সম্পাদকীয়

শবরীমালা মন্দিরের রীতি তথা ডগ্মা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

কেরালার শবরীমালায় অবস্থিত আয়াপ্পার মন্দিরে ৯ থেকে ৫০ বছর বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না৷ সম্প্রতি এই সম্পর্কিত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সবার প্রবেশাধিকারের রায় ঘোষণা করেছেন৷ এ ব্যাপারে মহিলা-পুরুষের কোনো বিভেদ করা চলবে না বলে সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন৷ কিন্তু এরপরও মন্দির কর্তৃপক্ষ ও তাদের গোঁড়া একশ্রেণীর ভক্ত মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না৷ পুলিশও নিষ্ক্রিয়৷ বর্তমানে এটাকে কেন্দ্র করে জোর রাজনীতি চলছে৷ বি.জে.পি ও কংগ্রেস দুই পার্টিই মন্দির কর্তৃপক্ষ তথা গোঁড়া ভক্তদের সমর্থন করছে৷ তাঁরা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, এটা এখানকার পরম্পরা

সুসন্তুলিত উন্নয়ন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মানুষের অস্তিত্ব ত্রিস্তরীয়---শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক৷ মানুষের উন্নতি মানে এই ত্রিস্তরীয় সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নতি৷ এই সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নতি যদি না থাকে তাহলে উন্নতির পরিবর্তে অবনতি হবে৷ বর্তমানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির হাত ধরে বা আধুনিকতার ছাপ মেরে যে বিপুল উন্নতির বড়াই আমরা করি এই তথাকথিত উন্নতি যে অনেক জটিল প্রশ্ণের সম্মুখে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা আজ কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না৷ তার কারণ একটাই৷

মহাপ্রয়াণ দিবসের সংকল্প

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

মানুষ সাধারণতঃ চলে আত্মসুখকেন্দ্রিক দর্শন বা জীবন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী, জড়কেন্দ্রিক দর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গী কিংবা ভাবজড়তা কেন্দ্রিক দর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে৷ আত্মসুখকেন্দ্রিক দর্শনের অনুগামী বলতে বোঝায় যারা নিজের সুখ, নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বুঝতে চায় না৷ তারা যা করে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে নিজেদের সুখের জন্যে করে৷ তারা বলে ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’৷ তাদের সমস্ত কার্যকলাপের পেছনে আছে এই আত্মসুখের বাসনা৷ পুঁজিবাদী দর্শন এই পর্যায়ে পড়ে৷

শারদোৎসব ও শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর নববিধান

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বর্ষার বিদায় ৷ শীত এখনও আসেনি৷ আকাশে শাদা মেঘের খেলা৷ নদীতীরে কাশের মেলা৷ বঙ্গ প্রকৃতির এমনি মনোরম পরিবেশ স্বাভাবিকভাবে উৎসবেরই পরিবেশ৷ তাই শারদোৎসব বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব৷ আর বাঙলায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই শারদোৎসবের জোয়ার৷ পৌরাণিক কাহিনী আধারিত দুর্গাপূজা ধর্মীয় অনুষ্ঠান৷ তবে বর্তমানে ধর্মের মূল সুরের সঙ্গে এর সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্যই বেশি৷ দুর্গাপূজায় বর্তমানে মঞ্চ ও মূর্ত্তি গড়ার ব্যাপারে চরম প্রতিযোগিতা চলে৷ কে কত বড় ঠাকুর গড়েছে, কে কোন্ মন্দিরের আদলে মঞ্চ তৈরী করেছে, সেই নিয়েও জরবদস্ত প্রতিযোগিতা হয়৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের এনে পূজা উদ্বোধন করারও প্রতিযোগি

সমাজের অবাধ অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান হওয়া উচিত

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি খবরে প্রকাশ বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে৷ ২০০১ সালে যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮০৪.৪ মিলিয়ন, ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮২১ মিলিয়ন৷ অর্থাৎ ৮১ কোটি ১০ লক্ষ৷ রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন শাখার সমীক্ষা অনুসারে এই চিত্র পাওয়া গেছে৷

ভারতবর্ষেও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা গত ৫ বছরে ১১ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ কোটি অথচ এদেশে ২০১৭ সালের হিসেবে ১০০ কোটি ডলার ছাপিয়ে যাওয়া ধনী মানুষ রয়েছে ১০১ জন৷ এ হ’ল বিশ্ব বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের খবর৷

অর্থাৎ একদিকে বিপুল সম্পদ সঞ্চিত হচ্ছে কারও কারও জিম্মায়, অন্যদিকে অনাহারে অভাবে কুঁকড়ে কঁুকরে মরছে কোটি কোটি মানুষ৷

ইসলামপুরের ছাত্র-হত্যার আসল কারণ কী?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

ইসলামপুরের দারিভিট হাইস্কুলের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তুমুল গণ্ডোগোল হ’ল৷ এর জেরে দুই জন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেল৷ স্কুলের সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙ্গচূর যেন দক্ষযজ্ঞ হয়ে গেল৷

পানীয় জলের বাণিজ্যিকরণ নয়

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে পানীয় জলের সংকটের সুযোগ নিয়ে জলসম্পদের বাণিজ্যিকরণ জোর কদমে চলছে৷ জল আজ অর্থনৈতিক পন্যে পরিণত হয়েছে৷ কিন্তু জল তো জীবন ধারণের অপরিহার্য বস্তু৷ মানুষের ন্যূনতম চাহিদার মধ্যে পড়ছে৷ পানীয় জল, বিশুদ্ধ বায়ু এসব ন্যূনতমের মধ্যে ন্যূনতম৷ এই চরম ন্যূনতম অপরিহার্য্য বস্তুর বাণিজ্যিকরণ মোটেই কাম্য নয়৷

ব্যবসায়ীরা মুনাফার দৃষ্টি কোণ থেকে সব কিছুকে দেখে৷ মুনাফার কারণ মূল্যবৃদ্ধি ঘটায়৷ অবাধ মুনাফার কারণে ভেজালও দেখা যায়৷ এটাই বাস্তব৷ এই অবস্থায় পানীয় জলকে বেসরকারী ব্যবসাদারদের হাতে ছেড়ে দেওয়া কখনই কাম্য নয়৷

দেশের ভয়াবহ বেকার সমস্যা ঃ সমাধান কোন্ পথে?

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সাম্প্রতিক  এক সংবাদে প্রকাশ উত্তরপ্রদেশে পুলিশের  টেলিকম বিভাগে  পিয়নের ৬২টি  শূণ্যপদের  চাকরীর জন্যে  দরখাস্তের আবেদন  করা হয়েছিল৷  আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্র্ধরিত  ছিল অন্ততঃ  পঞ্চম  শ্রেণী পাশ৷ এই ৬২টি শূণ্যপদের  জন্যে আবেদনকারীদের মধ্যে  ছিল ৫০ হাজার  গ্রাজুয়েট, ২৮০০০ মাষ্টার ডিগ্রি পাশ ও ৩,৭০০ পি.এইচ.ডি৷ মোট  আবেদন  জমা  পড়েছিল                        ৯৩,০০০৷ তারমধ্যে  পঞ্চম  থেকে দ্বাদশশ্রেণী  পর্যন্ত  আবেদনকারী ছিল ৪,৭০০৷

‘‘ধ্যানের আলোয় বসিয়ে দোব করবো নোতুন ধরা রচনা’’

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

আগামী ১৪ই সেপ্ঢেম্বর,২০১৮ প্রভাত সঙ্গীতের আবির্ভাবের ৩৬ বৎসর পূর্ণ হতে চলেছে৷ এর মধ্যে প্রভাত সঙ্গীতের বিপুল জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কেননা, প্রভাত সঙ্গীতের  যে প্রতিযোগিতা  হচ্ছে তাতে  হাজার  হাজার  মানুষ--- আবাল-বৃদ্ধবণিতা  অংশগ্রহণ  করছেন৷  পঃবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম, ঝাড়খন্ড---বিভিন্ন রাজ্য থেকেই  প্রতিযোগীরা  আসছেন৷  তাছাড়া বর্হিভারতে  বিভিন্ন  দেশেও প্রভাত সঙ্গীতের  চর্র্চ  হচ্ছে৷  প্রভাত সঙ্গীতও কেবল  বাংলা  ভাষায় নয়, অঙ্গিকা, মৈথিলী, ভোজপুরী, অবধি, হিন্দী, উর্দু, ইংরেজী প্রভৃতি  বিভিন্ন ভাষায় রয়েছে৷

পরিবর্তন

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সিপিএমের পৈশাচিক সন্ত্রাস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে উদ্ধার করেছেন, তাই পশ্চিমবঙ্গবাসীর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তাঁকে দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন৷ তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরল অনাড়ম্বর জীবন, তাঁর সততা, তাঁর অদম্য কর্মনিষ্ঠার জন্যে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন৷ এতে কোনও সন্দেহ নেই৷ তিনি পরিবর্তনের শ্লোগান তুলে সিপিএমের তৈরী সেই চরম সন্ত্রাসজনক পরিস্থিতির পরিবর্তন এনেছেন৷ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন করেছেন৷