দ
(৩) একটু আগেই ৰলছিলুম, ‘দী’ ধাতুর মানে কাটা৷ কাপড় কাটা, বাঁশ কাটা, তরকারী কাটা---সব ক্ষেত্রেই ‘দী’ ধাতু চলৰে৷ তবে মারপিট কাটাকাটির জন্যে ‘দী’ ধাতুর ব্যবহার বড় একটা নেই৷
(৩) একটু আগেই ৰলছিলুম, ‘দী’ ধাতুর মানে কাটা৷ কাপড় কাটা, বাঁশ কাটা, তরকারী কাটা---সব ক্ষেত্রেই ‘দী’ ধাতু চলৰে৷ তবে মারপিট কাটাকাটির জন্যে ‘দী’ ধাতুর ব্যবহার বড় একটা নেই৷
(১২) একটু আগেই ৰললুম, ‘থুড্’ধাতুর অর্থ ঢেকে রাখা, লুকিয়ে রাখা৷ কোন বস্তুকে খেয়ে ফেললে তাকে ঢেকে রাখা বা লুকিয়ে রাখা হ’ল৷ তাই ইত্যর্থে ভক্ষণ করা অর্থেও ‘থুড + ‘ড’ করে ‘থ’শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে৷
চ ঃ (১) ‘চি’ ধাতু + ‘ড’ প্রত্যয় করে ‘চ’ শব্দ নিষ্পন্ন হচ্ছে যার মানে হ’ল চয়ন করা হিন্দীতে ‘চুনন্া’৷ এই চয়ন করা থেকেই বাংলায় ‘চয়ন’, ‘সঞ্চয়ন’, ‘সঞ্চয়িতা’, ‘সঞ্চিতা’, ‘অপচয়’, ‘অপচিত’, ‘উপচয়’ (উপচে পড়া), ‘উপচিত’ প্রভৃতি শব্দগুলি এসেছে৷ আমরা ভাল করে একটি মালা গাঁথবার জন্যে ৰাগান থেকে ভাল ভাল ফুল ৰাছাই করে নিই ও তা তুলি৷ এই ফুল তোলা হ’’ল পুষ্প চয়ন করা৷ যিনি বিশ্বের সকল জায়গা থেকে সৎ নীতিনিষ্ঠ ভাল মানুষগুলিকে ৰাছাই করে নিয়ে নিজের ‘গণ’ বা অনুচর বা সহকারী করে নেন, তাঁদের সাহায্যে বিশ্বে সৎ ভাবনার প্রচার-প্রসারের চেষ্টা করেন তিনিও নিশ্চয়ই ‘চ’৷ তাই শিবের একটি নাম চ’৷
(১৪) ‘‘তং জাড্যাৎ তারয়েৎ যস্তু সঃ তন্ত্রঃ পরিকীর্তিত’’৷ অর্থাৎ ‘ত’-রূপী জড়তার হাত থেকে যা ত্রাণ করে তা-ই তন্ত্র৷ দীর্ঘকাল থেকে তন্ত্রের দু’টি শাখা রয়েছে---বিদ্যাতন্ত্র ও অবিদ্যাতন্ত্র৷ বিদ্যাতন্ত্রের ধ্যেয় হচ্ছেন পরমপুরুষ৷ বিদ্যাতন্ত্রের ধ্যেয়কে ৰলা হয় শ্রেয়৷ এই শ্রেয়ের সম্প্রাপ্তিতেই ত্রিবিধ দুঃখের বিমুক্তি........
(১৫) ‘ৰল্’ ধাতুর অর্থ ৰেঁচে থাকা, শক্তি সঞ্চয় করা৷ ‘ৰল্’ ধাতুর উত্তর ‘ণিনি’ প্রত্যয় করে পাই ‘ৰলী’---ভাবারূঢ়ার্থে ‘যার ৰল আছে’, যোগারূঢ়ার্থে ‘দৈত্যরাজ মহাৰলী’---পৌরাণিক ইতিহাসে যিনি অতিশয় দাতারূপে চিহ্ণিত ৰলা হয়ে থাকে ঃ
‘‘অতিদর্পে* হতা লঙ্কা অতি মানে চ কৌরবাঃ৷
অতি দানে ৰলীর্ৰদ্ধঃ অতি সর্বথা বর্জয়েৎ৷৷’’
অতিরিক্ত অহংকারের জন্যে লঙ্কার পতন হয়েছিল৷ অতিরিক্ত সম্মানৰোধের জন্যে কৌরবেরা ধবংস হয়েছিল৷ অতিরিক্ত দানে দৈত্যরাজ ৰলীকে পাতালে যেতে হয়েছিল৷ অতিরিক্ত সবকিছুকে বর্জন করে চলৰে৷ অতিশয় সবকিছু নিন্দার যোগ্য৷
ঔপল ঃ উপ-লা+ ড = উপল৷ ইংরেজীতে যাকে ৰলে ‘পেৰ্ল্’ (pebble) ‘ৰাংলায় ‘নুড়ি’, হিন্দীতে ‘রোড়ে’, উর্দুতে ‘সংরেজে’৷ এই নুড়ি সংক্রান্ত বিষয়কে ৰলৰ ‘ঔপল’৷ যে পার্বত্য পথ নুড়িতে ভর্তি তাকে আমরা অনায়াসে ‘ঔপল পথ’ ৰলতে পারি৷ উপল পথ ‘ঔপল’ শব্দ পাচ্ছি৷ উপল মানে যে কেবল নুড়ি তাই নয়৷ যে কোন ক্ষুদ্রাকৃতি কঠোর বস্তুকেই ‘উপল’ ৰলা চলে৷ এমনকি যে বস্তু আগে কঠোর ছিল না, এখন কঠোর হয়ে গেছে, তাকেও উপল বলা চলে৷ উপলী/উপলি হচ্ছে সংস্কৃত ভাষায় ঘুঁটের একটি নাম৷ পর্যায়বাচক শব্দ হচ্ছে ‘ঘুন্টক’ (যার থেকে ‘ঘুঁটে’ শব্দ এসেছে), কাণ্ডক (যার থেকে উত্তর ভারতে ‘কাণ্ডা’), কুরীষ, ঘোসকী (যার থেকে ৰাংলায় ‘ঘোসি’---ঘুসি নয়৷ ঘুসি মানে ‘ক
(১৪) বিবাহিত মানুষের জীবনকে একটি অখণ্ডকালাবস্থা ৰলে গণ্য করলে সেই মানুষের এক একটি বিবাহ কালকে এক একটি পক্ষ বলে গণ্য করা হয়৷ যেমন প্রথম পক্ষের স্ত্রী, দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী, তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী৷ কথ্য বাংলায় সাধারণতঃ যে পুরুষ প্রথমবার বিয়ে করে, তাকে ৰলে ৰর বা একৰরে৷ যে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে তাকে ৰলে দোজবরে৷ যে তৃতীয়বার বিয়ে করে তাকে ৰলে ‘তেজৰৱে’৷ যে চতুর্থবার বিয়ে করে তাকে বলে ‘চারবরে’৷ তোমরা সেই প্রাচীন কালের বহুবিবাহপ্রথাসম্প কুলীন ঘরের ছড়া জানতো ---
‘একৰরে সোয়ামী স্ত্রী পাতে বসে খায়
দোজৰরে সোয়ামী স্ত্রী সাথে বসে খায়
(১) ‘ধা’ ধাতু অনেকগুলি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে৷ একটি হ’ল অধিকারে পাওয়া to own, to possess) দ্বিতীয় হ’ল ব্যবস্থা দেওয়া, তৃতীয় হ’ল দেখাশোনা করা বা তত্ত্বাবধান করা, চতুর্থ হ’ল প্রতিপালন করাto nourish)৷
ঋগ্বেদীয় ভাষায় ‘ডপ’ একটি প্রাচীন ধাতু৷ সংস্কৃতে এর মানে জড়ো করা, জমিয়ে রাখা, স্তূপাকার করা প্রভৃতি৷ যে বিরাট পুরুষের মধ্যে গুণ-সমাবেশ দেখে মানুষ অবাক বিস্ময়ে বিস্ফারিত নেত্রে তাকিয়ে থাকত---ৰলত, এঁর গুণের শেষ নেই, এঁর এত গুণ যে এঁকে গুণাতীত ৰলাই সঙ্গত, ত্রিভুবনের সব গুণের এই একের মধ্যে সমাবেশ ও সমাহার ঘটেছে---তাই এই বিরাট পুরুষের জন্যে ‘ডপ্’ ধাতু +‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ড’ শব্দ পাচ্ছি তার মানে শিব৷ কবি পদ্মদন্ত’ ৰলছেন---
‘‘অসিতগিরিসমং স্যাৎ কজ্জলং সিন্ধুপাত্রে৷
সুরতরুৰরশাখা লেখনীপত্রমুর্ৰী৷৷
লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালম্৷
গণ : ‘গণ’ ধাতুর অর্থ হ’ল ‘গোণা’ to count)৷ ‘গণ’+ ‘অচ প্রত্যয় করে ‘গণ’ শব্দ আসছে৷ ভাবারূঢ়ার্থে ‘গণ’ হচ্ছে বহুবচনের রূপ৷ শব্দের শেষে ‘গণ’ সংযুক্ত থাকলে শব্দটি বহুবচন হয়ে যায়৷ কিন্তু তা গণ্য হয় একবচন রূপে ও রূপও থাকে একবচনের৷ যেমন ‘নর’ শব্দের বহুবচন হচ্ছে ‘নরাঃ’, মানে মানুষেরা৷
নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।
সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত
Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved