সংবাদ দর্পণ

মাণিকবাবুরা ক্ষমতায় আর নয়

সংবাদদাতা
দীপক সরকার
সময়

ভাবলে আশ্চর্য লাগে! পশ্চিমবঙ্গের প্রতি গ্রামে গ্রামে যে সিপিএমের একক মালিকানা ছিল, যাদের কথার প্রতিবাদ করলে শাস্তি হিসাবে ‘সামাজিক বয়কট’ করা হ’ত তার ধোপা-নাপিত-মুদির কাছে যাওয়া বন্ধ হ’ত, যারা অল্প প্রতিবাদী মানুষ তাদের গোপনেই খুন করে পুঁতে দেওয়া হ’ত৷ আনন্দমার্গের সন্ন্যাসীদের মিথ্যা বদনাম দিয়ে দিন-দুপুরে খুন করিয়ে দিতে যাদের হাত কাঁপত না, প্রতিবাদী নারী নির্যাতনে তো সিপিএম একটা অলিম্পিক প্রাইজ পেতে পারত (অনিতা দেওয়ান স্মরণীয়)৷ ওরা ক্ষমতায় থাকার জন্য যার তার মুণ্ডু কেটে সেই রক্ত মৃতের মায়ের মুখে মাখিয়ে দিয়ে রাবণের অট্টহাসি হাসত৷ শুধু এ রাজ্যেই নয় এই প্রতিবেদকের কিছু বছর প্রাক্তন প্রেসিডেণ্ট চাবেজের ভেনেজুয়েলায় থাকার অভিজ্ঞতা আছে৷ বর্তমান প্রেসিডেণ্ট মাদুরো৷ একই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে কেবল সৈন্যবাহিনীকে সন্তুষ্ট রেখে গরীবদের ওপর শোষণের, ভয়ের, দারিদ্র্যের, খুনের বিশৃঙ্খলার রোলার চালাচ্ছে৷ যাদের সামান্য সুযোগ আছে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে---এই হ’ল সর্বহারাদের শেষ করে দেবার কমিউনিজম৷ কেবল স্বজন-পোষণ, কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থ, লাখোপতি হওয়ার প্রতিযোগিতা৷ আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম রাজা-মহারাজাদেরও একই  স্টাইল ছিল৷  খাও-পিও-জিও কিংবা খাও-খাও-খাও৷ কেউ বাধা দিলে মুণ্ডু কেটে নাও৷ ওরা তখন ভবিষ্যতের দেওয়াল লিখন পড়েনি, পড়লেও অর্থ বোঝে নি৷ অহংকারে মত্ত ছিল৷ তারপর একদিন গুমরে থাকা গণশক্তির এক সমবেত লাথিতে ৩৪ বছরের রাজা হ’ল খান খান৷ এখন ওদের কালীঘাটের ভিখারীর দশা৷ সিপিএমের কট্টরপন্থী শিবিরের প্রতিনিধি প্রাক্তন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের এখন ল্যাজে গোবরে অবস্থা৷ গত ১৮ই জুন ২০১৮, কলিকাতা ইউনিভারসিটি ইনষ্টিটিউটের ভাষণে তিনি আদর্শের মুখোসটা ফেলে দিয়ে আসল মুখটা বের করলেন৷ এখন নাকি সিপিএমের পরম বন্ধু হওয়ার যোগ্য দল একমাত্র কংগ্রেস!!

ছিঃ ছিঃ মানিক সরকার! একদিকে আন্তর্জাতিক কমিউনিষ্ট দর্শনের কথা বলেন অন্যদিকে আদর্শহীন কংগ্রেসের পায়ে তেল দিয়ে যেতে চান! যতই করুন, মানুষ আপনাদের চিনে নিয়েছে৷ যতদিন আমাদের প্রিয়জনের খুন করা মৃতদেহগুলোতে  প্রাণ ফিরিয়ে দিতে না পারছেন, ততদিন গণশক্তি আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়েই থাকবে৷ একথাটা লিখে রাখুন৷ লাল ঝাণ্ডার ডাণ্ডা যতই লম্বা করুন, লাভ নেই৷ আসলে আপনারা কুয়োর ব্যাঙ৷ আপনাদের বুদ্ধির মুক্তি চাই৷ ‘প্রাউট’ জানুন৷

পুঁজিপতি তোষণের  কারণে  বড় বড় ব্যাঙ্কগুলিতে  লোকসান, অথচ লাভ হচ্ছে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

রাষ্ট্রায়াত্ত বড় বড় ব্যাঙ্কগুলিতে লোকসানের পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি  ছাড়িয়ে  গেলেও  সমবায় ব্যাঙ্কগুলি প্রতিবছর  কোটি কোটি  টাকা লাভ করছে৷

সমবায় সফল হয় না--- এমনই একটি ধারণা মানুষের  মধ্যে  ছড়ানো হয়েছে৷ প্রকৃতপক্ষে পুঁজিবাদীদের স্বার্থেই যে এই অপপ্রচার, তা প্রমাণ  হয়ে গেল৷  ষ্টেটব্যাঙ্ক, পঞ্জাব ন্যাশন্যাল ব্যাঙ্ক  প্রভৃতি  বড় বড়  ব্যাঙ্কে বিপুল পরিমাণ  লোকসান  হলেও এ  রাজ্যে সমবায় ব্যাঙ্কগুলির লাভের  পরিমাণ প্রতিবছর  বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ যদিও সমবায়  ব্যাঙ্কগুলি গ্রামের গরীব মধ্যবিত্ত কৃষিজীবি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প মালিক--- এদের  ঋণ দেয়৷  প্রাকৃতিক  দুর্র্যেগসহ  নানান্ কারণে  এঁরা ঠিকসময়ে  ঋণশোধ করতে পারেন না৷

এত প্রতিকূলতার মধ্যদিয়েও সমবায় ব্যাঙ্কগুলি প্রতি বছর লাভ করে যাচ্ছে ও জনগণের  সম্পদ বৃদ্ধি  করছে৷ কিন্তু উল্লেখিত বৃহৎ  ব্যাঙ্কগুলি থেকে বড় বড় পুঁজিপতিরা  বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিয়েও ইচ্ছা করে ফাঁকি  দিচ্ছেন, তা সত্ত্বেও ব্যাঙ্কের  আধিকারিকরা  তাদের ঋণ দিয়ে চলেছেন ও নানান্ ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে সহযোগিতা করছেন৷ ফলে বছর বছর ব্যাঙ্কগুলি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে ও দেশকে  ডোবাচ্ছে৷

 

নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ট্রাম্প-কিম্ বৈঠক

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই অনেক দিন ধরেই চলছিল৷ উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেণ্ট কিম জং উন পরপর পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই ঠাণ্ডা লড়াইকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলেছিলেন৷ মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বার বার লড়াইয়ের হুমকী দিচ্ছিলেন৷

কিন্তু গত ১২ই জুন আপাতত দু’জনের মধ্যে করমর্দন হ’ল৷ সিঙ্গাপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে দু’জনের মধ্যে বৈঠক হয়৷ তাঁদের দু’জনের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে৷ মার্কিন প্রেসিডেণ্টের আশা, কোরিয়ান উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই শুরু হবে ও কোরিয়ান নেতা অতীতের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে শান্তির পথে পা বাড়াবেন৷ সংবাদে প্রকাশ পরমাণু অস্ত্র ছাড়তে রাজী উত্তর কোরিয়া, বিনিময়ে তাদের নিরাপত্তা দেবে আমেরিকা৷ কোরিয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা ফেরাতেও অঙ্গীকারবদ্ধ দুই রাষ্ট্রনেতা৷

কর্ণাটকে বিধায়কদের মধ্যে বিদ্রোহের ছায়া?

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

কর্ণাটকে অবিজেপি জোট সরকার হয়েছে৷  গত ২৩ শে মে মুখ্যমন্ত্রী এইচ.ডি কুমারস্বামীর নেতৃত্বে জেডিএস কংগ্রেস জোট সরকার শপথ নিয়েছে৷ কিন্তু কংগ্রেসের বহু বিধায়ক  তাদের মনোমত দফতর না পাওয়ায় বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে৷ ফলে কংগ্রেসের কোটায়  থাকা দফতরগুলিতে  এখনও সম্পূর্ণ নিয়োগ করা যাচ্ছে না৷  কংগ্রেসের  বিধায়করা কেউ উপমুখ্যমন্ত্রী, কেউ অর্থমন্ত্রী, কেউ  পরিবহনমন্ত্রী, কেউ আবার  প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদের  জন্যে দারুণভাবে লালায়িত৷ ওইসব পদ নাহলে চলবে না! এমন হুমকি দিচ্ছেন৷ এদিকে বিরোধী দলনেতা (বিজেপি) এস ইয়েদুরাপ্পা দাবী করছেন, কংগ্রেস-জেডিএস-এর বহু বিক্ষুদ্ধ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিতে উৎসুক৷

