খুুকুড়দহ হাইস্কুলে একসঙ্গে পড়াশুনা করেছি৷ প্রতিদিন বিকালবেলা খেলার মাঠে দেখা হবেই৷ মাঠেই মধ্যেও সবার নজর একটি ছেলের দিকে৷ যেমন সবার সাথে অমায়িক মধুর ব্যবহার তেমন তার ক্রীড়াশৈলীও নজর কাড়ার মত৷ ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা হলে বা বাইরের স্কুলের সঙ্গে কোন ম্যাচ হলে একটি দলের সেই অধিনায়ক৷ পড়াশোনার থেকে খেলাধূলার দিকেই ঝোঁকটা একটু বেশী, তবে পঠন-পাঠনকে বাদ দিয়ে নয়, কবে কবে যে আমাদের উভয়ের মধ্যে একটা অন্তরের সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তা নিজেরাই বুঝতে পারিনি, শুধু দেখি লুকিয়ে চুরিয়ে মেলা, যাত্রা বা টুর্ণামেন্টের আসরে যেতে হলে একে অপরকে বাদ দিয়ে ঐ সব স্থানে যাওয়ার কথা কল্পনাই করতে পারতাম না৷ একাদশ শ্রেণীতে যখন পড়ছি, তখন সবাই জেনে গিয়েছে আমরা একে অপরের অভিন্ন -হৃদয় বন্ধু (অত্যাগসহনো বন্ধুঃ)৷ ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাশের পর আমি ভর্ত্তি হলাম মেদিনীপুর কলেজে আর আমার বন্ধুবর শ্রী পূর্ণেন্দু মল্ব ভর্তি হল পাঁশকুড়া কলেজে৷
কলেজে পড়াকালীন উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ ক্রমশঃ হ্রাস পেতে থাকে৷ দুজনেই যে যার পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত পূর্ণেন্দু কিন্তু তার পড়াশুনার সাথে সাথে খেলাধূলার চর্চা চালিয়ে গিয়েছে, কলেজেও খেলোয়াড় হিসাবে সুনাম অর্জন করেছে৷ বিভিন্ন ক্লাব বা সংঘটন তাদের টীমে খেলার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে৷ পাঁশকুড়া-দাসপুর ব্লকে খেলাধূলার জগতে এক উজ্বল নক্ষত্র বলা যেতে পারে৷ দেখতে দেখতে বি.এ পাশ করল৷ একটি সরকারী চাকুরীও জুটল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ বিভাগের অধীন ডিপটিউবওয়েল অপারেটর৷ প্রথম কয়েক বছর জীবনটা ভালভাবেই কেটেছে৷ ইতিমধ্যে সংসার জীবনে প্রবেশ করেছে৷ সামাজিক দায়িত্ব পালনেও ব্রতী হয়েছে, নূতন নূতন খেলোয়াড় তৈরীর দিকে মন দিয়েছে৷ অনেকেরই ফুটবলের গুরু শ্রীপূর্ণেন্দু মল্ব, সকালে কয়েক কিলোমিটার দৌড়ান এবং বিকালে খেলার মাঠে যোগদান নিত্যদিনের অভ্যাস৷ ২৩শে জানুয়ারী মেদিনীপুর শহরে অনুষ্ঠিত ১০ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ও চালিয়ে গিয়েছে৷
আমি মেদিনীপুর কলেজে পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকাকালীন পূর্ণেন্দুর সঙ্গে বেশী যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি, ছুটির দিনে খুকুড়দহ গেলে শুধু মাঝে মাঝে দেখা হত এই যা৷ সংস্কৃত নিয়ে অনার্স পাশের পর আমাকেও চাকুরির সন্ধানে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে, দাসপুর বিবেকানন্দ হাইস্কুলে কিছুদিন থাকার পর আমি ৬০/৭০ কিলোমিটার দূরবর্ত্তী মদনমোহনচক হাইস্কুলে চলে গিয়েছি৷ সে সময় যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বলা যেতে পারে, ঠিক এরকম একটা সময়ে পূর্ণেন্দুর জীবনেও ছন্দ-পতন শুরু হল৷
ডিপটিউবওয়েলের চাকরিতে বছরে ৩/৪ মাস একটু কাজ করতে হয়৷ বাকী সারা বছর তেমন কোন কাজ থাকে না৷ অফিসার পর্যায়ের কর্মীরা শুয়ে-বসেই দিন কাটায় শুধু মাস শেষ হলে বেতন তুলতে যান৷ পূর্ণেন্দুরও একই অবস্থা বছরের তিন ভাগ সময় তাস পাশা খেলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই সময় কাটাতে থাকল৷ সঙ্গে যুক্ত হল মদ্যপানের মত সর্বনাশা নেশা, একদিন আনন্দমার্গের একটি প্রচারকার্যে খুকড়দহ গিয়েছি, আনন্দমার্গ কিভাবে শোষণমুক্ত আদর্শ সমাজ গড়বে তার উপর বক্তব্য চলেছিল, লক্ষ্য করলাম একজন ব্যক্তি একটু দূরে দাঁড়িয়ে আনন্দমার্গের বক্তব্য মন দিয়ে শুণছে৷ একটু কাছাকাছি যেতেই চিনতে পারলাম---আরে এতো আমাদের স্কুল জীবনের বন্ধু পূর্ণেন্দু৷ পেছন থেকে গিয়ে পিঠে টোকা দিতেই সে কাঁচুমাচু হয়ে একটু দূরে সরে গেল৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম---কিরে এত দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তুই তো কাছে গিয়ে বক্তব্য শুনতে পারিস৷ তার উত্তরে জানাল---তুই ভাল লোকদের সঙ্গে আছিস, আমি ওদের কাছাকাছি যাই কী করে? হাতে সময় কম ছিল, তার মাঝে কয়েক মিনিট কথা বললাম, যা বোঝা গেল---সে এখন পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত, এক কথায় মাতাল, অনেকেই তার সঙ্গ এড়িয়ে চলে৷ যারা একসময় তাকে শ্রদ্ধা করত, তারাও চোখে চোখ পড়লে মুখ ঘুরিয়ে নেয়৷ পরিশেষে আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করলাম---তুই কি আগের মত সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চাস, উত্তরে জানাল--- ফিরতে ত চাই, পারছি না যে, সে সময় স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলি বারে বারে মনে ভেসে আসছিল, মনটা খুব ভারাক্রান্ত হল মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম---আমাকে একটা কিছু করতেই হবে, ওকে শুধু বললাম---একটা দিন তোর সাথে বসব৷ কোন সময় তার ফাঁকা হবে তা জেনে নিলাম৷
একদিন একসাথে বসলাম মধ্যবর্তী সময়ের ফেলে আসা জীবনের কথাগুলি মন দিয়ে শুনলাম অনুভব করলাম---আমার প্রতি বন্ধুসুলভ অন্তরের টানটা এখনও নিঃশেষ হয়ে যায়নি, আমি তাকে পরামর্শ দিলাম আনন্দমার্গের বিভিন্ন সভাসমিতিতে যোগ দেওয়ার জন্য৷ শর্ত ছিল---সভাসমিতি চলাকালীন মদ্যপান করা চলবে না৷ এটাও বুঝেছিলাম যে হঠাৎ করে এই মুহূর্ত থেকে সমস্ত প্রকার নেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে সেটা বাস্তবোচিত পন্থা হবে না৷ বরং এতে হিতে বিপরীত হতে পারে৷ তাই মদ খাওয়ার ব্যাপারে কোন কড়াকড়ি না করে আমি তার সঙ্গে মেলামেশা করছি, তাকে ধর্মসভায় নিয়ে যাচ্ছি বা সাপ্তাহিক ধর্মচক্রে পাশাপাশি বসছি---এটা অনেকের পছন্দের না হলেও মুখে কেউ কিছু বলতে পারছে না৷ আনন্দমার্গ মদ্যপানের সম্পূর্ণ বিরোধী এটা জানা সত্ত্বেও আমার মত একজন সিনিয়র মার্গী কি করে এইরকম একটি মাদকাসক্ত ব্যক্তির সঙ্গে মিশছে---এটাই ছিল অনেকের কাছে পরম বিস্ময়৷ একদিনের একটি ঘটনা সবাইকে আরও বিস্মিত করল৷ ১৯৯৫ সালের বন্যায় পাঁশকুড়া ও দাসপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে৷ আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে আচার্য পূর্ণানন্দ অবধূতের পরিচালনায় ব্যাপক ত্রাণকার্য শুরু হয়েছে৷ শ্যামসুন্দর পুর পাটনা হাইস্কুলে ক্যাম্প করে ওখানকার পাশাপাশি অঞ্চলে ত্রাণকার্য (প্রথমে চিঁড়া, গুড়, দুধ, বিস্কুট ইত্যাদি শুকনো খাদ্যদ্রব্য, যেখানে রান্না করার সুবিধা পাওয়া গিয়েছে সেখানে খিচুড়ি ইত্যাদি রান্না করা খাদ্য বিতরণ) শুরু হল৷ কয়েকদিন পর থেকে একই সঙ্গে মেডিকেল ক্যাম্পও শুরু হয়েছে৷ এভাবে দিন পনের ত্রাণকার্য চলার পর ত্রিলোচনপুর, কাকদাঁড়ি ইত্যাদি স্থানগুলিতে ত্রাণকার্যের সুবিধার কথা ভেবে আমাদের ক্যাম্প অফিস দাসপুর ব্লকের অন্তর্গত খুকুড়দহে বীরেন অধিকারীর পেন কারখানায় স্থানান্তরিত করা হল৷ কিভাবে সুষ্ঠুভাবে কোন ত্রাণকার্য করতে হয় তা গুরুদেব শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তি তাঁর শিষ্যদের শিখিয়ে দিয়েছেন৷ সেই বিধি মেনে বন্যাত্রাণের স্বেচ্ছাসেবকদের দুটো দলে ভাগ করা হয়েছে৷ একটি দল সরাসরি বন্যাপীড়িত অঞ্চলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য বা ঔষধপত্র বিতরণ করবে৷ অপর দলের স্বেচ্ছাসেবকরা যে সমস্ত স্থানে বন্যা হয়নি, সেখান থেকে চাল, ডাল, সব্জী, টাকা পয়সা ঔষধপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করে ক্যাম্প অফিসে জমা দেবে, খুকুড়দহ ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে খাদ্যদ্রব্য ও অর্থসংগ্রহের দায়িত্ব আমার উপর পড়েছিল৷ পাঁচ ছয়জনকে নিয়ে একটা টীম করা হয়েছে৷ আগে থেকে কথাবার্র্ত বলে পূর্ণেন্দুকেও ঐ টীমের অন্তর্ভুক্ত করা হল, সবাই বাড়ি বাড়ি ঘুরছি, মানুষজন স্বতস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, পূর্ণেন্দুও ঐদিন সকাল থেকে ভালভাবে সঙ্গ দিল৷ বেলা বারটা বাজতে তখনও কয়েক মিনিট বাকী, আমরা সবাই সংগ্রহ বন্ধ রেখে ক্যাম্প অফিসে ফিরে আসব কিনা আলোচনা করছি, হঠাৎ পূর্ণেন্দু বলে বসল ---‘আমাকে এখনি বাড়ি ফিরে যেতে হবে৷ দেখলাম তার হাত পা কাঁপছে৷ কথা জড়িয়ে যাচ্ছে৷ এও জানাল বাড়ি পৌঁছে গেলেই তার এই শারীরিক বিকৃতি সব ঠিক হয়ে যাবে৷ পরে জানলাম ---আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য সকাল থেকে কোন নেশার দ্রব্য গলাধঃকরণের সুযোগ হয়নি নেশার দ্রব্য পেলেই শরীরটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে৷ পূর্ণানন্দদাকে পূর্ণেন্দুর বৃত্তান্ত সবই খোলাখুলি জানিয়ে রেখেছিলাম৷ তিনিও পরামর্শ দিলেন---আমরা যেন রাতারাতি নেশামুক্ত হওয়ার জন্য পূর্ণেন্দুকে জবরদস্তি না করি৷ নেশামুক্ত করার কাজটি ধীরে সুস্থে করতে হয়৷ আরও বললেন যদি বলপ্রয়োগ করা হয়, তাহলে মৃত্যুও হতে পারে৷ খুকড়দহে ক্যাম্প করে কয়েকদিন ত্রাণকার্য চলল৷ ধীরে ধীরে বন্যার প্রকোপ কমে যাওয়ায় আমাদের ত্রাণকার্যও বন্ধ করা হল৷ মাথায় একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে কিভাবে পূর্ণেন্দুকে নেশামুক্ত করা যায়৷ আমার প্রচেষ্টার কথা শুণে পূর্ণেন্দুর পরিবার আমাকে উৎসাহিত করল৷ তারা অনেক চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু একাজে সফল হয়নি৷ আনন্দমার্গ সংঘটনের সন্ন্যাসীদাদাদের পরামর্শ নিলাম৷ বেলদা যোগাশ্রমের উজ্জ্বল মহারাজের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক৷ তাঁর সঙ্গেও পরামর্শ করলাম৷ শেষে ঠিক হল--- বেলদা যোগাশ্রমে দু-সপ্তাহ থাকা হবে৷ এটি স্বামী শিবানন্দ সরস্বতীর আদর্শে পরিচালিত একটি যৌগিক হাসপাতাল, সেখানে রোগীরা আসেন৷ প্রয়োজনমত ১ মাস, ২মাস এবং কেউ কেউ আরও বেশী সময় থেকে আসন---প্রাণায়াম-মুদ্রা বন্ধ ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ সারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন৷ চোখের সামনে