্রশ্ণের উত্তর দিয়েছিলুম৷ এই প্রশ্ণের উত্তরে লেছিলুম ‘‘এ্যাটম বোমের শক্তির চেয়ে মানুষের শক্তি অনেক বেশী৷ সুতরাং এ্যাটম বোমে মানুষকে শেষ করে দেবে--- এরকম ভাবা মানে মানুষের মনীষাকে, মানুষের মানসিক শক্তিকে অপমান করা৷ কারণ, মানুষ এ্যাটম বোমেকে তৈরী করেছে৷ মানুষ এ্যাটম বোমের স্রষ্টা৷ সুতরাং মানুষকে কি এ্যাটম বোমে ধবংস করতে পারে?

জড়তার মুক্তি

গত পরশু সন্ধ্যায় রেনেসাঁ ক্লাবের সভায় আলোচ্য ষিয় ছিল ‘‘বুদ্ধির মুক্তি’’৷ কারো কারো মনে প্রশ্ণ জাগতে পারে-মুক্তি তো মানুষের জন্যে প্রয়োজন৷ বুদ্ধির মুক্তি আবার কী রকম কথা৷ বুদ্ধি জিনিসটা হ’ল অমূর্ত বা ভাববাচক৷ যা অমূর্ত, যা ভাববাচক তার আবার মুক্তি কী৷ এই প্রসঙ্গে আমার অভিমত হ’ল---হ্যাঁ, বুদ্ধিরও মুক্তির প্রয়োজন আছে বৈকি৷ এই জগতে যা কিছু রয়েছে---জড়, ভাব, চেতন, সকলেরই মুক্তি চাই৷ মুক্তি না ঘটলে বস্তু বা ব্যষ্টির স্বাভাবিক স্ফূরণ ঘটে না অর্থাৎ যার মধ্যে যে গুণ রয়েছে, যে সামর্থ্য রয়েছে সেই গুণ বা সামর্থ্যের পূর্ণ বিকাশ, পূর্ণ অভিপ্রকাশ যদি দেখতে চাই তাহলে সেই ব্যষ্টি বা বস্তুর মুক্তি অপরিহার্য৷

সৈদ্ধান্তিক তত্ত্ব ও প্রয়োগভূমি তত্ত্ব

যে সিদ্ধান্ত প্রয়োগভূমি থেকে আত্মপ্রকাশ করে তাকে স্বল্পায়াসেই বাস্তবে রূপায়িত করা যায়৷ সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তাবায়িত হবে, তবে তা প্রচেষ্টা, সময় ও সংযোগের ওপর নির্ভরশীল৷ কিন্তু যখন প্রয়োগের দিকটা সিদ্ধান্ত তৈরী করার পরে আসে, তখন বাস্তবে রপায়িত হতেও পারে আবার নাও হতে পারে৷

এই ধরণের সৈদ্ধান্তিক তত্ত্বের ব্যর্থতার চারটি কারণ৷ কারণগুলি নিম্নে প্রদত্ত হ’ল ঃ

প্রদমন, অবদমন ও দমন

কম্যুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলিতে তোমরা প্রদমন, অবদমন ও দমনের একটা ত্রিভুজ পুরোপুরি কার্যকরী দেখতে পাবে৷ এই তিনটি ত্রুটির ওপর কম্যুনিজম আধারিত৷ কিন্তু এই তিনটি ত্রুটির মধ্যে সব চাইতে বেশি ঘটেছে দমন, তারপর ঘটেছে অবদমন ও সব চাইতে কম ঘটেছে প্রদমন৷ এই প্রদমন, অবদমন ও দমনের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে জনসাধারণকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে৷ এই তিনটি মানসিক পীড়ন মানুষের মনকে ভেঙ্গে চুরে তছনছ করে দিয়েছে৷

দ্বন্দ্বাত্মক ভৌতিকতাবাদ ও গণতন্ত্র

পূর্ব প্রকাশিতের পর

নৈতিকতা ঃ গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্যে নৈতিকতা দ্বিতীয় মূল উপাদান৷ নীতির অভাবে লোকে বোট বিক্রী করে৷ পৃথিবীতে এমন কতকগুলি দেশ আছে যেখানে বোট কেনাবেচা হয়৷ আমরা কি একে গণতন্ত্র লতে পারি? এটা কি প্রহসন নয়? তাই যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত জনসংখ্যার শতকরা একান্ন জন লোক নৈতিক অনুশাসনকে কঠোরভাবে না মানছে ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্রের সাফল্য অসম্ভব যেখানে দুর্নীতিপরায়ণেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে সেখানে তাদের মধ্যে থেকেই অবশ্যম্ভাবীরূপে নেতা নির্বাচিত হবে৷

দ্বন্দ্বাত্মক ভৌতিকতাবাদ ও গণতন্ত্র

পূর্ব প্রকাশিতের পর

এখন গণতন্ত্রের কথায় আসা যাক৷ লা হয়, গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জন্যে, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন৷ শূদ্র যুগের পর গোষ্ঠীপতিদের হাতে ক্ষমতা স্থানান্তরিত হয়৷ কালক্রমে গোষ্ঠীপতিরা সামন্ত রাজা হয়ে পড়ে৷ রাজতন্ত্রের অত্যাচারের বিরুদ্ধ মনোভাব থেকে গণতান্ত্রিক মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে৷ গণতন্ত্রের ইতিহাস অতি প্রাচীন৷ কথিত হয় যে প্রাচীন ভারতবর্ষে লিচ্ছবী রাজবংশের সময়ে গণতন্ত্রের সূত্রপাত হয়৷ অত্যন্ত প্রাচীন সংঘটন লে এতে কিছু বিকৃতি আসা মোটেই অস্বাভাবিক নয়৷

প্রাউট-প্রবক্তার ভাষায় দ্বন্দ্বাত্মক ভৌতিকতাবাদ ও গণতন্ত্র

সমাজের অগ্রগতি ত্রয়ীর সমন্বয়---থীসিস, এ্যাণ্টিথীসিস ও সিনথীসিস৷ যখন কোন বিশেষ তত্ত্ব সমাজের কল্যাণ---সাধনে অসমর্থ হয়, তখন ওই প্রচলিত তত্ত্বের বিরুদ্ধে এ্যাণ্টিথীসিস তৈরী হয় ও এই দুই বিরুদ্ধ শক্তির পারস্পরিক সংঘর্ষ ও সংসক্তির(cohesion) ফলে আসে এক লব্ধি(resultant)৷ এই লব্ধি বা ফলকে বলা হয় সংশ্লেষণ(synthesis)৷ সমাজকল্যাণ সংশ্লেষণের অবস্থাতেই সম্ভব---এটা কি সত্য?

স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক কর্মসংস্থান

প্রথমেই কোন এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের শতকরা একশ’ ভাগের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকা উচিত৷ সমস্ত মানুষের নূ্যনতম চাহিদা, অর্থাৎ অন্ততপক্ষে উপযুক্ত খাদ্য, বস্ত্র, আবাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হওয়া উচিত৷ জনগণের ১০০ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমেই তাদের এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে–দান–খয়রাতির মাধ্যমে নয়৷ আজকের দুনিয়ায় বেকারত্ব এক জটিল সমস্যা আর স্থানীয় মানুষের ১০০ শতাংশের কর্মসংস্থানের নীতিই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ৷ স্থানীয় জনসাধারণের শতকরা একশ’ ভাগের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রাউট স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী৷ স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা