প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

ব্লক ভিত্তিক পরিকল্পনা

প্রাউটের যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মেসিনারি, তা মুখ্যতঃ কাজ করবে কেন্দ্রীয় স্তরে, রাজ্য স্তরে, জেলা স্তরে ও ব্লক স্তরে (অবশ্য ওয়ার্লড গব্ণমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরে গ্লোব্যাল স্তরেও এই পরিকল্পনা মেসিনারী কাজ করবে)৷ ব্লক স্তরে যে পরিকল্পনা মেসিনারি কাজ করবে, প্রাউটের অর্থনীতিতে তাই হবে সর্বনিম্ন পরিকল্পনা সংস্থা৷ অর্থনৈতিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্যে পরিকল্পনাকে নীচের থেকে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে হবে৷ সেটাই হচ্ছে নীতি৷ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে হতে হবে ব্লক ভিত্তিক৷

দুনিয়ার মানুষ এক হও

মানুষের ক্ষুধা  অনন্ত৷ এই অনন্ত ক্ষুধাকে সে যদি জাগতিক ভোগ্য বস্তুর দিকে ছুটিয়ে দেয় তাহলে মানুষে-মানুষে সংঘর্ষ বাধবেই৷ কারণ জাগতিক সম্পদ সীমিত৷ একজনের প্রাচুর্য ঘটলে অন্যের অভাব দেখা দেবে৷ মানুষের এই ক্ষুধা মানস তথা অধ্যাত্ম সম্পদেই মেটাতেই হবে৷ ব্রহ্ম অকৃপণভাবে অনন্ত মানস তথা অধ্যাত্ম সম্পদ মানুষের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন৷ মানুষকে

বিশ্বসমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ

প্রকৃত অধ্যাত্মদর্শনই বিশ্বসমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ৷ সে বিচারে আনন্দমার্গের আদর্শকে লতে পারি স্পর্শমণি৷ কবি কল্পনার স্পর্শমণি যেমন স কিছুকেই সোণায় পরিণত করে দেয় আনন্দমার্গের দর্শনও ঠিক তেমনি যে সমস্যার ওপরেই প্রয়োগ করা হোক না কেন ন্যায়-ধর্মসম্মত সদুত্তর সে অবশ্যই বের করে দেয়৷

ক্রান্তি ও বিক্রান্তি

সকল গতিই সঙ্কোচ-বিকাশী৷ শক্তি সম্প্রয়োগের দ্বারা সঙ্কোচকে আরো সঙ্কুচিত করে দিলে পরবর্তী বিকাশে উল্লম্ফন দেখা দেয়৷ এই উল্লম্ফিত বিকাশের ফলে সৃষ্ট ক্রান্তিকে বিপ্লব লাই সঙ্গত৷ ঠিক তেমনি শক্তি সম্প্রয়োগের দ্বারা বিকাশকে দীর্ঘায়িত করে দিলে পরবর্তী সঙ্কোচে অধিক পরিমাণ ঝিমুনি দেখা দেয়৷

সমাজচক্র

সমাজচক্র ঘুরে চলেছে৷ শূদ্র যুগের পরে এসেছে সর্দারদের যুগ অর্থাৎ ক্ষাত্র যুগ, তারপরে বিপ্রযুগ, তারপর বৈশ্য যুগ আর তারপর শূদ্র বিপ্লবের পরে চক্রের দ্বিতীয় পরিক্রান্তিতে আসে নূতন ক্ষাত্র যুগ---যে ক্ষত্রিয়রা শূদ্র বিপ্লবে নেতৃত্ব করেছিল তাদের যুগ৷ চক্র এইভাবেই ঘুরে চলবে৷ নিছক আদর্শবাদ প্রচার করে এর ঘোরা থামানো যাবে না৷ একটি যুগের পর অপর যুগটি ক্রমবিন্যস্ত হয়ে রয়েছে৷ একটি যুগের গমনের পরে অন্যের আগমনের নাম দিতে পারি ক্রান্তি৷ একটির শেষ অন্যটির শুরু এই যুগসন্ধির অবস্থাকে লতে পারি যুগসংক্রান্তি৷ শূদ্র-অভ্যুত্থানের পর থেকে পরবর্তী শূদ্র-অভ্যুত্থান পর্যন্ত চক্রের সম্পূর্ণ পরিক্রমণের নাম দিতে পারি পরি

বাঙলার নববর্ষ

আমরা  পৃথিবীর–পৃথিবী আমাদের দেশ৷ আরও ভালভাবে বলতে গেলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই আমাদের দেশ৷ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক কোণে পৃথিবী নামে যে ছোটো গ্রহটা আছে–সেই পৃথিবীর এক কোণে বাঙালী নামে যে জনগোষ্ঠী আছে সেই জনগোষ্ঠীও অতীতের অন্ধকার থেকে এগোতে এগোতে, তার অন্ধকারের নিশা শেষ হয়ে গেছে, তার জীবনে নোতুন সূর্যোদয় এসেছে৷ এবার তাকে এগিয়ে চলতে হবে৷ চলার পথে বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই৷ কমা, কোলন, সেমিকোলনের কোনো যতি চিহ্ণ নেই৷ তাকে এগিয়ে চলতে হবে৷ এগিয়ে সে চলেছে, চলবে৷ চলটাই তার জীবন–ধর্ম, অস্তিত্বের প্রমাণ, অস্তিত্বের প্রতিভূ হ’ল চলা৷ কেউ যদি চলতে চলতে থেমে যায়, বুঝতে হবে সে জীবনের ধর্মকে খুইয়ে বসেছে৷ সব কিছুই চলছে

শিক্ষা-ব্যবস্থা ও দলীয় রাজনীতি

দলীয় রাজনীতির হাত থেকে শিক্ষা-ব্যবস্থাকে সযত্নে মুক্ত রাখা দরকার৷ শিক্ষা-ব্যবস্থার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের কিন্তু পঠন-পাঠন,পাঠরীতি তথা পাঠ্য-নির্বাচনের একচ্ছত্র অধিকার শিক্ষাব্রতীদেরই থাকা উচিত৷ রাষ্ট্র এই শিক্ষাব্রতীগণকে বা শ্বিবিদ্যালয়কে পরামর্শ দিতে পারে---হুকুম করতে পারে না, কোনো প্রস্তাব বিচার-বিবেচনার

পুলিশ-মিলিটারীর প্রয়োজনীয়তা

বিদ্যা-অবিদ্যার সংগ্রাম চিরকালই চলৰে৷ সুতরাং কম-ৰেশী পুলিশ-মিলিটারীর প্রয়োজন চিরদিনই থাকৰে৷ তবে হ্যাঁ, বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সে প্রয়োজন কমে যাৰে৷ বিদ্যা-অবিদ্যার সংগ্রাম থাকায় শ্রেণী-সংঘাত কম-ৰেশী চিরকালই চলৰে৷ তাই শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে হাত-পা ছড়িয়ে নাক ডাকিয়ে আয়েসের সঙ্গে ঘুমোৰে---এ ধরণের কল্পনা যারা করে থাকেন, তাঁ

দলীয় রাজনীতি

মানবীয় ঐক্যকে  যারা বাধা  দিচ্ছে বা বাধা দেবার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে দলীয় রাজনীতি অন্যতম l  বস্তুতঃ এই দলীয় রাজনীতি জিনিসটা রোগজীবাণুর চাইতেও ভয়ঙ্কর । এতে ধীরে ধীরে মানব মনের সমস্ত সুকুমারবৃত্তি, সমস্ত সরলতা তথা সেবাপরায়ণতা সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যষ্টির যোগ্যতার চাইতে দলীয় তকমার মর্যাদা শীতে,