প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সবকা সাথ সবকা বিকাশের প্রচার চুপসে দিল বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬৷ ওয়ার্ল্ড ইন্ইকোয়ালিটি ল্যাব এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ এটি ল্যাবের বৈষম্য প্রতিবেদনের তৃতীয় সংস্করণ৷ এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ সালে বৈষম্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটির নেতৃত্বে এক দল অর্থনীতিবিদ বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬ প্রকাশিত করে৷ এই প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশের শীর্ষে থাকা ১০ শতাংশ ধনী মোট জাতীয় আয়ের ৫৮ শতাংশ আয় করে৷ অপরদিকে নীচের স্তরের ৫০ শতাংশ মানুষ মোট জাতীয় আয়ের মাত্র ১৫ শতাংশ আয় করে৷ তীব্র আর্থিক বৈষম্যের এই করুণ প্রতিবেদন মোদির সবকা বিকাশের প্রচার যে কতটা অসার তা দেখিয়ে দিল৷ তবে এখানেই শেষ নয়, শীর্ষে থাকা ১০ শতাংশ ধনী ব্যষ্টি জাতীয় সম্পদের ৬৫ শতাংশ দখল করে বসে আছে যেখানে নীচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে ৬ শতাংশের কম সম্পদ৷ গত দুটি প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় এই বৈষম্য ক্রমবর্ধমান৷ ২০২২ সালে জাতীয় আয়ের ৫৭ শতাংশের দখলে ছিল শীর্ষে থাকা ১০ শতাংশের হাতে সেখানে নীচের দিকে ৫০ শতাংশের হাতে ছিল ১৩শতাংশ৷ বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদনে প্রকাশ ভারতে আয় বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি৷ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে শীর্ষে থাকা এক শতাংশের হাতে আছে ৪০ শতাংশ সম্পদ৷ যেখানে বিশ্বে ১ শতাংশের হাতে আছে ৩৭ শতাংশের সম্পদ৷ প্রতিবেদনে নারী পুরুষের আয় বৈষম্যের চিত্রটিও তুলে ধরা হয়েছে৷ একজন পুরুষ যা আয় করে তার ৬১ শতাংশ আয় করে একজন নারী৷ জলবায়ু দুষণেও শীর্ষ ১০ শতাংশকে দায়ী করা হয়েছে৷ পরিবেশে নির্গত কার্বনের ৭৭ শতাংশ নির্গত হয় ১০ শতাংশের ব্যষ্টি মালিকানায় থাক শিল্প কারখানা থেকে৷
বিশিষ্ট প্রাউট তাত্ত্বিক শ্রীপ্রভাত খাঁ বলেন---পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীত অর্থনীতির খোল-নলচে পাল্টে প্রাউটের বিকেন্দ্রিত প্রগতিশীল আর্থিক ব্যবস্থা রূপায়িত না হলে এই বৈষম্য আরও বাড়বে ও গরীব মানুষ অনাহারে মরবে৷ তখন এই বৈষম্যের কারণে করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর মারণ ব্যধি পৃথিবীকে গ্রাস করবে৷ তাই শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের উচিত অবিলম্বে প্রাউটের নব্যমানবতাবাদী ও প্রগতিশীল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা রূপায়ণে এগিয়ে আসা৷