Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বাঙালী কবে বাঙালী হবে!

মনোজ দেব

ধর্মীয় মৌলবাদ ও রাজনৈতিক জিঘাংসা বাঙালীকে অমানুষ করে তুলছে৷ আবার রাজ্যে রাজ্যে বাঙালী বিদ্বেষ ভারতীয় বাঙালীর জীবন বিপন্ন করে তুলছে বাঙালী তার জাতিসত্তাকে ভুলে ধর্মমতের আবর্তে গণ্ডীবদ্ধ---কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান, রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে কেউ তৃণমূল, কেউ বিজেপি, কেউ সিপিএম, কেউ কংগ্রেস নানা নামে পরিচিত৷ মানুষের পরিচয়, বাঙালীর পরিচয় সে ভুলে যায়, মানব ধর্মের অনুশীলন সে করে না৷ দলীয় স্বার্থরক্ষা করা আর অর্থ উপার্জন তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান৷ ক্ষমতার দখল নিতে সে উন্মত্ত, উন্মাদ৷ তাই তো এত খুন, এত রক্ত!কেউ একবারও ভাবে না কে কাকে মারছে? কে কার রক্তে হাত রাঙাচ্ছে? মিডিয়ায় কাণ রাখুন আর চোখ রাখুন, শুণবেন দেখবেন এক পার্টি আর পার্টিকে মেরেছে৷ কোন পার্টির ক্যাডার, কোন পার্টির কর্মী এটাই আসল পরিচয়৷ কখনও কেউ বলে না, মানুষ মানুষকে খুন করেছে, ভাই ভাইকে খুন করেছে!

স্বাধীন ভারতবর্ষে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যষ্টিগত ও দলীয় স্বার্থে কিছু মানুষকে দ্বিপদ জীবে পরিণত করেছে৷ ক্ষমতার কুর্সী দখল করতে জনগণের বিশ্বাস, আস্থাৃ সমর্থনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলি নির্ভর করে না৷ বোট বৈতরণী পার হতে তারা ওইসব দ্বিপদ জীবের ওপর নির্ভর করে৷ তারই বিষময় ফল আজ ভোগ করতে হচ্ছে৷ পাশবিক উল্লাস, স্বজন হারানোর হাহাকার, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের গা-সওয়া হয়ে গেছে৷ তাই গণতন্ত্রের উৎসব নরমেধ যজ্ঞে পরিণত হয়৷ একের পর এক খুন হয়, নেতারা বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতি দিয়ে দায় সারেন৷ স্নেহ, প্রেম, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, হৃদয়ের এই সুকুমার বৃত্তিগুলো খুইয়ে বসেছে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে৷ তাই আজ যে ভাতৃহত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছে এর দায় নেতা-নেত্রীরা অস্বীকার করতে পারেন না৷ তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উস্কানিতেই এই হানাহানি চলছে৷ অথচ নেতাদের গায়ে আঁচড়টি লাগে না৷ 

বাঙলায় আজ যা কিছু ঘটছে, খুন, সন্ত্রাস, এ সবের পেছনে অমানুষ নেতাদের কালো হাতের অঙ্গুলীহেলনেই হচ্ছে৷ রাজনীতির নামে খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্মের নামে বিদ্বেষ, অনাচার, ব্যভিচার, সংস্কৃতির অঙ্গনে নগ্ণ বেলেল্লাপনা, শিক্ষার অঙ্গনে উচ্ছৃঙ্খলতা---এককথায় মানুষকে অমানুষ করার সব উপকরণ রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের করায়ত্ত৷ 

একটা কথা খুব কৌশলে প্রচার হচ্ছে পশ্চিম বাঙলার মত এত খারাপ আর কোন রাজ্য নয়৷ প্রশ্ণ এখানেই যে পশ্চিম বাঙলা এত খারাপ হচ্ছে কেন? আর এতই যখন খারাপ ভিন রাজ্য থেকে এত মানুষ কেন পেটের দায়ে এই রাজ্যে ছুটে আসছে? ২০১১-র লোক গণনার হিসাবে ১০ বছরে ১৫৪ শতাংশ মানুষ ভিন রাজ্য থেকে পশ্চিম বাঙলায় এসেছে৷ তবু বাঙলা এত খারাপ!

যে বাঙলা এক সময় শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মনীতি, বিজ্ঞান---সব কিছুতেই শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের স্থান করে নিয়েছিল, তার কেন আজ এই দুরবস্থা? কেন আজ বাঙলার মাটিতে এই ভাতৃহত্যার রাজনীতি৷ এতে কার লাভ হচ্ছে?

বাঙালীর দোষগুলোই আজ বড় করে দেখানো হচ্ছে৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করে স্বাধীনতার সব কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে অন্যকে৷ অথচ ব্রিটিশ ভারত ছেড়ে পালিয়েছে নেতাজী সুভাষচন্দ্রের ভয়ে৷ ঐতিহাসিকরা এই সত্য স্বীকার করেছেন৷ কৃষিজ ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ বাঙলার মাটির প্রতি লোভ দেশীয় পুঁজিপতিদের আছেই৷ নেতাজী সুভাষচন্দ্র ১৯৩৮ সালে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশীয় পুঁজিপতিদের সমালোচনা করে বলেছিলেন---‘ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শক্তি অর্জন করছে দেশীয় পুঁজিপতিদের সাহায্যে৷ পরিণতিতে সুভাষচন্দ্রকে ভারতীয় রাজনীতি থেকে উৎখাত করা হয়েছে৷ 

কিন্তু বাঙালীর ভবিষ্যৎ কি? বাঙালী কোন্‌ পথে হাঁটছে? এবার ভেবে দেখার সময় এসেছে৷ কংগ্রেস ছিল পুঁজিপতির রক্ষক৷ বিজেপি সেই পুঁজিপতিদের হাতে গড়া দল যারা তীব্র বাঙালী বিদ্বেষী, রামমোহন - রবীন্দ্রনাথের নাম শুনলে যাদের গা জ্বলে, যারা কোন বাঙালীকেই বিশ্বাস করে না৷ ত্রিপুরায় বাংলা তুলে আজ হিন্দীর প্রচলন শুরু হয়েছে৷ পশ্চিম বাঙলাতেও কী সেই দিন আসছে?

বাঙলা দখলে বিজেপি রাজ্যের বাঙালী নেতাদের উপর আস্থা রাখেনি৷ তাই বাইরে থেকে একদল নেতা আনা হয়েছে যাদের সঙ্গে বাঙলার কোন যোগ নেই৷ বাঙলার ভাষা সাহিত্য, সংস্কৃতি কোন কিছুর প্রতি যাদের ছিঁটেফোটা শ্রদ্ধা নেই, যাদের একমাত্র লক্ষ্য বাঙলার উর্বর জমি দখল করা, বাঙলার খনিজ সম্পদ যা ইতোমধ্যেই দিল্লীর দখলে, এখন বাঙলার মসনদে বসে বাঙালীকে পশ্চিমবাঙলায় সংখ্যালঘুতে পরিণত করাই শুধু বাকি৷ 

বাঙালীর স্বভাবসিদ্ধ পুঁজিবাদ বিরোধী মানসিকতা, ধর্মীয় কুসংস্কার ও ভাবজড়তা-মুক্ত উদার মনের সুযোগ নিয়ে বাঙলায় অবাঙালী অনুুপ্রবেশ ঘটে চলেছে, যার লক্ষ্য পশ্চিমবাঙলাকে অবাঙালী প্রধান রাজ্যে পরিণত করা৷ বাঙালীকে আজ তার ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করে নিতে হবে৷ হয় তাকে রাজনীতির এই পরিণতি মেনে বলির বকরী হতে হবে, নতুবা ভাতৃহত্যার রাজনীতি ভুলে, দলীয় কোন্দল ছেড়ে বাঙালী পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে৷ বাঙালীর সামনে অন্য কোন পথ নেই৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved