ধর্ম শব্দটির সঙ্গে মানুষ মাত্রই মোটামুটি পরিচিত৷ কিন্তু ধর্ম আসলে কি তা নিয়ে অনেকেই ধোঁয়াশায় রয়েছেন ! ধর্মকে শিখণ্ডী করে পৃথিবীতে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে প্রাণহানি হয়েছে৷ দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধেও এত লোকক্ষয় হয়নি৷ কার্যতঃ সাধরণের মানুষের ধর্মীয় জীবনধারাটাই হয়ে উঠেছে আত্মসুখবাদী -ধান্দাবাজ -অর্থলোলুপ-ক্ষমতালোভী ধর্মব্যবসায়ীদের কর্র্পেরেট কারবার, --- অনুপপত্তি এখানেই৷’’ ধর্ম নামক এই তৎসম শব্দেবর্গের আরো কয়েকটি শব্দও বহুল প্রচলিত৷ এগুলর মধ্যে ধর্মমত ও আধ্যাত্মিকতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷ শব্দগুলো কেবলমাত্র আভিধানিক শব্দ নয়৷ এগুলো গভীর ব্যঞ্জনায় সুদূর প্রসারী ও ইঙ্গিতবাহী৷
ধর্ম শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরোপাসনা -পদ্ধতি আচার- আচরণ পরকাল প্রভৃতি বিষয়ক নির্দেশ ও তত্ত্ব৷ আর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল সত্তাগত গুণ বা বৈশিষ্ট্য সত্তার প্রকৃত অভিব্যক্তি৷ অর্থাৎ যা কোন সত্তার অস্তিত্ব - স্বাতন্ত্র্য বা বিশিষ্টতাকে ধরে রাখে বা বহন করে তাই সত্তার ধর্ম৷ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ হচ্ছে নেচার প্রপার্টি বা ক্যারাক্টারিটিস আরবিতে ধর্মের প্রতিশব্দ ইমান ৷ লক্ষ্যনীয়, ধর্ম হল সত্তার চিরন্তন অপরিবর্তনীয় গুণ বা বৈশিষ্ট্য৷ দেশ-কাল-পাত্র ভেদে কখনও একে পালটানো যায় না অন্যেরটা গ্রহণ করাও যায়না পালটালে অস্তিত্বটাই থাকে না৷ যেমন জলের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় লোহা থেকে মরিচার সৃষ্টি৷ কিন্তু মরিচার ভৌতধর্ম আলাদা৷ তাই মরিচা ও লোহা দুটি স্বতন্ত্র সত্তা৷ আগুন ও তার ধর্ম এ দুটো যেমন অবিচ্ছেদ্য মানুষ ও তার ধর্ম ব্রহ্মানুসন্ধিৎসা --এও ঠিক তেমন ধারা জিনিষ৷ জলের ধর্ম সিক্ত করা আগুনের ধর্ম দগ্দ করা৷ অনুরূপ ভাবে মানুষেরও একটা ধর্ম আছে যা অন্যান্য সৃষ্টি থেকে মানুষকে পৃথক করে থাকে৷ মানুষের সত্তার মর্মবাণী হচ্ছে অনন্তের অনুসন্ধানে ধাবিত হওয়া৷ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় মানুষের আকাঙক্ষার শান্তি হবে ---’ হেথা নয়, অন্য কোন কোথা অন্য কোন খানে৷’’ ঊপনিষদের ভাষায় ’’ নাল্পে সুখমস্তি ভূমৈব সুখম অনন্তের অজ্ঞাত হাতছানিতে মানুষ কেবলই এগিয়ে চলেছে, কোথাও যে তার থামবার অবকাশ নেই ৷ কেননা মানুষ যা চায় তা অনন্তভাবেই চায়৷ তাত্ত্বিক পরিভাষায় একেই বলে বৃহতের প্রতি এষণা৷ পশুর মত মানুষেরও তো ক্ষুধা- তৃষ্ণা- আহার --- নিদ্রা -ভয় মৈথুন প্রবৃত্তি ছিল ও আছে৷ তার তো শক্তির সীমা ছিল আজও আছে৷ তাতে তো মানুষ থেমে থাকেনি৷ এই জন্যেই যে মানুষের স্বভাবই হচ্ছে অনন্তের আকর্ষণে কেবল ছুটে চলা৷ এটাই যে মানুষের ধর্ম৷ এক কথায় ’’ মানবধর্ম দার্শনিক পরিভাষায় ’’ ব্রহ্মানুসন্ধিৎসা ’’, অর্থাৎ বৃহতের প্রতি এষণা৷
৷৷ হেথা নয় ৷৷ এই মানব ধর্মই সমস্ত যুগের সমস্ত মানুষের ক্ষেত্রে সমান৷ আর প্রতিটি মানুষের ধর্ম এক -- একথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে৷ আসলে ধর্ম হচ্ছে ভিতরের জিনিস৷ তিলে যেমন তেল থাকে দুধে যেমন ঘৃত থাকে ধর্মও তেমনি প্রতিটি সত্তার ভিতরে ব্যাপ্ত হয়ে থাকে৷ যতক্ষণ মানুষ ধর্ম সম্বন্ধে সচেতন ততক্ষণ বাইরের সহস্র কোটি আলোড়ন-আন্দোলন তার আভ্যন্তরীণ সত্তায় কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনা৷ তবে ধর্মকে জীবন দিয়ে জীবন দিয়ে তপস্যা দিয়ে পালন করতে হয়৷ আরো স্মরণীয় এই মানবধর্মকে প্রাত্যহিক প্রাতঃকৃত্য-সান্ধ্যকৃত্যের মতই নিত্য পালন করার জন্যেই মানুষ মানবদেহ রূপ মহামূল্যবান জৈববৈজ্ঞানিক যন্ত্রটি প্রকৃতির কাছ থেকে আশীর্বাদ স্বরূপ লাভ করেছে৷ এই চর্চা ২
মানব ও চর্যাই মানুষের ’’ ধর্মসাধনা’’৷ মনুষ্যেতর প্রাণী যা পায়নি সৌভাগ্যবান মানুষ যদি তা অর্থাৎ দেহযন্ত্রের সদ্ব্যবহার না-করে তাহলে প্রকৃতি তা কেড়ে নিতে পারে৷ তাই দার্শনিক দৃষ্টিতে -মনুষ্য জীবন বড় দুর্লভ কোটি কোটি পশুজীবনের ক্লেশে দগ্দ হয়ে তবেই দুর্লভ মনুষ্যজীবন লাভ হয়৷ দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায় যে আগুনের ধর্ম তো ’’ দাহিকাশক্তি ’’৷ এই দাহিকাশক্তিকে অক্ষুণ রাখতে হলে যেমন প্রতিনিয়ত সেখানে ইন্ধনের সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক, তেমনি মানুষের ধর্মকে অটুট রাখার জন্যে ধর্মসাধনা ’’ অর্থাৎ ’’ আধ্যাত্মিক নিত্যপয়াস স্পিরিচ্যুয়্যালকাল্টে নিরত হওয়া প্রয়োজন হয়৷ এরই নাম বা ভাবাত্মক অভিপ্রকাশই এক কথায় ধর্মসাধনা’’৷
প্রশ্ণ স্বাভাবিক ভাবেই ওঠে তাহলে হিন্দু - বৌদ্ধ - ইসলাম - খ্রিষ্টান-জৈন বস্তুতঃ এগুলো কী ?
এগুলো কোনটাই মানুষের ধর্ম নয়৷ ভ্রান্তি অজ্ঞতা ও অভিসন্ধি র নিগড়ে ধর্মমতগুলো ধর্মের মর্যাদা পেয়ে আসছে৷ সাধারণভাবে আমরা যাকে ধর্ম বলে মনে করি বা বলে থাকি তা আসলে ধর্মমত’’৷ ইংরেজীতে একে বলে ‘রিলিজিয়ন আরবীতে মজহ৷ রিলিজিয়নের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বৌদ্ধ, ইসলাম, জৈন খ্রিষ্টান প্রভৃতি প্রচলিত তথাকথিত ধর্মগুলো হল প্রকৃতপক্ষে রিলিজিয়ন৷ ধর্মমত’’ বা রিলিজিয়ন’’ হচ্ছে স্থান - কাল-পাত্রের আপেক্ষিকতার সাপেক্ষে ঈশ্বর সম্পর্কে ধ্যানধারণা৷পরমপুরুষকে বা ঈশ্বরকে উপলব্ধি বা পাওয়ার বিষয়ে, বা জগৎ-জীবন-ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ণয়ে সমকালীন স্মরণীয় -বরণীয়- অগ্রগণ্য ব্যষ্টি বা ব্যষ্টিবর্গের মানসিক গঠন ও বিকাশের স্তর অনুযায়ী মতামত বিশেষ৷ ধর্মমত কথাটির অর্থ হচ্ছে স্বতন্ত্র ’’(ভিন্ন বোঝাতেই অধিক অর্থবহ)৷ মুক্তবুদ্ধিতে বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ধর্মমত বা রিলিজিয়ন হ’’ল বাহ্যিক কতকগুলি আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি যা বিশেষ একটি সম্প্রদায় অনুসরণ করে চলে এ হচ্ছে এমন কতকগুলি বিশ্বাস যা সর্ববাদীসম্মত নয়৷ সূর্যের উদয়-বিলয় সম্বন্ধে যে বিশ্বাস তা সর্বানুমোদিত৷ কোন ধর্মমতের বিশ্বাসই সে ধরণের নয়৷মূলতঃ অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, আচার-বিচার ভাবজড়তা, সর্বস্ব৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্চে ধর্মমতবাদগুলি বৈজ্ঞানিক মনন ঋদ্ধ যুক্তিবিজ্ঞান ও বিচারশীলতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়৷ ধর্মমত বাইরের জিনিস, একটা পোষাক বিশেষ৷ আর বাইরের জিনিষ বলেই সামান্য ঝড়েই ধর্মমত বা রিলিজিয়ন খসে পড়ে জীর্ণ ও শীর্ণ হয়ে পড়ে৷ এজন্যে ধর্মমতান্তর (কভার্শন) সহজ ব্যাপার কিন্তু ধর্মান্তর অসম্ভব৷ কালে কালে ধর্মমতের সংখ্যার তো বিষ্ফোরণ ঘটে চলেছে৷ জগতে ধর্মমতগুলোর পরস্পরের মধ্যে বিরোধ-অসহিষ্ণুতা-হিংসা .প্রতিহিংসা - ছোট বড় --- মহৎ অচ্যুতের নিত্য লড়াই অব্যাহত৷ কিন্তু মানুষের আবির্ভাবের মুহূর্ত থেকে মানুষের সত্তাগত বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম একই অপরিবর্তিত থাকে রয়েছেও৷তাই ধর্ম নিয়ে বিতর্ক নেই, কলহও হতে পারে না, হয়ও না৷ অথচ ধর্মমত নিয়ে কলহের অন্ত নেই৷ যুগে যুগে দেশে দেশে ধর্মমতের নামাবলী জড়িয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়া হয়েছে৷
ধর্মমতের বৈবহারিকী বা আচরণগত রূপ হচ্ছে প্রার্থনা মূলক আচার সর্বস্ব৷একে বৈদিকী বা প্রান্তিকী ও বলা হয়৷ এর মধ্যে স্পিরিচ্যুয়্যাল কল্ট বা বৈজ্ঞানিক মানস- আধ্যাত্মিক নিত্যপ্রয়াস নেই বললেই চলে৷ তবে কিছু রিলিজিয়নে আধ্যাত্মিক নিত্য প্রয়াস বিচ্ছিন্নভাবে থাকলেও তা সংশ্লিষ্ট ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বজনীন নয় দর্শন-ঋদ্ধও নয় ৷ মূলতঃ মুষ্টিমেয় কিছু উচ্চকোটির সদস্যের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ৷ সম্প্রদায়ের সবার মধ্যে যা আছে তা যশ-রূপ-খ্যাতি- রোগনিরাময় -ক্ষমতা -অর্থ - ছেলের চাকরি-মেয়ের ভালঘরে বিয়ে ইত্যাদি ’’ দাও দাও ’’ ঈশ্বরের কাছে কেবল চেয়ে যাওয়া -মানত করা সন্তুষ্টির ভোগ নিবেদন করা আর ব্রত-আচার --- বাহ্যিক অনুষ্ঠান পালন করা৷ সুতরাং ধর্ম আর ধর্মমত এক জিনিস নয়৷ উভয়ের মধ্যে গুণগত প্রভেদগুলোর দিকে নজর দিলেই তা পরিষ্কার হয়ে যায় জ্জ সত্তাগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধর্ম হ’’ল সত্তার অন্তর্র্লেকের সহজাত বিজ্ঞান৷ এ হচ্ছে কার্য- কারণ সম্পর্কে অভিব্যক্ত যুক্তিবিজ্ঞান ভিত্তিক বিচারশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত সহজাত গুণ, একটা কর্তা নিরপেক্ষ সত্তত্ব একই সত্তার সর্বত্র তা বর্তমান৷ অর্থাৎ মানুষ বা কোনো জীবই একে সৃষ্টি করতে পারেনা কাঊকে বা অন্যসত্তায় দান বা আরোপ করতে পারেনা এমনকি নিয়ন্ত্রণ করতেও পারেনা৷ কাজেই কারো ধর্মনাশ করা বা কাঊকে ধর্মান্তরিত করা কেবল অসম্ভবই নয় একটা অবাস্তব ও ভ্রান্ত ধারণা৷ কারণ ধর্ম কেঊ সৃষ্টি করেনি৷ সত্তার উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অটোমেটিক তা মর্মস্থ হয়েছে৷ তাই ধর্মনিরপেক্ষতা কথাও কেবল ’’ সোনার পাথর বাটি ’’ নয়, পুরোপুরি অবৈজ্ঞানিক যুক্তিবজ্ঞান তথা বিচারশীলতা বিরোধী কথার খাতিরেই যদি ধর্মনিরপেক্ষতা বদলে ধর্মমতনিরপেক্ষতা * কথাটিকেও নেয়া হয় তথাপি অনুপপত্তি যায় না৷ ধর্মমতনিরপেক্ষতা কথাটার মধ্যে একশ ভাগই ধর্মমতের প্রতি অকুণ্ঠ স্বীকৃতি রয়েছে৷ তাই যেখানে স্বীকৃতি সেখানে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যা লঘুর প্রতি কোন না কোনভাবে পক্ষপাতিত্ব তো থাকবেই৷ বিশ্বের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিলেই৷ স্পষ্ট হয়ে যায়৷ নিরপেক্ষতা কোথায় ? এটা একটা বিরাট’’ দিল্লিকা লাড্ডু রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের একটা জনমনমোহিনী রাজনৈতিক ধাপ্পা মাত্র বৌদ্ধিক দেওলিয়াপনাও বটে৷জ্জ
ধর্মমত বা রিলিজিয়ন স্থান-কাল-পাত্রের আপেক্ষিতায় আবদ্ধ খণ্ড মানুষের মনের সৃষ্টি হওয়ায় এতে জাতিভেদ- হীনমন্যতা-মহামন্যতা --- বর্ণ বৈষম্য-ধনবৈষম্য- উঁচুনীচু ভেদাভেদাদি নানান সংকীর্ণতা, অবগুণ লগ্ণ হয়েছে৷ এইজন্যে সমাজ জীবনের নানাস্তরে এসেছে ভয়াবহ পতন৷ আজকের পৃথিবীতে সর্বত্রই এক বা একাধিক বা কোন না কোন ধর্মমত রাজ করছে৷ ফলে মানুষ বিজ্ঞান সভ্যতার শিখরে পৌঁছেও এই পতনের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না৷ হবে কি করে ! রিলিজিয়নই যে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছে৷ যে ধর্ম শেখায় ’’ আব্রহ্মস্তম্ব ’’৷ অর্থাৎ জগতের সমস্ত কিছু বা যা কিছু ঈশ্বর থেকে শুরু করে ঘাসের পাতা ---এ সমস্তই পরমাত্মার বিকাশ শুনহ মানুষ ভাই সবার ঊপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই সর্বং খলিদং ব্রহ্ম জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে সে জাতির নাম মানুষ জাতি প্রেম করে যেই জন বডি ফর ইউর সোল’’৷ যেধর্ম শেখায় যে ধর্ম শেখায় যে ধর্ম শেখায় জীবে সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ’’ যে ধর্ম শেখায় আই কাণ্ট সি ইউর সেই ধর্মই সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে, রাজ করছে রিলিজিয়ন এখানে বলে রাখা ভাল, কিছু চিন্তাশীল ব্যষ্টি রিলিজিয়ন- ধর্মমতকে এক আসনে বসিয়েছেন৷ আসল ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে তাঁরা অজ্ঞতার অন্ধকারেই রয়ে গেছেন৷আসলে বিশ্বজুড়ে রিলিজিয়নের নগ্ণ-নখর -হিংস্র-বিভৎস রুপ দেখে ও ধর্মের নামে ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্মীয় শোষণের বীভৎসতা দেখে (---যার আড়ালে থাকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক শোষণ) তাঁরা বিভ্রান্ত হয়েছেন মানুষকেও বিভ্রান্ত করেছেন ধর্ম নাকি শোষণের হাতিয়ার৷ আধ্যাত্মিক অনুশীলনের গভীরে ঢোকা তো দূরের কথা, তার নাগাল এঁরা পাননি স্বাদও পাননি৷ তবে আধ্যাত্মিকতা তথা ধর্ম যে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবাবেগ (ষ্ট্রং ইম্পায়ারিং সেণ্টিমেণ্ট) তা অস্বীকৃতও হয়নি৷ধর্ম সংশ্লিষ্ট ভাবাবেগ কোন ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে মানুষ গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ে৷মানুষ স্বধর্ম (মানবধর্ম---সত্তাগত বৈশিষ্ট্য) ত্যাগ করে কি করে অন্যের ধর্ম (পশৃধর্ম) গ্রহণ করতে পারে ? কিন্তু বাস্তবে যেটা হয় বিভিন্ন ধর্মতাবলম্বী মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে বা চাপেপড়ে অনেক সময় ভিন্ন ধর্মমত গ্রহণ করে থাকে৷ আমরা তো এটাই দেখে থাকি শুনে থাকি যে পৃথিবীর যে কোনো মানুষই কোন না কোন ধর্মকে (ধর্মমতকে) আশ্রয় করে জন্মায়,বাঁচে৷কিন্তু কখন কখন কোনো ধর্মমতের ঝড় এসে ওলট পালট করে দিয়ে যায়৷৷ যেমন ভারতবর্ষের কথাই ধরিনা কেন, ছিল হিন্দুধর্ম (বৈদিকধর্ম বা ব্রাহ্মণ্যধর্ম)৷গৌতমবুদ্ধ এলেন সংখ্যক ভারতবাসী হয়ে গেলেন বৌদ্ধ, আরবীয়রা আসলেন, কিছু সংখ্যক মানুষকে মুসলমান বানালেন৷ ইউরোপীয় ধর্মযাজকেরা এলেন, তাঁরাও ছলে বলে কৌশলে মানুষকে খ্রীষ্টান করে ছাড়লেন৷ তাহলে হলোটা কি ? ধর্ম যদি অপরিবর্তনীয় হয় তাহলে ভারতবর্ষে এতগুলো ধর্মের সহাবস্থান হল কী করে ! রহস্যটা এখানেই৷
এখানে প্রধান ধর্ম তাঁর শিষ্যত্ব নিয়ে বিরাট করতে পারে, কিন্তু জন্মসূত্রে পাওয়া সহজে ত্যাগ করতে পারে না৷ ধর্মের কোটি কোটি হিন্দু বাঙালী ওপার তবে একটা কথা মানুষ অনেক কিছু ত্যাগ ধর্মমতও মানুষ চাপে পড়ে নিতান্ত বাধ্য না হলে নামে সন্ত্রাস- দখলদারী, ধর্মনাশ ও ধর্মান্তরের ভয়ে বাঙলা থেকে পালিয়ে এসেছে আজো আসছে৷ একই কারণে অনেক পারসিক সাবেক পারস্য (বর্তমান ইরাণ) ছেড়ে ভারত সহ অমুসলিম দেশে আশ্রয় নেন, ইহুদিরা ছড়িয়ে পড়েন পার্শবর্তী নানা দেশে৷ কারণটা সহজে বোঝা যায়
- Log in to post comments