Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

তালাক প্রথা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় ও প্রাউটের বক্তব্য

মুসলমান সমাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা প্রচলিত ছিল ঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো কারণে বনিবনা না হলে পুরুষ তিনবার ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যেত৷ এখানে স্ত্রীর কোনো কিছু বলবার অধিকার ছিল না৷ এমনকি, কিছুক্ষণ পরে স্বামীও যদি মনে করত, তার এটা করা ঠিক হয়নি, তাহলেও তাকে এই বিবাহ বিচ্ছেদ মেনে চলতে বাধ্য হতে হত৷ এর পরে বহু মুসলীম নারীর জীবনে নেমে আসত দুর্বিসহ অন্ধকার৷ ছেলেমেয়েদের নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়তে হ’ত তাদের৷ এমনকি প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পাওয়ার কোনো অধিকার থাকত না৷

নারী জাতির পক্ষে এই চরম অবমাননাকর ও দুঃখকর তিন তালাক প্রথার বিরুদ্ধে ভারতের শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে৷ এই তিন তালাক প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের স্বাধীনতার সত্তর বছর পরে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে৷

ডগ্মা মানব জাতির পক্ষে এক বিরাট শত্রু৷ ডগ্মা হলো অযৌক্তিক বিশ্বাস৷ ডগ্মা কি? ডগ্মা হলো জনসাধারণের মনে এক গণ্ডী বেঁধে দেওয়া হয়, এর বাইরে যাওয়া চলবে না, এ ব্যাপারে কোনো যুক্তি দেওয়া চলবে না, এটা মানতেই হবে৷ মানুষও ভয়ে এইটাকে মেনে চলে৷ প্রাউট সমস্ত প্রকার ডগ্মার বিরোধী৷ প্রাউট বলে, মানুষকে যুক্তি-বিবেকের পথ ধরে চলতে হবে৷ সমস্ত ডগ্মার প্রাচীর ভেঙ্গে এগোতে হবে৷

ইসলাম ধর্মের প্রায় গোঁড়ার দিক থেকেই নাকি ‘তিন তালাক’ প্রথা চলছে৷ বলা হচ্ছে, পুরুষ যদি এক নিঃশ্বাসে তিনবার ‘তালাক’ বলে বসে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেল৷ কারুর কিছু বলবার বা করবার নেই৷

গত ১৪০০ বছর ধরে মুসলিম সমাজে এই অমানবিক প্রথা চলে আসছে৷ মুসলিম সমাজের মধ্যেও যারা বিবেকবান্ তাদের বহু আন্দোলনের ফলে কিছু দেশে এই অযৌক্তিক, অমানবিক ‘তিন তালাক’ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ হয়েছে৷ কিন্তু ভারতের মত তথাকথিত গণতান্ত্রিক ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাষ্ট্রে এতদিন এই প্রথা বহাল তবিয়তে চলছিল৷

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সায়রা বাণু ও পশ্চিমবঙ্গে হাওড়া জেলার ইশরত জাহান, আমেদাবাদের আফ্রিণ রহমান, গুশশান পারভিন ও উত্তরপ্রদেশের আতারি সাবরি ‘তিন তালাক’ প্রথার চরম শিকার হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই চরম অমানবিক ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করার জন্যে আবেদন করেছিলেন৷

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গত ২২শে আগষ্ট প্রধান বিচারপতি খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে এই ‘তিন তালাক’ প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন৷ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি৷ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে প্রধান বিচারপতি জে. এস. কেহর ও বিচারপতি এস. আব্দুল নাজির সরাসরি এই ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করতে চাননি৷ কিন্তু অপর তিনজন বিচারপতি---কুরিয়েন জোশেফ, বিচারপতি রহিস্তন ফলি নরিম্যান ও বিচারপতি ইউ. ইউ. ললিত স্পষ্ট ভাষায় এই ‘তিন তালাক’ প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন৷ তাই পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে তিনজন বিচারপতির ‘তিন তালাক’ প্রথার নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত প্রকাশ করায় সংখ্যাধিক্যের রায়েই ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ হয়ে গেল৷ শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়, আগামী ছয় মাস ‘তিন তালাক’ দিলে কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না৷ ছয় মাসের মধ্যে সরকারকে এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন করতে হবে৷ এই সময়ের মধ্যে সরকার আইন প্রণয়ন না করলেও ‘তিন তালাক’ প্রথার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে৷

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম নারীরা খুশী৷ তবে কেবল মুসলিম নারীদের পক্ষে নয়,  নারী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এই রায় একটা বড় পদক্ষেপ৷

বর্তমানে প্রায় সব দেশেই নারী জাতিকে কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো গণ্য করা হয়৷ নিপীড়িত মানবতার মুক্তিমন্ত্র ‘প্রাউট’-এর উদগাতা শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘মানব ইতিহাসে দেখেছি, নারীরা কেবল নারীত্বকে গৌরবান্বিত করেনি, সমস্ত মানব জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন৷ দর্শনে, আধ্যাত্মিকতায়, সমাজ সংস্কারে, শিক্ষার ক্ষেত্রে, বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে---কোথাও নারীরা পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই৷ জটিল দার্শনিক তত্ত্বের সমাধানেই হোক বা সামাজিক শিক্ষা, নৈতিক সংস্কারই হোক---সর্বক্ষেত্রেই মেয়েরা পুরুষের মতই সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে৷

কিন্তু ইতিহাসের ধারাপ্রবাহে আমরা দেখেছি সারা পৃথিবী জুড়ে নারীদের ওপর শোষণের মর্মান্তিক চিত্র৷ আজও পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীর স্থান প্রায় দাসীর মতই---এটাকে কেবল মন্দই নয়, এটা নিন্দনীয়ও৷ নারীদের ওপর এই ধরণের অবদমন ও ভাবজড়তার সাহায্যে তাদের ওপর মানস-অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানানো উচিত৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • January 2019 (101)
  • December 2018 (128)
  • November 2018 (161)
  • October 2018 (135)
  • September 2018 (93)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 9
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved