Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আজকের জটিল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান কোন পথে?

অরুণাভ সেনগুপ্ত

‘‘বল বল বল সবে শত বীণা বেণু রবে

ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে৷

ধর্মে মহান হবে, কর্মে মহান হবে,

নব দিনমণি উদিবে আবার

পুরাতন এ পূরবে৷’’

ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশের পদানত ছিল, যখন পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্যে দেখা দেয় দেশজুড়ে উত্তাল আন্দোলন৷ সেই সময়কার স্বাধীনতাকামী বীর বিপ্লবীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিধবনিত হয়েছিল এই কবিতাটিতে৷ তাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করলুম৷ কিন্তু তাঁদের আশা আকঙ্ক্ষা আজও পূর্ণ হয়েছে কি? দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়--- আদৌ হয়নি৷ কেন হল না? আজ তা বিশ্লেষণ করার সময় এসেছে!

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নানান্ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছে সমর্থন চাইছেন৷ জনগণের সমর্থন লাভ করে বিভিন্ন সময়ে শাসক বদলাচ্ছে, কিন্তু সমাজের দরিদ্র জনগণ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থাকছে৷ একদিকে অজস্র দরিদ্র মানুষের আর্ত-চিৎকার, আর তার পাশাপাশি দেশের এক শ্রেণীর ধনকুবেরদের বিলাস-ভৈভব৷ আধুনিক সভ্যতার এ এক কলঙ্ক৷

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল--- কেউ ধনতন্ত্রের পথে মুক্ত অর্থনীতি, বিশ্বায়নের শ্লোগান দিচ্ছে৷ কেউবা মার্কসবাদের বুলি কপচিয়ে চলেছে৷ বেশীরভাগ মার্কসবাদী এখন তাদের মার্কসবাদ মার্র্ক বোতলে ধনতন্ত্রের রঙীন পানীয় সরবরাহেই বেশী আগ্রহী৷ কিন্তু কোনোকিছুতেই তো কিছু হচ্ছে না৷

আসলে কেন এই ব্যর্থতা? তার কারণ, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরোনো ডগ্মা ছঁুড়ে ফেলে নোতুন যুগোপযোগী আদর্শকে যে মুক্তমনে গ্রহণ করবে---সে মানসিকতার অভাব৷

এটা সত্য কথা যে, আজকের এই জটিল সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ এই সমস্যা-সমাধানের পথও খঁুজে পাচ্ছে না৷ মানুষ আজ দিশাহারা৷

এই পরিস্থিতিতে আজকের সমাজের সমস্ত সমস্যার যুগোপযোগী সমাধানের সুচিন্তিত বাস্তব সম্মত পথ দেখিয়েছেন মহান্ সমাজগুরু পরম শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার, যিনি শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীরূপে বিশ্বে সমধিক পরিচিত৷ যিনি একাধারে নোতুন সর্র্বনুসূ্যত আধ্যাত্মিক দর্শন ও আধ্যাত্মিক সাধনামার্গ--- আনন্দমার্গের প্রবক্তা, নোতুন সমাজদর্শনের জনক, যিনি দিয়েছেন নব্যমানবতাবাদ দর্শন ও এই নব্যমানবতাবাদের ভিত্তিতে নোতুন শিক্ষাব্যবস্থা, দিয়েছেন জ্ঞান-বিজ্ঞান জগতের যুগান্তকারী মাইক্রোবাইটাম তত্ত্ব৷ সঙ্গীতকার হিসেবে তিনি পাঁচ সহস্রাধিক প্রভাত-সঙ্গীতের স্রষ্টা ও সুরকার, ভাষাতত্ত্ববিদ্ ওবিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংঘটনের প্রতিষ্ঠাতাও৷

সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি যে নোতুন দর্শন তথা আদর্শ দিয়েছেন তার নাম ‘প্রাউট’(প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব)৷ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, প্রাউটের মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিতে প্রথমেই সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষার গ্যারান্টী দেওয়া হচ্ছে৷ এরপর বলা হয়েছে শ্রম, নিষ্ঠা ও যোগ্যতা আন্তরিকতার মর্যাদা দিতে গুণানুপাতে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধার (ইন্সেনটিভ) ব্যবস্থা করতে হবে৷ আর তারপরের কথা হ’ল, সমাজের বিভিন্ন মানুষের নিম্নতম আয় তথা নিম্নতম মানের ক্রমবৃদ্ধি ঘটাতে হবে৷ উচ্চতম ও নিম্নতম আয়ের মধ্যে পার্থক্য বেশী হওয়া উচিত নয়৷

প্রাউটের মতে, অর্থনৈতিক সমবন্টন একটা অবাস্তব তত্ত্ব, যুক্তিপূর্ণ বন্টনই Rational distribution) কাম্য৷ তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া যায়, সমবন্টন করা হল, তাহলেও অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দেবে৷

একটা কারখানায় যদি সাধারণ অদক্ষ্য শ্রমিক, নিষ্ঠাবান কর্মী, কারখানার ম্যানেজার সবাইকে একই বেতন দেওয়া হয়, তাহলে কারখানায় কেউ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে না৷ তখন উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দেবে৷

এখন প্রশ্ণ উঠতে পারে, প্রাউটে সকলের নূ্যনতম চাহিদা পূরণের গ্যারান্টি দেওয়া হবে কি করে?

এর উত্তরে প্রাউট বলছে, এটা সম্ভব হবে, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে৷ বর্তমানে যে রাজনৈতিক গণতন্ত্র নিয়ে এত মাতামাতি করা হচ্ছে, একটু তলিয়ে বিশ্লেয়ণ করলে বোঝা যাবে, এটা কতটা অন্তঃসারশূন্য৷ গণতন্ত্র মানে, জনগণের শাসনব্যবস্থা৷ কিন্তু বর্তমানে শাসনব্যবস্থায় যার প্রচুর অর্থ আছে বা ক্ষমতা (প্রশাসনিক বা দৈহিক বা অস্ত্রশক্তি) সেই যত সুবিধাভোগ করছে৷ সহায় সম্বলহীন মানুষ বঞ্চিত, শোষিত অত্যাচারিত৷ তাই প্রতিটি মানুষের হাতে শুধু ‘ব্যালেট’ ধরিয়ে দেওয়া নয়, প্রতিটি মানুষের হাতে ‘ক্রয় ক্ষমতা’ দিতে হবে৷ তাই প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে৷ আর যার সবচেয়ে কম আয়, সেও যেন তার নিজের আয়ে, তার নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত দ্রব্য ক্রয় করতে পারে বাজারে ওই সমস্ত ভোগ্যপণ্যের সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে ও সে সবের মূল্য নিয়ন্ত্রিত থাকবে৷ আর যারা কর্মক্ষম নয়, সমাজ থেকে তাদের নূ্যনতম চাহিদা পূরণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে৷

বিশ্বের সমস্ত সম্পদের মালিক একমাত্র বিশ্বস্রষ্টা ঈশ্বর৷ সবাই সেই এক পরমপিতার সন্তান৷ তাই বিশ্বের সমস্ত সম্পত্তি সবাইকার পৈত্রিক সম্পত্তি৷ সবার এতে যৌথ অধিকার৷ তাই কেউ অভাবে শুকিয়ে মরবে, তা চলতে দেওয়া হবে না৷

প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে হবে৷ তাই ‘কেন্দ্রিত পরিকল্পনা’ centralised economy) নয়,‘বিকেন্দ্রিত পরিকল্পনা’decentralised economy) চাই৷ তার সঙ্গে সঙ্গে ‘সুসন্তুলিত অর্থনীতির balanced economy) রূপায়ন৷ ‘সুসন্তুলিত অর্থনীতির মানে হচ্ছে, দেশের ৩০ থেকে ৪০শতাংশ মানুষকে কৃষিতে নিযুক্ত রাখতে হবে৷ আজ দেশের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষিতে নিয়োজিত৷ এ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ৷ আর দেশের ২০শতাংশ মানুষকে কৃষিভিত্তিক শিল্পে agro industry) (অর্থাৎ কৃষিতে উৎপাদিত ফসলের ভিত্তিতে শিল্প,যেমন, নদীয়ায় কলা চাষ ভাল হয়, এ থেকে কলা চিপস্ বানানো, ধানের তুষ থেকে ভোজ্য তেল তৈরী, তেল কল, পাট সুতাকল, কাগজ তৈরী শিল্প প্রভৃতি) নিয়োগ করতে হবে৷ ২০ শতাংশ মানুষকে কৃষি-নির্ভর শিল্পে agrico industry) নিয়োগ করতে হবে৷ কৃষিনির্ভর শিল্প বলতে বোঝায়, কৃষির প্রয়োজনে যে শিল্প গড়ে ওঠে,যেমন, কৃষির যন্ত্রপাতি, সার (জৈব সারই ভাল), কীটনাশক (জৈব কীটনাশকের ওপর জোর দিতে হবে) প্রভৃতি তৈরীর শিল্প৷ এরপর ১০ শতাংশ মানুষকে ব্যবসায় নিয়োজিত থাকবে৷

আর দেশের বিশেষ করে অনুর্বর বা কম উর্বর জমিতে অকৃষি শিল্প গড়ে তুলতে হবে৷ অকৃষি শিল্প বলতে বোঝায় যে সব শিল্প কৃষির ওপর নির্ভরশীল বা যুক্ত নয়৷ যেমন, লৌহ-ইস্পাত শিল্প কৃষির ওপর নির্ভরশীল বা যুক্ত নয়৷ যেমন, লৌহ-ইস্পাত শিল্প, গাড়ী তৈরীর কারখানা প্রভৃতি৷ এই অকৃষি শিল্পে দেশের শতকরা ২০থেকে ৩০ শতাংশ মানুষকে নিযুক্ত করা বাঞ্ছনীয়৷ আর যেমন যেমন অকৃষি শিল্পের বিকাশ ঘটানো হবে, তেমন তেমন ভাবে, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প তথা কৃষিনির্ভর শিল্পে নিযুক্ত মানুষের শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে৷ তবে অকৃষি শিল্পে ৩০ শতাংশের বেশী মানুষের নিয়োগ বাঞ্ছনীয় নয়, আবার ২০ শতাংশের কমও বাঞ্ছনীয় নয়৷ ২০শতাংশের কম হলে মানুষের অর্থনৈতিক মান অনুন্নত হবে৷ ৩০শতাংশের ঊধের্ব হলে উৎপাদিত পণ্যের বাজার পাওয়া অসুবিধা জনক হবে৷ তখন বিদেশে বাজার খঁুজতে হবে৷ এই বিদেশে বাজার খোঁজার প্রতিযোগিতা বিশ্বশান্তির পথে কাঁটা৷

প্রাউটের অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের আর একটা গোড়ার কথা হ’ল, সামাজিক অর্থনৈতিক সুবিবেচনার মাধ্যমে বিভিন্ন স্বয়ংসম্পূর্ণ (স্বনির্ভর) অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা৷ এইসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের এলাকাকে ক্রমে ক্রমে বর্দ্ধিত করতে হবে৷ এমনিভাবে স্বনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিস্তার ঘটাতে ঘটাতে একসময় আসবে যখন সারা পৃথিবী একটাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে৷

অবাধ ব্যষ্টিগত উদ্যোগ,না রাষ্ট্রীয় মালিকানা---প্রাউট কোনটা সমর্থন করে? এর উত্তরে এক কথায় বলতে গেলে, প্রাউট চায়---কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য যতদূর সম্ভব সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত৷ আর, এই সমবায়কে মজবুত করার সার্বিক প্রয়াস চালাতে হবে৷ এজন্যে ৩টে জিনিস খুব জরুরী ঃ (১) সামবায়িক মানসিকতা, (২) দেশের মানুষের উন্নত নৈতিকমান, (৩) সমবায়  উদ্যোগের ওপর নীতিবাদী মানুষের কঠোর তত্ত্বাবধান৷ আর এই কারণে একটা সার্বভৌম আধ্যাত্মিক আদর্শের প্রয়োজন খুব বেশী৷

সর্বশেষে বলব, প্রাউটের এই যুগান্তকারী আদর্শকে কার্যে পরিণত করার জন্যে চাই নীতিবাদী, ধার্মিক, সেবাব্রতী ও সংগ্রামী মানুষ৷ নব্যমানবতাবাদ তথা বিশ্বৈকতাবাদ হবে তাদের ভিত্তি৷ প্রাউট তাদের নাম দিয়েছে ‘সদবিপ্র’৷

নীতিবাদী সদবিপ্র পরিচালিত এই ধরণের অর্থনৈতিক গণতন্ত্র্ আজকে সমাজের জটিল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • October 2017 (106)
  • September 2017 (136)
  • August 2017 (105)
  • July 2017 (111)
  • June 2017 (104)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 12
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved