Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বাংলা ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস, বেদনা, প্রেরণা ও মর্যাদা

চিরঞ্জীৎ দাশ

ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় ভাষা আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি৷ ২১শে ফেব্রুয়ারি যেমন ভাষার জন্য আত্মত্যাগের গৌরবময় স্মৃতি বহন করে, তেমনি উত্তর-পূর্ব ভারতের মাটিতেও ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্ণে রক্তাক্ত ইতিহাস রচিত হয়েছে৷ সেই ইতিহাস আমাদের কাঁদায়, আবার একই সঙ্গে আমাদের সচেতন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে শেখায়৷

২১শে ফেব্রুয়ারি: আত্মমর্যাদার সংগ্রাম ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত হয় পথঘাট৷ মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে প্রাণ দেন সালাম, বরকত, রফিক, জববারসহ আরও অনেকে৷ পরবর্তীকালে UNESCO ১৯৯৯ সালে এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক৷

এই আন্দোলন প্রমাণ করে ভাষার জন্য বাঙালি আপস করে না৷

নেলি গণহত্যা: এক বেদনাবিধুর অধ্যায় ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, অসমের নেলি অঞ্চলে সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ গণহত্যা, যা ইতিহাসে ‘‘নেলি গণহত্যা’’ নামে পরিচিত৷ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষ নির্মমভাবে প্রাণ হারান৷ অধিকাংশ নিহত ছিলেন বাংলাভাষী মুসলমান কৃষক পরিবার৷

এই হত্যাকাণ্ড ঘটে তৎকালীন অসম আন্দোলনের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে নাগরিকত্ব, পরিচয় ও ভাষার প্রশ্ণ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল৷ নেলির ঘটনা শুধু একটি সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না, এটি ছিল মানবিকতার বিপর্যয়৷

নেলির ইতিহাস আমাদের শেখায় পরিচয়ের রাজনীতি যখন ঘৃণায় পরিণত হয়, তখন তার ফল হয় ভয়াবহ৷ ইতিহাসকে অস্বীকার নয়, বরং স্বীকার করে সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের পথেই এগোতে হবে৷

অসমে বাংলা ভাষা আন্দোলন---অসমে ভাষা প্রশ্ণে উত্তেজনা নতুন নয়৷ ১৯৬০ সালে অসম সরকার অসমিয়াকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্ত নিলে বরাক উপত্যকায় বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়৷ ১৯৬১ সালের ১৯মে, শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ গুলি চালায়৷ শহীদ হন ১১ জন ভাষা আন্দোলনকারী৷

এই ঘটনা ‘বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত৷ পরবর্তীকালে সরকার বাংলাকে বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়৷ ১৯ মে আজও ‘ভাষা শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়৷

এই সংগ্রাম প্রমাণ করে ভাষার অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই পরিবর্তন আনে৷

পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বার্তা---পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর কাছে এই ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনা নয়, এটি দায়িত্ব ও চেতনার উত্তরাধিকার৷

আজ বিশ্বায়নের যুগে আমরা প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছি৷ কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে নিজের শিকড়কে সম্মান করা, ভাষার বৈচিত্র্যকে সম্মান করা মানে মানবিকতাকে শক্তিশালী করা ইতিহাসকে জানা মানে ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা৷ বাংলা ভাষা কেবল সাহিত্য বা সংস্কৃতির মাধ্যম নয়, এটি প্রতিবাদ, প্রেম, সৃজনশীলতা ও আত্মমর্যাদার ভাষা৷

নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকার পশ্চিমবঙ্গের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান শুদ্ধ বাংলায় লেখালেখি ও চর্চা বাড়াও ইতিহাস জানো ও অন্যকে জানাও৷ ভাষার নামে বিভাজন নয়, ঐক্য ও সহমর্মিতা গড়ে তোলো সামাজিক মাধ্যমে বাংলার সৃজনশীল ব্যবহার বাড়াও৷ ভাষা আন্দোলন, নেলির বেদনা ও বরাক উপত্যকার সংগ্রাম আমাদের শেখায় অধিকার আদায়ে সাহস লাগে, আর সেই সাহস আসে আত্মপরিচয়ের গর্ব থেকে৷

পাশাপাশি এটা দেখো, বোঝো, জেনো ও বিরুদ্ধে সরব হয়ে- আজকের দিনে কোন রাজনৈতিক দল অসমে বাংলা ভাষার উপর যারা আক্রমণ বার বার করে বা করে চলেছে, তাদের প্রশ্রয় দিয়ে বাঙালীকে দুর্বল করছে? 

কারা বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ নামিয়ে বাঙালীকে বেনগরিক করতে উদ্যত? 

কারা বাঙালীর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নামাচ্ছে অন্য রাজ্যে তথা পশ্চিমবঙ্গেও সংশোধনী করার নাম করে? 

কারা বাঙলার মনীষীদের উপর ক্রমাগত আক্রমণ নামিয়ে আনছেন? 

তাদের বিরুদ্ধে বাঙালীর ঐক্যবদ্ধ লড়াই আজকের বাঙলার সমাজের ও সময়ের দাবি৷ 

আর বাঙালী, বাঙলার মাটি ও ভাষার উপর আক্রমণ দৃঢ় হস্তে প্রত্যাখ্যাত করবে৷ পাশাপাশি আপনার আশে পাশে বিভিন্ন প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মগজ ধোলাই হওয়া কিছু বাঙালী যাদের দেখবেন তাদেরকে বাংলা ভাষার আন্দোলনের ইতিহাস, বেদনা, প্রেরণা ও প্রাপ্তি সম্বন্ধে অবগত করুন, তাকে বাঙালি হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে অবগত করুন, তাকে বোঝান বাংলা তার মাতৃভাষা মানে মায়ের আপন ভাষা৷ 

২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের গর্বের ইতিহাস৷ নেলি আমাদের বেদনার শিক্ষা৷ বরাক উপত্যকা আমাদের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা৷

আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করব, ইতিহাসকে স্মরণ করব, বিভেদের বদলে মানবিকতার পথে চলব৷ বাংলা বাঁচুক, বাঙালীর চেতনা বাঁচুক পশ্চিমবঙ্গ হোক ভাষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved