Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রসঙ্গ তেইশে জানুয়ারী---‘‘আমি কারো প্রতিচ্ছবি নই, প্রতিধবনি নই’’

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

তেইশে জানুয়ারী---ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আপোষহীন সংগ্রামী বিপ্লবী মহানায়ক সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন৷ বাঙালীর কাছে এ বড় বেদনারও দিন৷ এই দিন সেই সব হাতগুলো পুষ্পস্তবক নিয়ে নেতাজীর মূর্ত্তির সামনে দাঁড়াবে যাঁরা বা যাঁদের পূর্বসূরী সুভাষচন্দ্রকে জব্দ করতে তলে তলে ব্রিটিশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল৷ ওদেরই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সুভাষচন্দ্রকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল৷ কংগ্রেস, কমিউনিষ্ট, আর.এস.এস---এদেরই বিশ্বাসঘাতকায় সুভাষচন্দ্রের স্বপ্ণের স্বাধীনতা আজও অধরা৷ তিনি নিজেও কোন অজানা পথের পথিক হয়ে রয়ে গেলেন!

রয়ে গেলেন! না-কি থাকতে বাধ্য হলেন, বাধ্য করা হ’ল৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কলঙ্কিত ইতিহাস একদিন প্রকাশ্যে আসবে, আর আজ স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক হয়ে যে মুখগুলো জ্বলজ্বল করছে, মূর্ত্তি হয়ে সু-উচ্চে অবস্থান করছে সেই মুখগুলো সেদিন কালো কালিতে ঢেকে যাবে৷ যতদিন না সেই দিন আসছে ততদিন দরকষাকষি স্বাধীনতার অভিশাপ বাঙলীকে বয়ে বেড়াতে হবে৷ স্বাধীনতার জন্যে যে মূল্য বাঙালী দিয়েছে, জীবন উৎসর্গ করেছে তার এক কানাকড়ি মূল্যও স্বাধীন দেশের সরকার বাঙালীকে দেয় নি৷

কোন অপরাধে সুভাষচন্দ্রকে হারিয়ে যেতে হ’ল? কিসের অপরাধে বাঙালীকে আজও পরাধীনতার জ্বালা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে? দেশের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করতে হচ্ছে? সুভাষচন্দ্রের অপরাধ---তাঁর জীবন দর্শন, তাঁর জীবনাদর্শ৷ তিনি হাত পেতে স্বাধীনতা নিয়ে ক্ষমতার পিড়ি দখল করার মতলবে ছিলেন না৷ সুভাষচন্দ্রের মতাদর্শ ছিল---‘স্বাধীনতা কারোর দয়ায়, কোন আপোষ আলোচনায়, দর কষাকষির মধ্যে দিয়ে পাওয়া যায় না৷ স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয়, অন্তহীন সংগ্রামের মাধ্যমে জয় করে নিতে হয়৷’

অন্তহীন সংগ্রামই করে গেছেন সুভাষচন্দ্র৷ কিন্তু তাঁর স্বপ্ণের স্বাধীনতা অধরাই থেকে গেছে৷ তাঁর সেই স্বাধীনতার স্বরূপ কেমন হবে তাও তিনি বলেছিলেন ১৯৩৮ সালে প্রথম কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর লণ্ডনের ভারতীয় ছাত্রদের এক সভায়---‘দেশীয় পুঁজিপতিদের সাহায্যে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শক্তি অর্জন করছে৷ এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে৷ মানুষকে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিলেই হবে না৷ অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও অর্জন করতে হবে৷’ দেশীয় পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা---এই দুটি শব্দই সেদিন দেশীয় পুঁজিপতিদের হাড়ে কাঁপন ধরিয়েছিল৷ তাই সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস থেকে বিতাড়নের ব্লু-প্রিণ্ট সেদিনই তৈরী করেছিল দেশীয় পুঁজিপতিরা৷ তাকেই বাস্তবায়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছিল কংগ্রেস, কমিউনিষ্ট ও হিন্দুত্ববাদীরা৷ রাজনৈতিক মতাদর্শে যতই পার্থক্য থাক এই এক জায়গায় সবাই এক---দেশীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থ৷ ভারতীয় রাজনীতির এ এক অন্ধগলি৷ এই অন্ধগলি থেকে রাজনৈতিক দলগুলো আজও বের হতে পারেনি৷ তাই সি.এ.এ.-র মত কালাকানুনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েও পরস্পরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ হয়নি৷

যাইহোক, দেশীয় পুঁজিপতিরা সেদিনই বুঝেছিলেন সুভাষচন্দ্র যদি স্বাধীন ভারতের কর্ণধার হয় তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে দেশীয় পুঁজিপতিদেরও দেশ থেকে বিদায় নিতে হবে৷ তাই জাতীয় কংগ্রেসের হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী লবি গান্ধীর নেতৃত্বে সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত শুরু করে৷ কমিউনিষ্টরা সেদিন নীরব থেকে কংগ্রেসকেই মদত দিয়েছিল৷ সেই চক্রান্তের পরিণতিতেই সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন৷

কিন্তু স্বাধীনতা প্রাপ্তি যাঁর জীবনের ব্রত, যাঁর জীবনাদর্শ---তাঁকে আটকায় কে! সুভাষ বুঝেছিলেন দেশে থাকলে তাঁকে ব্রিটিশ অপেক্ষা মেকী দেশপ্রেমিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে অনেক বেশী৷ তাই তিনি ব্রিটিশের  চোখে ফাঁকী দিয়ে ভারতের বাইরে চলে গেলেন৷ সেখানে অপেক্ষা করছিলেন আর এক বিপ্লবী নায়ক রাসবিহারী বসু৷ তিনিও ব্রিটিশের চোখে ফাঁকী দিয়ে জাপান চলে যান৷ সুভাষচন্দ্র জাপানে গিয়ে রাসবিহারী বসুর হাত থেকে ভারতীয় জাতীয় বাহিনীর দায়িত্ব নিলেন৷ তৈরী হ’ল আজাদ হিন্দ ফৌজ, আজাদ হিন্দ সরকার৷ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আজাদ  হিন্দ্ সরকার৷ নেতাজীর ঘা খেয়েই ব্রিটিশ ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়৷ কিন্তু সুভাষচন্দ্রের ঘরে ফেরা হয়নি৷ তাঁকে ফিরতে দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু সুভাষ আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে, দেশীয় পুঁজিপতি ও তাদের অর্থে পুষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে৷ তড়িঘড়ি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে , দেশকে ভাগ করে খণ্ডিত ভারতের শাসন ক্ষমতা  জাতীয় কংগ্রেসের হাতে তুলে দিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারত ত্যাগ করে৷

কিন্তু সুভাষচন্দ্র! সুভাষচন্দ্র কোথায়!  এর উত্তর আজও ভারতবাসী খঁুজে বেড়াচ্ছে সাংহাই, তাইহোকু, মস্কো আর তদন্ত কমিশনের পাতায় পাতায়৷ স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও  এর কোন উত্তর রাজনৈতিক দলগুলো দেয়নি৷ কংগ্রেস তো বটেই, হিন্দুত্ববাদী আর.এস.এস জনসংঘ, সমাজতন্ত্রী কমিউনিষ্ট---এই এক ব্যাপারে রাজনীতির সব পক্ষ এক পক্ষ হয়ে যায়৷ তাই রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে পরস্পরে যতই লড়াই করুক, মঞ্চের আড়ালে সবাই এক আজও৷

শুধু বাঙালী সেই ভিক্ষালব্ধ দর কষাকষি স্বাধীনতার অভিশাপ বহন করে চলেছে৷ ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে নয়, সুভাষ বিরোধী সংগ্রামে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কংগ্রেস৷ ঐতিহাসিক মাইকেল এডওয়ার্ডস তাঁর গ্রন্থে বলেছেন---Gandhi now turned the technique of non-co-operation, not against the British, but against Congress’s own President. Bose was forced to resign.

দুর্ভাগ্যের বিষয় কংগ্রেস-কমিউনিষ্টদের সেই চরিত্র আজও বদলায়নি৷ তাই তারা বাঙালী বিদ্বেষী সি.এ.এ-র বিরুদ্ধে যতটা না চিৎকার করে তার চেয়ে অনেক বেশী চিৎকার করে রাজ্য শাসক দলের বিরুদ্ধে৷

আর সুভাষচন্দ্র! গান্ধী ভক্তরা সেদিন সুভাষচন্দ্রকে গান্ধীর মত মানতে বাধ্য করাতে গান্ধীজীকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিল৷ গান্ধীভক্ত নেতা শেঠ গোবিন্দ দাস বলেছিলেন ---‘ফ্যাসিস্টদের মধ্যে মুসোলিনী, নাৎসীদের মধ্যে হিটলার ও কমিউনিষ্টদের মধ্যে স্ট্যালিনের যে স্থান, কংগ্রেসের মধ্যে গান্ধীরও সেই স্থান৷’ সভায় ধবনিত হ’ল --- ‘হিন্দুস্থান কা হিটলার মহাত্মা গান্ধী কী জয়৷’

ব্যথিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন--- ‘অবশেষে আজ, এমনকি, কংগ্রেসের মঞ্চ থেকেও হিটলারী নীতির জয়ধবনি শোনা গেল৷ স্বাধীনতার মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্যে যে বেদী উৎসৃষ্ট, সেই বেদীতেই আজ ফ্যাসিস্টের সাপ ফোঁস করে উঠেছে৷’

আর সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন---‘আমি কারো প্রতিচ্ছবি নই, কারো প্রতিধবনি নই, কারো prototype  নই---I am myself৷’

সুভাষ সুভাষই৷ আর একটা সুভাষ হয় না হবে না৷ তবে ফ্যাসিস্টের সাপের অভাব হয় না৷ তাই ভারতবর্ষের পশ্চিমাঞ্চলের সেই বিশেষ জায়গা থেকে আজ আবার ফ্যাসিস্টের সাপ ফোঁস করে উঠেছে৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • June 2019 (110)
  • May 2019 (129)
  • April 2019 (111)
  • March 2019 (138)
  • February 2019 (122)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 8
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved