Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

এই রাজ্যের শ্রমিকরা ভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নানাভাবে নির্মমভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে,প্রাণহাণিও ঘটছে৷ এদের একমাত্র পরিচয় এরা বাঙালী, বাংলা ভাষায় কথা বলে৷ করোনা কাল থেকে এদের পরিচয় হয়েছে---পরিযায়ী শ্রমিক৷ যদিও এক দেশ, এক আইন, এক নির্বাচন আইনের ধবজাধারীদের কাছে কোন যুক্তি গ্রাহ্য জবাব পাওয়া যায়নে--- এক দেশ এক আইনের মধ্যে থেকেও এক রাজ্যের মানুষ জীবিকার সন্ধানে অন্যরাজ্যে গেলে পরিযায়ী হয় কেমনে৷ তাছাড়া এই নয় যে শুধু বাঙলা থেকেই মানুষ অন্যরাজ্যে জীবিকার সন্ধানে যাচ্ছে৷ অন্যরাজ্যের বহু মানুষও এই রাজ্যে জীবিকার সন্ধানে আসছে৷ বরং এই আসার সংখ্যাটা যাওয়ার থেকে অনেক বেশী৷
রাষ্ট্রনীতির বিচারে অবশ্যই পরিযায়ী নয়, তবে অর্থনীতির বিচারে পরিযায়ী, আরও স্পষ্ট করে বললে--- বহিরাগত৷ ভারতবর্ষের মতো পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই বহিরাগত পরিযায়ী শ্রমিকরাই পুঁজিপতি শোষকের হাতিয়ার৷ রাজনৈতিক দলগুলোর সাহায্যে পুঁজিপতিরা এই শোষণ নিপুণভাবে চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই শোষণের নমুনা দিতে দুটো ঘটনার উল্লেখ করতে হয়--- নলহাটির নইমুদ্দিন শেখ পরিবার নিয়ে মহারাষ্ট্রে ভাণ্ডুপে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন৷ হঠাৎ একদিন তিনি নিখোঁজ, পরে তার রক্তাক্ত দেহ পাওয়া গেল৷ তিনি খুন হয়েছেন৷ তার প্রথম অপরাধ তিনি বাঙালী, দ্বিতীয় অপরাধ মালিকের কাছে প্রাপ্য আট লাখ টাকা চেয়েছিলেন৷ নলহাটিরই রাহুল সিং মুম্বাই -এ কাজ করতেন৷ তাঁরও প্রাপ্য টাকা না পেয়ে থানায় নালিশ করায় তার কান কেটে নেয়৷ কোনরকমে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে৷
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যে অনেক সামাজিক প্রকল্প দিয়েছেন, যার কিছু কিছু আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পেয়েছেন৷ ভিনরাজ্যের অত্যাচারিত বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যেও মুখ্যমন্ত্রী শ্রমশ্রী প্রকল্প ঘোষণা করেছেন৷ ভিনরাজ্য থেকে ফেরার খরচ ছাড়াও এরাজ্যে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পাঁচহাজার টাকা মাসিক ভাতা এক বছরের জন্যে, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে ও তাদের ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচও সরকার দেবে৷
অবশ্যই মানবিক ব্যবস্থা৷ কিন্তু এতে স্থায়ী সমাধান হবে কী? এরাজ্যেও বহু পরিযায়ী শ্রমিক আছে৷ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালী শ্রমিকরা অত্যাচারিত হলেও এরাজ্যে এখনও পর্যন্ত তার কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েনি৷ তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী অত্যাচারিত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যে রাজ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করলেও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কাছে কোন কড়া বার্র্ত পাঠান নি৷ এইসব নিয়ে এ রাজ্যেও মানুষের মনে ক্ষোভ জাগছে৷ বেশ কয়েকটি বাঙালী সংঘটন প্রতিবাদে পথে নেমেছে৷ প্রতিবাদের লাইন দীর্ঘ হলেই শুধু রাজ্যে নয়, গোটা দেশেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে৷
স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় বাঙালীরা দিল্লির শাসকের বৈষম্যের শিকার৷ মোদি জমানায় বাঙলার প্রতি বঞ্চনা অনেকটাই বেড়ে গেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে বার বার সাংঘটনিক প্রশাসনিক ও আর্থিক শক্তি প্রয়োগ করেও পরাজিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তৈরী করছে মোদি সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রীর শ্রমশ্রী প্রকল্প অত্যাচারিত পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতে প্রলেপ দিলেও ক্ষোভের আগুণে জল ঢালতে পারেনি৷ তা তুষের আগুণের মতো ধিক ধিক করে জ্বলছে৷ যে কোন সময় দাবানলের রূপ নিতে পারে৷
এই পরিস্থিতিতে শ্রমশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে৷ কারণ ভিন্‌রাজ্যে বাঙালী পরিযায়ী শ্রমিকরা মার খাবে আর এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা নিশ্চিন্তে কাজ করে যাবে এমনটা বেশী দিন চলবে না৷ তবে যেটা ঘটবে তাতে শোষিতের সঙ্গে শোষিতের দাঙ্গা বাঁধবে. পুঁজিপতি শোষকরা তাদের শোষণ অবাধে চালিয়ে যাবে৷
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক প্রকল্পগুলি শোষিত জনগণের ক্ষোভ সামলাবার একটা পুঁজিপতি কৌশল৷ মুখ্যমন্ত্রীও সেই কৌশলের শিকার৷ তাঁর হাতে অন্য কোন উপায় নেই৷ উপায় আছে, কিন্তু সে পথে চলার সাহস বা সদিচ্ছা পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীদের নেই৷ কিন্তু কতদিন এইভাবে ভাতার দানে জীবন চলবে৷ তাই মানুষকে পথ বার করতেই হবে৷
সেই পথেরই সন্ধান দিয়েছেন প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্বের প্রবক্তা শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার ৷ বর্তমান পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রিত অর্থনীতির খোল-নলচে পাল্টে বিকেন্দ্রিত আর্থিক পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে৷ মানুষের ভাষা-কৃষ্টি সংস্কৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থিক সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলি বিবেচনা করে একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে৷ অঞ্চলগুলির আর্থিক পরিকল্পনা শুরু করতে হবে ব্লকস্তর থেকে৷ এই আর্থিক পরিকল্পনায় বহিরাগতের কোন স্থান হবে না৷ স্থানীয় মানুষের হাতেই থাকবে আর্থিক ক্ষমতা৷ বর্তমান বাঙলার সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের এটাই একমাত্র পথ৷ এই পথ দুস্তর হলেও দুর্লঙ্ঘনীয় নয়৷
 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (59)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved