আজ প্রকৃতির বুকে অসংখ্য মানুষের সমাজে অসংখ্য জনগোষ্ঠী আছে৷ যাদের অন্যতম পরিচয় তাদের মাতৃভাষা যে ভাষা প্রতিটি মানুষ তার মায়ের কাছ থেকে প্রাকৃতিক কারণে পায়৷ আর যে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান সেই বাল্যকাল থেকে পায় মায়ের মাধ্যমে সেটি আর যে ধর্মমত পায় বা শুনে সেটি স্বাভাবিক পাওয়া৷ মা হলেন শিশুর পিতা কে শিশুকেই জানান৷ তিনিই শিশুর জন্মদাতা হন৷ এই ধরণের সে সংখ্যক মানুষ অতি প্রাচীনকাল থেকে এই স্থানে আত্মীয় স্বজনের মত বাস করেন৷ তাঁহাই হন প্রতিবেশী৷ এমনটি হতে অতি প্রাচীনকাল থেকে অনেক বছরই লেগেছিল৷ সংগ্রামের মধ্য দিকে এই মানুষের নারী পুরুষদের চলতে হতো৷ ধীরে ধীরে সেই সমাজের মধ্যে এমন কিছু সাহসীও সংগ্রামী মানুষ জন্মাতেন মূলতঃ মহিলারা তাঁরা সেই সমাজের রক্ষাদাত্রী হতেন৷ আজও দেখা দেখা অনেক ক্ষেত্রে সেই মহিলাগণ সেই সমাজ এর প্রধান হতেন৷ পুরুষগণ বেশী দিন বাঁচতেন না নানা কারণে৷ জানা যায় পুরুষ অধিকাংশই অল্পবয়সেই মারা যেতেন৷ কারণ লড়াই ও চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়-এর মধ্যে থাকতে হতো! মাই হলেন শিশুগুলির রক্ষাকর্ত্রী৷ তাঁদের ছেড়ে মায়ের যাওয়াটা ছিল অসম্ভব৷ ধীরে ধীরে পুরুষগণ তাদের মধ্যেই থেকে প্রতিরোধ করতো৷ তাই সেই শক্তিশালী ব্যষ্টি যে সচেতন ও দায়িত্বশীল সেই দায়দায়িত্ব নিত৷ ধীরে ধীরে সেই ব্যষ্টি হয়ে ওঠেন দলপতি৷ এই দলপতিগণ অনেকক্ষেত্রে কিছুটা উন্নত জনগোষ্ঠী হয়ে উঠলে তিনিই ভাগ্য বিধাতা হয়ে উঠতো সেই সেই জনগোষ্ঠীর৷ কিন্তু আজও মাতৃতান্ত্রিক কিছু কিছু সমাজ আছে যেখানে মহিলাগণই প্রধান৷ আজ এইভাবে আমরা মানুষ উন্নত শ্রেষ্ঠ জীব এই পৃথিবীর৷ আজ অত্যাধুনিক হয়ে নাকি উঠেছে৷ আর নারীপুরুষ সব ব্যাপারেই সমান সমান সব কিছুর অধিকারী হয়েছে৷ কিন্তু এটা হতে অতীতে হাজার হাজার বছর লেগেছে৷ এই মহাপ্রকৃতি হলেন পরমপুরুষেরই অংশ৷ কারণ সেই মহান স্রষ্ঠা সৃষ্টি তত্ত্বে মাতেন তার সৃষ্টি তত্ত্বের মধ্যে থেকে৷ এটাই বিজ্ঞান সেই সূক্ষ্মতম মানসিক ইচ্ছাশক্তি যেটি মহান পুরুষের তাই বলা হয় যে প্রকৃতি হলেন সেই পরমপুরুষেরই ইচ্ছাশক্তি৷ তাঁকে বলা হয় অর্দ্ধনারীশ্বর৷ সেই ঈশ্বর ও ঈশ্বরী একই! এক থেকে বহু আর বহু হয়ে যায় এক সেই৷ সৃষ্টিতত্ত্বে এটি হলো সেই আমরা যথা হতে আসি তথায় ফিরিয়া যাই দীর্ঘ প্রবাসের পর মাতা ধরিত্রী কোল থেকে! আর মা হলেন সৃষ্টি তত্ত্বের সকলেরই জন্মদাত্রী৷ তাই প্রাণীমাত্রেরই আছে পিতা ও মাতা! সেই জীবজন্তু ও গাছাপালার সবই প্রাণময় জগৎ সবই আলাদা কিন্তু অসহায় মানুষকে বাঁচতে সকলেরই দরকার৷ তাই সব কিছু সৃষ্টির পরই শ্রেষ্ঠতম প্রাণী মানুষ আসে এই পৃথিবীতে৷ তাই মানুষই পারে সৃষ্টি রহস্য জানতে সেই দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের অনুশীলনের মাধ্যমে৷ অন্য কোন পথ নেই৷ আর একমাত্র সদ্গুরুই পারেন সেই পথের সন্ধান দিত৷ সেই চরম বিজ্ঞান সেটি হলো ভৌতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান একাধারে যুক্ত৷ এটাই হলো চরম ‘ঋতম্’ অর্থাৎ অর্র্থৎ সত্যম্৷ এই মানুষই হয়ে যায় ব্রহ্মজ্ঞাণী মুক্ত পুরুষ৷ পরমারাধ্য বাবা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির মর্তে আগমণ মানুষকে পরমলক্ষ্যের পথ দেখাতে৷ কারণ মানুষই হলো শ্রেষ্ঠতম উন্নত জীব৷ এই মানুষই পারে সেই সৃষ্টিরসত্তাকে জানতে আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা ও মানবতাবাদে উদ্বুদ্ধ হতে৷ এই ভারতের যুক্তরাষ্ট্র প্রায৪৪টি সমাজ আছে তাকে স্বনির্ভর করবে মানবতাবাদী সরকার ভারতের সংবিধান মতে শাসকগণ৷
এখানে শাসনের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতাটাই নিষিদ্ধ যেটা বর্তমান এই দেশে প্রবল৷ তাই এই সরকারগুলি যারা সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দেয় জাতপাত প্রশ্রয় দিয়ে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে তারা সমাজের ও মানবতার বন্ধু নয় শত্রু৷ সমাজকে রক্ষা করা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করাটাই মানবতাবাদী ধর্মমত নিরপেক্ষ সরকারের লক্ষ্য ও আদর্শ৷ পৃথিবীতে প্রায় ২৫৬টি সমাজ আছে আর এই ত্রিভুজাকৃতি ভারতে আছে ৪৪টি সমাজ যারা নানা ধর্মমতের ও ভাষাভাষীর নরনারী৷
সনাতন ধর্ম হলো সেই অধ্যাত্মবাদ যা সেই পরমশ্রষ্টা, গড, আল্লাহকে জ্ঞাত করার পথ৷ এই সনাতন ধর্ম তিন স্তরের৷ উত্তম ব্রহ্মসদ্ভাব, মধ্যম ধ্যান ধারণা আর মূর্ত্তি পূজা প্রাথমিক স্তর এই পথে৷ তাই সেই ধর্ম নিয়ে সবাই গুরু গিরি করতে পারে না৷ মহান গুরু হবেন সদ্গুরু সেই পরমব্রহ্ম যাঁর মধ্যে তিলমাত্র কুসংস্কার নেই আছে যুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত আধ্যাত্মিক সাধনার পথ৷ সেথায় যেতে বহু হাজার বছর লাগে৷ ভৌতিক জগতের দলীয় সাম্প্রদায়িক নেতাদের তাই স্থূলজগতে সকল জীবজন্তু গাছপালার সার্থক বিকাশে মানবতাবাদী হয়ে সাহায্য করতে হয়৷ তাই তাদের ধর্মমত নিরপেক্ষ হয়ে মহান ধর্মের পথে চলতে হবে সকল ধর্মমতকে মান্যতা দিয়ে অর্থাৎ সকলেই সেই তাঁর সন্তান মনে করে সেবা করা৷ সেটাই এখানে অস্বীকৃত শাসকদের মধ্যে৷ দল মানে দলাদলে মারামারি! শাসক কখনো সংকীর্ণতাবাদী হতে পারে না৷ এই মহান ভারতযুক্ত রাষ্ট্রে৷ শুনরে মানুষ ভাই৷ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই৷
সভ্য তবে তো মানুষ একটু হতে পারবে শাসক হিসাবে৷ তাই মহান অটল বিহারী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এই পথের শাসক কিছুটা ছিলেন৷
‘ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আলস লাভে৷’ সত্যদ্রষ্টার কবির কথা! এতে জগতের কাছে হেয় হয়ে যাচ্ছে, হাস্যবাদ হয়ে পড়ছে৷ আর ভারতের শাসকগণ সেই নরকের পথে এগুচ্ছে বলেই যুক্তিবাদীরা মনে করেন৷ তাই ভারতে শাসককে হতে হবে মানবতাবাদী, জাত পাত সম্প্রদায়ের উর্দ্ধে উঠে জনসেবায় মন দিতে হবে৷ মানুষকে তার পরম লক্ষ্যের পানে চলার পথ দেখাতে হবে৷
- Log in to post comments