Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আনন্দমার্গের সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী হত্যার রহস্য প্রকাশিত হবেই হবে

প্রবীর সরকার

মানব সভ্যতার কল্যাণে আত্মনিবেদিত তরতাজা ১৭টি গোলাপ সেই আনন্দমার্গের তরুণ সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন আজও হ’ল না৷ কি উদ্দেশ্যে মহামান্য আদালতে প্রাক্তন সিপিএম নেতা শ্রী কান্তি গাঙ্গুলী আনন্দমার্গের ১৭জন সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে আবেদন করেছে? এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বিগত বামফ্রণ্ট সরকারের শাসনকালে প্রকাশ্য দিবালোকে কলকাতার বণ্ডেল গেট ও বিজন সেতুতে, ১৯৮২-র ৩০শে এপ্রিল৷ এই ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা কালো ব্যাজ পরে মৌন মিছিলে পা মেলান৷ এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও আই.সি.এস. অফিসার মাননীয় অন্নদাশঙ্কর রায়৷ এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদ কিন্তু অসহিষ্ণু সিপিএমের নেতাদের সহ্য হয়নি৷ তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রাক্তন সম্পাদক সিপিএম দলের প্রমোদ দাশগুপ্ত৷ তিনি এই প্রতিবাদ মিছিলকে পরিহাস করেন৷ কিন্তু এই নারকীয় ঘটনাকে সেদিন এই পশ্চিমবঙ্গের তথা সারা ভারতের কোনও সংবাদপত্র ছিল না যারা তীব্র প্রতিবাদ করেনি৷ 

ছেলেধরার মিথ্যে প্রচার করে এঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়৷ সেটা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার ছিল তা রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব এমনকি অন্যান্য অফিসাররাও সাংবাদিক সম্মেলনে স্বীকার করেছেন৷ এই ঘটনার সবকিছুই জানতেন তৎকালীন সংযুক্ত ২৪ পরগণার সহকারী জেলাশাসক মাননীয় শের সিং৷ সবকিছু চাপা দিতে তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে বামফ্রণ্ট সরকার সরিয়ে দেন৷ এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ যখন তাঁকে তাঁর একটি বইয়ের জন্যে বিশেষ সম্মান প্রদানের জন্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সরকার তাঁকে যেতে দেননি৷ অসীম সাহসী, ন্যায় ও সত্যের অনুগামী একজন সৎ সরকারী কর্মচারীকে তৎকালীন সরকার এইভাবে নির্যাতন করেন৷ তিনি তদন্তের প্রধান সাক্ষী৷ বর্তমান নতুন সরকার সেই সত্য উদ্‌ঘাটনের প্রতিশ্রুতি দেন অনেক বছর আগেই৷ তাই এই নতুন সরকার এসে বামফ্রণ্ট আমলের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন বসান৷ কলিকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মাননীয় শ্রী লালাকে দিয়ে তদন্তের কাজ চলছে৷ হঠাৎ শ্রী কান্তি গাঙ্গুলী এই কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাম শাসনে ১৭ জন সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী হত্যার মামলা চলে৷ সেই মামলা সরকারের পক্ষ থেকেই চালানো হয় কিন্তু একজন দোষীও শাস্তি পায়নি৷ এটি ছিল বিচারের নামে একটি প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়৷ জনগণের মনে ধোঁকা দিতে দেব কমিশন বসানো হয়৷ দেব কমিশন কোনও কাজই করেনি৷ স্মরণে থাকে এই ধরনের বহু কমিশন দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে বামফ্রণ্ট বসায় কিন্তু কোনটারই শেষ হয়নি৷ প্রকৃত ঘটনা অন্ধকারেই থেকে যায়৷ নতুন সরকারের উদ্যোগে লালা কমিশন তদন্তের কাজ করেন৷ কান্তিবাবু হাইকোর্টে আপীল করেন কমিশনের কাজ বন্ধের জন্যে৷ স্মর্তর্ব্য এই যে আনন্দমার্গ সংঘটনের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছিল যেহেতু এটি পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে ও সরকারী দলের অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাই মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক৷ সেই দাবী মত সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত এখনও হয়নি৷ তবে নতুন সরকারের উদ্যোগে সংঘটিত লালা কমিশনের উদ্যোগে তদন্ত চলে৷ আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে এই কমিশনের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয় লালা কমিশন তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে জমা দেন৷ কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্তের প্রতিবেদনে আজও প্রকাশ পায়নে৷ এখন তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে৷ আশাকরি নতুন সরকার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করবে৷

জনগণ অদ্যাবধি অন্ধকারে আছেন আনন্দমার্গের সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে৷ যদিও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সংবাদপত্রের মাধ্যমে অনেক কিছুই জেনেছেন তবে সরকারের বক্তব্য আজও অধরা৷ অপরাধীরা আইনী বিচারে অন্ধকারেই গা-ঢাকা দিয়ে আছে আজও৷ গত শতাব্দীর নৃশংশতম হত্যাকাণ্ড ছিল ১৭ জন আনন্দমার্গী সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীর হত্যাকাণ্ড৷ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা বারবার হচ্ছে৷ কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এই সত্য উদ্‌ঘাটিত হবেই হবে---এটাই নিয়তির বিধান৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved