সম্পাদকীয়

১৯৮২–র ৩০শে এপ্রিল প্রসঙ্গে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল৷ কলকাতার বিজন সেতুর ওপরে ও নীচে ও নিকটস্থ বন্ডেল গেটে একই সময়ে ঘটে গিয়েছিল এ শতাব্দীর নৃশংসতম ও বীভৎসতম ঘটনা৷ সি পি এম’এর কর্ত্যব্যষ্টিদের নির্দেশে ওদের হার্মাদ বাহিনী আনন্দমার্গের ১৭ জন সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পেট্রোল ঢ়েলে জীবন্ত দগ্ধ করে৷ ওখান থেকে নিকটেই দু–দুটো থানা৷ একদিকে বালিগঞ্জ থানা, অন্যদিকে কসবা থানা৷ কিন্তু খুনীরা কয়েক ঘন্টা ধরে অবাধে এই পৈশাচিক কান্ড ঘটিয়ে গেল৷ কেউ গ্রেপ্তার হল না৷ কোনো মন্ত্রীও ঘটনাস্থলে এলেন না৷ বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দরে (উত্তর বঙ্গ যাওয়ার সময়) এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্ণে

প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের বিকল্প নেই

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজিপতি পরিচালিত শিল্পের একটা বড় রোগ হ’ল, বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই ও হঠাৎ কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া৷ যার ফলে বহু শ্রমিক হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারকে অশেষ দুর্ভেগের মুখে পড়তে হয়৷ বহু ক্ষেত্রে তারা অনাহারে, অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যায় বা আত্মহত্যা করে, সাংসারিক অশান্তি থেকে রেহাই পাাবার রাস্তা খুঁজে নেয়৷

নবপ্রভাতের প্রতিক্ষায়

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

এ বিশ্বের ধন–সম্পত্তির মালিকানা ন্যায়তঃ ব্যষ্টির না সমাজের–এ নিয়ে দার্শনিকদের মধ্যে এখন বিরাট দ্বন্দ্ব৷ ব্যষ্টি মালিকানাবাদীরা বলেন, ব্যষ্টিই যখন কলকারখানা গড়ে তুলছে–শ্রম দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে জমি–জায়গা করেছে–তাহলে এতে তার চরম মালিকানা তো সম্পূর্ণ ন্যায়সম্মত সিদ্ধ৷ প্রাউট দর্শন এখানে স্পষ্ট ভাবে বলছে ঃ এ বিশ্বের কোন সম্পদ মানুষ সৃষ্টি করে নি যিনি সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন সেই পরম ব্রহ্ম বা ভূমাসত্তাই সব সম্পদের স্রষ্টা–তিনিই প্রকৃত মালিক৷ মানুষ শুধু প্রকৃতিদত্ত সম্পদকে নিয়ে ‘ফিজিক্যাল মিক্সচার’ বা ‘কেমিক্যাল কম্পাউন্ড’ বানিয়েছে বা আকারগত পরিবর্তন করেছে মাত্র৷ তাই কোনও মানুষ এর প্রকৃত মালিক হতে প

যথার্থ উন্নয়নের চাবিকাঠি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

সংসদে শ্রম দপ্তরের তথ্যে প্রকাশ দেশে বেকারত্বের জ্বালায় আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী৷ বছর দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশন্যাল সাম্পেল সার্ভের রিপোর্ট থেকে জানা যায় গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশে গত ২০১৭-১৮ সালে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশী৷ আর তা হলো ৬.১ শতাংশ৷ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৫ থেকে ২৯ বৎসর বয়সীদের মধ্যে বেকার সমস্যা ভয়ঙ্কর৷ মোদিজীর ক্ষমতায় আসার আগে ২০১১-১২ আর্থিক বছরে বেকারত্বের হার ছিল যুবক যুবতীদের মধ্যে যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ৪.৮ শতাংশ৷ আর ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে গ্রামীণ যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৭.৪ শতাংশ ও ১৩.৬ শতাংশ৷ আর শহরের যুবক যুবতীদের মধ্যে বেকাত্বের হার হয়

অসংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যাধি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

সম্প্রতি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভির মন্তব্য করেছেন ধর্ষন বৃদ্ধির জন্যে মোবাইল দায়ী৷ সিংভির কথায়  মোবাইলে খুব সহজেই পর্ণ ভিডিও দেখা যায়৷ সে কারণেই দেশে ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ তিনি ধর্ষনকে সামাজিক   ব্যাধি বলে উল্লেখ করে পুলিশ প্রশাসনের  নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানতে নারাজ৷

