রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন তখন থেকেই তাঁর কিছু বক্তব্য, থুড়ি প্রতিশ্রুতি বাংলার এক অংশের মানুষের মনে গভীর প্রত্যাশা জাগিয়েছিল৷ সেইসময় থেকেই সাধারণ মানুষ বিরোধী নেতার কথাগুলোকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে এসেছে ও তাঁর প্রতিশ্রুতিতে যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছে৷ নেতাদের বক্তব্যকে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের কথাকে বিশ্বাস করার মধ্যে সাধারণ মানুষের কোনো ভুল থাকতে পারে না৷ যিনি বা যাঁরা সমাজে নেতৃত্ব দেন তাঁদের কথাকে কী সাধারণ মানুষ অবিশ্বাস করবে? নিশ্চয়ই তা উচিত হবে না৷ এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধী নেতার প্রতিশ্রুতিকে সাধারণ মানুষ এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের ক্ষমতা বদল পর্যন্ত হয়ে গেল৷ যদিও অনেকের আবার ভিন্ন মতামত আছে! যাইহোক পূর্বতন বিরোধী দলের নেতা বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এটা তো সত্য৷ এখন বিজেপি দলের সুযোগ্য এই নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার সময় এসেছে৷ রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন৷
কেন্দ্রে বিজেপি পরিচালিত এন ডি এ সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে পেট্রোল,ডিজেল সহ রান্নার গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে৷ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সহ নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো রান্নার গ্যাস কিনতে যথেষ্ট আর্থিক সমস্যায় পড়ছে৷ প্রায় এক হাজার টাকা দাম একটা ১৪কেজির সিলিন্ডারের৷ যেসময় এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,তখনকার বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সভায় ও সাংবাদিকদের সামনে বলতেন তাঁদের দলকে রাজ্যে ক্ষমতায় নিয়ে এলেই ঐ হাজার টাকা দামের গ্যাস ৪৫০টাকায় তাঁরা দেবেন৷ শুভেন্দু বাবুর দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি রাজ্যবাসীর মনে দারুন প্রভাব ফেলে৷ তখন থেকেই সকলে অপেক্ষা করে আছেন ৪৫০টাকায় গ্যাস পাওয়ার জন্য! সাধারণ মানুষের অপেক্ষা যেন আর দীর্ঘায়িত না হয় সেই ব্যাপারে সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কান পর্যন্ত কথাটা পৌঁছে দেওয়ার! বা তাঁকে একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাদবপুর-এইসব নানা বিষয়ে এমনিতেই মুখ্যমন্ত্রীর মাথা ঘেঁটে গেছে৷ তিনি যে কম দামে গ্যাস দেওয়ার কথা অতীতে বারে বারে বলেছেন,সেসব কথা মনে রাখা কি তাঁর পক্ষে এখন সম্ভব! এখন প্রচুর কাজের চাপ৷ ১৫ বছরে তো আগের সরকার কিচ্ছুটি করে নি! সেসব সামলাবেন, না কবে কি বলেছিলেন সেইসব ভাবতে থাকবেন! এসময় সাংবাদিক ভাই বোনেরা যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিতেন ঐ গ্যাসের দামের বিষয়টা, তাহলে সেটা ভালো হতো৷ তার উপরে যাঁরা আবার নাকি চোখে চোখ রেখে প্রশ্ণ করেন তাঁরা যদি এই বিষয়টা নিয়ে কিছু একটা করতে পারতেন, তা না করে এমন ঝিমিয়ে যাচ্ছেন কেন? আপনারা যদি চোখে চোখ রেখে প্রশ্ণ করে জেনে নিতে পারতেন কবে থেকে কম দামে রান্নার গ্যাস পাওয়া যাবে তাহলে সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তি পেতেন৷ আর দুহাত তুলে আপনাদের আশীর্বাদ করতেন, এই আর কি!
জনতার দরবার মুখ্যমন্ত্রী চালু করেছেন৷ ভালো ভিড় ও হচ্ছে জানা গেছে৷ অনেকে গিয়ে তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি বলছেন, সমাধানও হয়তো বা হচ্ছে৷ কিন্তু মমতার সরকার যে গ্যাসের দাম কমাতে পারত,সেটা না কমিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে টাকা বের করেছে সেটা নিয়ে কেউ অভিযোগ করছে না কেন মুখ্যমন্ত্রী কে সামনে পেয়েও৷ যাঁরা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য যাচ্ছেন,যান কিন্তু মমতার সরকার তো আপনার কাছ থেকেও বেশি দাম নিয়েছে গ্যাসের৷ কথাটা একবার তুলুন না মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, যিনি তুলবেন তাঁর নিজের সাথে রাজ্যের সকলেই তো লাভবান হবে৷
এদিকে বিরোধী দলের একশ্রেণীর দুষ্টু লোক বলছে -- কোনোদিনই নাকি মুখ্যমন্ত্রী ঐ দামে অর্থাৎ ৪৫০টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার দিতে পারবেন না৷ ওটা নাকি বোটে (vote) জেতার জন্য বলতে হয়! তাই বলেছেন৷ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আবার যেমন তেমন মানুষ নন, তিনি সতীশ সামন্ত, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, মাতঙ্গিনী হাজরার ভাবশিষ্য৷ তিনি রাজ্যবাসীকে যে কথা দিয়েছিলেন, অবশ্যই তা রাখবেন৷ ভরসা হারাবেন না৷ যেদিন থেকে ৪৫০টাকায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার আপনার হেঁসেলে পৌঁছে যাবে, তখন কি বলবে ঐসব দুষ্টু লোকেরা! তারা বরং এখন থেকে খুঁজে রাখুক কী উত্তর দেবে সেদিন!
- Log in to post comments