কঠিন কঠিন অসুখের রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখেছি৷ আমি নিজেও একসময় শ্বাসকষ্টে ভুগতাম৷ ওখানে গিয়ে সুফল পেয়েছি৷ যাই হোক আমি ছুটি নিয়ে পূর্ণেন্দুর সঙ্গে আসন, প্রাণায়াম, উপাসনা ও সৎসঙ্গের মাধ্যমে ভালভাবেই দিনগুলি কেটেছিল ঐ কয়েকটা দিন পূর্ণেন্দুকে কোন নেশাদ্রব্য গ্রহণ করতে হয়নি আশ্রমের মহারাজ জানালেন--- উনি সুস্থ হয় যাবেন৷ তবে আগামী ছ মাস নেশাদ্রব্য প্রাপ্তির স্থান বা ঐ সংক্রান্ত বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে হবে৷ আশার কথা বেলদা যোগাশ্রম থেকে ফিরে আসার পর মাসখানেক ভালই থাকল৷ পরে তার পরিবার থেকে জানা গেল বন্ধুবর লুকিয়ে-চুরিয়ে পুনরায় মদ খাওয়া শুরু করেছে৷ আমার সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হল৷ আমি খুব তিরস্কার করলাম ও (চুপচাপ) আমার রাগারাগি, বাক্যবান সব কিছু নীরবে সহ্য করল৷ মন থেকে চাইছে ভাল হবে৷ কিন্তু মাঝে মধ্যে খাওয়ার লোভ সামলাতে পারছে না৷ আমিও চিন্তিত৷ তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই৷ ওর সঙ্গে কথা বলে আজ একটা পরিকল্পনা নেওয়া হল৷ এবার আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কেন্দ্রীয় অফিসে কথা বলে ওখানে কিছুদিন থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ শ্রদ্ধেয় বিজয়ানন্দদার সঙ্গে আগেই পূর্ণেন্দু সম্পর্কে সব কিছু কথা বলে রেখেছিলাম৷ উনিও এব্যাপারে সহযোগিতা করবেন কথা ছিলেন৷ একটা রুটিনের মধ্যে পনের/কুড়ি দিন ওখানে থাকলাম, সকাল সন্ধ্যা প্রার্থনা সভায় যোগদান, আনন্দমার্গ লাইব্রেরী থেকে বইপত্র পড়া, স্বামিজীদের সঙ্গে সমালোচনা, আসন, প্রাণায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে কুড়ি দিন কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না৷ বাড়ি প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে দেখা গেল---পূর্ণেন্দু আর আগের পূর্ণেন্দু নেই, চোখে মুখে একটা আত্মবিশ্বাসের ছবি ফুটে উঠেছে৷ একজন সিনিয়র দাদা জিজ্ঞেস করলেন--- কী ভাই! আমি ভাল হবেন না হয়ে গেছেন? পূর্ণেন্দু সলজ্জভাবে উত্তর দিল---আমি ভাল হয়ে গিয়েছি আর ভুল হবে না৷ ‘সত্যং সঙ্গো হি ভেষজম্’ কথাটা যে অত্যুক্তি নয় তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলাম৷ আমরা যে যার নিজ বাড়িতে ফিরে এলাম৷ মাসখানেক পরে খুকুড়দহ গিয়েছি৷ আমি যেহেতু খুকুড়দহ হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম তাই অনেকের সঙ্গেই পূর্ব পরিচয় রয়েছে৷ পরিচিত জন যাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে সবাই একবাক্যে বিস্মিতনেত্রে জিজ্ঞাসা করছে--- অসম্ভবকে কিভাবে সম্ভব করে তুললেন দাদা? তাদের কথায়--- যে একবার নেশা ধরে, সে সহজে তার থেকে মুক্ত হতে পারে না৷ বিশেষ করে পূর্ণেন্দু ? মদ খায় না এটা কল্পনাই করা যায় না৷ তাদের প্রশ্ণ-কোন জাদুতে এটা সম্ভব হল৷ সবার চোখে আমি যেন একজন ম্যাজিসিয়ান৷ আমি সবাইকে আনন্দমার্গের আদর্শ সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করে বললাম--- আনন্দমার্গের কাজই হল সবাইকে সৎপথের নির্দেশনা দেওয়া৷ আপনারাও আনন্দমার্গের আদর্শ জানুন, সেই পথে চলার চেষ্টা করুণ৷ সবাই উপকৃত হবে হাতে হাতে ফল পাবেন৷
- Log in to post comments