Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

বৃহত্তম গণতন্ত্রে বৃহত্তম কারচুপি

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

ভারতীয় গণতন্ত্র কোনদিন কলঙ্কমুক্ত নয়৷ সে যতই বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে গর্ব করা হোক৷ গণতন্ত্রের বেদীতে স্বৈরাচারের দাপট স্বাধীনতার আগে থেকেই লক্ষ্য করা গেছে৷ বার বার সেই দাপটের শিকার বাঙালী জনগোষ্ঠী৷ ১৯৩৯ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে জয়ী হন সুভাষচন্দ্র বসু পট্টভি সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে৷ সীতারামাইয়া ছিলেন গান্ধী মনোনীত প্রার্থী৷ তাই সেই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি অহিংসার পূজারী (!) মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী৷ সেই দিনই ভারতীয় গণতন্ত্রের বেদীতে পশ্চিম ভারত থেকে ফ্যাসিষ্টের সাপ ফোঁস করে উঠেছিল৷ গান্ধী ভক্তরা গান্ধীকে স্ট্যালিন, হিটলার মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করে গান্ধীকে কংগ্রেসের একক নায়করূপে মেলে ধরেছিল৷ শুধু তাই নয়, জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচিত সভাপতির সঙ্গে সেদিন যে কদর্য ব্যবহার গান্ধী অনুগতরা করেছিল তা যেকোন গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী সভ্য মানুষকে লজ্জা দেবে৷ কিন্তু গণতন্ত্র যাদের কাছে মুখোশ, সেই মুখোস খসে স্বৈরাচারের স্বরূপ প্রকাশ পেলেও তারা লজ্জা পায় না৷ কিন্তু লজ্জা পেয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু, লজ্জা পেয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ লজ্জায় ঘৃনায় সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করলেন৷ বেদনাহত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে এক ঐতিহাসিক পত্রে দেশনায়ক পদে বরণ করলেন৷ শুধু তাই নয় ওই পত্রে তিনি ভারতে বাঙালীর ভবিষ্যৎ দুর্দশার কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন৷ তবে আশার বাণীও শুনিয়ে গেছেন--- মারের ওপর মাথা তুলে দাঁড়াবে বাঙালী৷ সেই ইতিহাস ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে ও জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়৷

আজ আবার সেই পশ্চিম ভারতের একই ভূমি থেকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে৷ তবে এবার তথাকথিত গণতন্ত্রের ধবাজাধারীরা অনেক বেশী নির্লজ্জ অনেক বেশী নির্মম অনেক বেশী নিষ্ঠুর৷ তবে সেদিনও বাঙলাকে জব্দ করতে ওই পশ্চিমভারতীয় নেতারা অন্য কোনো পথ না পেয়ে সাম্প্রদায়িক তাস খেলে সফল হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের মত সাম্প্রদায়িক বাঙালীকে পাশে পেয়ে৷ আজ আবার সেই স্বৈরাচারী সাম্প্রদায়িক শক্তি অন্যরঙে দিল্লির গদিতে বসে বাঙালীকে নিশ্চিহ্ণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷ এবারও কিছু শ্যামভক্ত বিশ্বাসঘাতক সাথে আছে৷

তবে এবার এই ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক স্বৈরাচারী অশুভ শক্তির লক্ষ্য পুরো ভারতবর্ষকে সাম্প্রদায়িক হিন্দুস্তান বানানো৷ সেই লক্ষ্যে সংসদে সংখ্যাধিক্যের মস্তানি দেখিয়ে বিচারপতি নিয়োগ থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সব নিয়ম বদলে দলীয় প্রভাব বাড়িয়ে নতুন নিয়ম করা হয়েছে৷ দলদাস নির্বাচন কমিশনার সেই নিয়মেই প্রডাক্ট৷ নির্বাচন তালিকা সংশোধনের নামে বিরোধী ভোটারকে নির্মুল করার কাজটা কয়েকটি রাজ্যে ভালই সেরেছে৷ কিন্তু সব থেকে বড় বাধাটা যে আসবে বাঙলা থেকে সেটাও তাদের বোধগম্যের বাইরে নয়৷ তাই নির্বাচনের দুমাস আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করে৷ লক্ষ্য ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরী করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ পিছিয়ে দেওয়া, যাতে বিধান সভার মেয়াদ নির্বাচনের আগেই শেষ হয়ে যায়, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়৷ অর্থাৎ ব’কলমে কেন্দ্রীয় শাসকদলের শাসন৷ তাতে অন্তত দুধের সাধ ঘোলে মিটবে৷ বাঙলা দখলের আশা সুদুর পরাহত৷

স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাঙলা দখলের আশা নেই জেনেই দলীয় বশংবদ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করে বাঙলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবেশ তৈরী করা৷ এস.আই.আর সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি পদক্ষেপ৷ তাই যে সব কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের প্রভাব বেশী, বেছে বেছে সেই কেন্দ্রগুলির ভোটারকেই হয় বাতিল করা হয়েছে অথবা বিচারাধীন রাখা হয়েছে৷ সংখ্যাটা এক কোটিরও বেশী৷

নির্বাচনে ফলস্‌ ভোটার, ছাপ্পা ভোটার বুথ দখল এসব এতদিন ছিলই৷ তবে এসব অপকর্মে স্থানীয় কর্মী ক্যাডারই লিপ্ত থাকতো, নেতারা সব জেনেও নির্লিপ্ত থাকতো৷ তবে এবার বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিশ্বের বৃহত্তম কারচুপি৷ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ থেকে ইডি, সিবিআই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্টকে নানাভাবে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিরোধী শূন্য এক দেশ এক আইন, একদলের শাসন কায়েম করতে চাইছে৷ একাজে লিপ্ত আর ক্যাডার কর্মী নয়, ক্ষমতার উপর মহল এই কারচুপি সংঘটিত করছে৷ দিল্লি দখল, মহারাষ্ট্র বিহার দখল সবের পিছনেই আছে অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ৷ যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করছে৷ তবে বাঙলা দখলের অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী প্রয়াস শুধু ভারতীয় গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করবে না, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved