সংবাদ দর্পণ

ময়ূরভঞ্জে আনন্দমার্গের বিভিন্ন সেবামূলক কার্য

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ময়ূরভঞ্জ ঃ ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বরুয়া ব্লকের অন্তর্গত চামচি গ্রামে গত ৯ই অক্টোবর আনন্দমার্গের ১২ ঘণ্টা ব্যাপী কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ এরপর সঙ্গে সঙ্গে ধর্মসভা ও বিনাব্যয়ে চিকিৎসা শিবিরেরও আয়োজন করা হয়৷ অখণ্ড কীর্ত্তনের পরিচালনায় ছিলেন দিবাকরানন্দ অবধূত, স্বরূপ নায়েক, বিশ্বনাথ মাহাত প্রমুখ৷ অখণ্ড কীর্ত্তনের পর অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় সাধনা, কীর্ত্তনের ওপর বক্তব্য রাখেন সুরেশ নায়েক, আচার্য মহীদেবানন্দ অবধূত, আচার্য তপোনিষ্ঠানন্দ অবধূত প্রমুখ৷

কীর্ত্তন ও ধর্মসভার পাশাপাশি বিনাব্যয়ে চিকিৎসারও আয়োজন করা হয়৷ এই চিকিৎসা শিবিরে প্রায় ২০০ দুঃস্থ গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয় ও বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়৷ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ কৌশিক দেও, ডাঃ যুধিষ্ঠির মাহাত৷ শ্রীবনমালি নায়েক, প্রীতিলতা নায়েক প্রমুখের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়৷

আন্দামানে আনন্দমার্গের নব্যমানবতাবাদী শিক্ষা শিবির

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

পোর্ট ব্লেয়ার আনন্দমার্গ স্কুলে ২রা ও ৩রা অক্টোবর শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্তিত নব্যমানবতাবাদী ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ে দু’দিনব্যাপী এক শিক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ ২রা অক্টোবর সকাল ৯টায় এই শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন আন্দামান লাক্ষাদ্বীপ হারবার ওয়াকর্স-এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার টি.এন.কৃষ্ণমূর্ত্তি৷ পৌরোহিত্য করেন আনন্দমার্গের প্রশিক্ষণ মঠের অধ্যক্ষ আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত৷ শিক্ষাগুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্বলনের পর পোর্টব্লেয়ার আননন্দমার্গ স্কুলের মেয়েরা প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন৷

দুদিন ব্যাপী এই শিক্ষা শিবিরে শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্ত্তিত শিক্ষাদর্শন, নব্যমানবতাবাদ ও যোগসাধনা বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন আচার্য কাশীশ্বরানন্দ অবধূত, আচার্য বিতন্দ্রানন্দ অবধূত ও আচার্য শুভদীপানন্দ অবধূত৷ আন্দামান নিকোবরে অবস্থিত বিভিন্ন আনন্দমার্গ স্কুলে থেকে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা এই শিবিরে যোগদান করেন৷ সমস্ত কর্মসূচীটি সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজন করেন পোর্টব্লেয়ার আনন্দমার্গ স্কুলের অধ্যক্ষ আচার্য শুভদীপানন্দ অবধূত৷

শান্তিনিকেতনে নব্য মানবতাবাদী সাহিত্য উৎসব

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

শান্তিনিকেতন,বীরভূম ঃ গত ৩০শে সেপ্ঢেম্বর রেণেশাঁ ইউনিবার্র্সল, শান্তিনিকেতন শাখার উদ্যোগে সোনাঝুরি , খোয়াইয়ে অবস্থিত ‘ভালোবাসা সিনিয়র সিটিজেনসি’-তে নব্যমানবতাবাদী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পগুরু শ্রী অনন্ত মালাকার, প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রহ্লাদ রায়, বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নীরদবরণ মণ্ডল ও শিক্ষক অরুণ কুমার রায়৷ নব্যমানবতাবাদের প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়৷ স্বাগত ভাষণ দেন শ্রী রবীন্দ্রনাথ সেন৷ গতবারের সাহিত্যসভার শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকারকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়৷ সাহিত্য পত্রিকা ‘আনন্দ লহরী’র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন সভাপতি৷ সাক্ষীগোপাল দেবের একটি গ্রন্থও প্রকাশ করা হয়৷ অধ্যাপক প্রহ্লাদ রায় আলোচনা করেন পরিবর্তনশীল সমাজ জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে নব্যমানবতাবাদের প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিষয়ে৷ অরুণবাবু বলিষ্ঠ ভঙ্গীমার তুলে ধরেন নব্যমানবতাবাদের নোতুনত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব৷ নীরদবাবু আলোচনা করেন বুদ্ধির মুক্তি ও নব্যমানবতাবাদ-এর ওপর৷ অনন্ত মালাকার আলোচনা করেন শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারের নন্দনতত্ত্বের ওপর৷ অনুষ্ঠানের আর একটি আকর্ষণ ছিল সবুজকলি নৃত্য গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি নৃত্য৷

সভার মূল আকর্ষণ কবিতাপাঠের আসর৷ পাঁচজন করে কবি-সাহিত্যিক মঞ্চে বসে তাঁদের রচনা পাঠ করেন৷ প্রায় ৪০ জন কবি-সাহিত্যিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷ অনুষ্ঠানে প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন ‘জয়-জয়ন্তী’-র শিল্প গোষ্ঠীর শিল্পীরা৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রী রবীন্দ্রনাথ সেন৷ প্রধান উদ্যোক্তা শ্রী কেশব চন্দ্র সিন্হা সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন৷

হুগলী জেলায় ‘আমরা বাঙালী’র পথসভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

চন্দননগর, ৬ই অক্টোবর ঃ হুগলী জেলার সাংস্কৃতিক ও সংগ্রামী চেতনার ঐতিহ্যমণ্ডিত শহর চন্দননগরে গত শনিবার, ৬ই অক্টোবর বিকেল ৪ ঘটিকা থেকে তিন ঘণ্টা ব্যাপী ‘আমরা বাঙালী’ হুগলী জেলার পক্ষে অসমে এন৷আর.সি. ও অন্যান্য রাজ্যে বিভিন্ন বাঙালী বিদ্বেষী বিল বা আইনের অজুহাতে বাঙালীদের নির্যাতন, নিপীড়ন, ও বিতাড়নের চক্রান্তের বিরুদ্ধে পথসভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়৷ চন্দননগরের তালডাঙ্গা মোড়, সরিষাপাড়া মোড় ও লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে তিনটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ পথসভার সূচনা করেন প্রবীণ প্রাউটিষ্ট শ্রীযুক্ত প্রভাত খাঁ মহাশয়৷ পথসভাগুলিতে বক্তব্য রাখেন সর্বশ্রী প্রভাত খাঁ, জেলাসচিব জ্যোতিবিকাশ সিন্হা, অভিরাম বাগ, মহাদেব কুণ্ডু, ডঃ মৃণাল কান্তি রায়, কৌশিক সাঁতরা, সৌমিত্র পণ্ডিত, দেবাশিস হাজরা প্রমুখ ব্যষ্টিগণ৷ দেশের বৈধ নাগরিক ও মূল বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও অসমে ৪০ লক্ষ বাঙালীকে এন.আর.সি. তালিকাভুক্ত না করা, লক্ষ লক্ষ বাঙালীকে নাগরিকত্বহীন করার চক্রান্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে বক্তাগণ দৃঢ় কণ্ঠে সরব হন ও আপামর বাঙালীকে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানান৷ হুগলী জেলার চুঁচুড়া, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, চণ্ডীতলা, তারকেশ্বর, ধনেখালি প্রভৃতি ব্লক থেকে ‘আমরা বাঙালী’ সংঘটনের কর্মীবৃন্দ ও নেতৃস্থানীয়রা পথসভায় যোগদান করেন৷ সমগ্র কর্মসূচী রূপায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন সর্বশ্রী রামকমল দাস, অমলেশ গুঁই ও প্রণব বসু মহোদয়গণ৷ এই কর্মসূচীর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলিতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়৷ জনসাধারণের পক্ষ থেকে এই ধরণের আরও কর্মসূচী গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়৷

সেবাদল মহিলা বিভাগের প্রশিক্ষণ শিবির

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৭ই অক্টোবর, উত্তর দিনাজপুর জেলার করণ দীঘিতে সেবাদল মহিলা বিভাগের দ্বারা পরিচালিত যোগ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ উক্ত শিবিরে প্রায় শতাধিক মহিলা অংশগ্রহণ করেন৷ শিবিবের মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অবধূতিকা আনন্দ কর্মব্রতা আচার্যা৷ উনি মেয়েদের সমাজ সচেতন মূলক নানান বিষয়ের উপর উপদেশ দেন৷ মেয়েরা যাতে আগামীদিনে স্বনির্ভর, নিজেদের শরীর ও মন সুস্থ রাখতে পারে সে বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়৷

শিবির শেষে করণদীঘি বাজারে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটির দায়িত্বে ছিলেন অবধূতিকা আনন্দ রূপাতীতা আচার্যা৷

‘আমরা বাঙালী’র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দ্বাদশ ত্রৈবার্ষিক জেলা সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৫ ও ২৬শে সেপ্ঢেম্বর মেদিনীপুর শহরস্থিত দুর্গাদেবী লোধা স্মৃতিভবনে ‘আমরা বাঙালী’র দ্বাদশ ত্রৈবার্ষিক পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ ২৫ তারিখ সন্ধ্যায় স্বাধীন ভারতের নাগরিকত্ব আইন ও এন.আর.সির ওপর বিশেষ ক্লাস দেন আমরা বাঙালী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলির কো-অর্ডিনেটর শ্রী তারাপদ বিশ্বাস মহাশয়৷ শ্রী বিশ্বাস ১৯৮৬ ও ২০০৩ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার ফলে বাঙালীদের কিভাবে সর্বনাশ হচ্ছে তা বুঝিয়ে বলেন৷

২৬শে সেপ্ঢেম্বর সম্মেলনের আগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগের ১৯৯তম জন্মদিবস পালন করা হয়৷ ‘‘তমসা কাটিছে বিহগ ডাকিছে’’ এই গানটি পরিবেশন করে’ সোমা পাত্র এই সম্মেলনের শুভ সূচনা করেন৷ উক্ত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শ্রী রবীন্দ্রনাথ বেরা৷ পুরোনো কমিটির পক্ষে জেলা-সচিব শ্রী শঙ্কর প্রসাদ কুন্ডু বিগত ৩ বছরের প্রতিবেদন ও আয়-ব্যয় পাঠ করে শোণান৷ সম্মেলনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে তারাপদ বিশ্বাস (কেন্দ্রীয় সদস্য), বিভূতি দত্ত (রাঢ় সাংঘটনিক সচিব), রাজু মান্না (আইন ও আন্দোলন সচিব) প্রমুখ৷ এর পর নতুন কমিটি গড়ে তোলা হয়৷ জেলা সচিব- শ্রী শঙ্কর প্রসাদ কুন্ডু, যুগ্মসচিব - শ্রী প্রবোধ নন্দী, কার্র্যলয় সচিব- শ্রীমতী অপর্ণা দত্ত, কোষাধক্ষ- শ্রী রঞ্জিৎ ঘোষ, সাংঘটনিক সচিব শ্রী অশোক বেরা, প্রচার ও জনসংযোগ সচিব শ্রী গঙ্গাধর পাত্র, আন্দোলন সচিব- শ্রী নবকুমার সাহু, বাঙালী যুব সচিব- শ্রী সৌরভ নায়েব, উন্নয়ন সচিব- শ্রী দীপক সাড, বাঙালী মহিলা সমাজ-সচিব---শ্রীমতী কল্পনা গিরি, সাংস্কৃতিক সচিব ইলা পাত্র, সদস্য- শ্রী জ্যোতির্ময় সামন্ত ও শ্রী বৃহস্পতি দেব সিংহ৷

কোচবিহারে আমরা বাঙালীর জেলা সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৭ই অক্টোবর কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার অন্তর্গত পেটলা নবীবক্স উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমরা বাঙালী জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৷ ‘বাঙলা আমার দেশ বাঙলাকে ভালোবাসি’ এই গানটি গেয়ে সম্মেলনের শুভ সূচনা করা হয়৷ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন --- তারাপদ বিশ্বাস (কেন্দ্রীয় সদস্য), রাজু মান্না (আইন ও আন্দোলন সচিব), শ্রী খুশীরঞ্জন মন্ডল, দলেন্দ্রনাথ রায় ও সুবোধ বর্মন প্রমুখ৷ সম্মেলনে বিদায়ী জেলা সচিব শ্রী সন্তোষ কুমার মোদক, বিগত ৩ বছরের প্রতিবেদন ও আয়-ব্যয় পাঠ করে শোণান৷ এরপর নোতুন জেলা কমিটি গড়ে তোলা হয়৷ জেলা কমিটির নবনিযুক্ত জেলা-সচিব হন শ্রী প্রসন্নকুমার রায়৷

বিশ্বভারতীর নূতন উপাচার্য

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

এবার নূতন উপাচার্য মনোনীত হলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী৷

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ মন্ত্রক বলেছেন, মন্ত্রকের দেওয়া বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদের জন্যে দেশ-বিদেশ থেকে ১১০ জন আবেদন করেছিলেন৷ এর মধ্যে ১৬ জনকে ইন্টারবিউর জন্যে ডাকা হয়েছিল৷ তা থেকে ৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরী হয়৷ ওই তালিকায় অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ছাড়াও ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন, বিশ্বভারতীর দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা আশা মুখোপাধ্যায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী ও রবীন্দ্রভারতীর অধ্যাপিকা মহুয়া মুখোপাধ্যায়৷ এদের মধ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে বেছে নেন৷ ইনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ করেছেন৷ পরে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস্ থেকে পি.এইচ ডি করেছেন৷ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনি অধ্যাপনাও করেছেন৷

বলা বাহুল্য, ২০১৬ সালে কেন্দ্রের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক তৎকালীন উপাচার্য সুশান্ত দাশগুপ্তকে বরখাস্ত করেছেন৷ তখন থেকে উপাচার্যের পদ খালি ছিল৷

এন.আর. সির প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে নাগরিক কনভেনশন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৫ই অক্টোবর শিলিগুড়িতে বাঙালী বিদ্বৎ সমাজের উদ্যোগে এন.আর.সির প্রতিবাদে শিলিগুড়ির জিটি.এস ক্লাব হলে ‘নাগরিক কনভেনশনের’ আয়োজন করা হয়৷ উক্ত নাগরিক কনভেনশনে সভাপতি ছিলেন ডাঃ মুকুন্দ মজুমদার, (বাংলা ভাষা বাঁচাও কমিটি)৷ বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় শ্রীপদ দাস (অল ইন্ডিয়া রেডিও-র প্রাক্তন ডিরেক্টর)৷ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী তারাপদ বিশ্বাস (‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)৷ এই নাগরিক কনভেনশনে অসমের এন.আর.সির নামে ভারত ও অসম সরকারের দ্বারা ৩৫ লক্ষাধিক বাঙালীকে বিদেশী বানানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রত্যেক বক্তারা তীব্র প্রতিবাদ করেন৷ এই অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ‘আমরা বাঙালী’র দার্জিলিং জেলাসচিব শ্রী বাসুদেব সাহা ও নীরদ অধিকারী (আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)৷

৪০ কোটি টাকার প্যান্ডেল!ঃ কলকাতার দুর্গাপূজোর বিপুল আড়ম্বর

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

দিনে দিনে দুর্গাপূজার নিয়ে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে উঠছে৷ কলকাতার এবার ৪০০০- এর বেশী জমজমাট দুর্গাপূজা হবে৷ স্বাভাবিকভাবে প্যাণ্ডেল তৈরীর প্রতিযোগিতাটাই প্রধান৷

এবারে কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে (নেবুতলা পার্ক) ৪০ (চল্লিশ) কোটি টাকার প্যাণ্ডেল করা হচ্ছে৷ বানানো হয়েছে কৈলাস পাহাড়৷ এখান থেকে সোণা ও রূপোর রথে করে দুর্গা মাকে আনা হবে পূজা মঞ্চে৷ এই পান্ডেলটি হবে ৪০ ফুট লম্বা ৪০ ফুট চওড়া, ৬০ ফুট উঁচু --- ৬ তলা বাড়ীর সমান৷ গত বছর ১২ কোটির মূল্যের ২৪ কেজি সোনার পোষাক ছিল মায়ের গায়ে৷ এবারে গত ১লা বৈশাখ দুর্গামায়ের আদলে বেলুন উড়িয়ে পূজার প্রস্তুতির সূচনা করা হয়েছিল৷

অন্যান্য প্যাণ্ডেলে এত বড় বাজেট না থাকলেও কোন কোন পূজা কমিটির ১০ কোটি টাকা বাজেট আছে৷ গতবারে মহানগরীতে ১২৩ কোটি টাকা পূজোর বাজেট ছিল বলে জানা গেছে৷

একটা পূজায় যখন এই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে, এদেখে কি মনে হয়, আমাদের দেশে টাকা নেই?

একদিকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করে আলোর উৎসব৷ কিন্তু পাশাপাশি যে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে রয়েছে রাজ্যের বহু গ্রামাঞ্চল--- বহু অবহেলিত এলাকা আর তার সঙ্গে লক্ষ লক্ষ অবহেলিত মানুষ৷ তাদের জীবন যন্ত্রণার খবর কি রাখেন আমাদের এই আলোর রাজ্যের মানুষেরা?

এই অন্ধকার রাজ্যের মানুষ হ’ল ভারতের ২১.৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭ কোটি মানুষ যারা দারিদ্র্য সীমারেখার নিম্নে বাস করেন --- যাঁরা পেট ভরে খেতে পান না, যাদের প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র নেই, চিকিৎসার পয়সা নেই৷ দেশের লক্ষ লক্ষ যুব-যুবতীর কর্মসংস্থান নেই, তাই কর্মের সন্ধানে দিগ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে৷

এ রাজ্যের অধিকাংশ গ্রামের যুবক ছেলেরা এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে দক্ষিণ বা পশ্চিম ভারতে পাড়ি দিয়েছে কোনো একটা কাজের সন্ধানে৷

এই অবস্থায় কলকাতাসহ বড় বড় শহরের পূজা প্যান্ডেল করতে যে বিপুল টাকা খরচ হয়, কেবল আড়ম্বর দেখানোর জন্যে, তা যদি দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বা মাঝারি মাপের শিল্পে ব্যয়িত হ’ত বা কোনও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের কাজে ব্যয়িত হ’ত তাতে রাজ্যের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যেত৷