প্রাউট দর্শনের প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার প্রাকৃতিক বিধানকে মেনেই এই আপেক্ষিক জগতে এসেছিলেন বিশ্বের সকল জীব জগতের সার্বিক কল্যাণে৷ তিনি সবই জেনে বুঝে আসেন এই ধরার বুকে এবং আনন্দমার্গ দর্শন ও প্রাউট তত্ত্ব দেন৷ তিনি বুঝেছিলেন সেই একটি কথা তা হলো বিশ্বের মানব সন্তানদের যদি সার্থকভাবে মানবতাবাদে উদ্ভুত করতে না পারা যায় পৃথিবীতে অন্ততঃ শতকরা ২শতাংশ তা না হলে বিশ্বের সৃষ্টিটাকেই ধবংস করে ফেলবে এই পৃথিবীর সবকিছুকে মায়া ও লোভের ফাঁদে পড়ে সেই শোষককুল! তাই এই পৃথিবীর বুকে সৃষ্টিকে রক্ষা করতে অতি প্রয়োজন সেই সৎনীতিবাদী আধ্যাত্মিকতায় উদ্বুদ্ধ কিছু মানুষ--- প্রবক্তার ‘ভাষায়’ যাঁদের বলা হয়...সদ্বিপ্র যারা প্রদত্ত সেই আর্থিকও সামাজিক তত্ত্ব প্রাউট কে মানব কল্যাণে মানব জাতির সার্বিক বিকাশে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করবে৷ এই তত্ত্বটি হলো একটি চরম বিজ্ঞানসম্মত তত্ত্ব৷ উপযোগ মানে হলো বেঁচে থাকার জন্য যে ভৌতিক সম্পদ আমরা ব্যবহার করি খেয়ে পরে৷ অত্যাবশ্যক সেই ৫টি জিনিস সেই অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানপূরণ করাটাকে উপযোগ৷ তবে মানুষ বাঁচবে৷ আর এই মানুষকে লোভ লালসা সংবরণ করে সকল মানুষের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সম্পদের ব্যবহার করতে হবে৷ তাই আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা দৈহিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে সক্ষম ও উদার অসম্প্রদায়িক মানসিকতায় গড়ে তুলতে হবে৷ তাই সমাজের কল্যাণ যারা করবে, কল্যাণ রাষ্ট্র যারা গড়বে তাদের আধ্যাত্মিক সাধক হতেই হবে৷ নতুবা পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে দুর্নীতির পাঁকে ডুববেই৷
তাই তিনি সরাসরি সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের কাছে জোর দিয়েই বলেছিলেন--- ‘‘আমি পৃথিবীতে এসেছি প্রাউট দর্শন বাস্তবায়নের জন্য৷ তাই আনন্দমার্গের সাধনাটার উপযোগিতার দিকটাই হলো প্রাউটিষ্ট হয়ে জনকল্যাণ করা৷ শোষণমুক্ত সমাজ গড়া আর সেই মানুষের সমাজের পশুপাখি তরুলতা তাঁরা সবাই আনন্দমার্গীদের ভাই ও বোন৷ তাই আনন্দমার্গ হলো বিশ্বৈকতাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি সংঘ৷ তাই এখানে জাত পাত সম্প্রদায় গত কোন ভেদাভেদ নেই৷ সবাইকেই হতে হবে সেই সমাজের এক একজন সেবক৷ এই সমাজ ঘটন ও মানুষের কল্যাণের কাজেই তিনি ধরায় এসেছিলেন৷ তিনি বলতেন--- এত কাজ যে নিশ্বাস ফেলার সময় নেই৷ তাই প্রাউটিষ্টদের আমৃত্যু সমাজ সেবার কাজ করে যেতে হবে কোন ভেদাভেদ না রেখে৷ কারণ শোষণমুক্ত সমাজ প্রাউটিষ্টদেরই গড়তে হবে৷
এই সমাজেরই আমরা সবাই সন্তান৷ এঁর কল্যাণে আমাদের সবাইকে নিরলস কাজ করে যেতে হবে৷ তিনি এই গুরু দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছেন৷ তাই আমাদের সবাইকে দৃঢ়ভাবে আধ্যাত্মিকতায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে৷ তবেই ভক্ত ও ভগবানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য হবে৷ এই চরম সত্যটা ভক্তদের মেনে চলতেই হবে৷ তবেই তারা আদর্শ কর্মী হবে৷ বর্তমানে এই স্থূল সংসারে সেটি মান্যতা বড়ই প্রয়োজন ভক্তদের৷ তাতে জগতের সার্বিক কল্যাণ হবে ও ভক্ত মনে দৃঢ়তার সৃষ্টি হবে কারণ আদর্শেরও মৃত্যু নেই! সারা পৃথিবীর বুকে আজ এক মানব সমাজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বড়ই প্রয়োজন৷
নতুবা বিচ্ছিন্নতাবাদী লোভী শাসকগণ সমাজকে ধবংস করে দেবে৷ এই দানবীর শোষক ও শাসকের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতেই প্রাউট প্রবক্তার ধরাধামে আগমন৷ তিনি পুঁজিবাদী আর্থিক ব্যবস্থা ও সাম্যবাদী অর্থনীতির বিকল্প বিকেন্দ্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দিলেন৷ যাঁকে বলা হয় প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব৷ সংক্ষেপে প্রাউট৷ অর্থনীতি বিষয় তিনি বললেন---আজ অর্থনীতি বস্তা পচা তত্ত্ব কথার কচকচানি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ একে অধিকতর বাস্তবমুখী করতে হবে...অর্থনীতি হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রয়োগভৌমিক বিজ্ঞান, আর একে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুস, সর্বজীবের তথা সর্ব অস্তিত্বের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে বিকশিত করতে হবে৷
আজ ভারতে শাসকবর্গ জাত পাত ধর্মমতভিত্তিক নানা সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে৷ পরস্পর হানাহানি কাটাকাটি করে ধরনীকে রক্তাক্ত করছে৷ এই হিংসা বিদ্বেষ যদি অবিলম্বে দমন না করা হয় তবে পৃথিবী অচিরে ধবংসের মুখে ধাবিত হবে৷ তাই প্রাউটিষ্টদের সমাজকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তেই হবে৷
- Log in to post comments