সম্প্রতি হারুণ ইণ্ডিয়া ওয়েলথ-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে ভারতে গত চারবছরে ধনী পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে৷ প্রতি ৩০ মিনিটে একটি করে পরিবার কোটিপতি হয়ে উঠছে৷ অর্থনীতির পরিভাষায় এদের বলা হয় ডলার মিলিওনেয়ার৷ ভারতীয় হিসাবে যাদের সম্পদ সাড়ে আট-কোটি ছাড়িয়ে গেছে৷ যদিও টাকার অঙ্কে পরিমাণটা আহামরি কিছু নয়৷ কিন্তু ভারতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের তুলনায় অঙ্কটা অনেক৷
হারুণ ইণ্ডিয়া ওয়েলথ-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায় মূলত উচ্চশ্রেণী ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে ধনীতর ও ধনীতমের তালিকায় প্রবেশ করছে৷ গত চার বছরে সেটা প্রতি ৩০ মিনিটে একটি করে পরিবার ধনীতর ও ধনীতমের তালিকায় প্রবেশ করছে৷ ২০২১ সালে যেখানে সাড়ে আট কোটি টাকার কোটিপতি ছিল ৪লক্ষ ৫৮ হাজার ,২০২৫ সালে সেটা বেড়ে হয়েছে ৮লক্ষ ৭১ হাজার, বৃদ্ধির হার ৯০ শতাংশের বেশী৷
ওই প্রতিবেদন প্রকাশ পায় দেশের সাতটি প্রধান শহরে ওই ধনিক শ্রেণীর সংখ্যার গরিষ্ঠের বাস৷ ওই সাতটির মধ্যে কলকাতাও আছে এছাড়া মুম্বাই, দিল্লি, আমেদাবাদ, হায়দ্রাবাদ, পুণে ও চেন্নাই৷
প্রতিবেদনে প্রকাশ যে হারে উচ্চশ্রেণী থেকে ধনীতম, উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে ধনীতর হচ্ছে সেইভাবে গরীব ও মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত ও উচ্চশ্রেণীতে উঠে আসার হার অনেক কম৷ প্রতিবেদনের এই আর্থিক চিত্রে পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর সবকা সথ সবকা বিকাশ শুধুমাত্র কথার কথা, রাজনীতির কথা ,বাস্তবে যার কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি৷ প্রতিবেদনে গ্রাম শহরের মধ্য আর্থিক বৈষম্যের চিত্রটিও ফুটে উঠেছে৷ মহারাষ্ট্রে সব থেকে বেশী ধনীতম ধনীতর হয়েছে মোট ১লক্ষ ৭৮হাজার পরিবার-এর মধ্যে ১লক্ষ ৪২ হাজার মুম্বাই-এর বাসিন্দা৷ এর থেকেই পরিষ্কার গ্রাম শহরের আর্থিক বৈষম্য৷
বিশিষ্ট প্রাউটিষ্ট নেতা শ্রী প্রভাত খাঁ বলেন পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ধনীক শ্রেণীর হাতেই---ঘোরা ফেরা করে৷ গরীব সেই তিমিরেই পড়ে থাকে৷ তারা সরকারের দেওয়া সামান্য ভাতার ওপর নির্ভর করে থাকে৷ তিনি বলেন এই আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার৷ পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীত অর্থনীতির খোলনলচে পাল্টে প্রাউটের বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে৷