পদলোভী বিধায়কদের  এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় ঠেকে তা দেখবার  জন্যে রাজনীতিক মহল উৎসুক৷

আনন্দমার্গের ষান্মাসিক সেমিনার কর্মসূচী

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দমার্গের যুগান্তকারী আদর্শকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই আনন্দমার্গের ষান্মাসিক সেমিনারের কর্মসূচী নেওয়া হয়৷ সেই অনুসারে বিগত আনন্দনগর ধর্ম সম্মেলনে ও আনন্দমার্গের আগামী ৬ মাসে সেমিনার কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে৷

বলা বাহুল্য, এই কর্মসূচী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নেওয়া হয়েছে তেমনি বহির্ভারতে বিভিন্ন দেশেও নেওয়া হয়েছে৷

এই কর্মসূচী অনুসারে কলকাতা সার্কেলের সেমিনার রয়েছে (ফার্স্ট ডায়োসিস)---(১) ২২, ২৩, ২৪ জুন নডিহা আনন্দমার্গ সুকল, পুরুলিয়া৷ এখানে আসবেন টাটা ও মুরি ডায়োসিসের আনন্দমার্গীরা৷ (২) ২৯, ৩০ জুন ও ১লা জুলাই রঘুনাথবাড়ী, পূর্ব মেদিনীপুর৷ এখানে আসবেন মেদিনীপুর ডায়োসিস ও বাঁকুড়া ডায়োসিসের আনন্দমার্গীরা৷ (৩) ৬,৭,৮ জুলাই আমতা (হাওড়া)---হুগলী, বর্ধমান ও দুমকা ডায়োসিসের জন্যে৷ (৪) ১৩,১৪,১৫ জুলাই বনগাঁ---কলকাতা, বারাকপুর ও কৃষ্ণনগর ডায়োসিসের জন্যে৷

(৫) ২৯,৩০ জুন ও ১লা জুলাই রাইগঞ্জ---রাইগঞ্জ ডায়োসিসের জন্যে৷ (৬) ২২,২৩,২৪ জুন শিলিগুড়ি---আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি, ডায়োসিসের জন্যে৷ (৭) ২৯, ৩০ জুন ও ১লা জুলাই পাওয়ার হাউসে আনন্দনগর ডায়োসিসের  সেমিনার হবে৷ (৮) ১৩, ১৪, ১৫ই জুলাই ডিগালিপুরে আন্দামান ডায়োসিসের সেমিনার হবে৷

শিলং সার্কেল--- (১) গুয়াহাটি---গুয়াহাটি ও শিলং ডায়োসিসের সেমিনার৷ (২) ২৯, ৩০ জুন ও ১লা জুলাই ডিমাপুর---লামডিং ও কোহিমা ডায়োসিসের সেমিনার৷ (৩) ৬,৭,৮ জুলাই হাইলাকান্দি---শিলচর ও করিমগঞ্জ ডায়োসিসের সেমিনার৷ (৪) ১৩,১৪,১৫ই জুলাই খোয়াই--- আগরতলা ডায়োসিসের সেমিনার৷

বাংলাদেশে আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
Bangladesh DMS

গত ৭ই জুন থেকে ৯ই জুন বাংলাদেশের  বীরগঞ্জে (দিনাজপুর)  আনন্দমার্গের  ধর্মমহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ বীরগঞ্জের হরিবাসর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ধর্মমহাসম্মেলনে  বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার আনন্দমার্গের অনুগামী, তাঁদের সঙ্গে আনন্দমার্গের কর্মী, সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীবৃন্দ এই ধর্ম মহাসম্মেলনে যোগদান করেন৷ ধর্মমহাসম্মেলনে মার্গগুরু প্রতিনিধিরূপে  কলকাতার আনন্দমার্গের প্রধান কার্র্যলয় থেকে এসেছিলেন আনন্দমার্গের প্রবীণ  সন্ন্যাসী ও বেশিরভাগ সময়ে ইয়ূরোপে  আনন্দমার্গের  প্রচারে রত আচার্য ধ্যানেশানন্দ অবধূত৷

৬ই জুন মার্গগুরু প্রতিনিধি  ধ্যানেশানন্দজী ও কলকাতা থেকে  অন্যান্য আনন্দমার্গের  সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীবৃন্দ ভারতের  দিক থেকে (শিলিগুড়ির নিকট) ফুলবাড়ী সীমান্ত অতিক্রম করে  বাংলাবান্ধাতে (বাংলাদেশ) পা  রাখলেই  এখান থেকে  বাংলাদেশের  আনন্দমার্গীরা তাঁদের  পুষ্পমাল্য নিয়ে স্বাগত জানান ও মোটর গাড়ী ও মোটরকার  সহযোগে বর্র্ণঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বীরগঞ্জে ধর্মমহাচক্রস্থলে নিয়ে যান৷ ত্রিদিবসব্যাপী বীরগঞ্জ ধর্মমহাসম্মেলনের  প্রতিদিনই ভোরে ‘পাঞ্চজন্য’ কর্মসূচী থেকে শুরু করে, সকালে ১ঘন্টাব্যাপী প্রভাতফেরী, মিলিত সাধনা, প্রতিদিনই  দুবেলা মার্গগুরু প্রতিনিধির মনোজ্ঞ আধ্যাত্মিক প্রবচন, ধর্মসভা (যাঁরা মার্গী নয়,তাঁদের নিয়েও),  দু-বেলা যোগ-প্রশিক্ষণ শিবির,প্রভাতসঙ্গীত অবলম্বনে  সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান,  কীর্ত্তন-পরিক্রমা, বাবার ভিডিও প্রদর্শন  প্রভৃতির  মধ্যদিয়ে এক অপূর্ব স্বর্গীয়  পরিমন্ডল সৃষ্টি হয়েছিল৷

ধর্মমহাসম্মেলনে  সমবতে  ভক্তমন্ডলীর সামনে  আচার্য ধ্যানেশানন্দজী বলেন, মানুষ নানান্ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তার সমাধান--- বিভিন্ন  প্রশ্ণের উত্তর  বিজ্ঞানের  মধ্যে খোঁজে৷ বিজ্ঞানের  মধ্যে  যে সমস্ত সমস্যার  সমাধান পায়  না মানুষ  তা খোঁজে দর্শনের  মধ্যে৷ দর্শনের মধ্যেও  মানুষ  যে  প্রশ্ণের  উত্তর  পায় না--- যে সমস্যার  সমাধান  পায় না  মানুষ  তা পাবার  আশায় বিভিন্ন  রিলিজিয়নের মধ্যে খোঁজে৷ বিভিন্ন রিলিজিয়ানের মধ্যেও যখন  তার বহু সমস্যার সমাধান পায় না,  সে হাপুস নয়নে  কাঁদতে থাকে,  ঈশ্বরের কাছে --- আকুতি জানায়, হে পরমপুরুষ, তুমি পথ দেখাও৷  আমি আর কোথাও জীবনের যথার্থ পথের  সন্ধান পাচ্ছি না, তুমি আমাকে বলে দাও, আমার জীবনের সার্থকতা কোথায়! মানুষ যখন পরম আকুতি নিয়ে অন্তরের গভীর  ভালবাসা নিয়ে পরমপুরুষকে আহ্বান করে তখনই পরমপুরুষ ধরাধামে  অবতীর্ণ হন তারকব্রহ্মরূপে৷  মানুষের ভালবাসার টানে  তিনি মানুষকে  মানবজীবনের  নানান্ সমস্যার--- ভৌতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বৌদ্ধিক, আধ্যাত্মিক সমস্যা সমস্ত সমস্যারই  পথ দেখান৷  আর, কিছু মানুষকে  তাঁর অফুরন্ত ভালবাসা দিয়ে তাদের মধ্যে  শক্তি সঞ্চারিত করেন, যাঁদের মাধ্যমে তিনি চান আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে৷ 

মার্গগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী  তেমনি  মানুষের আকুল আহ্বানে  সাড়া দিয়ে  এসেছিলেন৷ মানুষকে  তিনি আজকের  জটিল জীবনের  পথে  কীভাবে  জীবনের  সার্থকতা অর্জন  করতে হবে, কীভাবে  মানুষকে  চলত হবে - সমস্ত  কিছুরই পথ দেখিয়েছেন৷

আধ্যাত্মিক বিষয়ে  ‘বাবা’ (শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী)  অনেক কিছু বলে গেছেন, সেসব বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে ধ্যানেশানন্দজী বলেন, মানুষ সাধারণতঃ স্থূল  মন নিয়ে ব্যাপৃত থাকে৷ স্থূল মনে সহজে আধ্যাত্মিক ভাব আসে না৷ তার কারণ স্থূল মনের চারিদিকে একটা আরবণ থাকে,--- পাথরের দেওয়ালের  মতো--- যা আধ্যাত্মিক  ভাবকে  আসতে বাধা দেয়৷ তাই মনকে স্থূল থেকে টেনে  তুলতে হয়৷ সূক্ষ্ম মনের চারিদিকে কোনও পুরু আবরণ থাকে না---যা আধ্যাত্মিকভাবকে আসতে বাধা দিতে পারে৷

সেই কারণে,  যাঁরা  সাধনা করেন, তাঁদের  বিভিন্ন শুদ্ধি করতে হয়৷ মনকে স্থূল জাগতিক ভাবনা থেকে  তুলে এনে সূক্ষ্ম জগতে আনতে হয় ও সূক্ষ্ম মনে ঈশ্বরের প্রতি অন্তরের আকুতি জাগিয়ে তুলতে হয়৷

ধ্যানেশানন্দজী বলেন,  মন স্বাভাবিক  ভাবেই নানান্  চিন্তার দিকে ছুটে যায়৷ মনকে জোর করে থামিয়ে দিতে নেই৷ বরং এই মনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে হয়, ব্রহ্মভাব নিয়ে  সূক্ষ্মাভিমূখী করতে হয়৷

এইভাবে ধ্যানেশানন্দজী আধ্যাত্মিক সাধনার  অনেক গূঢ় তত্ত্ব প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখা করেন ও  সবাইকে  আধ্যাত্মিক সাধনার পথে উৎসাহিত করেন৷

ধর্মমহাসম্মেলনে মার্গগুরু প্রতিনিধি  আচার্য ধ্যানেশানন্দজীর প্রবচন সমবেত আনন্দমার্গীদের মনে গভীর  ভক্তিভাব  জাগিয়ে তোলে৷  অনেককে  ভক্তিভাবের  আতিশয্যে কাঁদতেও  দেখা যায়৷

প্রণব মুখার্জীকে ঘিরে বিতর্ক

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

নাগপুর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদর দফতর নাগপুরে  তাদের সংঘটনের অনুষ্ঠানে প্রণব মুখার্জীর যোগদানকে  ঘিরে নানান্ কথা শোণা যাচ্ছে৷ আজীবন যে প্রণববাবু আর.এস.এস তথা বিজেপি’র  বিরোধিতা করে গেছেন, গান্ধী-হত্যার পেছনেও যাঁদের হাত ছিল বলে আসছেন, আজ হঠাৎ তাদের অনুষ্ঠানে প্রণববাবু নিজের এতদিনের  মতাদর্শ বিসর্জন দিতে গেলেন কেন? যদিও তিনি সেখানে  বহুত্ববাদ ও সহিষ্ণুতার কথাই বলেছেন,  কিন্তু  ওখানে যোগদানই করতে  গেলেন কেন--- এ নিয়ে রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বিস্তর চিন্তাভাবনা করছে৷ সম্প্রতি বিজেপি বিরোধী মহাজোটের  সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে, তাতে আশা  করা হচ্ছে এই মহাজোট  হলেও  যে দলের  যেখানে  শক্তি বেশী  তাদের প্রার্থীকে  মহাজোটের  অন্যান্যরা  সমর্থন করলে  বিজেপি  ধরাশায়ী হবে৷  তখন প্রশ্ণ উঠবে প্রধানমন্ত্রী কে হবে৷

কংগ্রেস যে সেখানে  একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারবে না  তা বলাই বাহুল্য ৷ এ ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধী কি প্রধান মন্ত্রিত্বের  দাবী ছেড়ে দেবেন?  আর সোনিয়া তা মানবেন? জটিল  প্রশ্ণ৷ তাছাড়া, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, নবীন পট্টনায়েক, চন্দ্রবাবু নাইডু ---এরা --- একে অপরকে মেনে নেবেন কিনা--- যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷

এই যখন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তখন সম্প্রতি শিবসেনা নেতা বাল ঠাকরে (তাঁদের বিজেপি বিরোধী মহাজোটে যোগদানের সম্ভাবন রয়েছে) তাঁদের মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রণব মুখার্জীর নাম উঠিয়েছেন৷ বলা হচ্ছে,  সেক্ষেত্রে প্রণব বাবুই হতে পারেন  সর্বসম্মত প্রার্থী৷ এমনকি আর এস এসও নাকি তেমনি সম্ভাবনা আঁচ করে আগে থেকে  প্রণববাবুর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরী করছেন৷  হয়তো প্রণববাবুরও ভেতরে ভেতরে সেই ইচ্ছা আছে৷ তাই  সব মহড়া চলছে৷ রাজনীতি বড় কুট৷

নীরব মোদিদের দুর্নীতিতে ব্যাঙ্কের লোকসান ৮৭ হাজার কোটি টাকা

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

হীরে  ব্যবসায়ী নীরব মোদি আর তার মামা মেহুল চোকসির মত  ব্যাঙ্ক জালিয়াতী ও এক শ্রেণীর পুঁজিপতির ঋণখেলাপী সহ বিভিন্ন দুর্নীতির  কারণে  বর্তমানে  রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির  লোকসানের  পরিমাণ  দাঁড়াল ৮১ হাজার ৩৫৭ কোটি  টাকা৷ ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের  এই হিসেব৷  সবচেয়ে বেশী লোকসান হয়েছে পঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্কের৷ তাদের লোকসানের পরিমাণ ১২ হাজার ২৮৩ কোটি  টাকা৷ দেশের  বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ষ্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ারও লোকসান হয়েছে৷  এদের লোকসানের পরিমাণ ৬ হাজার  ৫৪৭ কোটি টাকা৷

যদিও এই লোকসান  অসৎ পুঁজিপতিশ্রেণীর জন্যে, কিন্তু এরজন্যে ভুগতে হবে দেশের কোটি কোটি দরিদ্র জনসাধারণকে৷

কিছু ভাল অভ্যাস

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
  •           সকলে খালি পেটে জল খাওয়া উচিত ৷ 
  •           রোজ প্রাতরাশে ও মধ্যাহ্ণ ভোজনের পর কিছু ফল খাওয়া ভাল ৷ 
  •           খাওয়ার শেষে কিছু টক দই বা ঘোল খাওয়া শরীরের পক্ষে উপকারী৷
  •           সকাল ও বিকেলে কম পক্ষে আধ ঘন্টা হাঁটা উচিত৷ 
  •           পারতপক্ষে দিনে না ঘুমোনো ও বেশী রাত না জাগা উচিত৷
  •           রাতের খাবার ৮-৯টার মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভাল৷

আন্টার্কটিকায়  পর্বতশ্রেণী

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

মহাদেশটির নাম আন্টার্কটিকা৷ অষ্ট্রেলিয়ার  দ্বিগুণ আকার৷  সম্প্রতি ব্রিটেনের  একটি  ছোট্ট গবেষক দল বলেছেন যে এই মহাদেশের  বেশীরভাগ অংশই বরফের চাদরে ‘আচ্ছন্ন হয়ে আছে৷ কিন্তু  তাঁদের  প্রশ্ণ ওই বিপুল বরফের  নীচে  কি আছে৷ তাঁরা আবিষ্কার করছেন,  বরফের চাদরের নীচে  আছে মগ্ণ মৈনাকের মত  পর্বতশ্রেণী৷  সাথে সাথে আরও লক্ষ্য করেন  যে  কয়েক মাইল জুড়ে তিনটি উপতক্যা রয়েছে৷ এই অনুসন্ধানটির ওপর জিয়োফিজিক্যাল  রিসার্চ লেটার্স পত্রিকায় উক্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে৷ ওই মহাদেশটির সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বহু তথ্য ছবির আকারে সংগ্রহ করেছেন কৃত্রিম  উপগ্রহের  মাধ্যমে৷ যেমন ভূপৃষ্ঠের ছবি, মাটির গভীরে  কোথায় কী আছে, বরফ ভেদ করা  বিশেষ রেডারের সাহায্যে ওই  মহাদেশের মানচিত্র নুতনভাবে  তৈরী করতে  চেয়েছিলেন  বিজ্ঞানীরা৷

আন্টার্কটিকা পূর্ব ও পশ্চিম উপতক্যা জুড়ে রেখেছে বরফের পুরু আস্তরণ৷

বিজ্ঞানীরা  বলেছেন ওই বরফঢাকা  পাহাড় ও উপতক্যার  জন্যে অচিরেই সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে৷  সমগ্র বিশ্বজুড়ে বরফ গলছে  এক্ষেত্রে আন্টার্কটিকার ওই বরফের চাদর বাদ হতে পারে না৷ অথচ বাধা হচ্ছে এখানে লুকিয়ে থাকা পর্বতশ্রেণী ছাড়াও  এই তিনটি উপত্যকা৷

ফলে বরফ গলে  আন্টার্কটিকার মাঝবরাবর অংশ থেকে সরে কিনারায় দিকে  চলে যাচ্ছে৷  তাই বিজ্ঞানীদের অনুমান আগামীতে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে অনর্থ ঘটাবে৷