Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস

শ্রী সুভাষ প্রকাশ পাল

ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অগ্রাধি ২০১৪ সালের পর থেকে একুশে জুন তারিখটি সারা বিশ্বে যোগ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে চলেছে৷ ইতিপূর্বে পূণ্যভূমি ভারতবর্ষের সমগ্র পৃথিবীতে যোগ চর্চার কেন্দ্র বলে পরিগণিত হয়৷ বর্তমানে তারা বিশ্বের হলিতেগলিতে প্রসারিত হচ্ছে যোগ বলতে অধিকাংশ মানুষ যোগব্যায়াম কেই বুঝে থাকেন৷ কিন্তু যোগের অন্তর্নিহিত অর্থ আরো গভীরে৷ জোজ ধাতুর সঙ্গে ঘা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যোগ শব্দটি নিষ্পন্ন যার অর্থ যুক্ত হওয়া ইংরেজিতে রিকশান দুটি আমের সঙ্গে আরো দুটি আম যোগ করলাম চারটি আম হল এখানে আমগুলির নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পেরেছে৷ আবার জুলজ ধাতুর সঙ্গে ঘর প্রত্যয় যুক্ত করে৷ যোগ হয় এখানে যোগের অর্থ একাত্মিকরণ চিনির স্বজন সঙ্গে জল মেশালে তা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়৷ এদের পিঠাকস্থিত থাকে না আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে এই যোগ কেই প্রকৃত যোগ বলে গণ্য করা হয় এখানে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনকেই যোগ বলা হয়েছে জীবাত্মা যখন পরমাতার সঙ্গে একইভূত হয় তখন জীবাত্মার আর পৃথক অস্তিত্ব থাকে না৷ 

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্কুলে কলেজে অফিসে আদালতে ক্লাবে সর্র্বেত্র যোগচর্চার ব্যাপারে উৎসাহ উদ্দীপনা নজরে পড়ার মতো৷ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাজ্যে সরকারি কাজে আগের দিন থেকে এসে থেকেছেন৷ একুশে জুন সকাল থেকে রেড রোডে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত যোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন৷ নিজে যোগা বাস করেছেন এবং দেশবাসীকে সবাইকে চোখ চর্চা বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন এই সময় পত্রিকার প্রতিবেদনের কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করছি৷ রবিবার কাক ভরে রেড রোডে জোক্স শিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যোগের উপকারিতা তো তো বোঝালেনই একইসঙ্গে হাতে-কলমে শেখালেন যোগের কিছু ভঙ্গি৷ বেশ কজনের ভঙ্গি শুধরে দিতে দেখা গিয়েছে তাকে৷ বসার পোজ৷ কারো হাতের ভাঁজ থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কর্মরত দেখিয়ে দেন মোদী ৷ রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী ও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ও সবাইকে উৎসাহিত করেছেন৷ 

যাঁরা রাষ্ট্রের কর্ণধার তারা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে নিজেরা অংশগ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের উপর তার অপরিসীম প্রভাব পড়ে৷ গীতার একটি বাণী এখানে শর্তব্য 

‘‘যদ্‌ যদাচরতি শ্রেষ্ঠ ঃ তত্তদেবেবেতরো জণঃ৷

স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তুদনুবর্ত্ততে৷৷’’

অর্থাৎ সমাজের গণ্যমান্য বৃষ্টিরা যেমন যেমন আচরণ করেন অন্যান্য সাধারণ মানুষেরাও তাকে আদর্শ বলে মেনে নেন এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করেন৷ এদিক থেকে এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রদানকারী মহাজনেরা অবশ্যই ধন্যবাদ৷

আগেই বলা হয়েছে জোক বলতে সাধারণ মানুষ শরীরচর্চা তথা যোগব্যায়ামকেই বুঝে থাকেন৷ যারা যোগ চর্চা করেন তারা যোগী যোগ দিন যোগী যোগের কোন প্রসঙ্গে এলে গিরি গুহা বা বুনো জঙ্গলে ধ্যানমগ্ণ শুনিস মনীষীদের প্রতিচ্ছবি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের মনে ভেসে ওঠে৷ দেবাদিদেব মহাদেব কিংবা ধ্যানমগ্ণ বুদ্ধদেবের মূর্তি আমাদের সবারই খুবই প্রিয়৷ নিশিরা ঈশ্বরের ধ্যানে মগ্ণ তারাও যোগ করছেন অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রচেষ্টায়রত৷ বহু মানুষ ঈশ্বরের অন্বেষণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রমবাসী গুহাবাসী হন এবং জগতের কল্যাণে নিজেদের সুখ স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দেন৷ আদার্থ পথের পথিকদের ঈশ্বর লাভের জন্য তপস্যা করতে হয় এবং শরীর যাতে সুস্থ থাকে নীরব থাকে সে ব্যাপারেও প্রচেষ্টা নিতে হয়৷৷ অষ্টাঙ্গ যোগের ইয়ং নিয়ম আসন প্রাণায়াম ধ্যান ধারণা ও সমাধি৷ তৃতীয় অঙ্গ হল আসন শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য প্রকৃত অভ্যাস করেন৷ স্থিরম্‌ সুখম্‌ আসনম্‌৷ প্রকৃত তথ্য হলো যৌগশাস্ত্রে যত আসনের নাম আছে তার অধিকাংশই মুনিঋষিদের আবিষ্কার৷ 

আনন্দমার্গীদের জীবনচর্যায় গুরুদেব শ্রী শ্রী আনন্দ মূর্তি তার শিষ্যদের দুবেলা আসন করার বিধান দিয়েছেন৷ কর্মব্যস্ত মাগীরা দুবেলা না পারলে একবেলা অন্তত আসন করে থাকেন শরীর সাদ্দাম খলু ধর্ম সাধনাম৷ ধর্ম সাধনার জন্য নিজের শরীরকে সুস্থ সবল রাখতেই হবে৷

পার্বতী একবার শিবকে প্রশ্ণ করেছিলেন--- যে কোন কাজের জন্য একটি সর্বনিম্ন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় যারা মুক্তি মুখ্য লাভ করতে চান৷ পথিক তাদের সর্বনিম্ন যোগ্যতা কি হওয়া দরকার৷ উত্তরের শিব বলেছিলেন মুখ্য দেশদের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হল একটা মানুষের শরীর লাভ করা৷ স্বর্গের দেবতা কেও মুক্তি মোক্ষ পেতে হলে মানুষের শরীর লাভ করতে হবে৷ পশু পাখি তাদের শারীরিক কাঠামোয় মক্তিমক্ষ লাভ করতে পারে না৷ তাদের কোন ঐশ্বরিক চেতনা থাকে না তারা সাধনা করতে পারে না৷ মানুষের ঈশ্বর লাভের জন্য সাধনা করতে পারে অর্থাৎ মানুষের শরীরটা অবশ্যই থাকতে হবে৷ আবার সেই শরীর রুগ্ণ বা রোগগ্রস্ত হলে চলবে না তাকে সুস্থ সবল হতে হবে৷ শরীর সুস্থ থাকলেও মন অসুস্থ থাকবে৷ সেই সুস্থ সবল শরীর মন দ্বারা যে কোন কাজ সহজসাধ্য হয়৷ ফলে অধিকাংশ মানুষ যে যোগ বলতে যোগব্যায়াম কে বুঝে থাকেন তার গুরুত্ব কম নয়৷ রোগ হবার পর চিকিৎসা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা আগে করা দরকার৷ (?) বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে আমরা নামিদামি চিকিৎসকের কাছে যাই ঔষধ খাই৷ এইসব ঔষধের পার্শ প্রতিক্রিয়াতে আবার নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হয়৷ নিয়মিত যোগ সাধনা করলে আমরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দূরে থাকতে পারি৷ যারা পড়াশোনা করে তারা নিয়মিত যোগ অভ্যাস করলে তাদের বুদ্ধিতীর্ণ হবে এবং স্মৃতিশক্তি ও বাড়বে৷ বয়স্ক লোকেরা জবাব বাজ করলে বার্ধক্য বিলম্বিত হয়৷ যারা অফিসে আদালতে কাজ করেন এক গ্রামের মধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে বাধ্য হন দাঁড়াও যোগব্যায়ামে অভ্যস্ত হলে তাদের মানসিক চাপ কমবে৷ বলতো মানসিক অশান্তি খিটখিটে মেজাজ মাথাব্যথা গ্যাসেস্টিক ডিসর্ডার টিভি বিদ্রোক ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবেন৷ মানসিক চাঁদ থেকে রেহাই পেতেই অনেকে ধূমপান মদ্যপান মাদক সেবন দ্রব্য ইত্যাদি মারাত্মক নেশার দিকে ঝোঁকে৷ বহু পরিবার নেশার কবলে পড়ে ধবংস হচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থাও ভেঙে পড়ছে৷ সেই জন্য বিশ্বের খ্যাতনাম ও চিকিৎসকেরা মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন৷ 

তন্ত্র মতে যোগের প্রকৃত সংজ্ঞা হল--- ‘সংযোগো যোগঃ ইত্যুক্তা জীবাত্মা পরমাত্মানঃ’ অর্থাৎ আধ্যাত্মিক স্তরে যোগ হচ্ছে ভূমার সঙ্গে অনুর চরম সংযুক্তিকরন বা একাত্মতা৷ আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনই হলো যোগ ধর্মগুরু যোগগুরু তারকব্রহ্ম আনন্দমূর্তি যোগের এই সংজ্ঞাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন৷ যোগের আরো কয়েকটি সংখ্যা যথা যৌগের চিত্রবৃত্তি নীরবধূ সর্বচিন্তা পরিত্যাগ নিশ্চিন্ত চোখ উচ্চতে ইত্যাদি মদগুলিকে সিও যুক্তি দ্বারা খণ্ডন করেছেন তার কথায়--- ‘‘কেউ কেউ ভাবেন যোগের মানে বুঝি বিশেষ রকমের শারীরিক কসরত৷ নানা কসরৎ নয় ইউনিফিকেশন৷’’ এটাই যোগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা যোগ হচ্ছে প্রগতির পথ প্রতিটি মানুষের ক্রমোন্নতির মাধ্যমে এগিয়ে চলার পথ তাই কেউ যোগের পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না তাই ব্যক্তিগত জীবনে সকল যুগের অভ্যাস করবে ও সাময়িক জীবনে অন্যকে যোগাভ্যাসে উৎসাহিত করবে৷ যোগ হচ্ছে জাগতিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক সর্বস্তরে মানুষের সব রকম ব্যাধির যথোপযুক্ত সমাধান৷      (---নিবন্ধের বক্তব্য লেখকের নিজস্ব)

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved