বর্তমানে সারা দেশ ভারত যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলছে সেটা ভাবতে ভাবতে মনে পড়ছে অতীতের সেই ১৮৮৫ সালের কথা৷ সেই সময় বিদেশী ইংরেজ শাসক কোন জনসংযোগ করতো না তাতে সারা দেশ একটি চাপা অসন্তোষ সৃষ্টি হয়৷ এটা বুঝেই ইংরেজ সরকার এর পক্ষ থেকে ভিক্টর এ্যালেন হিয়ুম একজন উচ্চশিক্ষিত ইংরেজ সরকারের নির্দেশেই দেশের কিছু শিক্ষিত ব্যষ্টিকে নিয়ে একটি দেশী রাজনৈতিক দল ঘটন করেন৷ যার নাম হয় ‘কংগ্রেস’৷ এই দলের সভাপতি হন ব্যরিষ্টার শ্রী উমেশচন্দ্র মজুমদার ও অন্য কয়েক জনকে নিয়ে এই সংঘটন তৈরী হয়৷ যেটি রাজনৈতিক সরকার স্বীকৃত দল যাঁদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই বিদেশী ইংরেজ শাসক এদেশ চালাতে মনস্থ করেন৷ এই দল ভারতবর্ষে প্রথম স্বীকৃত দল, সেদিন এই বাংলাদেশই হলো সারা ভারতবর্ষের শাসনের কেন্দ্রস্থল রাজধানী তাই কলকাতা হয়৷ এই বাংলা অখণ্ড তখন৷ ধীরে ধীরে হিন্দু মুসলমান ও অন্যসম্প্রদায় একত্রিত হয়েই রাজনৈতিক দল-এর সভ্য হয়ে দেশে আন্দোলন চালাতে থাকে৷ সেই আন্দোলন ছিল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন৷ এটি ভালো চোখে দেখেনি ইংরেজ শাসক৷ তাই এই বাংলারই একজন ঢাকার নবাব সালি মুদ্দিনকে সামনে রেখে সরকার টাকা খরচ করে মুসলীম লীগ ঘটন করে৷ আর সেই সাম্প্রদায়িকতাকে মুসলীমদের নেতাদের ভারতবর্ষের বুকে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতাকে উষ্কে দিয়ে এই দেশের সর্বনাশে নামে---একটি কথা বলে রাখি সেটি হলো কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতা হিন্দু তাই মুসলমানদের ভালো হবে না৷ এটাই বুঝিয়ে ছিল ব্রিটিশ৷ এতে কট্টর মুসলমানরা উৎসাহিত হয়ে সেই সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়৷ এই বাংলাতে অশান্তির আগুন জ্বালায় ইংরেজ সরকার৷ দেশ ভাগের ষড়যন্ত্রে দেশীয় পুঁজিপতিরাও ছিল৷ এদিকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র কংগ্রেসের সভাপতি হন৷ তিনি অখণ্ড ভারতবর্ষের স্বাধীনতার আন্দোলন করেন৷ নরমপন্থী গান্ধীজী সেটা পছন্দ করতেন না, তিনি নরমপন্থী ছিলেন৷ তাই নেতাজী কংগ্রেস দল ত্যাগ করেন ও ফরোয়ার্ড ব্লক ঘটন করেন নোতুন দল৷ আর তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা দাবী করেছিলেন ভারতবর্ষের জন্য তারই উদ্দেশ্য সেই নেতাজী দেশ ত্যাগ করে জার্মান হয়ে জাপানে এসে রাসবিহারী বসুর হাত থেকে আজাদ হিন্দ বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন৷ কিন্তু যুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়৷ কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে সুভাষ আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছিল৷ তারা ভারত ছেলে পালাতে চেয়েছিল৷ যাবার আগে ধর্মান্ধ হিন্দু মুসলীম নেতা ও জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝা পড়া করে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভাগ করে ১৯৪৭ সালে ১৪ই আগষ্ট মুসলমানদের পাকিস্তান আর ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭ সালে হিন্দুদের হিন্দুস্তান হিসাবে দেশ ইংরেজ সরকার অধীন ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস দেয়৷ যাকে আমরা স্বাধীনতা বলে থাকি৷ এতে স্বাক্ষর করেন জওহরলাল নেহেরু মি.জিন্না সাহেব৷ তার অভিশাপ ভারতবাসী আজও বহে চলেছে৷
এরপরই ভারতকে ধবংস করার কাজ আরম্ভ করে পাকিস্তানকে দিয়ে সেই বিশ্বাসঘাতক ইংরেজ সরকার৷ পাকিস্তান থেকে সাম্প্রদায়িক হামলায় হাজার হাজার হিন্দু ও অমুসলমানদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে উদ্বাস্তু করে ভারতে পাঠাতে লাগলো৷ আর কশ্মীরের যুদ্ধ আরম্ভ করে কশ্মীরের ১/৩ অংশ অধিকার করে নেয় পাকিস্তান! আজও তার রেস কাটেনি! কংগ্রেসের গান্ধীজী হলেন জাতির জনক আর পাকিস্তানের জনক হলেন মিঃ জিন্না৷ জওহরলাল আর জিন্না ছিলেন প্রায় বন্ধুর মতো৷ তবে মৃত্যুর আগে মিঃজিন্না দুঃখ প্রকাশ করেন নিজের অপকর্মের জন্য! আজও সেই কেন্দ্র সরকার এই বাংলার উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান করেনি৷ এই বাংলাই এই যে দেশ ভাগের স্বাধীনতা এর মূল কারণ সেই নেতাজীর ইংরেজকে আক্রমণ ওই ইংরেজের মনে ভীতির সঞ্চার করে সেই বাঙালী জনগোষ্ঠী আজ মোদিজীর আমলে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হচ্ছে৷ যদি বাঙালী সেদিন আঘাত না দিত আজকের যে অর্বাচীন কেন্দ্র সরকার দিল্লির গদীতে বসে বাঙালীকেই নির্মমভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার করার সুযোগ পেত না৷ একবার ভাবেন না এই বাঙালী জনগোষ্ঠী এরই স্বাধীনতার জন্য কতো প্রাণ ত্যাগ করেছেন! তাঁরা কতোটা নির্যাতিত হচ্ছেন৷ আজ কংগ্রেস বুঝেছিল৷ তারা ভুল করেছে৷ তাই সেই বিখ্যাত আইনজ্ঞ বাবা সাহেব আম্বেকরের সভাপতিত্বে গণপরিষদের দ্বারা দেশ শাসনে সংবিধান রচনা করান৷ সেই সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী নিরপেক্ষ’ নীতিকে অমান্য করে হিন্দুত্ববাদী হয়ে নির্মম নির্যাতন অত্যাচার চালিয়ে বাঙালী ও বাংলা ভাষাকে বিদেশী বলে বাঙালী ভারতীয়দের পশ্চিম বাংলার বাহিরে হত্যা করে হচ্ছে৷ এ কেমন দেশ! কেমন স্বাধীনতা!
- Log in to post comments