বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতিকে পশ্চিম বাঙলা দাঁড়িয়ে সেই পরমারাধ্য মহান দার্শনিক প্রাউট প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার ওরফে সেই আনন্দমার্গের প্রতিষ্ঠাতা পরমারাধ্য বাবা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী অন্তরের সঙ্গে উপলব্ধি করেন সেই একটি কথা আজ শুধু ভারতযুক্তরাষ্ট্র নয় সারা পৃথিবীতে বড়ই অভাব সেই সৎ নীতিবাদী আদর্শবান মানুষের৷ এই কারণেই তিনি মানুষ গড়ার কঠিন কাজে মন দেন! আর সেই মানুষগুলি হবেন মানুষের সমাজে পৃথিবীতে মানবতাকেই অন্তরের সঙ্গে মেনে নিয়ে জগৎ কল্যাণে জগৎকে সেবা দিয়ে যাবেন৷ তাই সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হলো ওই মানুষগুলোর আত্মজ্ঞান......লাভ যাতে সেই চরম সত্যকে উপলব্ধি করে ও সমাজকে শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করে যাওয়া৷ এই কারণেই তিনি প্রাউট দর্শন দেন৷ প্রগতিশীল উপযোগ-তত্ত্ব-এর সংক্ষিপ্ত নাম হলো প্রাউট বা প্রাউত৷ এই তত্ত্বটি হলো পূর্ণাঙ্গ দর্শন৷ কারণ জগৎ দাঁড়িয়ে আছে আপেক্ষিত সত্তা হিসাবে৷ একটি গতিশীল সত্তা হিসাবে৷ আর এই জগতে মানুষের আসল পরিচয় কি!--- নিজেকে আত্মজ্ঞান লাভ করা৷ তাই আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে নিজেকে চিনে নেওয়া জগৎ সেবার কঠিন কাজ করে যাওয়া৷ এ কোন সাধারণ কাজ নয়৷ কঠিন কাজই বটে৷ তাই প্রাউটের স্লোগান--- ধনতন্ত্র ভাতে মারে আঁতে মারে কমিউনিষ্ট৷--- তাইতো মোরা প্রাউটিষ্ট৷ ধনতন্ত্রটা দাঁড়িয়ে আছে শোষন করে সমৃদ্ধির ওপর৷ সরকারও ধনী সমাজের স্বার্থ দেখে অপর দিকে কমিউনিজম দাঁড়িয়ে আছে স্কুল জড়বাদের ওপর৷ তাই তারা স্থূল জগতেই ঘোরাফেরা করে৷ আধ্যাত্মিকতাকে তাঁরা অগ্রাহ্য করে৷ তাই এই তত্ত্বটি মানুষকে আঁতে মেরে থাকে৷ খাও দাও মজা মারো৷ এটি জড়বাদী স্থূল জগতেই তার ঘোরা ফেরা৷ আধ্যাত্মিকতার মর্ম তারা উপলব্ধি করতে পারেনে৷ অপর দিকে প্রাউট স্থূল জড় জগতের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় করে আদর্শ সমাজ, ঘটনের পথ দেখিয়েছে যেখানে কোন প্রকার শোষণ থাকবে না৷ তাই প্রাউটকে সেই ধনতন্ত্রবাদী আর কমিউনিষ্টরা সহ্য করে না৷ তাই তাঁরা তাঁদের শাসনে সেই অধ্যাত্মবাদী প্রাউটিষ্টদের অর্থাৎ আনন্দমার্গীদের উপর নির্মমভাবে অত্যাচার করে তাঁদের সংঘটন সর্বক্ষণের কর্মী দের হত্যা ও কারাগার নিক্ষেপ করে ধবংস ও অত্যাচার করে৷ এমনকি বিষ প্রয়োগে গুরুদেবকে৷ হত্যার চক্রান্ত করে! কিন্তু ব্যর্থ হয়! আজ তিনি নেই, প্রায় ৩৬ বছর আগে তিনি দেহত্যাগ করেন৷ কিন্তু সংঘটন আছে৷ আজ এই ভারতের কেন্দ্র সরকার মিথ্যা গণতন্ত্রের নামে যে পাপাচারিতা করে চলেছেন কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র! তাই আজ প্রয়োজন মানবতাবাদী, জনসেবক আদর্শবান সরকার৷ তাই সেই মহান প্রাউটিষ্টগণ এর প্রথম ও প্রধান কাজই হলো সেই প্রাউটিষ্টদের সংখ্যাবৃদ্ধি করা৷ কারণ আজ পৃথিবীতে সেই সৎ ব্যষ্টিরই বড়ই অভাব৷ এই কাজ তত্ত্বগত প্রচারে তো হবে না৷ সেই ব্যষ্টি যাঁরা সমাজ সেবায় ব্রতী হবেন ও সমাজের মধ্যে সেই দরদী মানুষ তৈরী করতে পারবে৷ তবেই অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে! এই আপেক্ষিক জগৎটি হলো অতি পরিবর্তনশীল৷
তাই এই মানুষের সমাজে অভিজ্ঞতায় যে দেখে আসছে তার উপর প্রবাদবাক্য সৃষ্টি করে গেছেন৷ সেই গুলি হলো সেই বীর ভোগ্যা বসুন্ধরা আর রাজনীতি হলো নীতির রাজা বিশেষ আর স্থূল জগতের রাজনীতি হলো শাসকদের স্বেচ্ছাকৃতনীতি৷ যা বর্তমানে আমরা দেখছি দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে ভারতযুক্তরাষ্ট্রে৷ কেন্দ্রের সংকীর্ণতাবাদী সাম্প্রদায়িক দলগুলি গদীতে এসেই দলীয় স্বার্থে প্রায় ১২০ বারের অধিক ভারতযুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করে বসেছে৷ কয়েক শত বছরের আমেরিকার সরকার তাঁদের সংবিধান মাত্র তিনবার সংশোধন করেছেন--- মহান সংবিধান এই দেশের রাজধর্ম ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও গোষ্ঠী নিরপেক্ষ রাষ্ট্র৷ কিন্তু সংবিধানকেই দেখা যায় না শাসকের কুশাসনে৷
- Log in to post comments