প্রভাতী

চার ভাই–ই কবি

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

হ্যাঁ, সেই চার ভাই ছিল পণ্ডিত পিতার মূর্খ সন্তান (‘সন্তান’ শব্দটি পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ উভয় ক্ষেত্রেই  ব্যবহূত হয়৷ সম্–তন্ ঘঞ্ প্রত্যয় করে ‘সন্তান’ শব্দ ৰ্যুৎপত্তিগত ভাবে অবশ্যই পুংলিঙ্গ৷ কিন্তু ব্যবহারে উভয়লিঙ্গ৷ ‘সন্তান’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ দিতে গিয়ে অনেকে ‘সন্ততি’ শব্দটিকেও টেনে আনেন যার কোন প্রয়োজন নেই৷)

ৰড় ভাইটি মূর্খ ও বোকা৷ মেজটি তথৈবচ৷ সেজটিও তথৈবচ৷ কিন্তু ছোটটি মূর্খ হলে কী হবে, ৰুদ্ধিমান–তার ওপর আবার বিদূষক৷ অর্থকৃচ্ছ্রতার মধ্য দিয়ে চার ভাইয়ের দিন কাটছিল৷ হঠাৎ তারা খবর পেল, এক দেশের রাজা ঘোষণা করেছেন কেউ যদি তাঁকে স্বরচিত কবিতা শোনায়, তাহলে তিনি তাকে উপযুক্ত উপঢ়ৌকন দেবেন৷ কিন্তু কবিতা লেখা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়৷ কারও ভাব আছে তো ভাষা নেই, কারও ভাষা আছে তো ভাব নেই৷ কারও আবার দুইয়ের একটাও নেই৷ যাঁর দুটোই আছে, সে–ই হয় কবি৷ তা না হলে ওই যে, –

‘‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির,

তাতে কী বা যায় আসে ভোঁদার পিসীর–’’

মত কবিতাই আসবে৷

রাজা যখন দেখলেন, জোড়া পঙ্ক্তির কবিতা লেখার মত কবি আর কেউই রাজসভায় আসছে না, তখন তিনি বললেন–‘‘এক লাইনের কবিতা হলেও চলবে৷ যেমন, কী যে লিখি ছাই মাথা ও মুণ্ডু আমিই কী বুঝি তার কিছু৷’’

চার ভাইয়ের মুস্কিল–আশান হ’ল৷ ঘাম দিয়ে ম্যালেরিয়ার জ্বর ছাড়ল৷

ৰড় ভাই বললে–‘‘আম্মো পারি৷’’

মেজ ভাই বললে–‘‘আম্মো লিখতে পারি’’৷

সেজ ভাই বললে–‘‘আম্মো কবিতা লিখতে পারি’’৷

ছোট ভাই বললে–‘‘আম্মো  মিত্রাক্ষর ছন্দে কবিতা লিখতে পারি’’৷

তারা ঠিক করলে পরের দিন সকাল সাতটার সময় মাহেন্দ্রযোগে রাজদরবারে কবিতা শোনাতে যাবে৷ শেষ রাত্তিরে কাব্যিক মেজাজ আনবার জন্যে ৰড় ভাই গাড়ু হাতে মাঠে গেল৷ ফুরফুরে হাওয়া বইছে...কবিতার আমেজ আসছে...চাঁদের কালো দাগগুলো দেখে মনে হচ্ছে, সেঁকবার সময় রুটিটা ৰোধ হয় একটু পুড়ে গেছে৷ এমন সময় ৰড় ভাই দেখলে, তার সামনে তিনটে গর্ত৷ গর্ত তিনটেতেই জল৷ তিনটে জলে তিনটে চাঁদ৷ আর আকাশে রয়েছে আর একটা চাঁদ৷ তাহলে পৃথিবীতে আছে মোট চারটে চাঁদ৷ ৰড় ভাইয়ের মনের গহনে কাব্যিক হাওয়া বয়ে গেল৷ সে এক লাইনের কবিতা তৈরী করে ফেললে–‘‘চন্দ্র চারু৷’’  ৰড় ভাই গাড়ু হস্তে দ্রুত পদ–বিক্ষেপে বাড়িতে ফিরে এল৷ আর ভাইয়েদের বললে–‘‘পেয়েছি, পেয়েছি...ইউরেকা ...ইউরেকা৷ এক লাইনের একটি উত্তম মানের কবিতা এখন আমার ঠোঁটস্থ’’৷

মেজভাই আর কালবিলম্ব না করে গাড়ু হাতে সেইদিকেই ছুটল,–বসল গিয়ে একটি ৰকফুলের গাছের নীচে৷ কবিতার মেজাজ আর আসে না৷ চাঁদ ডুবে গেছে...মহা ফ্যাসাদ৷ এমন সময় একটা ৰকফুল তার মাথায় এসে পড়ল৷ মগজে কবিতার ডাঙগুলি খেলে গেল৷ এক পঙ্ক্তির কবিতা সে তৈরী করে ফেললে–

