সংবাদ দর্পণ

বিহারে জেলে আনন্দমার্গের যোগ প্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আন্তর্জাতিক যোগদিবস উপলক্ষ্যে সীতামারির (বিহার) ডুমরা জেলা সুপারিন্টেণ্ডেন্ট জেল ক্যাম্পাসের মধ্যে যোগাসন ও যোগসাধনার ওপর এক আলোচনার ব্যবস্থা করেছিলেন৷ তাতে ৮০০ জন বন্দী ছাড়াও পুলিশ, পুলিশ অফিসাররা ও জেল সুপরিণ্ডেট নিজেও উপস্থিত ছিলেন৷ সীতামারি আনন্দমার্গ স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল অনির্বাণ ব্রহ্মচারী এখানে যোগের ওপর আলোচনা করেন ও যোগ প্রশিক্ষন দেন৷

যোগ দিবসে অসমের আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগপ্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগদিবস উপলক্ষ্যে অসমের আমবাগান আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা ও একই সঙ্গে যোগ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়৷ যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী৷ তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে প্রায় ৭ হাজার বছর পূর্বে ভগবান শিব মানুষের সর্বাত্মক কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যা মানুষের সমাজে প্রচার করেছিলেন৷ শিবের পর শ্রীকৃষ্ণ এই যোগবিদ্যাকে প্রচার করেন৷ আড়াই হাজার বছর পূর্বে মহর্ষি পতঞ্জলি এই যোগবিদ্যার ওপর দর্শন রচনা করেন৷ বর্তমান কালে মহাযোগী পরমারাধ্য গুরুদেব শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী সর্বসাধারণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যাকে ৪টি স্তরে বিভাজিত করেন৷ সেগুলি হ’ল প্রারম্ভিক যোগ, সাধারণ যোগ, সহজ যোগ ও বিশেষ যোগ৷ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী বলেছেন , এই যোগসাধনা নিয়মিত অভ্যাসের দ্বারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা , বৃদ্ধ-বৃদ্ধা স্কুল-কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনরত ছাত্র-ছাত্রা, গবেষক, সবাই নিজেদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে পারে৷ বক্তব্যের শেষে আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী উপস্থিত কয়েক শ’ উৎসাহী মানুষকে যোগাসন প্রদর্শন করেন৷

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দমার্গের যোগসাধনার প্রচার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১ শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের (চোপরা, পশ্চিমবঙ্গ) পক্ষ থেকে ইসলামপুর আনন্দমার্গ স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল আচার্য প্রাণেশ ব্রহ্মচারীকে তাঁদের ছাত্র ও অধ্যাপকদের সামনে যোগ ও ধ্যানের ওপর বক্তব্য রাখতে আমন্ত্রণ জানান৷ আচার্য প্রাণেশ ব্রহ্মচারী তাঁদের সামনে প্রথমে যোগ দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন৷ এরপর বিভিন্ন যোগাসন প্রদর্শন করেন ও সেগুলিরও উপকারিতার কথা বলেন৷ তিনি প্রায় শতাধিক ছাত্র ও শিক্ষককে যোগসাধনা শেখান৷

এরপর আচার্য প্রাণেশ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য ও যোগ প্রশিক্ষণে উৎসাহিত হয়ে উত্তর দিনাজপুড়ে চোপরা কলেজ থেকেও আচার্য প্রাণেশ ব্রহ্মচারীকে তাঁদের কলেজে যোগসাধনা সম্পর্কে আলোচনার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷

কাঠমুন্ডুতে আনন্দমার্গের যোগের প্রচার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নেপালের কাঠমুন্ডুস্থিত নয়াবাণেশ্বর আশ্রমে কয়েকশত ভক্ত ও ছাত্র যুবার সামনে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় ধর্মপ্রচার সচিব আচার্য বিকাশানন্দ অবধূত যোগসাধনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন৷ তিনি বলেন, মানুষের দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন দিকেরই উন্নতির জন্যে যোগসাধনা প্রতিটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়৷ আজ সমাজের যে চরম নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে পারে এই যোগ৷ আচার্য পরিপূর্র্ণনন্দ অবধূতের প্রচেষ্টায় এই অনুষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা হয়৷

পশ্চিম মেদিনীপুরে যোগের ওপর আলোচনাসভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

পশ্চিমমেদিনীপুরের টাটা মেটালিক স্কিল ডেবেলাপমেন্ট সেন্টার, আই আই টি কলেজের পক্ষ  থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আনন্দমার্গের আচার্য নিত্যতীর্থানন্দ অবধূতকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে যোগের ওপর আলোচনার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ আচার্য চিরাগতানন্দজী ও আচার্য নিত্যতীর্থানন্দজী সেখানে প্রায় ৩৫০ ছাত্র-ছাত্রা, অধ্যাপক ও প্রিন্সিপ্যালের সামনে যোগের ওপর ক্লাশ নেন৷ তাঁরা যোগের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, যোগ বলতে কেবল যোগাসন বোঝায় না৷ যোগের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, জীবমনের সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ ঘটানো৷ এর জন্যে শরীরেও মনকেও সুস্থ রাখার প্রয়োজন৷ তাই আসনও যোগের অপরিহার্য অঙ্গ৷ তাঁরা যোগাসন ও যোগসাধনার প্রশিক্ষণও দেন৷

বাঙালীর জীবনে আজ চরম বিপর্যয়

সংবাদদাতা
তরুণ  চক্রবর্তী
সময়

আগরতলা, ২রা জুলাই ঃ এন.আর.সি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ) সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিস্মিত অসমের বাঙালিরা৷ তাদের অভিযোগ, শুনানির আগেই চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের  নির্দেশ দেওয়ায় বিঘ্নিত হবে বাঙালীদের স্বার্থ৷ শুধু তাই নয় ,  প্রথম তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ‘বিদেশি  বা ভোটার  তালিকার ‘সন্দেহভাজন’দের নাম বাদ দেওয়ার  নির্দেশেও অখুশী অনেকেই৷ প্রসঙ্গত , এন.আর.সি-র প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয় গত বছর  ৩১শে ডিসেম্বর  গভীর রাতে৷  অসমের ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১কোটি ১০ লাখ মানুষের  নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়েছিল প্রথম দফায়৷ বাদ পড়ে যায় বহু বিশিষ্ট জনের নাম  মন্ত্রী-সাংসদ থেকে শুরু কয়েক পুরুষ ধরে  অসমে বসবাসকারীবাঙালীর রহস্যজনক ভাবে নিজেদের  নাগরিকত্ব প্রমাণের চাপে  পড়েন৷ যাঁদের নাম ছিল তাঁরাও অনেকে এখন বিপাকে  পড়তে চলেছেন৷

এদিন গুয়াহাটিতে  বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন  এ.আই.ডি. ইউ.এফ নেতা  আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘প্রথম দফার তালিকার অন্ততঃ  দেড় লাখ লোক  হারাবেন  তাঁদের  নাগরিকত্ব৷’ কারণ অসমে ৪,৫০০ ‘বিদেশি’ ও ৬৪ হাজার ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার  রয়েছেন৷ এন.আর.সি-র  আবেদনের কারণে  তাঁদের পরিজনদের  নামও  সুপ্রিমকোর্টের  নির্দেশে  বাদ যাবে৷’

এন.আর.সি -র চূড়ান্ত খসড়া তালিকা  প্রকাশের  কথা ছিল ৩০শে জুন৷  কিন্তু বন্যার কারণ দেখিয়ে সেটি পিছিয়ে দেওয়ার  আবেদন করেছিলেন এন.আর সি-এর  অসম  সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা৷ সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি রঞ্জন  গগৈ ও আর.নরি ফলিম্যানের বেঞ্চ এদিন  চূড়ান্ত  খসড়া প্রকাশের  দিন ৩০শে জুলাই পর্যন্ত  বাড়িয়েছে৷ সেই সঙ্গে  জানিয়েছে,  চূড়ান্ত  খসড়া তালিকা প্রকাশের  পরদিন  হবে আপত্তি  সংক্রান্ত  আবেদনের শুনানি৷ এখানেও  আপত্তি রাজ্যের  সংখ্যালঘুদের৷ অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর  ভট্টাচার্য বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এদিনের  রায় অসমের  ভাষিক  ও ধর্মীয়  সংখ্যালঘুদের  স্বার্থের  বিরোধী৷ চূড়ান্ত  তালিকা  প্রকাশের পর শুনানির  আর  কোনও অর্থ থাকে না৷’  তাঁর মতে, দেশভাগের  পর বাঙালির জীবনে এত বড়  বিপর্যয়  আর আসেনি৷ তিনি বলেন, ‘বাঙালির সর্বনাশ  করবেই জহ্লাদেরা৷’ বহু বৈধ  ভারতীয়  নাগরিকের  নামই  তালিকা থেকে বাদ  যাবে বলে  আশঙ্কা প্রকাশ  করেছেন অসমের  নাগরিক সুরক্ষা আন্দোলনের  নেতা সাধন পুরকায়স্থ৷ সর্বোচ্চ আদালতের  রায় নিয়ে  মন্তব্য না  করলেও এন আর সি  কর্তৃপক্ষের  আচরণকে  অভিসন্ধি মূলক বলে  বর্ণনা  করেন তিনি৷  রাজনৈতিক দলগুলি  আদালতের  রায় নিয়ে এখনই  মন্তব্য  করতে নারাজ৷ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল  আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও বৈধ নাগরিকের  নাম বাদ পড়বে না৷  তবে অসমের হিন্দু  ও মুসলিম  উভয় সম্প্রদায়ের বাঙালির  আতঙ্ক  আরও বেড়ে গেছে৷ ক্ষোভের  আঁচ পেয়েই  এদিন  সুপ্রিম কোর্ট এদিন প্রতীক হাজেলা  ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের  নিরাপত্তা বাড়াতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে৷

নদীতে কন্যা সন্তান বিসর্জন !

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

জলপাইগুড়ি ঃ গত ৩রা জুলাই ময়নাগুড়ির  নিকটে  এক  মা  তার ৬ মাসের  শিশু কন্যাকে  নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন৷ খানিক দূর থেকে ব্যাপারটি দেখতে পেয়ে মাঠে কর্মরত  এক ব্যষ্টি ছুটে গিয়ে  শিশুটিকে উদ্ধার  করেন৷ শিশুটি  এখন হাসপাতালে৷ শিশুর মা ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  বিপুল সংখ্যক জয়ে শীর্ষ আদালত বিস্মিত

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

পশ্চিমবঙ্গের  পঞ্চায়েত নির্র্বচনে এক তৃতীয়াংশের বেশি আসনে কোনো  প্রতিদ্বন্দ্বিতাই না হওয়ায় গত ৩রা জুলাই  সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি  দীপক মিত্র  বিস্ময় প্রকাশ  করেছেন৷  তাঁর মন্তব্য,  ‘‘৪০০-৫০০ আসন হলে একটা কথা ছিল৷ এখানে দেখা যাচ্ছে  যে, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ মিলিয়ে ২০,১৫৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  জিতেছেন৷ এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না৷ পুরো বিষয়টি  শকিং৷

শেষ পর্যন্ত কলেজে ভর্তি ক্ষেত্রে ঘুষ বন্ধের জন্যে নূতন বিজ্ঞপ্তি

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

কলেজে  ভর্তিচক্র  ভাঙ্গতে এবার  পড়ুয়াদের  কাউসিলিংয়ের জন্যে কলেজে  না গিয়ে  অনলাইনে টাকা জমা  দেওয়ার ব্যবস্থা চালু  করতে বাধ্য হ’ল৷ রাজ্য সরকার৷ এখন ভর্তি নেওয়া হবে পুরোপুরি মেধা তালিকার  ভিত্তিতে৷ ভর্তির  চলতি  মরসুমেই  অর্থাৎ  অবিলম্বে এই পদ্ধতিতে  ভর্তি হওয়া যাবে  বলে মঙ্গলবার শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি  জারী করেছে৷

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মেধা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি নির্দিষ্ট  হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কলেজ যে ব্যাঙ্কে টাকা  জমা দেওয়ার নির্দেশ দেবে  সেখানে  টাকা জমা দিলেই ভর্তি হওয়া যাবে৷ ক্লাশ  চালু হওয়ার পর নথি যাচাই  করা হবে৷ নথি যাচাইয়ের  সময়  বড় কোনও গরমিল পাওয়া গেলে  পড়ুয়ার  ভর্তি বাতিল হয়ে যেতে  পারে৷

 এবার  ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই বিভিন্ন কলেজে পড়ুয়ারা ভর্তিচক্রের জুলুম ও তোলাবাজির শিকার  হয়েছিল৷  বহু কলেজে  আবেদনের  পর কাউন্সিলিংয়ের  জন্যে ডাক পেয়েও অনেককে কাউন্সিলিংয়ে হাজির হতেই দেওয়া হয়নি৷ সব জায়গায়  কলেজের  গেটে  হাজির  ছাত্র ইয়ূনিয়নের দাদা-দিদিরা  ঘুষ চেয়েছিলেন৷

 

অন্ধবিশ্বাসের জাল ছিন্ন করে যুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক  প্রকৃত  ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্যে আনন্দমার্গের আহ্বান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

সেমিনার ১রঘুনাথবাড়ী ঃ  আজ সমস্ত  সমাজ জুড়ে  ধর্মের নামে  অজস্র  অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের জাল  ছড়ানো রয়েছে৷ আর তার মাধ্যমে  সাধারণ  মানুষকে  শোষণ  করা হচ্ছে৷  এই সমস্ত  কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের  জাল ছিন্নভিন্ন করে মানব সমাজকে  প্রকৃত ধর্মের পথ--- যার মাধ্যমে  মানুষের  কল্যাণ সম্ভব হবে--- সেইপথ  দেখাতে হবে৷  আনন্দমার্গের  শত শত  প্রচারক সারা বিশ্বজুড়ে  প্রকৃত ধর্মের  এই মহান বাণী প্রচার  করে  চলেছেন৷ আর  এই কারণে  দেশে বিদেশে  সর্বত্র  ব্যাপকভাবে  আনন্দমার্গের  সেমিনারের মাধ্যমে  গণসচেতনতা সৃষ্টির  কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে৷

আনন্দমার্গের  রঘুনাথবাড়ীতে আয়োজিত  আনন্দমার্গের ত্রিদিবসীয়  সেমিনারে  মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে এসে এক সাক্ষাৎকারে  আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় ধর্মপ্রচার সচিব আচার্য বিকাশানন্দ অবধূত এই কথাগুলি বলেন৷

গত ২৯,৩০শে জুন ও ১লা জুলাই  পূর্বমেদিনীপুরের রঘুনাথবাড়ীতে আনন্দমার্গের  সেমিনার অনুষ্ঠিত হল৷ স্থানীয় আনন্দমার্গের স্কুলে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া  জেলা থেকে  দুই শতাধিক  আনন্দমার্গের  সক্রিয় কর্মী  যোগদান  করেন৷  এটি  ছিল আনন্দমার্গের  সেমিনার  কর্মসূচী অনুসারে  এই বছরের  দ্বিতীয় পর্যায়ের ফার্ষ্ট ডায়োসিস  সেমিনার৷  মূলতঃ মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর  আধ্যাত্মিক  ও সামাজিক-অর্থনৈতিক দর্শনের  ওপরই এই সেমিনার হয়৷  সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ব্রহ্মসদ্ভাব’,‘সংগ্রাম বৈপরীত্যম’, ‘সুসংবদ্ধ কৃষি’ ও ‘সামাজিক সুবিচার’৷  এই সেমিনার  মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আচার্য বিকাশানন্দ অবধূত ও আচার্য সন্দৃপ্তানন্দ অবধূত৷

‘ব্রহ্মসদ্ভাব’ বিষয়ের  ওপর  আলোচনা করতে গিয়ে  আচার্য বিকাশানন্দ অবধূত  বলেন, চর্র্চর দ্বারা কোনো বিদ্যায়  প্রতিষ্ঠিত  হওয়াকে  বলে সাধনা৷ আর যত রকমের  সাধনা  রয়েছে  তার মধ্যে ‘ব্রহ্মসদ্ভাব’ হচ্ছে  সর্র্বেত্তম সাধনা৷ পরমব্রহ্মকে  পাওয়ার  আকুতি নিয়ে  যে সাধনা--- যে ধ্যান তা-ই হল ব্রহ্মসদ্ভাব৷ এখানে  ছড়ানো মনকে একত্রিত করে অন্তর্মুখী করে ব্রহ্মের  দিকে চালনা  করতে হয়৷  মানুষের  অন্তরের  অন্তস্তলেই  ঈশ্বরের  অবস্থান৷   তাই মনকে একাগ্র  করে --- অন্তর্মুখী করাটাই প্রথম কথা৷ আনন্দমার্গে এই সাধনাই শেখানো হয়৷

মনকে অন্তর্মুখী করে ব্রহ্মের ধ্যান করতে হয়৷  মনের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, ‘যাদৃশী ভাবনা যস্য সিদ্ধির্ভবতি তাদৃশী’৷ অর্থাৎ মন একান্তভাবে যে চিন্তা করে মন তা-ই  হয়ে  যায়৷  ব্রহ্মচিন্তা করতে করতে  মন ব্রহ্ম হয়ে যায়৷  ব্রহ্মের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয় যায়৷  এটাই ব্রহ্ম বিজ্ঞানের মূল কথা৷

ব্রহ্মসাধনায়, কোনোপ্রকার কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না৷  কোনো প্রকার জাত-পাত সম্প্রদায় ভেদকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না৷  তাই আনন্দমার্গে জাত-পাত সম্প্রদায় ভেদ মানা হয় না৷  এখানে বলা হয় ‘‘মানুষ মানুষ ভাই-ভাই, উঁচু কিংবা নীচু নাই৷’’

ব্রহ্মসাধক যেমন অন্তর্জগতে ব্রহ্মের সাধনা করবে, তেমনি বহির্জগতে  সমস্ত কিছুকে ব্রহ্মের বিকাশ হিসেবে ভেবে ঈশ্বর সেবার ভাবনা নিয়ে সমাজ সেবা করে যাবে৷ ব্রহ্ম সাধক সমস্ত মানুষ, পশু-পক্ষী তরুলতা সবাইকে ভালোবাসবে৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী একে বলেছেন ‘নব্যমানবতাবাদ৷’ এই নব্যমানবতাবাদের মধ্যেই আছে আজকের যুগের সমস্ত প্রকার সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি৷ অন্তরে সবার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা না থাকলে জগতের প্রকৃত কল্যাণ করা যায় না৷

এই সেমিনারে তিন দিন  ধরে ক্লাস ছাড়াও  সারাদিন প্রভাত সঙ্গীত,কীর্ত্তন ,মিলিত সাধনা  প্রভৃতির মাধ্যমে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ রচিত হয়েছিল৷

শনিবার অর্থাৎ ৩০শে জুন বিকেলে আনন্দমার্গের তরফ থেকে এক বর্র্ণঢ্য শোভাযাত্রা রঘুনাথবাড়ী, বটতলা, পুরুষোত্তমপুর পরিক্রমা করে৷  রঘুনাথবাড়ী হাইস্কুল সংলগ্ণ বাজারে  এক পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়৷  এই পথসভায় বক্তব্য রাখেন  আচার্য ত্রিগুণাতীতানন্দ অবধূত, অবধূতিকা  আনন্দনিরুক্তা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দ অন্বেষা আচার্যা, রাজু মান্না প্রমুখ৷ আচার্য ত্রিগুণাতীতানন্দ অবধূত তার বক্তব্যে বলেন ‘আজকের সমাজের সর্বক্ষেত্রে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর সর্বানুস্যুত দর্শনের মাধ্যমে  সমাজের সমস্ত প্রকার সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়েছেন ৷

অবধূতিকা আনন্দনিরুক্তা আচার্যা বলেন---‘একটা পাখীর যেমন দুটি ডানা তেমনি সমাজে নারী ও পুরুষ  সমাজরূপ পক্ষীর দুটি ডানা৷  সমাজের প্রকৃত কল্যাণের জন্য  পুরুষের পাশাপাশি নারীরও অগ্রগতি চাই৷  কেউ পিছিয়ে থাকলে চলবে না৷  ধর্ম সাধনা---শিক্ষা সমাজ সেবা  সবকাজেই সমানাধিকার নিয়ে নারী ও পুরুষ এগিয়ে যাক এটাই আনন্দমার্গের আদর্শ৷

অবধূতিকা আনন্দ অন্বেষা আচার্যা আনন্দমার্গের সর্বোতোমুখীর আদর্শের ওপর আলোকপাত করেন৷

রাজু মান্না বলেন--- খালিপেটে ধর্ম সাধনা হয়না৷ মানুষ যদি জীবনের যুগপোযোগী নূ্যনতম চাহিদার গ্যারান্টি না পায়  তাহলে কোন ক্ষেত্রে তার বিকাশ সম্ভব নয়৷ এজন্যে মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার  যিনি ধর্মগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী রূপেই  সারা বিশ্বে পরিচিত---তিনি যুগোপযোগী সামাজিক অর্থনৈতিক দর্শন ‘প্রাউট’ দিয়েছেন৷ এই প্রাউট দর্শনেই  সমাজের প্রতিটি মানুষের যুগোপযোগী নূ্যনতম চাহিদা পূরণের  তথা তাদের সর্বাত্মক প্রগতির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে৷ এই সেমিনার পরিচালনার মূখ্য দায়িত্বে ছিলেন আচার্য  চিরাগতানন্দ অবধূত ও ভুক্তিপ্রধান সুভাষপ্রকাশ পাল ও স্থানীয় বিশিষ্ট আনন্দমার্গী বৃন্দ৷