সংবাদ দর্পণ

মানুষ যেখানে লাঙল টানে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

টাকা নেই, গোরু বা মহিষ  কিনবেন কি করে?  অথচ এক টুকরো জমিতে ভাগচাষ  করেই কোনোরকমে দিন গুজরান করতে হয় এক ছোট্ট চাষী পরিবারকে৷ তাই নিরুপায় হয়ে  শুধু স্বামী স্ত্রীতে মিলে লাঙ্গল-চাষ শুরু করে দিলেন৷ গোরুর জায়গায় স্বামী সামনে গিয়ে লাঙল টানেন৷  আর পেছনে লাঙলের মুঠি ধরেন স্ত্রী৷ এমনিভাবেই চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করা ছাড়া তাঁদের গত্যন্তর নেই৷

গল্পের মতো শোণালেও  এই ঘটনাটি সত্য৷ দক্ষিণ ভারতের  কর্ণাটক রাজ্যের  কলারবুরগি গ্রামের এক চাষী ‘গুন্ডু’র এই হল জীবনালেখ্য৷

এভাবেই সারা দেশেই লক্ষ লক্ষ হতদরিদ্র মানুষ  আছেন, যারা অতিকষ্টে রয়েছেন বা  অর্ধমৃত হয়ে কোনোরকমে জীবনের গ্লানি বয়ে চলেছেন৷ অথচ তাঁরা অন্ধকারেই থেকে গেছেন, দেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতারা তাদের কথা হয়তো বা জানেনই না৷

মানুষ যেখানে হৃদয়হীন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৪শে জুলাই৷ সন্ধ্যাবেলা৷ স্থান রাণীনগর (জলপাইগুড়ি) ষ্টেশন৷ ষ্টেশন থেকে বঙ্গাইগাঁও-এন জে পি ট্রেনটি পাস করে গেলেই দেখা যায় ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ায় একজনকার ট্রেনের চাকায় হাত ও দুই পা কাটা গেছে৷ এই ভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় সে কাতরাচ্ছে৷ এই বিভৎস দৃশ্য দেখেও কেউ কিন্তু তাদে তুলে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে না৷ সবাই ভীড় করে দেখছে৷ অনেকে ছবি ও ভি.ডি.ও  তূলতে ব্যস্ত৷ এমনি করে দেড় ঘণ্টা মানুষটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল৷ অথচ তাকে সাহায্যের জন্যে কেউ এগিয়ে আসেনি৷ প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এসে তাকে হাসপাতালে তুলে নিয়ে যায়৷ সেখানেই তার মৃত্যু হয়৷ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান---দীর্ঘক্ষণ ধরে রক্তক্ষরণেরর জন্যে তার মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত ব্যষ্টির নাম হাসিমুদ্দিন৷

অনাহারে মৃত্যু খোদ রাজধানীতে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিদিন ‘অচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতি দেন৷ কেমন ‘অচ্ছে দিন’? খোদ দিল্লীর খবর---পূর্ব দিল্লীর মন্দাওয়ালি গ্রামে একই পরিবারের তিন জন শিশুর অনাহারে মৃত্যু হয়েছে৷ গত ২৪শে জুলাই লালবাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে তিন শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ চিকিৎসকের মতে এই তিন শিশুর মৃত্যুর কারণ অপুষ্টি, অনাহার৷ শিশু তিনটির নাম মানস (৮), পারুল (৪), শিখা (২)৷ শিশুদের বাবার নাম মঙ্গল, মায়ের নাম বীণা৷ আসলে মঙ্গল পশ্চিমবঙ্গেরই মেদিনীপুরের বাসিন্দা৷ ১৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সে দিল্লী যায়৷ ওখানে রিক্সা চালিয়ে কোনওরকম জীবিকা নির্বাহ করত৷ কিছুদিন আগে ওই রিক্সাটি চুরি হয়ে যায়৷ এখন জীবিকার সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ স্ত্রী বীণা মানসিক রোগী৷ এই পরিস্থিতিতে অনাহার ও অপুষ্টি এদের নিত্য সঙ্গী৷

বনগাঁয় আনন্দমার্গের সেমিনার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৩,১৪ ও ১৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগণার বঁনগা শহরে আনন্দমার্গের এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়৷ আনন্দমার্গের এই প্রথম ডায়োসিস স্তরীয় সেমিনারে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ থেকে দুই শতাধিক আনন্দমার্গী যোগদান করেছিলেন৷ এই সেমিনারে প্রশিক্ষক ছিলেন আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত ও আচার্য সর্বজয়ানন্দ অবধূত৷ এই সেমিনারে আলোচ্য বিষয়গুলি ছিল ‘তারকব্রহ্ম’, ‘সংগ্রামে বৈপরীত্যম্’, ‘সুসংবদ্ধ কৃষি’ ও ‘সামাজিক সুবিচার’৷

‘ব্রহ্মসদ্ভাব’ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত বলেন, মানবজীবনের পরম লক্ষ্য ‘ব্রহ্ম’৷ ব্রহ্মকে জীবনের চরমলক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে মানুষকে তার দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ ঘটাতে হবে৷ এজন্যে অষ্টাঙ্গিক যোগসাধনার নিয়মিত অনুশীলন একান্ত প্রয়োজন৷ তার সঙ্গে সঙ্গে নিপীড়িত মানবতার সেবায় আত্মোৎসর্গ করতে হবে৷

এইভাবে খাঁটি মানুষ হতে হবে৷ বর্তমান পৃথিবীটা সমস্যা জর্জরিত সমস্যা সংকুল৷ এই সমস্যা সমাধান করতে গেলে চাই মজবুত মানুষ যার ভেতরটা একদম খাঁটি৷ সাধনা, সেবা ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই এমনি মানুষ তৈরী হবে৷

আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত ‘সুসংবদ্ধ কৃষি’র ওপর আলোচনা করতে গিয়ে প্রাউটের ভিত্তিতে বর্তমান কৃষিসমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের কথা বলেন৷

আচার্য সর্বজয়ানন্দ অবধূত, ‘সংগ্রাম বৈপরীত্যম্’ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ‘কীর্তনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলেন, ‘সাধারণতঃ মানুষের স্বভাব হ’ল দু’তিন জন একসঙ্গে জুটলে পরনিন্দা-পরচর্র্চ করে৷ এতে মনের অধোগতি হয়৷ এখানে ‘সংগ্রামে বৈপত্যিম্’ নীতিতে মানুষের উচিত একত্রিত হয়ে যত বেশী পারে ঈশ্বরের নাম কীর্ত্তন করা৷ তাতে মনের ঊধর্বগতি হবে, মন পবিত্র হবে ও মনের সমস্ত ক্লেশ দূরীভূত হবে৷তাই কীর্ত্তন একাধারে সর্ব ক্লেশ বিদূরক ও সাধনায় সহায়ক৷

বনগাঁ আনন্দমার্গ সুকলে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের প্রথম দিনে আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে এক বর্র্ণঢ্য শোভাযাত্রা সমস্ত বনগাঁ শহর পরিক্রমা করে ৷ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক আদর্শের বিভিন্ন দিকের ওপর বক্তব্য রাখেন শ্রী সন্তোষ বিশ্বাস, অবধূতিকা আনন্দ গতিময়া আচার্য, শ্রী গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য, আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত প্রমুখ৷ তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আনন্দমার্গ এক নোতুন সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সর্বাঙ্গসুন্দর মানব সমাজ গড়তে চায়৷ তাই মানুষের মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যে আনন্দমার্গে যেমন অষ্টাঙ্গিক যোগসাধনা শেখানো হচ্ছে, তেমনি আনন্দমার্গের এই সর্বাত্মক সেবাযজ্ঞে সর্বসাধারণকে যোগদানের জন্যে আহ্বান জানানো হচ্ছে৷

এই সেমিনারে আনন্দমার্গ দর্শন ও আদর্শের  ওপর আলোচনা ছাড়াও নিয়মিত ভজন, কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তিভাব মিশ্রিত এক সুন্দর আধ্যাত্মিক পরিবেশ গড়ে ওঠে৷

এই সেমিনার উপলক্ষ্যে আনন্দমার্গের স্থানীয় ইয়ূনিটের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়৷ এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আচার্য সর্র্বনন্দ অবধূত৷ সমগ্র সেমিনার অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অবধূতিকা আনন্দরেখা আচার্যা ও অবধূতিকা আনন্দ গতিময়া আচার্যা৷

নির্বাচনের আগে জোটে রাজী নয় সিপিএম

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

গত ১২ই জুলাই সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি সুষ্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী মহাজোটে তাঁরা রাজী নন৷

কারণ আঞ্চলিক দলগুলির নিজ নিজ রাজ্যে ইস্যুভিত্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ তাই অন্যবারের মত নির্বাচনের আগে নয়, নির্বাচনের পরেই জোট তৈরী হতে পারে৷

তবে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হিন্দুত্বের আবেগ উসকে মেরুকরণের রাজনীতির নিন্দা করেন৷ তিনি বলেন, দলিতরা নির্যাতীত হচ্ছেন, কর্ষকরা আত্মহত্যা করছেন৷ আর কৃষিপণ্যের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মোদীজি নাটক করছেন৷

আলোক তীর্থ

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

‘‘অন্ধকার বিবর থেকে উঠে এসো হতাশ যুবক

 আমরা আলোকতীর্থের পথে যাবো৷’’      ---শ্রী শরৎসুনীল নন্দী৷

কবির ওই নামটি নিয়ে কিছু সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ, যাঁরা মানবিক বিশ্ব তৈরীর স্বপ্ণ দেখেন এদিন ছিল তাঁদের মিলনমেলা৷ শহর কলকাতায় এই প্রথম আনন্দমার্গ ও শ্রীশ্রীআনন্দূমূর্ত্তিজী আদর্শ নিয়ে গান, কথা, ছোট গল্পপাঠ.... মার্গী ও নন মার্গী সাধারণ মানুষের সমাবেশে আলোকতীর্থ নামে একটি সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র ১৪ জুলাই ২০১৮, ৫৯বি: চৌরঙ্গী রোড---চারতলায় একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করল গান, কবিতা, ধ্যান ও কৌশিকীর উপকারিতা....৷ সব মিলিয়ে আনন্দময় পরিবেশ৷ আশা করা যায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দ্রুত মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার চেতনা ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে আলোক তীর্থ৷ আয়োজক ডঃ কাকলি ভট্টাচার্য৷ গায়ত্রী মন্ত্র ও সংগচ্ছধবং মন্ত্রপাঠ দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়৷ ‘‘তুমি যে বাসতে ভালো ভুলো না’’---এই প্রভাতসঙ্গীতটি পরিবেশন করেন শ্রীনিন্দ্য ভট্টাচার্য, ইনি পূর্বেও প্রভাতসঙ্গীতের সিডি তৈরীতে কণ্ঠ দান করেছেন৷ একটা টাকাও নেন নি৷ অথচ ইনি আনন্দমার্গের সদস্যও নন৷ অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝেই তিন মিনিটের ‘বাবা নাম কেবলম্’ শ্রবণ ও ধ্যান ছিল৷

চিলির সান্তিয়াগো থেকে এক ভক্তের চিঠি ‘বাবাকে নিয়ে এক রাতের অভিজ্ঞতা’ (১৯৮৯) পড়া হ’ল৷

বাংলাদেশের শিল্পী মহঃ রবীন ডিমের ভ্রূণ অবস্থার ছবি আঁকা দেখিয়ে ব্যাখ্যা করলেন ডিম এক অমানবিক খাদ্য৷ ভ্রূণ হত্যার মতই৷ ‘বাবা’র হাস্যরসের গল্প পাঠ করলেন হিতাংশু ও স্বাগতা ব্যানার্জী৷ ‘কীর্ত্তন মাহাত্ম্য

 বিষয়ে মনোবৈজ্ঞানিক আলোচনা করলেন জিজ্ঞাসু৷ প্রাউট পরিচিতি দিলেন শ্রী জয়ন্ত দাশ৷

শ্রী শিবু চন্দ্র দাস মহাশয় জানালেন ভবিষ্যতে আলোকতীর্থ অনুষ্ঠানে তিনি সার্বিকভাবে সাহায্য করবেন৷

‘অখণ্ড মণ্ডলাকারং....’ মন্ত্রের সাথে গুরুপূজা দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হ’ল৷

৩১ শে জুলাই এন.আর.সি-র চূড়ান্ত খসড়া

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

অসম সরকারের ঘোষণা অনুসারে আগামী ৩১শে জুলাই এরাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর (এন আর সি) চূড়ান্ত খসড়া তৈরী হতে চলেছে৷ এতে রাজ্যের ৪ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে৷

বলা বাহুল্য, এরা প্রায় সকলেই বাঙালী৷ আগামী ২৩শে জুলাই এ ব্যাপারে আলোচনার জন্যে অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্র্মর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট সাব কমিটির এক বৈঠক বসবে৷

এন আর সি উন্নীতকরণের নামে এইভাবে বিপুল সংখ্যক বাঙালীর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়াকে ভারতের বাঙালীরা মোটেই মেনে নেবে না৷

অসমে বাঙালীদের বিরুদ্ধে এই ব্যাপক ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ভারতের সমস্ত বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বার জন্যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বহু বাঙালী সংঘটন৷

জাতীয় নাগরিক পঞ্জী উ ন্নীতকরণের নামে  বাঙালী নির্যাতনে বিচলিত রাষ্ট্রপতি

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী উন্নীতকরণের নামে এখানকার বাঙালীদের ওপর নির্যাতন চলছে৷ এই মারাত্মক অভিযোগে বিচলিত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্যে অসমের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে একটি চিঠি দিয়েছেন৷

রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে প্রেরিত এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি (পি-২এ-১০০৪৮০০০৭) এখন অসমের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে দারুণ অস্বস্তিতে ফেলেছে৷

বলা বাহুল্য, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই এই জাতীয় নাগরিকপঞ্জী উন্নীতকরণের কাজ চলছে ও তাতে ইতোপূর্বেই অসমের ১ লক্ষ ৩৯ লক্ষের অধিক বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা হয়েছে৷ ‘হিউম্যান প্রোটেকশন এ্যাণ্ড এ্যাওয়ারনেস’ নামক এক সংস্থার কাছ থেকে এই মর্মে অভিযোগ পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি অসমের স্বরাষ্ট্র দফতরকে উক্ত চিঠি পাঠিয়েছেন৷

রাষ্ট্রপতি দফতর থেকে এই চিঠি পাঠানোর পরে অসমের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগের যুগ্মসচিব ভাস্কর পেগু রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে এই বাঙালী নির্যাতনের বিষয়ে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ রাজ্য পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল তাও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগের দফতরে পাঠাতে বলা হয়েছে৷

এই বাঙালী নির্যাতন যেহেতু সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই চলছে, তাই এই চিঠি যে সমস্যার সুরাহা করতে পারবে---সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ বিশেষ করে অসমেও যখন বিজেপি শাসিত সরকার চলছে৷ তাহলেও এই চিঠির একটা গুরুত্ব তো আছেই৷

ইতোপূর্বে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনও অসমে ভাষাগত ও ধর্মমতগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ্যের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন৷

নেলিতে বাঙালী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে জড়িত উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান এস আর দারাপুরিও সম্প্রতি অসম সফরে গিয়ে অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গীর অভিযোগ এনেছেন৷

এমনকি অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও বর্তমান অসম সরকার যে শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী দিতে পারবে --- এ ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেছেন৷

 

কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারে ভাঙ্গনের কালো ছায়া

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

গত ২৩ শে মে কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার তৈরী হয়েছে ও এইচ ডি কুমার স্বামী (জে.ডি.এস নেতা) মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন৷ কিন্তু জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এখন তিনি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছেন বলে জানাচ্ছেন৷ গত ১৪ই জুলাই এক দলীয় সভায় তিনি তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন, জোট সরকারের যন্ত্রণা পান করে তিনি নীলকন্ঠ হয়ে যাচ্ছেন৷ এই বলে তিনি কেঁদে ফেললেন৷

এই ঘটনা থেকে রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত৷ কংগ্রেসের সঙ্গে সরকার চালাতে যে কুমার স্বামী খুবই অস্বস্তি বোধ করছেন তা নানানভাবে তিনি প্রকাশ করছেন৷

জম্মু-কাশ্মীরে কি পরিস্থিতি বদল হচ্ছে?

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

জম্মু কশ্মীরে পিডিপি-তে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে৷ পিডিপি’র ২৮ জন বিধায়কের মধ্যে ১৮ জন বিজেপির সমর্থনে পুনরায় সরকার গড়তে রাজী আছে৷

গত ১৯শে জুন বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার ভেঙ্গে যায়৷ পিডিপি নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় সরকার ভেঙ্গে যায়৷ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তাতে দেখা যাচ্ছে পিডিপি ২৮ জন বিধায়কের মধ্যে ১৮ জন এখন বিজেপি’র সঙ্গে সরকার গড়তে প্রস্তুত৷

অর্থাৎ সরকার গড়ার জন্যে যেখানে দরকার অন্ততঃ ৪৪ জন বিধায়ক, সেখানে বিজেপি বিধায়ক ২৫ জন, বিদ্রোহী পিডিপি বিধায়ক ১৮ জন মিলে হয় ৪৩ জন৷ শোণা যাচ্ছে পিপলস্ কনফারেন্স-এর দুই বিধায়ক  এঁদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন৷

তবে আপাততঃ বিজেপি বলছে৷ এখনই সরকার তৈরীতে তাদের তেমন আগ্রহ নেই৷