গোবলয় থেকে এক ভন্ড বাবা বাগেশ্বর বাঙালীকে পাখন্ডি বলে গেল বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী কে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে৷ মুখ্যমন্ত্রীর এতে গোঁসা হবার কথা নয়৷ কারণ বাঙালী হলেই বাঙালীয়ানা থাকে না৷ তাছাড়া তিনি নিজেই ইতিমধ্যেই পাখন্ডি খ্যাতি অর্জন করেছেন৷ ভোটের আগে মোদি গ্যারান্টি বলে চিল-চিৎকার করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন--- ৪৫০ টাকার গ্যাস, সেসবিহীন দিল্লির সমান পেট্রোলের দাম, আরো কত কি! কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আর সেসব প্রতিশ্রুতির কথা মুখেও আনছে না৷ বিপরীতে বুলডোজার,এনকাউন্টার,হকার উচ্ছেদ---যার কোনটাই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল না৷ বাংলা ভাষায় এরকম মানুষকে সাধারণত ভন্ড কপট বলা হয়৷ শব্দটির হিন্দি তর্জমা করলে হয় পাখন্ডি৷
ভন্ড বাবা বাগেশ্বর যদি পাশের লোকটিকে দেখে সমগ্র বাঙালীর বিচার করে থাকে তবে ভুল করেছে৷ বাগেশ্বরের ভাষা জ্ঞান নিয়েও সন্দেহ আছে৷ পাখন্ডি কাকে বলে সেটাও বোঝেন না৷ আমিষ নিরামিষের সঙ্গে পাখণ্ডের কি সম্পর্ক পাখণ্ডি বাগেশ্বর তার কোন ব্যাখ্যা দেয়নি৷ প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি পৃথিবীতে যতগুলো ধর্মমত আছে তার মধ্যে হিন্দু ধর্মমতাবলম্বীদের মধ্যে পাখন্ডির সংখ্যা খুব কম নয়৷ যে রামকে হিন্দুরা পুরুষোত্তম বলে মানে সেই রাম নামের বেশ কিছু পাখন্ডিরা এদেশে বুক ফুলিয়ে বিচরণ করে৷ ধর্ষনের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীও বছরে নয় মাস প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঘুরে বেড়ায়৷
কথায় ফিরে আসি---বাগেশ্বর বাবা যদি পাখন্ডি শব্দের সংজ্ঞা জানতেন তবে পাখন্ডি খুঁজতে বাঙলায় আসতেন না৷ কারণ যে বলয় থেকে বাগেশ্বর এসেছেন সেখানে ধর্মের নামাবলি গায়ে পলিটিক্যাল পাখন্ডির সংখ্যা নেহাত কম নয়৷ হতে পারে বাগেশ্বর তাদেরই একজন৷ তাই তিনি গেরুয়া বসন গায়ে ধর্মের শিক্ষা না দিয়ে আমিষ নিরামিষের রাজনীতি করে গেলেন৷
তবে বাগেশ্বর যদি পাখন্ডি শব্দের মর্মার্থ বুঝে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই পাশের লোকটিকে দেখেই পাখন্ডি কথাটা তাঁর মুখ থেকে বেরিয়েছে৷ তাতে অবশ্য বাঙালীয়ানা বোধ সম্পন্ন বাঙালীর কোন আপত্তি ছিল না৷ কিন্তু কোন এক পাখন্ডিকে পাশে দেখে পুরো জাতিটাকেই পাখন্ডি বলার ধৃষ্টতা দেখায় কি করে! এই কথাটাই যদি ভারতের অন্য কোন জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে তাঁর রাজ্যে দাঁড়িয়ে বলতো তবে এতক্ষণে রামধোলাই খেয়ে বাগেশ্বর বাগরুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকতেন৷ অন্য জনগোষ্ঠীর কথা বাদই দিলাম৷ বাঙালীকে এই কথা যদি কেউ একশত বছর আগে বলতো এতক্ষণে উচিত জবাবটা পেয়ে যেত৷ আসলে দেশবন্ধু ও সুভাষচন্দ্র পরবর্তী বাঙলার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি সবই একদল গোবলয়ের পাখন্ডির হাতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে৷ ক্ষমতার হাত বদলের সাথে সাথে এরা বহুরূপী সরীসৃপের মতো রং বদলায়৷ তবে পাশের লোকটিকে দেখে বা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের ওইসব কুশীলবদের দেখে ভন্ড বাগেশ্বর পাখন্ডি কথাটা বলেননি৷ আসল কথা পাখন্ডি শব্দের অর্থ, পাখন্ডি কাকে বলে, কোনটাই বাগেশ্বর বোঝে না যে তা তো নয়৷ তবু তিনি পুরো জনগোষ্ঠীকে পাখণ্ড বললেন কারণ এটা গোবলয়ের রাজনীতির স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য৷
অল্প কয়েক মাস ক্ষমতায় বসেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে৷ নির্বাচন পূর্ববর্তী কোন প্রতিশ্রুতিই তিনি রাখেন নি৷ বিপরীতে পূর্ব জমানার তোলাবাজী থেকে ঘুষ সবই চলছে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পূর্ব জমানার পনেরো বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে৷ এ অভিযোগ কোন বিরোধী দলের নয়৷ শাসক দলেরই নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, এমনকি এমনও হুমকি দেওয়া হয়েছে, বিশজন বিধায়ক বেরিয়ে গেলেও কিছু যায় আসে না৷ এমতবস্থায় জনমানসকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতেই গোলবলয়ের পাখন্ডি বাবাদের ধরে এনে প্রলাপ বকিয়ে জনঘোলা করছে শাসকদল সজ্ঞানে৷
মাছ খাওয়ার সঙ্গে পাখন্ডির আলাদা কোনো সম্পর্ক নেই৷ বাঙালী কপোট,অকপট সবাই মাছ খায়৷ আবার খাঁটি নিরামিষ ভোজী ও বাঙালীর মধ্যেই পাওয়া যায়৷ পেঁয়াজের আমিষ গুণ মাছের থেকে অনেক বেশী৷ তাই বাঙালী নিরামিষ ভোজিরা পেঁয়াজ খায় না৷ কিন্তু অবশিষ্ট ভারতের বেশির ভাগ জনগোষ্ঠীর কাছে পেঁয়াজ নিরামিষ তাই পেঁয়াজ যাদের কাছে নিরামিষ খাদ্য তারা যেন বাঙালীকে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দেয় না৷ কথায় আছে সঙ্গ দেশে স্বভাব নষ্ট৷ নতুবা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বাগেশ্বর পাখন্ডি শব্দটি বলে ফেলেছে হয়তো সেই সময় অর্থ না বুঝেই৷
- Log in to post comments