‘মাথায় ফুল পড়ে–ৰকধারু৷’

সে পড়ি–কী–মরি করে গাড়ু নিয়ে ফিরে এল, কারণ খানিক বাদে রাজদরবারে যেতে হবে৷

সেজভাইয়ের আর তর্ সয় না৷ সে গাড়ু নিয়ে যখন মাঠে গিয়ে বসল, তখন সূর্য উঠছে৷...সূর্যের আলোয় তাঁৰার গাড়ু শুধু যে চক্চক করছে তা–ই নয়, গরম হয়েও উঠেছে৷ তার মাথায় কবিতার হা–ডু–ডু খেলে গেল৷ সে এক পঙ্ক্তির কবিতা তৈরী করে ফেললে–‘‘সুর্যের উত্তাপে তাম্র গাড়ু’’৷

সে গাড়ু হাতে দৌড়ুতে দৌড়ুতে  বাড়ি ফিরল৷ এমনকি  গাড়ুটা পুকুরে ডোবাতেও ভুলে গেল৷ খানিক বাদে তাকে রাজদরবারে যেতে হবে তো

তিনভাই  সাজগোজ  করে রওয়ানা* (*শব্দটি হিন্দুস্তানী–‘রবানা’৷ অনেকে ভুল করে ‘রওনা’ লেখেন৷) হ’ল৷ ছোট ভাইও ওদের সঙ্গ নিলে৷ দাদারা বললে–‘‘তুই আমাদের সঙ্গে কেন যাচ্ছিস? তুই কি আমাদের মত কবি?’’

সে বললে,–‘‘এতখানি পথ তোমাদের সঙ্গে যেতে যেতে  আমার গায়েও কবিতার হাওয়া লাগবে৷ রাজসভায় গিয়ে আমিও কবিতার  ট্রায়াল দোব৷’’

চার  ভাই  যথাসময়ে রাজসভায় এসে উপস্থিত৷ এক এক করে তাদের ডাক পড়ল৷ ৰড়ভাই গিয়ে এক পঙ্ক্তির কবিতা শোনালে–‘চন্দ্র চারু’৷

রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ টাকা বখ্শিস্ দাও৷’’

মেজভাই এসে শোনালে–‘‘মাথায় ফুল পড়ে ৰকধারু৷’’

রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ  টাকা দক্ষিণা  দাও৷’’

সেজভাই এসে এক পঙ্ক্তির কবিতা শোনালে–‘সূর্যের উত্তাপে তাম্র গাড়ু’৷

রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ  টাকা বিদেয়ী  দাও৷’’ তারপর ছোট ভাই এসে রাজাকে বললে,–‘‘রাজামশায়, আমি তো মিত্রাক্ষর কবিতা শোনাব৷’’ রাজামশায় বললেন–‘‘উত্তম উত্তম, শোনাও শোনাও৷’’ সে প্রথমে  তিন ভাইয়ের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে তারপরে নিজের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললে–

‘এই যে আমরা চারটি ভাই–গোরু৷’

রাজামশায় সন্তুষ্ট হয়ে খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘এঁকে পঞ্চাশ টাকা প্রণামী দাও৷’’

এখানেই গল্পের শেষ নয়৷ রাজামশায় ছোটভাইটিকে রাজদরবারে বিদুষক হিসেবে চাকরিতে ৰহাল করলেন৷

নামের উৎপত্তি খুলনা

লেখক
প্রণবকান্তি  দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের খুলনা জেলার পূর্বনাম ছিল ‘নয়া আবাদ’৷ সুন্দরবনের ২,২৯৭ বর্গমাইল যশোর ও খুলনা জেলার অন্তর্গত৷ সুন্দর বনের এক তৃতীয়াংশ খুলনার অন্তর্ভুক্ত৷ সুন্দরবনের কাঠ ছিল তখনকার দিনে বাণিজ্যিক সম্পদ৷ ঐ কাঠ কাটতে লোকে সুন্দর বনে যেতো৷ বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই সুন্দরবনের পথ ছিল অপরিহার্য৷ কাঠ সংগ্রহই করুক আর বাণিজ্যই করুক নয়াবাদই ছিল অভিযাত্রীদের শেষ ঠেক৷ অর্থাৎ নয়াবাদের পরে আর কোন বসতি নেই৷ সন্ধ্যা হলে নয়াবাদেই সবাই নৌকা নোঙর করতো৷ রাতে সুন্দর বনের দিকে অগ্রসর হওয়া ছিল বিপজ্জনক৷ যদি  কোন দুঃসাহসী যাত্রী নৌকা খুলে এগোতে চেষ্টা করতো, বনের মধ্য থেকে তখনি  বন-দেবতার নিষেধাত্মক বাণী শোণা যেত---‘‘খুলো না, খুলো না৷’’ খুলো না থেকেই নয়বাদের নাম  হয়ে গেল ‘খুলনা’৷

অনেকের কাছে এ ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য  নয়৷ খুলনা নামের  উৎপত্তি বিষয়ে তারা বলেন অন্যকথা৷

মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে (দ্বিতীয়খণ্ড) আমরা ধনপতি সদাগরের সন্ধান পেয়েছি৷ ধনপতির ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল সারা বাংলাদেশ ব্যাপী৷ বিরাট ধনীলোক ছিলেন তিনি৷ তার দুই স্ত্রী---লহনা ও খুল্লনা৷ সংসারে দুই সতীনের ঝগড়া লেগেই ছিল৷ জ্যেষ্ঠা লহনা ছিল অত্যন্ত  হিংসাপরায়না৷ সে তার সতীন খুল্লনাকে সর্বদা নির্যাতন করতো৷ কিন্তু খুল্লনার পতি ভক্তি ছিল অটুট৷ সর্বাধিক সদ্‌গুণসম্পন্না খুল্লনা সতী-সাধীরূপে  প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ এই খুল্লনার নামানুসারেই ‘খুলনা’ নামের উৎপত্তি বলে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে৷

সেকালে ডিঙ্গার সাহায্যে আন্তঃরাজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্য যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছিল৷ চাঁদসাগর ও ধনপতি সওদাগররা ছিলেন সেকালের টাটা-বিড়লা৷ তাঁদের বানিজ্য-তরী যেত না---হেন জায়গা নেই৷ ধনপতি দক্ষিণবঙ্গে বাণিজ্য করতে এসে নয়াবাদে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে ভৈরবের দক্ষিণকূলে খুল্লনেশ্বরী নামে একটি চণ্ডীদেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ খুল্লনার দ্বারাই বণিককুলে প্রথম চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারিত হয়৷ তাই খুল্লনেশ্বরীর নাম থেকে ‘খুলনা’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে অনুমান করেন৷

ভাষাবিদ শ্রীযুক্ত সুকুমার সেন মহাশয় ‘খুলনা’ নামের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন এই ভাবে খুল্লনাবা অর্থাৎ ক্ষুদ্র নৌকা (যেখানে ছোট ছোট নৌকা ভাসে?)৷ এ অনুমান অসঙ্গত নয়৷ কারণ নদীতে ব্যবসায়ীরা সেকালে বাণিজ্য-সম্ভার সাজিয়ে চুটিয়ে বাণিজ্য করতেন৷ খুলনা জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর৷ পূর্ব-দক্ষিণ কোণে মধুমতী, গৌরী, কুমার, ইচ্ছামতী, যমুনা ও কালিন্দী নদী৷ অতএব সওদাগরের বাণিজ্য-তরী খুলনা নৌকার সমারোহ জেনে দেখেই এই জেলার নাম খুলনা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু  কিছু নয়৷

 

৩০শে এপ্রিল

লেখক
প্রভাত খাঁ

জড়বাদী অহংকারী পাষণ্ডের দল

ছলবল করি’ কৌশল

নীতিবাদী মনগুলো স্তব্ধ করি’

দিতে চায় হত্যার তাণ্ডবে

তাই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আর

প্রতিবিধান করতে ভুলো না কখনো৷

হিমালয়ও চূর্ণ হয়ে যাবে–

যদি আঘাতে আঘাতে তারে

নাড়া দিয়ে চলো৷

ভয়ে ভীত কাপুরুষ ওরা, ওদের

সদাই ভয় হয়তো বা ধ্বংস

হয়ে যাবে৷ রজনীর অন্ধকার–

শেষ হয় নবীন সূর্যোদয়ে

প্রভাত আলোকে৷

আলোকের শিশু ওরা আলোকের

গান গেয়ে গেল৷

তমসার অন্ধকারে তাদের রক্তের

ঋণ শোধ দিতে ন্যায়দণ্ড হাতে

নেমে আসে দেখো ওই দণ্ডধারী

এ মাটির ’পরে৷

ভয় নাই পাপীরা বিনাশ হবে

এ ধরণী ’পরে, ন্যায় ধর্ম

প্রতিষ্ঠা হবে সুদর্শন চক্রের আঘাতে৷

 