নীতিহীন রাজনীতি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্যের অধিকার খর্ব করার  যতগুলি অস্ত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে আছে তার মধ্যে সি.বি.আই একটি৷ রাজ্য রাজনীতিতেও বিরোধী পক্ষ রাজ্যে ঘটিত যেকোন অপরাধের ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআই তদন্তের  দাবী করে৷ কিন্তু প্রশ্ণ হচ্ছে সিবিআইকি সবসময় নিরপেক্ষ তদন্ত করে৷ বা বিরোধীপক্ষ কি সবসময় নিরপেক্ষতার স্বার্থে সিবিআই তদন্তের দাবী তোলে৷ রাজ্যের সি আই ডি যেমন রাজ্য সরকারের অধীনে সিবিআই তেমনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে৷ তাই নিরপেক্ষতার প্রশ্ণে উভয়েই সন্দিহান, রাজনৈতিক দলগুলো এটা জানে না তা নয়৷ তাই বিরোধীদের সিবি আই তদন্ত দাবী করার উদ্দেশ্য সব সময় নিরপেক্ষ নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে

মানব আধারে দানব

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

ঘটনাস্থল রামপুরহাটের একটি অখ্যাত গ্রাম বগটুই৷ একটি মানুষ খুন হন, তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান৷ ওই খুনের পাল্টা হিসাবে সংঘবদ্ধ নির্মমতার, নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি দেখলো দেশবাসী৷ নারী শিশু সহ আটজন মানুষকে নির্মমভাবে ঘরে বন্ধ করে পুড়িয়ে মারা হল৷

‘দধীচির আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়নে’

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

পৃথিবীর ইতিহাসে কোনও মহান আদর্শ বিনা বাধায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি৷ এই সত্য কথাটি আনন্দমার্গের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ পাণ্ডব বর্জিত অখ্যাত গ্রাম পুরুলিয়া জেলার বাগলতা–যেখানে দিনে শেয়ালের ডাক শোনা যেত সেই অতি দরিদ্র গ্রামের স্থানীয় কিছু মানুষ উদরের ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্যে এখানে ওখানে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত পশু শিকারের জন্যে বা ঘাসের বীজ সংগ্রহ করত সেই শ্মশান ডাঙ্গায়৷ মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী শত শত গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী–সন্ন্যাসিনীদ্ নিয়ে ও মার্গের গৃহী অনুগামীদের সহায়তায় বিশ্বের কল্যাণে এখানে এক সর্বানুসূ্যত আদর্শ আশ্রম গড়ে তোলেন অতি অল্প কয়েক বছরের মধ্যে আর স্থানটির নামকরণ করলেন ‘আনন্দনগর’৷ যাকে বলা

ইউক্রেন ---সবপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক

বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো শক্তিধর দেশগুলি ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলিকে কব্জায় এনে নিজেদের  প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখা ৷ এতে ছোট রাষ্ট্রগুলির  অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে৷  রাশিয়ার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বিখ্যাত শষ্যভাণ্ডার ইউক্রেন যার রাজধানী কিয়েভ তার উপর দুই শক্তি শালী রাষ্ট্র আমেরিকা ও রাশিয়া নিজেদের  সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে ছোট রাষ্ট্রটিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে৷ স্মরণে থাকে যে জার্র্মনীর  হিটলার বিংশ শতাব্দীর ৪ দশকের শেষের দিকে বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ করে৷ সেই সময় রাশিয়া পোড়া মাটির নীতি নেয়৷ তার ফলে এই  ইউক্রেনের শষ্যভাণ্ডার ধবংস হয়৷ হিটলারের সঙ্গে এঁটে উঠতে  না পেরেই  রাশিয়া মিত্রপক্ষে যোগ দেয়৷

২১শে ফেব্রুয়ারী ও সমাজ আন্দোলন

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

২১শে ফেব্রুয়ারী বাঙলা ও বাঙালীর গর্ব, বাঙলা ও বাঙালীর গৌরব৷ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী ওপার বাঙলার বিশেষ করে ছাত্র, যুবসমাজ সমস্ত প্রকারের সংকীর্ণতার ঊধের্ব উঠে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালবাসার টানে যেভাবে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মত উত্তাল হয়ে উঠেছিল ও সমস্ত গোঁড়া ধর্মমত ও সাম্প্রদায়িকতার সমস্ত প্রাচীরকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, ইতিহাসে তার তুলনা নেই৷ যুবজাগরণ সম্পর্কে কাজী নজরুল বলেছিলেন---

‘এই যৌবন জলতরঙ্গ রুধিবে কি দিয়া বালির বাঁধ

কে রোধিবে এই জোয়ারের জল গগনে যখন উঠেছে চাঁদ৷’

যথার্থই সমস্ত ডগমার বাঁধ সেদিন বালির বাঁধের মতই প্রবল তরঙ্গাঘাতে নিশ্চিহ্ণ হয়ে গিয়েছিল৷