প্রথমে কমিশনার নিয়োগের নিয়ম পরিবর্তন৷ মোদি সরকার আসার আগে নির্বাচন কমিটির সদস্য ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলনেতা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি৷ ২০২৩ সালে মোদি সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করে৷ নতুন আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যাকে নির্বাচন করবেন প্রধানমন্ত্রী৷ এই নতুন নিয়মে সরকারী আধিপত্যের প্রশ্ণ তুলে একাধিক জনস্বার্থ মামলা হয়৷ মামলাকারীদের দাবি এই নিয়োগে কমিশনারের স্বাধীনতা খর্ব হবে৷ কারণ প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী যুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার পছন্দের লোককে নিয়োগ করতে পারেন৷ মামলার শুনানির প্রক্রিয়া চলছে, যদিও সুপ্রিম কোর্ট এই নতুন আইনের ওপর কোন স্থগিতাদেশ দেয়নি৷ সেই সঙ্গে ওই আইনে কমিশনারকে অতিরিক্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে৷
প্রধানমন্ত্রী যেদিন নতজানু হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছিলেন প্রবেশ পথের সোপানে কপাল ঠেকিয়ে সাংসদে তিনি গণতন্ত্রে মন্দির হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন৷ গত ১২ বছরে যেভাবে বিরোধীদের উপেক্ষা করে একের পর এক আইন প্রণয়ন করেছেন তাতে গণতন্ত্রের মন্দিরে ফ্যাসিষ্টের জয়ধবনি শোনা গেছে৷
আজ প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের নির্বাচন কমিশনার যেভাবে এস.আই.আরের অছিলায় বাঙলায় অর্ধকোটির বেশী বোটারের নাম বাদ দিয়েছে তা গণতন্ত্রের মন্দিরকে কলঙ্কিত করেছে৷
গণতন্ত্র শব্দের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জনগণ৷ গণতন্ত্রে জনগণই শেষ কথা বলে৷ সেই জনগণের অধিকারহরণ করছে নির্বাচন কমিশনার গণতন্ত্রের মন্দিরে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে৷
ধর্মীয় মৌলবাদের ধবজাধারী বিজেপির ক্ষমতার তাপ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে৷ দেশকে এক দলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাবার প্রবণতা স্পষ্ট৷ কেন্দ্রীয় শাসকের এই স্বৈরাচারী আচরণে শক্তি মদের সাংঘাতিক লক্ষণ দেখা দিয়েছে৷ ক্ষমতার এই স্পর্ধা ও দম্ভ শুধু গণতন্ত্রকে বিপন্ন করবে না, দেশের সংহতিকেও দুর্বল করবে৷ এক ভাষা, এক ধর্মমত, কোন দিন বৈচিত্র্যময় ভারতের সংহতির সহায়ক হতে পারে না৷ বিপরীতটাই ঘটাতে পারে৷
- Log in to post comments