Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বাঙলা আজও ঔপনিবেশিক শোষনের শিকার

প্রাউটিষ্ট

সাড়ে তিনহাজার বৎসরেরও বেশী পুরনো আজকের বাঙালী সভ্যতা আক্ষরিক অর্থেই ছিল সোনার বাঙলা৷ ‘প্রাউট’ প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন ‘আজকে আমাদের যে বাঙালী সভ্যতা ও সংস্কৃতি, তার শ্যামলতা, তার সুশোভনতা তৈরী করে দিয়েছে এই রাঢ়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদী ও উপনদী বাহিত সভ্যতা-সংস্কৃতি ও তার সঙ্গে গাঙ্গেয় সভ্যতা ও ব্রহ্মপুত্র সভ্যতার মহামিলনে বাঙালী সভ্যতা পেয়েছে তার অলোক-সামান্য মাধুর্য্য৷’ বাঙলার মানুষেরা বৌদ্ধিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে খুবই উন্নত, কারণ বাঙলার সভ্যতা হচ্ছে তিনটি ব-দ্বীপীয় সভ্যতার চূড়ান্ত বিমিশ্র রূপ--- ১) রাঢ় সভ্যতা, ২) গাঙ্গেয় সভ্যতা, ৩) ব্রহ্মপুত্র সভ্যতা৷ জগতে সভ্যতার ইতিহাসে এটাই সর্র্বেত্তম বিমিশ্র সভ্যতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ৷ মানবসভ্যতার আদিবিন্দু অতীতের সেই সোনার বাঙলা, যা একদিন শৌর্যে-বীর্যে, অর্থনৈতিক সম্পদে, সাংস্কৃতিক গরিমায় সারা পৃথিবীর বিস্ময় ছিল, সেই বাঙলা ও বাঙালীর ঐতিহ্য আজ অবলুপ্তি ও ধবংসের পথে৷ একদা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাঙলা আজ হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী শোষণে, ধান্দাবাজ রাজনৈতিক নেতাদের অদূরদর্শিতায়, কায়েমী স্বার্থান্বেষীদের চক্রান্তে পড়ে নিঃস্ব, রিক্ত৷ প্রায় এককোটি কর্মক্ষম শিক্ষিত বাঙালী আজ বেকার৷ বাঙালী চাষী আজ ঋণে জর্জরিত, বাঙালী শ্রমিক আজ বঞ্চিত, শোষিত৷ যে বাঙলা ও বাঙালী ছিল সমগ্র মানব সমাজের মুক্তির সোপান তাকে আবার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করতে ও সেই সঙ্গে শোষণমুক্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল বাঙালীস্তান গড়তেই বাঙালী জনগোষ্ঠীর প্রতীক ও প্রতিভূ ‘আমরা বাঙালী’র জন্ম হয়েছে৷ এক নোতুন আত্মপ্রত্যয় ও বজ্র সংকল্প নিয়ে ‘আমরা বাঙালী’ ডাক দিয়েছে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত বাঙালীর নিজস্ব বাসভূমি পশ্চিমবঙ্গ সহ অতীতে বাঙলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সমস্ত বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলকে নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বাঙালিস্তান’ ঘটনের স্বাধীনতার পর ৭৪ বছর ধরে ব্রিটিশের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমী বেনিয়াদের অবাধ শোষণে ও তাদের পৃষ্ঠপোষক কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের ফলে বাঙলা আজ শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে৷ 

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানের পর ১৯৪৭ সালের বাঙলা ভাগের মধ্য দিয়ে এলো ভারতীয়- হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী শোষণের যুগ৷ স্বাধীনতা লাভের প্রথম পর্বে ক্ষুদ্র পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশী অগ্রসর রাজ্য৷ পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক আয় ছিল অন্যান্য রাজ্যের আঞ্চলিক আয় অপেক্ষা অনেক বেশী৷ বহু বাঙালী শিল্পপতি তখন পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে বিরাজ করতো৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে বহিরাগত অবাঙালী শোষকরা পরিকল্পনা মাফিক পশ্চিমবাঙলার শিল্প বাণিজ্যে বিশেস বিশেষ ক্ষেত্র থেকে বাঙলার শিল্পপতিদের উৎখাত করতে শুরু করে৷ বিগত ৩৪ বছরের বাম শাসন, তাদের নেতীবাচক রাজনীতি ও উস্কানীতে ধর্মঘট সহ জঙ্গী আন্দোলনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের অন্তর্জলি যাত্রা সম্পূর্ণ হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে বাঙলা স্বদেশী শোষকের হাতে নতুন করে ঔপনিবেশিক শোষনের শিকার হয়েছে৷ 

বাঙলার চা, পাট, কয়লা, লোহা,সিমেন্ট, চট, কাপড়, কাগজ ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আবাসন প্রভৃতি শিল্প বাণিজ্যের মালিকানার শতকরা ৯৫ ভাগ অবাঙালীদের হাতে৷ আর শতকরা ৬০-৭০ ভাগ শ্রমিক বাঙলার বাহিরের বহিরাগত৷ বাঙলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা বাঙলার বাহিরে অবাঙালী বহিরাগত শোষকরা পাচার করে চলেছে৷ শুধু তাই নয়, বাঙলার পাট,চা, কয়লা ও অন্যান্য খনিজদ্রব্য রপ্তানি করে কেন্দ্রীয় সরকার প্রভূত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও বাঙলা তার ছিটেফোটা লভ্যাংশও পায় না৷ বাঙলার খনিজ সম্পদ,লোহা, কয়লা ইত্যাদি অন্য রাজ্যে যখন বিক্রি করা হয় তখন বাঙলাকে তা বিনালাভে দিতে হয়,কিন্তু অন্য রাজ্য থেকে তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ সামগ্রী কিনতে হয় অধিকমূল্যে৷

২০২১ সালে রাজ্যে শাসক পরিবর্তন হয়েছে৷ কিন্তু ঔপনিবেশিক শোষন থেকে বাঙলা মুক্ত হয়নে৷ আজ দিল্লির স্বৈরাচারী শাসক নয়, বাঙালী জনগোষ্ঠীকেই গ্রাস করতে উদ্যত দিল্লির স্বৈরাচারী সরকার৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved