Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

চলুন, সুখী সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে তুলি!

জহরলাল সাহা

১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে  ত্রিপুরার   অন্যতম  দৈনিক  স্যন্দন পত্রিকায়  শ্রদ্ধেয় শম্ভূদেববর্মা ‘‘প্রসঙ্গ এন.আর.সি ও ত্রিপুরা’’  শিরোনামের প্রবন্ধটি সাম্প্রতিককালে একটি উৎকৃষ্ট সমালোচনামূলক  আলোচনা৷  এতে তিনি  সম্মানিত  হরিগোপাল  দেবনাথ, রঘুবীর দাস, জহরলাল সাহা, গৌরাঙ্গরুদ্র পাল, রঞ্জিত  বিশ্বাস,  শংকর দাশ, কপিল  তালুকদার, সংবাদ  প্রতিনিধি  ও জগদীশ  মন্ডল  মহাশয়গণের  লেখার  কিছু সমর্থক  ও কিছু  বিরোধিতা করেছেন৷ সমালোচনা  এক তরফা  হওয়া  উচিত  নয়৷  শ্রী দেববর্মার  গতি ছিল উভয় দিকেই৷ এটা  অবশ্যই  ধন্যবাদই৷

প্রথমেই  আমি মাননীয় শম্ভুবাবু যে যে  কথাগুলো  সমর্থন  করেছেন৷  তা হলো ---

১)  বাঙালীদের  দেওয়া  রাজস্বেই  বর্ত্তমান ত্রিপুরা গড়ে  উঠেছে৷ দাবি  আংশিক সত্য৷ কারণ  চাকলা রোশনাবাদ  সমতল  জমির  খাজনা  হিসাবে  রাজস্ব  আদায়  করা হতো৷  এটা  ছিল ত্রিপুরা রাজার  একটা আয়ের উৎস৷

২) ত্রিপুরার  রাজন্য  আমল  থেকে  বাঙালীদের  অবদান  অপরিসীম  বলে দাবী উঠে৷ দাবিটির  প্রতি একমত  ও  বাস্তবের  নিরিখে স্বীকার  করতে হয়৷

কারণ, রাজন্য আমলে, জনজাতিদের মধ্যে শিক্ষিতের  সংখ্যা ছিল খুবই  নগন্য৷  বীরচন্দ্র মাণিক্য (১৮৬২-৯৬) প্রথম  পূর্ববাংলা পরবর্ত্তীতে পূর্ব পাকিস্তান  অধুনা  বাংলাদেশ থেকে শিক্ষিত  বাঙালীদের  রাজ্যে  আনেন শিক্ষক হিসাবে  নিয়োগের  জন্য৷  কাজেই  জনজাতিদের  মধ্যে  শিক্ষা  বিস্তারের  জন্য  বাঙালীদের  অবদান অনস্বীকার্য৷

দুই, শুধু  শিক্ষা বিস্তারের জন্যই নয়  রাজকার্য বা রাজ্যশাসনের  প্রয়োজনে  দেখা দেয় শিক্ষিত  লোকের৷  তখন  পূর্ববঙ্গ  থেকে  শিক্ষিত লোক আনতে বাধ্য হন৷ তিন রাজ্যে  জনজাতিদের  মধ্যে কৃষি,  ব্যবসা-বাণিজ্য ধর্মপালন  ইত্যাদি  ক্ষেত্রেও বাঙালীদের  অবদান স্বীকার  করতেই হয়৷  যদি স্বীকার  না করে  তাহলে  বাস্তবকে  উপেক্ষা করার  শামিল৷

রাজন্য  আমলের  উল্লেখ্যযোগ্য  বাঙালী প্রশাসকরা  হলেন  নীলমণি দাস,  শম্ভুচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ৷ কুমারগণের  শিক্ষার  জন্য  মহারাজা বীরচন্দ্র রাধারমণ  ঘোষকে  শিক্ষক নিযুক্ত করেন৷ ১৮৯০ খ্রীষ্টাব্দে  উমাকান্ত দাস  শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন৷ পরে মন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন  রায়বাহাদুর মোহিনীমোহন বর্ধন৷  বর্তমানে  উমাকান্ত  দাসের  নামানুসারে  উমাকান্ত  একাডেমী৷

৩) ১৯৪২ সালে ঢাকা জেলার  রাইপুরায়  সাম্প্রদায়িক  দাঙ্গা হয়৷  উদ্বাস্ত বাঙালীরা দলে দলে  ত্রিপুরা আসেন৷ মহারাজা বীরবিক্রম তাদের  সাদরে গ্রহণ  করেন ও  তাদের  থাকা খাওয়ার  ব্যবস্থা করেন৷  শুধু তাই নয়,  শহরতলীর  অরুন্ধতী নগরে  কলোনি  স্থাপন  করে  তাদের  পুনর্বাসনও দেন৷ ১৯৪৬ সনে  নোয়াখালির  সাম্প্রদায়িক  দাঙ্গায়  ক্ষতিগ্রস্থ ও আতঙ্কগ্রস্থ  বাঙালি  দলে দলে  উদ্বাস্তু  হয়ে ত্রিপুরায়  এলে  মহারাজা তাদেরও গ্রহণ ও আশ্রয়  দান  করেন৷  বাঙালীদের  প্রতি  ত্রিপুরার  মহারাজাদের  অবদান সম্পর্কে  বর্তমানে  কতজন  জানে  ও তাদের  অবদান  কি অস্বীকার  করা যায়?

এটাতো  ঠিক  ত্রিপুরার ইতিহাস কতজন জানে?  তবে  মহারাজাদের  অবদান  কেউ বা কোন বাঙালী অস্বীকার করে না করতে  পারে না৷  বাঙালী বিজ্ঞানী  আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র  বসুর  ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ গড়ার  জন্য ত্রিপুরার রাজার অবদান সবাই  শ্রদ্ধার  সঙ্গে  স্মরণ  করে৷  বাঙালী কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে  প্রথম ‘‘ ভারত ভাস্বর’’ উপাধিতে  সম্মানিত  করেন ত্রিপুরার রাজাই৷ পরে তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল  পুরস্কার  পেয়ে  বিশ্বকবি  হন৷

রবীন্দ্রনাথ ও ত্রিপুরার জন্য  কম  করেননি৷  তিনি নীরমহল, উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ, মালঞ্চ নিবাস ইত্যাদির  নামাকরণ  করেন৷ ত্রিপুরার রাজবাড়ীর ইতিহাস নিয়ে  মুকুট, রাজর্ষি, বিসর্জন ইত্যাদি নাটক ও উপন্যাস  লিখে  ত্রিপুরাকে বিশ্বের  দরবারে  তুলে ধরেন৷  তাঁর ‘‘কেন  যামিনী না যেতে  জাগালে  না’’ সঙ্গীতটিও  ত্রিপুরায় বসেই  লেখা৷ তাঁর  লেখা ‘‘ভগ্ণ-হৃদয়’’ কাব্য পড়ে  মহারাজ  বীরচন্দ্র  উৎসাহিত  হন  ও কবিকে  অভিনন্দন জ্ঞাপন  করেন৷

মাননীয় শম্ভু দেববর্মা  কিছু  জনগণনার  পরিসংখ্যান তুলে  ধরেছেন৷ তাতে  সব ক্ষেত্রে  হিন্দু বাঙালীদের  সংখ্যা দেখাননি৷ কথা হচ্ছে  জনজাতি ST)  ও  অন্যান্যদের সম্পর্কে৷ কারণ জেলাপরিষদ, ষষ্ঠ তপশীল  ইত্যাদি তো  জনজাতি  (বাST) দের জন্যে ৷ ধর্মমতের  ভিত্তিতে  জনসংখ্যার  বিভাজন  আলোচ্য বিষয় নয়৷ সে সময়কার  ত্রিপুরার  মুসলমানরা  ও তো বাঙালী৷  মণিপুরীরা  জনজাতি  নয় (বাST নয়)৷ তাহলে  প্রকৃত হিসাবে  দেখবেন ত্রিপুরায়  সর্বকালে Non ST -রা বিশেষতঃ  বাঙালীদেরই  মোট  জনসংখ্যার  অর্ধেকের বেশী বা  সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ ত্রিপুরায়  এমনও  অনেক  বাঙালী বসতি আছে যা আগেও  ত্রিপুরা   বা ভারতে  ছিল  আজও  আছে৷ যথা- ১) শেখেরকোর্টের  পশ্চিমে কুলতলী, গাবতলা, রায়ের  মুড়া  ইত্যাদি৷

২) ত্রিপুরা  বাঙালীর অঞ্চলের ৯০ শতাংশ  পোর্টের মধ্যে৷ তাই  এখানে  বাঙালীদের  বসবাস সুপ্রাচীন৷  এখনকার  মতো  আগে কাঁটা তারের  বেড়া  ছিল না৷  ত্রিপুরা  যখন  একটি  জেলা ছিল  তখনকার ১০টি  মহকুমা  সদরে  বাঙালীদের  রায় অতিপুরানো৷

৩) চাকলা  রোশনাবাদ ছিল ত্রিপুরার রাজার  জমিদারী৷ সেখানকার  রাজস্ব (কর) দাতা  বাঙালীরা  প্রয়োজনে  ত্রিপুরায় এসে  বসবাস  শুরু  করে৷

এবারে  শ্রীদেববর্মা মহাশয়ের  কিছু  বক্তব্যের  সত্যতা  নিয়ে  প্রশ্ণ জাগে৷ যথা---

১)ত্রিপুরার উপজাতিরা/ জনজাতিরা ৫ হাজার  বছর ধরে  ত্রিপুরায় বাস করছে৷  যদি  তা সত্য  হয়  তবে প্রশ্ণ--- এ সময়ে  ও তারা  কেন জাতিতে  উন্নিত  হতে  পারল না?  ত্রিপুরার উপজাতিরা মোট  ১৯টি গোষ্ঠী৷  তাদের  মধ্যে সাঁওতাল  মুন্ডা--- ওঁরা ও ছত্তিশগড়,  ঝাড়খণ্ড  ইত্যাদি  স্থান থেকে এসেছে চা- বাগান নির্মান কাজ, ইটভাটা ইত্যাদির শ্রমিক  হিসাবে৷ তাও বীরচন্দ্র মাণিক্যের সময়  ত্রিপুরায় যখন আধুনিকতার  সূচনা  হয়৷  তাও  দেড়শত  বছরের বেশী নয়৷  পাশ্ববর্তী রাজ্য থেকে  যেমন--- সিকিম  থেকে লেপচা, ভুটান থেকে ভুটিয়া, মেঘালয় থেকে খাসিয়া,  মিজোরাম থেকে লুসাইরা ত্রিপুরা আসে৷ সেও ১০০/১৫০ বছরের  বেশী হবে না৷  পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে  আসে  বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা, মগরা৷ কুমিল্লার লালমাই পাহাড়  এলাকা থেকে আসে  নোয়াতিয়া  ইত্যাদি  আর শ্রীহট্টের  চা বাগান বা পাহাড়  অঞ্চল থেকে  আসে  গারো  প্রভৃতিরা৷  আর রইল বাকী কক-বরক ভাষী ত্রিপুরী, জমাতিয়া, রিয়ারা৷  তবে  তাদের মধ্যে  ভাষা, উচ্চারণ শৈলী, গোষ্ঠীগত  কৃষ্টিতে কমবেশী প্রভেদ  রয়েছে৷  শোণা যায় এরা  ৫৫০ বৎসর  আগে ব্রহ্মদেশের (অধুনা মায়ানমারের) আরাকান, শান ইত্যাদি অঞ্চল থেকে জিবীকা ও খাদ্যের  জন্য ত্রিপুরায় আসে৷  ওদের রাজাদের  গতিপথ ছিল  বিলোনীয়ার রাজনগর, উদয়পুরের রাঙ্গামাটি,  অমরপুর  খয়েরপুর  ও শেষে  আগরতলা৷

ত্রিপুরার ইতিহাসের  উপাদান বলতে ১৪৬৪ সালের  রত্ন মাণিক্যের আমলের  একটি মুদ্রা পাওয়া যায়৷  ১৫০১ সালে  ধন্যমাণিক্য রাঙামাটি  বর্তমান উদয়পুরে ত্রিপুরেশ্বরীর  মন্দির  নির্মান করেন৷

কিন্তু উনকোটির  শিলা  মূর্ত্তিগুলি  ও পিলাকের দেবদেবীর  মূর্ত্তিগুলি  ত্রিপুরার  রাজারা তৈরী করেন এমন  কোন প্রমান পাওয়া  যায় না৷  মহারাজা ধর্মমাণিক্যের (১৪৩১-৬২) সময়  রচয়িতা/ সংকলক/ সম্পাদক  দুর্লভেন্দ্র শুক্রশ্বর ও বানেশ্বরদের  দিয়ে ‘‘রাজমালা’’ প্রথমখণ্ড রচনা করান৷ তাই  পঞ্চদশ শতকের  আগের ত্রিপুরার ইতিহাস  কিংবদন্তির  আড়ালে৷ কিংবদন্তি কোন ইতিহাস হতে পারে না৷

তবে দুঃখের  বিষয়  ত্রিপুরার ইতিহাস বিকৃত  হতে শুরু  করে ১৯৭৮ সাল অর্থাৎ কম্যুনিষ্টদের  রাজত্ব থেকে৷ ভারতে  আভ্যন্তরী জরুরী অবস্থায়  বাড়াবাড়িতে  এন্টি কংগ্রেস সেন্টিমেন্টে ১৯৭৮ সালে  ত্রিপুরা বিধানসভায়  ৫৬টি আসন নিয়ে  কম্যুনিষ্টরা ক্ষমতায় আসে৷ আর বাকী চারটি  পায়  যুবসমিতি৷ কম্যুনিষ্টদের মনে  ১৯৪৯-৫১ সালের ‘বাঙলা খেদা’ আন্দোলনের  কথা  মনে পড়ে৷ কম্যুনিষ্টমুক্তাঞ্চল গড়ার’’ এইতো সময়৷  মুখে  শ্লোগান ছিল৷  ‘‘গরীবের বন্ধু সরকার৷’’ ত্রিপুরার আপামর জনগণ সহজ সরল মন নিয়ে  ওদের  বিশ্বাস করে৷  ওরা  বাঙালীদের  শোষক আখ্যা দিয়ে  সরকারী পেট্রোল ডিজেল পুড়ে  এন্টি বেঙ্গলী জনমত গড়তে  থাকে৷  আর  উপজাতিদের  সরল মনকে  নানা আষাঢ়ে গল্প  ফেঁদে ‘বাঙালী বিরোধী’ করতে থাকে৷  গঠন  করে ৭ম তপশীল  অনুযায়ী উপজাতি  জেলা পরিষদ, তারপর ১৯৮০ সালের  গণহত্যা৷ তার  উপর কংগ্রেস  সংবিধান  সংশোধন  করে ৬ষ্ঠ তপশীল প্রয়োগ  করে মিশ্র বসতি ত্রিপুরায়৷  একটা স্থায়ী বিভেদ অবিশ্বাসের  প্রাচীর  গড়ে তোলে৷ তাই  ত্রিপুরার চরম সর্বনাশের জন্য  দায়ী কম্যুনিষ্টরা৷ তাই তো  দীর্ঘ ৩৫/৪০ বছরের  এন্টিকম্যুনিষ্ট সেন্টিমেন্টে ২০১৮ সালে  বিজেপি-আই.পি.এফ.টি জোট ৪৬টি আসনে  জয়লাভ করে ক্ষমতায় বসে৷

১৯৪৯ সালে  ত্রিপুরা ভারতে  যোগ দেবার সময় মাত্র ১০৯ কিমি পাকা রাস্তা ছিল৷ তার আগে  ত্রিপুরার রাজা আগরতলা থেকে উদয়পুর  যেতে হলে--- আগরতলা থেকে  আখাউড়া রেল ষ্টেশন৷ রেলে  কুমিল্লা  গিয়ে  গোমতী নদী দিয়ে  নৌকায়  উদয়পুর যেতেন৷ সে  ত্রিপুরা ১৯৫২-৫৭ পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনায়  আগরতলা-ধর্মনগর (আসাম-আগরতলা রোড) ও দক্ষিণদিকে  আগরতলা  থেকে সাব্রুম রোড তৈরী হয়৷  তারপর ১০টি  মহকুমা সদরকে  ওই দুই  রাজপথের  সাথে  যুক্ত করা হয়৷ উত্তরদিকে তেলিয়ামুড়া, আমবাসা,  মনু, কুমারঘাট  পেঁচারথল, পানিসাগর  ইত্যাদি  সমৃদ্ধ  বাজারগুলি  গড়ে উঠে৷ আর দক্ষিণে বিশ্রামগঞ্জ, শান্তির  বাজার  ইত্যাদি বাজারগুলিও সৃষ্টি হয়৷  যাদের  অনেকগুলি  আজ শহরে  পরিণত  হয়েছে৷ ১৯৫২-৭৭ এই ২৫বছরে  মিশ্রবসতির  ত্রিপুরা বাহ্যিক  ও আন্তরিকভাবে  অনেকটা এগিয়ে  যাচ্ছিল৷ কিন্তু কম্যুনিষ্টরা  রাজনৈতিক  আষাঢ়ে গল্পে ১৯৭৮-২০১৮ এই ৪০ বছরে  বাহ্যিক প্রগতি অবিশ্বাস্যের  প্রাচীর  খাড়া  হয়ে গেছে৷  দায়ী কে?  দায়ী সি.পি.এম অর্থাৎ কম্যুনিষ্টরা৷

ছোট এ প্রতিবেদনে বিশেষ  বলার  সুযোগ  কম৷  তবুও  একান্ত  নিজের  অভিজ্ঞতায় ত্রিপুরার সরল প্রাণ উপজাতিদের আতিথিয়তার কিছু ব্যষ্টিগত প্রমাণ দিতে চাই৷ ১৯৬৫ সালে সদর বি ইন্সেপেক্টরের  অধীন  দক্ষিণ পূর্ব সার্কেলের  অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের এক্তিয়ারে আমি  শিক্ষকতার চাকুরী  পাই৷  অফিসটা ছিল বিশালগড়  টাউন জে.বি.স্কুলে৷ আমি বিশালগড় গোলাঘাঁটি টাকার জলা---জমপুইজলা পার হয়ে হেঁটে প্রায় ৪০ কিমি দূরে  চাম্পাশর্র্ম জে.বি.স্কুলে এক শিক্ষক বিদ্যালয়ে  চেয়ারম্যান শ্রী বুদ্ধিচন্দ্র কলইয়ের কাছ থেকে  চার্জ নিয়ে ক্লাশ থ্রী পর্য্যন্ত ১৬জন ছাত্রের শিক্ষক হই৷ এ বিদ্যালয়ের  শিক্ষক কাঁকড়াবন বৈসিক ট্রেনিং কলেজে এক বছরের  জন্য ট্রেনিংয়ে যান৷  আমি তাঁরই সাবষ্টিটিউট শিক্ষক৷ চাকুরী পাবার তিন মাস পর  বেতন পাই৷  এতদিন শ্রী পবিত্র কলইয়ের বাড়ীতে খাই, থাকি৷ তিন মাস পর  বেতন  পেলে  পবিত্র বাবু  শুধু চার্ডলের  দাম মাত্র ২০ টাকা আমার কাছ থেকে নেন৷

গ্রামের  লোকেরা আমার জন্য  ঘর  তুলে দেয়, চৌকি, বালিশ, ডেক কড়াইয়ের  ব্যবস্থাও  করে দেন৷  শুনা  যায়  এক শিক্ষক  স্কুলের  শিক্ষকরা  মাপে তিনদিন স্কুলে যায় আর ২৭ দিন বাড়ীতে  থাকে৷  আমি  অফিসের  কাজ বেতন  তোলা  ও বাড়ীতে  বাজার হাট  করে দেওয়া  নিয়ে  তিন দিন  স্কুল  বন্ধ  বা ষ্টেশন লিভ্  করতাম আর বাকী ২৭ দিন স্কুল করতাম ও ষ্টেশনে থাকতাম৷

ছাত্রদের সাথে  বিকালে  খেলাধূলা, শরীরচর্চা করতাম৷ যখন  আমি বদলী  হই--- ছাত্র/ছাত্রারা কেউ একঘটি দুধ,  কেউ  একটা পাকা  পেঁপে, কেউ ৮/১০ টা পাকা  সবরী কলা ইত্যাদি আমার  জন্য  নিয়ে এলো আনন্দে  আমার  চোখে  জল  আসার ব্যাপার ৷ আমি  কি করব  এসব নিয়ে৷ প্রত্যেকের  আনা আদরের  শ্রদ্ধার  জিনিষটা আমি  গ্রহণ করি  ও একের  জিনিস অন্যকে  দিয়ে দিই৷ আর  গ্রামবাসী ব্যাণ্ড পার্টি  বাজিয়ে  অনেকটাই  এগিয়ে দেয়৷ ৫ কিমি দূরে  দারকাইছড়া  স্কুলে ২ জন গ্রামবাসী আমার  লাগেজসহ  আমাকে  পৌঁছিয়ে  দেয়৷  জানিনা  এমন  বিদায়  সম্বর্ধনা অন্য কেউ  পেয়েছে  কি না?

১৯৬৬ সালে  দারকাইছড়া জেবিস্কুলে ছাত্র/ছাত্রা জনা চল্লিশেক৷ ক্লাসফাইভ পর্য্যন্ত৷  থাকতাম শ্রী শুকরাম  দেববর্মা বাড়ী৷ তিনি আমাকে  নিজের  ছোট ভাইয়ের মত দেখতেন৷  এটাও ছিল সিঙ্গল টিচার স্কুল৷ তাঁদের আতেথিয়তার কথা আজও ভুলতে  পারিনা৷

 এবছরেরই  শেষের দিকে তেলিয়ামুড়া ব্রহ্মছড়া নিভু বিদ্যালয়ে  বদলী  হয়ে  আমি ক্লাশ ওয়ান থেকে ক্লাশ ফাইভ পর্য্যন্ত ১৪০ জনের উপর  ছাত্র৷ মিশ্র বসতি এলাকা৷ ওই সিঙ্গল টিচার স্কুল৷ আমার বাড়ী থেকে ৫ কিমি  দূরে পায়ে  হেঁটে গিয়ে  একদিন সকালে  পথে  বাঘ  দেখতে পাই৷ তারপর  স্কুলটাকে  দুপুরে করে নিই৷ সেখানকার ছাত্ররা এখন ঠাকুর দাদা হয়ে গেছে৷ তবুও ওরা  দেখা হলে  পায়ে  পড়ে নমস্কার করে৷ আদর করে বলে স্যার! কেমন  আছেন? এরপর একটা দ্বাদশশ্রেণী বিদ্যালয়ে  বদলী হয়ে যাই৷ সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করি৷

আমার শিক্ষক জীবনের স্কুলগুলিতে গিয়ে সমীক্ষা করা যেতে পারে৷ আমি একজন মানবতাবাদী মানুষ৷ আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান সবাই  সমান৷ সকলেই দেবশিশু (Divine Child) আমার লেখাগুলোতে  কোথাও উপজাতি  সাধারণের  বিরুদ্ধে  নেই৷  বরং কম্যুনিষ্ট নেতাদের বানানো আইন  কংগ্রেসের, বিজেপি নেতাদের আইনী পদক্ষেপ  নিয়েই  আমার সব বক্তব্য৷ চলুন, ত্রিপুরার সকলের  স্বার্থে ১৯৭৭ সনের আগের  পরিবেশ আমরা ত্রিপুরার ফিরিয়ে আনি৷ তাতে সবার  কল্যাণ হবে৷  নইলে, ওই পুরানে কথা গাঁয়ে আগুন  লাগলে  দেবালয় ও বাঁচবে না৷

ত্রিপুরার আসল  সমস্যা অর্থনৈতিক৷ সমস্যা কর্মসংস্থান, ক্রয়ক্ষমতা ও সকলের  পারিবারিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য৷ এখানে কার কি ধর্মীয় মতবাদের কে কোন রক্তের, কোন ভাষার--- এটা  বিষয় নয়৷  মিলন---মিশ্রণের  মাধ্যমে রক্তের সংমিশ্রন ঘটে৷ তাতে উন্নত দেহ, উন্নত মন (বুদ্ধি) সম্পন্ন মানুষ তৈরী  হয়৷ তাতেই সমাজের  সকলের কল্যাণ হবে৷ সুখী সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে উঠবে৷ আর কি?

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • January 2019 (101)
  • December 2018 (128)
  • November 2018 (161)
  • October 2018 (135)
  • September 2018 (93)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 9
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved