প্রভাতী

লেখক
সাধনা সরকার

মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে

ছুটবো সবাই চল

নোতুন প্রভাত ডাকছে আজ

সূর্য্যিমামা ঝলমল৷

কে যাবি আয়,আয় না ছুটে

পরম লগন কাছে

আয় না পলাশ আয় না চাঁপা

মন ভোমরা নাচে৷

 আলো আলো আলো

সবকিছুতে আলো

অন্ধ তামস ছুটে পালায়

সবকিছু আজ ভালো৷

কে যেন আজ দাঁড়িয়ে আছে

দেখ না কাছে দূরে

ডাকছে সে আয় না কাছে

মোহন বাঁশির সুরে৷

লেখক
বিভাংশু মাইতি

আজ আর কথা নয়

কাজের যে এ সময়

               কাজ শুধু কাজ

প্রভাতের গান বলে

অলসতা ঝেড়ে ফেলে

               কাজে লাগো আজ৷

মূল্যবান কাজ ফেলে

বৃথা তর্কে অবহেলে

               কেটেছে কত না দিন

নিষ্ফল অপরাজ্ঞানে

জীবন যে ক্ষণে ক্ষণে

               আজ হ’ল অর্থহীন৷

প্রতিদিন শ্বাসে শ্বাসে

শুষেছ সমাজ রস

               অবিরাম অবিরল

দেবে না কি প্রতিদান

বিধিন যে এ বিধান

               ভাব এক পল ৷

ধরিত্রী নিপীড়িত

শোষণ যে আশাতীত

               জাগো সব জাগো

চিনে নিয়ে সদসৎ

মুক্তির খোঁজ পথ

               লাগো কাজে লাগো৷

লেখক
প্রভাত খাঁ

আত্মার পরমাত্মীয় তুমি

তাই স্বনামে খ্যাত যে তুমি

ধরনীর ধূলি পরে আনন্দ মূরতি৷

 

জগৎ কল্যাণ হেতু তুমি এসেছিলে,

কর্মযজ্ঞে যাহাদের তুমি ডাক দিলে,

তারাই আসিল হেথা তোমার ইচ্ছায়

দূরে ফেলি সকল চিন্তায়৷

 

জ্ঞান কর্মভক্তির তুমি জীবন্ত মূর্ত্তি

 সৃষ্টি স্থিতি, লয় মাঝে তোমাতেই

তুমি লীলা করে চলো অহঃরহ

তাই ‘প্রপত্তি ’ সার্থক হোক্ ভক্তবৃন্দ মাঝেই৷

 

হে পরমপুরুষ তুমি নিঃশেষে সবকিছু

করে গেলে দান জগৎ কল্যাণে!

তোমার প্রদত্ত অষ্টাক্ষরি মহামন্ত্র

আহ্বান করে তোমাকেই

 

আজিকার মহাপ্রয়াণ দিনে !

লেখক
অরবিন্দ প্রামাণিক

অভাব অভাব অভাব

চারিদিকে শুধুই অভাব

    কীসের অভাব কেন অভাব?

    সব থাকতেও অভাব

অভাব নাহিকো চালের ডালের

শুধু দেওয়া আর নেওয়ার অভাব

    নাহিকো অভাব দুষ্ট বুদ্ধির

    সৎ লোকেরই অভাব৷

শাস্ত্র আছে জ্ঞানও আছে

বিজ্ঞানেরও যুক্তি আছে

    অভাব আছে সৎ সাহসের

    সৎ বুদ্ধির অভাব৷

নেতা আছেন মন্ত্রী আছেন

নিয়ম আছে কানুন আছে

    অসৎ লোকে ভরে আছে

    সৎ চরিত্রের অভাব৷

সমাজ আছে মানুষ আছে

ভেদ বুদ্ধির ভাষা আছে

    সমাজ চক্র ঘুরে চলে

    সদবিপ্রর অভাব৷

টাকা আছে পয়সা আছে

দুষ্ক্র্মেরই টাকা আছে

    সাদা টাকা কালো টাকা

    নিঃস্বার্থ সেবারই অভাব৷

বিদ্যা আছে বোধি আছে

জ্ঞান বিজ্ঞানে ভর্ত্তি আছে

    কিন্তু দালালেতে ভরে গেছে

    সৎ সেবারই অভাব৷

সমাজ গড়ো নোতুন করে

প্রাউটকে সঙ্গে নিয়ে

    সকলকে দিশা দিয়ে

    সকলকে সাথে নিয়ে

একই দিকে ধাই

যেন পরমপুরুষকে পাই৷

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

ভাসছি, আমি ভাসছি

আনন্দ-সাগরে ভাসছি৷

তুমি যে চুপিচুপি বলে গেলে

আসছি, আমি আসছি৷৷

 

কতদিন কতরাত্রি কেটেছে তোমায় ভেবে

আঁখি-জল ঝরেছে কত না আবেগে৷

আজ এই বাদলা দিনে

সুর ও তালের জাল বুণে

শোণালে তোমার নুপুর ধবনি

মনের দুয়ার গেল খুলি ঝনঝনি৷৷

 

সুদীর্ঘ খর তাপের পরে

আজ যেন শাত্তণী-ধারা ঝরে৷

খুশির ঝিলিক আমার চাতক-চোখে

হৃদয়-পদ্ম নূতন আবেশে ফোটে৷

অজানা পুলকে মেতেছে আমার চিত্তভূমি

জানি, আমি জানি, ঠিক আসবে তুমি৷৷

আমার চোখে পৃথ্বী পৃথ্বীর মতই খেলে ঃ বিরাট

সংবাদদাতা
ক্রীড়াপ্রতিনিধি
সময়

মহম্মদ আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলী, রোহিত শর্মার সঙ্গে এক সারিতে নিজের নাম খোদাই করলেন অভিষেক টেষ্টেই শতরান করে পৃথ্বী৷ এই বালক ব্যাটসম্যানের বয়স মাত্র ১৮ বছর৷ স্বভাবতঃই তাকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে৷ শুরু হয়ে গেছে পৃথ্বীকে নিয়ে সৌরভ-সেহবাগের সঙ্গে তুলনা৷ কিন্তু বর্তমান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি চাইছেন একজন তরুণকে বড় হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে৷ তাড়াহুড়ো করলে চলবে না৷ পৃথ্বী নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান৷ তার প্রমাণ সে রেখেছে৷ আমরা নিশ্চিত যে, সর্বোচ্চ পর্র্যয়ে খেলার ক্ষমতা ওর রয়েছে৷ প্রথম টেষ্টে ও যে খেলাটা খেলেছে তা থেকে বোঝা যায় ও ওর মতই খেলে৷ কারো সঙ্গে ওর এখন তুলনা চলে না৷ ভারত অধিনায়ক আরো বলেছেন---ওকে নিয়ে এত তুলনায় গেলে ওর কেরিয়ারের ক্ষতি হতে পারে৷

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বার বার কেন হাত পাতো এসে

কি দেব তোমারে বলনা?

সবই তো তোমার তবু কেন করো

কাঙালপনার ছলনা?

রসে ভরা ফল, সুগন্ধি ফুল

সবুজ শস্যক্ষেত্র,

আকাশ-বাতাস যেদিকে তাকাই

ফেরাতে পারি না নেত্র৷

তোমার আলোয় আলোকিত ওই

চন্দ্র সূর্য গ্রহরা,

সারারাত ধরে কত শত তারা

দেয় যে আলোর মহড়া৷

সাগরের ঢেউ ওঠে আর নাবে

তোমার চরণ ধরতে,

পাহাড়ের চূড়া তোমারেই খোঁজে

চাহে না থাকিতে মর্ত্তে৷

গ্রহে গ্রহে আরো কত দেশ আছে

কি বিচিত্র সৃষ্টি---

তবে কেন আজ হে রাজাধিরাজ,

আমারই প্রতি দৃষ্টি?

দেব আমি আজ দেব এ হৃদয়

একটি মন্ত্রে জপিয়া

‘তব দ্রব্যংম’ হে জগৎগুরু,

তোমারই হস্তে সঁপিয়া৷

লেখক
দেবীকা পাল

বাড়ছে তাপ, গলছে বরফ,

গাছ লাগালে বাঁচবে জগৎ৷

গাছ লাগালেই হবে না ভাই

গাছ বাঁচানো চাই৷

এ জগতে গাছের কোনও

বিকল্প যে নাই৷

তাই তো বলি গাছ কেটো না

গাছকে রাখো ধরে

নাহলে ভাই লক্ষ্মী সোণা

বাঁচবে কেমন করে৷

লেখক
শিবরাম চক্রবর্তী

তোমার লাগি আমার জীবন

     করেছি সমর্পণ

ঝড়-ঝঞ্ঝা আঁধার রাতে

     ভয় করিনা এখন৷

জীবন তরী বাইতে হবে

     এ তো আমার জানা

সুখ দুঃখ সাথী করে

     তোমায় ভুলবো না না৷

হতাশা যখন মনে আসে

     একটু তোমার ছোঁয়া

ভালবেসে দিলে আমায়

     জীবন হয় যে ধোয়া৷

আনন্দের মূর্ত্তিতে তুমি

     যেই দাও বরাভয়

তারই ধ্যানে চিত্ত আমার

     হয় আনন্দময়৷

লেখক
আচার্য হরাত্মানন্দ অবধূত

রাশিয়ায় ব্যষ্টিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার চিতা তখন জ্বলছে

শ্মশানে পা রেখে রবীন্দ্রনাথ তাঁর মুখাগ্ণিটা দেখলেন

আমরা অনেকেই ভাবলাম

এ অর্থনীতিতে সমষ্টিই তো সব কিছু

ব্যষ্টিগত ব্যথা-বেদনা নিয়ে ভাববো কেন?

রবীন্দ্রনাথের দর্শনটা বুর্জোয়া বুর্জোয়া যেন৷

উত্তর আমেরিকা যাবার জন্যে বসে আছি মস্কোর বিমান বন্দরে

আবর্জনার পাত্রটা উপচে পড়ছে আবর্জনায়

গারবেজ ম্যান পাশে এসে বসল, বলল---

প্লিজ, নালিশ করবেন না যেন

এটাই মার্কসসিজম্

দে প্রিটেণ্ড টু ...

     এ্যাণ্ড উই প্রিটেণ্ড টু ওয়ার্ক

     অথবা

উই ওয়ার্ক এ্যাকর্ডিং টু আওয়ার ক্যাপাসিটি

এ্যাণ্ড দে গিভ এ্যাকর্ডিং টু আওয়ার নিড৷

ওর কথাগুলো শুণে আমি আবর্জনার দিকে আবার তাকালাম

     দেখলাম, ওখানে উপচে পড়ছে

     এক অদ্ভুত আবর্জনা

     ব্যষ্টিগত স্বপ্ণ হত্যার রক্তাক্ত ফলশ্রুতি

     নিহত মার্কস

     একফোটাও রক্ত নয়

     ‘‘প্লিজ নালিশ করবেন না যেন’’-র তীব্র ভয়৷