---আমার জীবনে কিছু কালো দিনের মধ্যে আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬ একটি৷ মানসিক ভাবে খুবই অসহায় লাগছে৷ বিধবস্ত৷
পশ্চিমবঙ্গের কমপক্ষে ৪০ লক্ষ জলজ্যান্ত মানুষ, যাঁরা দেশের নাগরিক, আগে বহুবার ভোট দিয়েছেন, তাঁদের এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিগত ৫ মাস ধরে আমি বার বার আশঙ্কা প্রকাশ করছিলাম৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছিলাম৷ আমার মনে হচ্ছিল, নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গোপন টার্গেট নিয়ে এই ছজ্জট্ট এর কাজ করছে৷ আমার নিজের ইউটিউব
চ্যানেলে বলছিলাম৷ লিখছিলাম৷ অন্যত্র সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলাম৷ আজ আমার হিসেব প্রায় মিলে গেল৷ কার্যত কমিশন তো বটেই, সুপ্রিম কোর্ট লজ্জাজনক ভাবে হাত তুলে নিল এত বড় কেলেঙ্কারির থেকে৷ ২৭ লক্ষের নাম ২০০২ এর ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং হয়েও বাদ! মানবতার এত বড় হত্যাকাণ্ড বাংলার ইতিহাসে কোনও দিন হয়নি৷
সাংবাদিক হিসেবে কমপক্ষে ৪০ লক্ষের হিসেব মিলে যাওয়ায় আমার খুশি হওয়ার কথা৷ কিন্তু বুকের মধ্যে অত্যন্ত যন্ত্রণা হচ্ছে৷ যদি হিসেব না মিলত আমার থেকে বেশি খুশি কেউ হত না৷ আমার কত লক্ষ লক্ষ সহ-নাগরিক এবার ভোট দিতে পারবেন না! চারদিকে তাঁদের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি৷ মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বসিরহাট, বনগাঁ, বাগদা, বাসন্তী, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, আসানসোল, কালনা সব জায়গা থেকে কান্না ভেসে আসছে৷ ফোন আসছে৷ কারণ, সব ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে এঁরা বার বার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন৷ (আশ্চর্য! লাইন কথাটাই তো বিদেশি৷ খ্রিস্টান ইংরেজরা এনেছিল৷)
আমার স্ত্রী বাজারে বেরিয়ে ফিরে এসে বলছেন, অমুক সব্জি ওয়ালা, মাছ বিক্রেতা কত বছরের ভোটার! তাঁদের নামটা কেটে দিয়েছে৷ বলতো, কিছু কি করা যাবে না? পুত্র বলছে, বাবা অফিসের এক বন্ধুর দাদু স্বাধীনতা সংগ্রামী পেনশন পেতেন, ওর নাম ওঠেনি৷ কিছু কি হবে না? আমার নিজস্ব চ্যানেল খোলার ব্যাপারে উৎসাহী মুর্শিদাবাদের এক ওস্তাদ মিস্ত্রি বলছেন, আমাদের বাড়ির অর্ধেক নাম কেটে দিল৷ আমারটাও৷ আর কি উঠবে স্যার? কোনও জবাব দিতে পারছি না!
রাজনীতির দাদা দিদিরা সবাই এখন ব্যস্ত কে কত আসনে, কোন আসনে জিতবেন তাই নিয়ে৷ ২৭ লক্ষ বাদ গেল জজদের বিচারে৷ তার আগে বাবার ৫০ বছরে কেন আপনার জন্ম? আপনার নামের বানান কেন ভুল? হঠাৎ করে কুমার বা মহম্মদ এলো কোথা থেকে? বেওয়া কেন বিবি হল? বিয়ের আগে মিত্র , কেন বিয়ের পরে ঘোষ? এই যুক্তি দিতে না পারায়, আরও প্রায় ৭/৮ লক্ষ বা তার বেশি নাম বাদ৷ ড্রাফটে ভুল করে বাদ আরও কয়েক লক্ষ৷ যাদের বয়স ১৮ পেরিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯ লক্ষ আবেদন করে কোনও কারণ ছাড়াই বাদ সাড়ে ৭ লক্ষ৷ ... আর হিসেবে দিতে ভালো লাগছে না৷
এই বিভক্ত বিধবস্ত বাংলায় এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় সব থেকে বেশি খুশি যাঁরা তাঁদের মধ্যে অন্যতম, আমার মনে হয় শুভেন্দু অধিকারী৷ যিনি অমিত শার পছন্দের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী৷ কারণ, তাঁর দেওয়া হিসেব অনেকটাই মিলে গিয়েছে৷ আর খুশি কিছু প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়ার ছাপ মারা সাংবাদিক৷ হিন্দু মধ্যবিত্ত উচ্চবর্ণের৷ কারণ, তাঁরা সব বোধবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে এটার জন্য গত ৫ মাস ধরে গলা ফাটিয়েছেন৷ কেউ কেউ প্রকাশ্যে আমাকে গালি দিয়েছেন৷ আজ এদের জয় হয়েছে৷
কিন্তু আমি নিশ্চিত ইতিহাস কোনও দিন ক্ষমা করবে না৷ আমি না বাঁচলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এঁদের জবাবদিহি করতে হবে৷
- Log in to post comments