স্বভাব যায় না ম’লে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘খভ্রান্তি’শব্দের একটি অর্থ হ’ল চিল (কালো চিল ও শঙ্খচিল দুই–ই)৷ ‘ভ্রম্’ধাতুর অর্থ ভুল করা নিলে ‘খভ্রান্তি’শব্দের একটি যোগারূঢ়ার্থ হৰে–যে একই ভুল ৰার ৰার করে চলেছে৷ একই ভুল জেনে বা না জেনে অনেকেই করে থাকে৷ ধরো, কোন একজন অনেকগুলি সংখ্যাকে ওপর থেকে নীচে গুনে চলেছে৷ ৰার ৰার গণনায় ভুল হচ্ছে৷ খোঁজ নিলে দেখা যাৰে একটি জায়গায় ৰার ৰার মনে মনে সে বলে চলেছে ৫+৬ = ১২৷ এই ধরনের ভুলকেও ‘খভ্রান্তি’ৰলা হয়৷ ‘খভ্রান্তি’–র হাত থেকে ৰাঁচবার অন্যতম উপায় হল উল্টো পথে চলা যেমন গণনার ক্ষেত্রে ওপর থেকে নীচে গুনতে গিয়ে ‘খভ্রান্তি’–তে পড়ছ, তো সেই স্থলে এই ‘খভ্রান্তি’–র হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যে নীচের থেকে ওপরে গোনো৷ এবার ৫+৬ = ১২ না ৰলে আশা করা যায় ৰলৰে ৬+৫ = ১১৷

আমার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিল......বয়সে ছিল আমার চেয়ে কিছুটা ছোট৷ তার ‘খভ্রান্তি’ছিল–স্বেচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক, মিথ্যে কথা ৰলা৷ তাকে বকাঝকা করলে সে ৰলত, ‘‘কী করৰ দাদা, মুখ থেকে বেরিয়ে যায়৷ যদি ঠিক ৰলতেও চাই তৰুও স্বভাবগতভাৰে মিথ্যে বেরিয়ে যায়৷ সেই ছড়ায় আছে না–

‘‘মনে করি হেন কর্ম করিব না আর,

স্বভাবে করায় কর্ম কী দোষ আমার’’৷

যারা তার স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছল সেই সৰ আত্মীয়–নাত্মীয় চেনা–চেনা সৰাই তার সম্পর্কে ৰলত–ও যখন যা কিছুই ৰলুক না কেন তা গ্রহণ করার আগে তা ভাল করে চেলে নিৰি৷

একবার আমি তাদের জিজ্ঞেস করলুম–হ্যাঁরে, তোরা যে চেলে নিতে ৰলছিস তা কী রকম চালুনিতে চালতে হৰে?

ওরা ৰললে–নারায়ণগঞ্জ ৰাজারের একটা দোকানে খুৰ মিহি চালুনি পাওয়া যায়৷ সেই চালুনিতে  চালতে হৰে৷

আমার সেই আত্মীয়টি সৰ শুণে ৰললে–আমার মিথ্যে এতই সূক্ষ্ম যে তা চালৰার মত চালুনি এখনও পৃথিবীতে তৈরী হয়নি৷

আমি ধমকে দিয়ে ৰললুম–হ্যাঁরে, তুই যখন আমার সঙ্গে কথা ৰলৰি তখন আমাকেও চালুনি নিয়ে বসতে হৰে নাকি?

সে আমাকে একটু ভয় পেত৷ সে ৰললে–না দাদা, আপনার চালুনির দরকার পড়বে না৷ যদি একান্তই দরকার পড়ে মোটা চালুনিতেই চলৰে৷

আমি ৰললুম–ওসৰ ন্যাকামি ছাড়৷ আজ থেকে সত্যি কথা ৰলা অভ্যেস কর৷

পরের দিন ওর ৰন্ধুরা আমার কাছে এসে নালিশ করে ৰললে–ও আৰার মিথ্যে ৰলছে৷

আমি ৰললুম–কী মিথ্যে ৰলেছে?

ওরা ৰললে–ও ৰলছিল, রংপুর জেলাটা নাকি আগে ৰুড়ীগঙ্গার চর ছিল৷

আমি ৰললুম–হ্যাঁরে, এখনও অভ্যেসটা ছাড়লি না কেন?

 সে আমাকে কাকুতি–মিনতি করে ৰললে–দাদা, আপনারে কথা দিতেসি এ্যামনডা অর অইৰ না৷

আমি ৰললুম–ঠিক আছে, কথা দিলি–তা’মনে রাখিস যেন৷

পরের দিনই ওর ৰন্ধুরা এসে ৰললে–ও আৰার মিথ্যে ৰলেছে৷

আমি ৰললুম–কী ৰলেছে?

ওর ৰন্ধুরা ৰললে–ও বলেছে,  বঙ্গোপসাগরটা নাকি আগে ওর পিসেমশাইয়ের জমীঁদারীতে ছিল৷

আমি আবার ওকে মুখঝামটা দিয়ে বকাঝকা করলুম৷ বললুম–‘আবার যদি মিথ্যে বলিস তোরে মাইরা ফ্যালাই দিমু’৷

সে বললে–না দাদা৷ আর কখনও এমনড্যা অইব না৷ আমি আপনারে পাকা কথা দিতেসি৷

তার পরের দিন ওর বন্ধুরা আবার আমার কাছে এসে মামলা দায়ের করে বললে–দাদা, ও আবার মিথ্যে কথা বলেছে৷

আমি ৰললুম–কী ৰলেছে?

ওর ৰন্ধুরা ৰললে–ও ৰলেছে, ওর ঠাকুরদার যেটা সৰচেয়ে ৰড় হাতী অর্থাৎ ঐরাবত ছিল তার নাকটা ছিল শূর্পণখার নাকের মত৷

আমি ওকে অনেক বকাঝকা করলুম৷ ৰললুম–তোর কথার দাম রাখতে পারিস না কেন রে?

ও ৰললে–দাদা, মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়৷ এবার আমি আপনারে পাকা ফাইন্যাল কথা দিতেসি৷ আর এ্যামনডা অইব না৷

তার পরের দিন ৰন্ধুরা আমার কাছে এসে রিট পিটিশন করে জানালে–ওর মিথ্যে ৰলা স্বভাব৷ মানুষ কেন, দেৰতারাও সারাতে পারৰে না৷

আমি ৰললুম–ও আৰার কী মিথ্যে ৰলেছে?

ওরা ৰললে–ও ৰলেছে, ও নাকি আসলে ভূত৷ ট্যাক্স ফাঁকি দেৰার জন্যে পোষাক পরে সেজে–গুজে থাকে৷

আমি শুধোলুম–হ্যাঁরে, এসব কী কথা শুণছি

ও ৰললে–দাদা, এবার আমি আপনারে এক্কেরে পাকা ফাইন্যাল কথা দিতেসি, ভবিষ্যতে আর এ্যামনডা অইৰ না৷

তার পর কী হয়েছিল আর আমি খোঁজ নিইনি.......তার পরেই ৰাঙলা ভাগ হয়ে গেছল কি না৷

তা হলে তোমরা ‘খভ্রান্তি’কাকে ৰলে ৰুঝলে তো                (শব্দ চয়নিকা, ১৩শ খণ্ড)

 

নামের উৎপত্তি যশোহর

লেখক
প্রণবকান্তি  দাশগুপ্ত

‘‘যশোর নগর ধাম, প্রতাপ আদিত্য নাম৷’’পূর্ববাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) এক প্রসিদ্ধ জেলা এই যশোহর৷ কিন্তু এই  জেলার নাম যশোহর হলো কেন? যশোহর লোক মুখে যশর৷

আরবী ভাষায় যশর বা যশোর শব্দের অর্থ সেতু৷ যশোর  নদী-নালার দেশ বলে সেখানে পারাপারের জন্য সেতু আছে অনেক৷ এই সেতুর বাহুল্যের জন্যই এই জেলার নাম হয়েছে যশোর৷

বাকিংহাম সাহেব লিখেছেন---‘The name of Jasar, the bridge, shows the nature of the country, which is the completly intersected by deep water.’’

আবার হরিশচন্দ্র তর্কালঙ্কারের ‘‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিতে দেখা যায়, পূর্ববঙ্গের শেষ পাঠান রাজা দায়ুদশাহ মোগলদের কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান৷ পালাবার সময় রাজধানী গৌড়ের যাবতীয় রাজসম্ভার ও ধনরত্ন বিক্রমাদিত্যকে দিয়ে যান৷ বিক্রমাদিত্য ছিলেন প্রতাপাদিত্যের পিতা৷

প্রতাপাদিত্যের আমলেই প্রথম ‘‘যশোহর’’নামের উৎপত্তি হয়৷ এইরূপ অনুমান অসঙ্গত নয় যে, গৌড়ের যশঃ হরণ করে ‘যশোহর নগর গড়ে উঠেছিল বলেই এইরূপ নামকরণ৷

আবার অনেকের বিশ্বাস, প্রতাপাদিত্যের রাজত্বকালে তাঁর খুল্লতাত কবি বসন্ত রায়ের যশের জন্যই ‘যশোর’নাম হয়েছে

সাহেবী রিপোর্টে আরেকটি সূত্র পাওয়া যায়---''It was intended to express the idea Supremely glorious.'‘অত্যধিক যশস্বী ছিল বলেই এর নাম হয়েছিল যশোর৷

শিক্ষা

লেখক
জয়তী দেবনাথ

শিক্ষা আনে চেতনা

               অন্ধকারে আলো

শিক্ষা দেয় উপলব্ধি

               সবার সাথে চলো৷

শিক্ষা মনের পবিত্রতা

               জ্ঞানে সমুজ্জ্বল

শিক্ষা শেখায় উদারতা

               মানবতার বল৷

শিক্ষার নেই কোনো শুরু

               শিক্ষার নেই অন্ত,

শিক্ষা কেবল স্কুলে নয়

               নয়তো শুধু গ্রন্থ৷

শিক্ষা হ’ল নিজের ছন্দে

               জীবনটাকে চেনা,

শিক্ষা হ’ল নতুনভাবে

               জগৎটাকে জানা৷

শিক্ষা হ’ল অনুপ্রেরণা

               শুভকাজে শক্তি,

শিক্ষা জাগায় মনের মাঝে

               অমলিন ভক্তি৷

 

ভয় কি বা তার

লেখক
বিভাংশু মাইতি

অণুতে অণুতে আছো অণুসূত

তবু পাই না তোমার দেখা,

অন্তরে নেই আছো অন্তরে

চিদাকাশে তুমি রাকা৷

অনলে অনিলে সাগরে সলিলে

আছো তুমি সর্বত্র

আছো ছায়া-সম দিবস রজনী

মনে আছো মনোমিত্র৷

জেনেও জানি না তুমিই আমার

পরম জীবন দেবতা

বুঝেও বুঝি না তোমার মহিমা

নভোনীলে লেখা বারতা৷

বিভূপদে তব করি গো আকুতি

হৃদয়েতে দাও ভকতি

জগৎ মাঝারে যেন যুঝিবারে

পাই গো অপার শকতি৷

ভয় কি বা তার

যে আছে তোমার

অভয় চরণ স্মরণে

সঁপে যে দিয়েছে সকল সত্তা

জীবনে-মরণে-মননে৷

 

শামিয়ানা নেতা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘কেণিকা’ শব্দের একটি অর্থ হল শামিয়ানা৷ শব্দটি ফার্সী৷ এ ক্ষেত্রে ৰাঙলার নিজস্ব শব্দ ‘কেণিকা’৷ রোদ ও অল্প বারিপাতের হাত থেকে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানকে ৰাঁচাবার জন্যে শামিয়ানার ব্যবহার হয়ে থাকে৷ এই ‘শামিয়ানা’ শব্দটি ৰাংলা ভাষায় এসেছে ৰড় জোর ৪০০ বছর৷ ছোটৰেলায় আমি একজন শামিয়ানা–নেতার নাম শুনেছিলুম৷ তোমরা নিশ্চয় জানো, নেতা হবার জন্যে অনেকের সখের প্রাণ গড়ের মাঠ হয়ে থাকে৷ যোগ্যতা নেই, তবু নেতা হতে হবে৷ তাই তারা অনেক সময় অন্যকে দিয়ে ভাষণ লিখিয়ে নিয়ে নিজেরা তা কতকটা মুখস্থ করে জনসভায় ছেড়ে দেয়৷ হাততালির ব্যবস্থা আগে থেকেই করা থাকে৷ এদের জন্যে ‘শামিয়ানা–নেতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়৷

আমার জানা জনৈক শামিয়ানা–নেতা কয়েকৰারই ম্যাট্রিকে ঘায়েল হয়ে শেষ পর্যন্ত নেতা হবার পদটি নিরাপদ মনে করে সেটিকেই ৰেছে নিলেন৷ ৰলা ৰাহুল্য, লিখিত ভাষণ মুখস্থ করে তার ভালই চলছিল৷ কিন্তু যতিচিহ্ণের ত্নব্ভুন্তুব্ধব্ভ্ত্রব্ধ জ্ঞান না থাকায় ভাষণ একটু ওলট–পালট হয়ে যেত৷ তাঁর সহকর্মীরা একদিন তাকে ৰললেন–‘‘দেখিয়ে, আপ্ পাঙ্ক্চুয়েশন শিখ লিজিয়ে৷’’

তিনি ৰললেন–প্রোনাউন ঔর প্রপার নাউন তো মুঝে মালুম হৈ (হ্যায়)৷ বহী চীজ না৷

সহকারীরা ৰললেন–পাঙ্কচুয়েশনভী ঐসা হী হৈ, পর্ থোড়া ইধ্র্–উধ্র্৷ জৈসা ‘বাটার’ ভ্র্ত্রব্ধন্দ্বব্জগ্গ ঔর ৰাটার ত্ব্ব্ভব্ধব্ধন্দ্বব্জগ্গ্–দোনো করীৰ্ করীৰ্ এক হী হৈ, দোনো হী তরল হৈ৷ মগর থোড়া ফারাক্ ভী রহতা হৈ৷

তাঁরা তখন শামিয়ানা–নেতাকে যতিচিহ্ণ ৰোঝালেন৷ ৰললেন–জৰ্ হমলোগ কমা লিখেঙ্গে উস্কে ৰাদ আপ্কো বান্ (ওয়ান) বল্নে কা টাইম ছোড়না পড়েগা৷ জব্ ফুলিষ্টপ্ লিখেঙ্গে তব্ আপ্কো বান, টু, থীরী (ওয়ান, টু, থ্রী) কা টাইম ছোড়না পড়েগা৷

শামিয়ানা–নেতা ৰললেন–হান্ জী, ম্যায় সমঝ্ লিয়া৷

সহকারীরা লিখে দিলেন–প্যারে সজ্জনোঁ, মুঝে আজ কাফী হর্ষ্ হৈ, কি ম্যায় আপলোগোঁকা পাশ্ পঁহুচ গ্যয়া৷ মগর কহ্না যহী হৈ কী শীর্ফ আজ হী কে লিয়ে নহীঁ, বল্কি অনন্তকালকে লিয়ে ম্যায় আপলোগোঁকা পাশ আনা চাহতা হুঁ–, ঔর অনন্তকাল তক্ আপ্লোগোঁকো সাথ রহনা চাহতা হু৷’’ শামিয়ানা–নেতা কমা, ফুলষ্টপ, আর ৰান–টু–থীরীর হিসাৰ ভালভাৰে শিখে নিলেন৷ এবার তিনি শামিয়ানার নীচে দাঁড়িয়ে ভাষণ শুরু করলেন–

‘‘প্যারে সজ্জনোঁ কমা বান মুঝে আজ কাফী হর্ষ্ হৈ কমা কি ম্যায় আজ আপ্লোগোঁকা পাশ্ পঁহুচ্ গয়া ফুলিষ্টপ ৰান, টু, থীরী (ওয়ান, টু, থ্রী) মগর কহ্না যহী হৈ কমা ৰান শীর্ফ্ আজ হী কে লিয়ে নঁহী ৰল্কি অনন্তকালকে লিয়ে ম্যায় আপ্লোগোঁকা পাশ আনা চাহতা হুঁ কমা ঔর অনন্তকাল তক্ আপ্লোগোঁকা সাথ রহনা চাহতা হুঁ ফুলিষ্টপ ৰান টু থীরী৷

শ্রোতা–জনতা সোল্লাসে হাততালি দিয়ে তাঁকে সম্বর্দ্ধনা জানালেন৷ নেতা তো হাততালিই চাইছিলেন৷ তাঁর ভাষণটা প্রদত্ত হয়েছিল সম্ভবতঃ অল ইণ্ডিয়া চোর এ্যাণ্ড ডাকু কন্ফারেন্সে (নিখিল ভারত চোর ও ডাকাত সম্মেলন)৷ তাহলে তোমরা ৰুঝলে শামিয়ানা–নেতা কাদের ৰলে৷

*      *      *      *

ওই রকম একজন নেত্রীও ছিলেন৷ তিনি ছিলেন ৰ্রিটিশ ভারতের জনৈক দেশীয় রাজ্যের মহারাণী৷ তাঁর ভাষণ লিখে দিতেন ভারতের জনৈক নামজাদা ৰ্যারিষ্টার৷ একবার এলাহাৰাদে সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলন হয়েছিল৷ ৰ্যারিষ্টার সাহেৰের লেখা ভাষণটি মহারাণী ভালভাৰেই পড়ে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু সভাস্থলে দাঁড়িয়ে বিপুল জনসমাবেশ দেখে মহারাণীর মাথা ঘুরে যায়......ভিরমি যাৰার উপক্রম হয়, সমস্ত ভাবনাই তাঁর তখন গুৰলেট হয়ে যায়৷ মহারাণী ছিলেন শামিয়ানা–নেত্রী৷ সুতরাং  ভাষণের সুযোগ তিনি তো ছাড়ৰেন না, তা মুখস্থ থাক, বা না থাক ৰলৰেনই৷ তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিন–চার ৰার ৰললেন–ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ৷ তারপর রুমাল দিয়ে সযত্নে টিপ ৰাঁচিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন–ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম৷ তারপরে মহারাণীর গলার স্বর আর ৰেরুল না, আগাগোড়া ভাষণটি ভুলে গেলেন আর কি ‘‘এক গেলাস পানী’’ ৰলে ধপাস করে চেয়ারে ৰসে পড়লেন৷

এৰার ৰ্যারিষ্টার ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন৷ তিনি বললেন–আজ যে সকল বিদুষী মহিলা এই সভায় এসে ভাষণ দিয়ে আমাদের কৃতার্থ করলেন তাঁদের অন্যতমা হচ্ছেন আমাদের এই মহারাণী৷ সত্যিই এঁর ভাষণের তুলনা ভারতে কেন, সমগ্র বিশ্বে বিরল৷ এখন আমাদের খতিয়ে দেখার দিন এসেছে যে ভারতের মহিলারা আজ কত দুঃখে আছেন আর তাঁদের সেই দুঃখ দেখে মহারাণীর কোমল প্রাণ আজ কী পরিমাণ বিগলিত হয়েছে কী পরিমাণ দ্রবিত হয়েছে৷ মহারাণী প্রথমেই ৰললেন–‘‘ম্যায় ক্যা কহুঁ ম্যায় ক্যা কহুঁ ম্যায় ক্যা কহুঁ’’ অর্থাৎ ভারতীয় নারীর দুঃখ–দুর্দশার ইতিকথা এত পর্বতপ্রমাণ যে মহারাণী এর কোন্খানটা ৰলৰেন আর কোন্খানটা না ৰলৰেন ভেবে পাচ্ছেন না৷... ভারতীয় নারীর দুঃখের ইতিহাস মহারাণীর কোমল প্রাণকে এমন ওতঃপ্রোতভাবে গলিয়ে দিয়েছে যে মহারাণী ভেবে পাচ্ছেন না যে কোন্খানটি থেকে তাঁর বর্ণনা শুরু করৰেন আর কোথায় বা হৰে তার পরিসমাপ্তি৷ তাই মহারাণীর দরদী মন ৰলছে, ‘‘ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ’’৷ উঃ ভাবতেই পারছি না মহারাণীর কী অপূর্ব মমতা...মহীয়সী নারীর কী বিরাট হূদয়বত্তা তারপর মহারাণী বললেন...মহারাণী কী ৰললেন...ৰললেন–ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম৷ অর্থাৎ অত্যাচারের নাগপাশে আজ ভারতীয় নারী পিষ্ট৷ শুধু যে রান্নাঘরের আগুনের উত্তাপেই তারা জ্বলেপুড়ে মরে যাচ্ছে তাইই নয়, অত্যাচারের নাগপাশের উষ্ণতাতেও তাদের দম ৰন্ধ হবার উপক্রম৷ সেই রান্নাঘরের উত্তাপ, সেই নাগপাশের দাবদাহ মহারাণীর কোমল মনকে স্পর্শ করেছে৷ মহারাণীর ওষ্ঠের মধুর হাসি মরুভূমির মারব জ্বালায় হারিয়ে গেছে৷ মহারাণী তাঁর অন্তরের বিদগ্ধ অনুভূতি, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কবির মাধুর্য্যময় মুন্সীয়ানায় ছোট্ট কয়েকটি শব্দে বললেন–‘‘ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম’’ অর্থাৎ এ অত্যাচারের অনল জ্বালা আমি সহ্য করতে পারছি না......এ উষ্ণতার ক্লেশ আমার কাছে অসহনীয়৷

শ্রোতা–জনতা করধ্বনি দিলেন৷ ৰ্যারিষ্টার সাহেৰ শামিয়ানা–নেত্রীকে অদ্রিতুঙ্গে উঠিয়ে দিলেন৷

 

নোতুন পৃথিবী

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

সেদিন তোমার শুভ পদ-স্পর্শে নোতুন পৃথিবী---

নাই তার ক্ষয়, নাই তার লয়---চিরজীবী৷

পাতায় পাতায়

মৌনমূক বর্ণমালায়

বিধৃত তোমার বাণী হলো বা[য়৷

প্রতিদিন বিশ্বময়

অকারণ হানাহানি মৃত্যু রক্তক্ষয়৷

শত সঙ্কটে আজ দিশেহারা

পৃথিবীর যত অধিবাসী---

মনে নেই স্বস্তি, মুখে নেই হাসি৷

হিংসায় উন্মত্ত দুরাচারী দানবেরা

সর্বদা মানুষ ঠকানো ষড়যন্ত্রে সক্রিয়৷

করে যত অমানবিক কাজ

শোষণ পীড়ণ অত্যাচার যাবতীয়৷

পা বাড়ালেই পদে পদে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ,

বিনা দোষে, বিনা বিচারে জীবন বরবাদ৷

 

শোন শোন ওই---

মাভৈঃ মাভৈঃ

হে বিশ্ববাসী, খোল দ্বার,

গাও আজ মুক্তির গান,

প্রগতিশীল নোতুন পৃথিবী

সব সমস্যার সমাধান, পরিত্রাণ৷

তার যুগান্তকারী তত্ত্বে আছে

জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ

নোতুন সমাজ গড়ার

অভ্রান্ত পথ-নির্দেশ৷

রাষ্ট্র শাসন, ধর্মাচারণ

দুইয়ের রসায়ন, সন্তুলন,

সদবিপ্র-শাসিত বিশ্বরাষ্ট্র স্থাপন

নোতুন পৃথিবীর এই মহান ভাবনা

হবেই হবে একদিন বাস্তবায়ন৷

হে মহান প্রবক্তা,

তোমার তত্ত্ব, তোমার দর্শন

নোতুন পৃথিবীর পাতায় পাতায়

মুখরিত হোক তোমার যাবতীয় প্রবচন৷

মুদ্রাঙ্কিত অক্ষরে অক্ষরে

কথা কও, তুমি কথা কও৷

প্রার্থনা করি, আর একটি বার এসে

আমাদের সকলের প্রণাম লও৷

 

আমি তুমিই

লেখক
বিভাংশু মাইতি

মেলেনি যা যোগ বিয়োগে

মিলেছে তা তোমা দর্শনে৷

দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে

পারিনি যা রাখতে ধরে৷

মেদ মজ্জায় মিশেছে সহসা তা

ক্ষণিকে আজ তোমার ইঙ্গিতে৷

রাত দিন ধরে ছুটেছি ছুটেছি

সুখের পেছনে তবু তা পাইনি৷

তোমার পথে আজ আমি

সদাই আছি আনন্দে বিভোর৷

তুমি কে তা জানতে গিয়ে

আমি যেন আজ হয়ে গেছি তুমি৷