Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

চারটি মনস্তত্ত্বের আধিপত্যের যুগ–বৈশিষ্ট্য

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

অর্থাৎ বৈশ্য–যুগেই বস্তুর বৈবহারিক মূল্য সবচাইতে কমে’ যায়। বস্তু স্ব–ভাবে বা টাকার অঙ্কে ক্রমশঃ স্থানু হয়ে পড়তে থাকে। বৈশ্য যুগে এইটেই সব চেয়ে বড় অভিশাপ। কারণ ভোগ্য বস্তুর গতিশীলতা যেখানে যত কম, বা অন্য ভাষায় বলতে গেলে, বিশেষ বিশেষ প্রকোষ্ঠে তার স্থিতিশীলতা যত বেশী, ততই তা জনসাধারণের পক্ষে অধিকতর ক্ষতির কারণ হতে থাকে।

এত বলার পরেও বলছি, পৃথিবীর কোন কিছুই অবিমিশ্র ভাবে খারাপ বা ভাল নয়। ব্যষ্টিগত বা সমষ্টিগত যে কোন প্রচেষ্টাই হোক্ না কেন তার গোড়ায় একটা পুঁজি থাকার দরকার–তা সে টাকার অঙ্কেই থাক, বা বস্তু হিসেবেই থাক। বৃহৎভাবে বা ব্যাপকভাবে পুঁজি সৃষ্টি করবার সুযোগ এই বৈশ্যযুগেই আসে, আর এই পুঁজি কাজে লাগিয়ে শুধু বৈয়ষ্টিক* জীবনেই নয়, সামূহিক জীবনেও সম্পদ সৃষ্টি করা যায়।

সামাজিক শোষণের প্রশ্ণে বিপ্র ও বৈশ্যযুগের ধরণ–ধারণে খানিকটা মিল আছে। তাই সমাজ–ব্যবস্থায়, সমাজিক আইনে বা নারী–পুরুষের মর্যাদা নির্ধারণের প্রশ্ণে, বা দায়াধিকার ব্যবস্থায় বৈশ্যযুগ মোটামুটি বিচারে বিপ্রযুগেরই অনুসরণ করে।

অবশ্য বৈশ্য–প্রধান সমাজ–ব্যবস্থার স্বভাবই এই যে, অনেক ভাল ভাল আইন তৈরী করা হয় জনসাধারণের কাছ থেকে সস্তা তারিফ পাবার জন্যে, কিন্তু কোন প্রকারের আইন কঠোর ভাবে বলবৎ করা হয় না। কারণ তা’ করা হলে শোষণের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দেয়।

বৈশ্য যুগে মানুষের মর্যাদা টাকার অঙ্কে নিরূপিত হয়। মানুষের এই ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ণের প্রভাব কেবল মর্যাদার ক্ষেত্রেই সীমিত নয়, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর ফল হয়ে দাঁড়ায় সুদূর প্রসারী। নিজস্ব মতবাদ, মর্যাদাবোধ বা স্বাতন্ত্র্যবোধ যার আছে, সহস্র যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সেই বিপ্র বা ক্ষত্রিয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না–যদি না সে মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে বৈশ্যের স্তাবকতা করতে শেখে। বস্তুতঃ বৈশ্যযুগে বিত্তবান ব্যতিরেকে বাকি কেউই সম্মানের আশা করতে পারে না। যারা আশা করে বা পেয়েছে তাদের বৈশ্য কৃপার ওপরেই নির্ভর করতে হয় বা হয়েছে। ‘সর্বে গুণাঃ কাঞ্চনমাশ্রয়ন্তি’।

বৈশ্য–ভাবনায় জাগতিক সম্পদ অনেককে বঞ্চিত করে’ অল্পের মধ্যে সঞ্চিত হতে থাকে বলে’ বৈশ্যরা সব সময়েই সংখ্যাল্প, আর তাদের শোষণের উপকরণ ও শোষণের যন্ত্র হিসেবে থেকে যায় যারা–তাদেরই সংখ্যাধিক্য। শোষিত চিনির বলদের মত এই যে সংখ্যাধিক জনসাধারণ –এদের প৷ মন ভাবতে থাকে যে, চিনি খাবার অধিকার তাদের নেই। তাদের এই ভাবনাই বৈশ্যের পরম বন্ধু। বৈশ্যরা সর্বতোভাবে–প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের মনে এই ভাবনাকেই পরিপুষ্ট করে’ রাখতে চায়, আর এ জন্যেই তারা রকমারী ইজ্মের ও আকাশ–ছোঁয়া তত্ত্ব–কথার আমদানী করতে চায় শূদ্রাবস্থা–প্রাপ্ত বেতনভূক বিপ্রদের সাহায্যে। চিনির বলদের দল যখন শোষণ সহ্য করতে না পেরে মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখনই বৈশ্য যুগের অবসান হয়।

বর্তমান যুগ 

বৈশ্য–প্রধান সমাজব্যবস্থা আজও চলছে। শোষণের ফলে বিপ্র ও ক্ষত্রিয় ক্রমশঃ শূদ্রত্বে পর্যবসিত হয়ে চলেছে। স্বাভাবিক নিয়মেই সমাজে বিত্তশালীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই শূদ্রেরই। এই শূদ্রেরা আজ চাইছে মিলিতভাবে বৈশ্য–প্রধান্য খর্ব করতে, তাদের ধ্বংস করতে। তাই আজ জাগছে একটা শূদ্র–প্রাধান্যের সূচনা।

যারা দৈহিক বলের দ্বারা বা মনোবলের দ্বারা নিজেদের শাসন অক্ষুণ্ণ রেখেছিল তাদের শ্রমজীবীর শ্রমের ওপরে নির্ভর করতে হ’ত না, আর শ্রমজীবীরাও তৎকালে তাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে নি। কিন্তু পুঁজিপতিরা শ্রমিকের সাহায্য ব্যাতিরেকে তাদের সম্পদ বাড়াতে পারেনি, তাই পুঁজিপতির শাসন ব্যবস্থায় শাসকের নিকট শ্রমের মূল্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, এইভাবে শ্রমিকরাও তাদের গুরুত্ব বুঝতে শিখল। ফলতঃ শাসন ক্ষমতা অধিকার করবার জন্যে তাদের চেষ্টা সাম্যবাদ আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে।

শূদ্রের দৃঢ়–নিবদ্ধ সমাজ না থাকায় তথা বৌদ্ধিক অল্পতা নিবন্ধন সমাজ শাসন তাদের দ্বারা হয় না। তাই শূদ্র–বিপ্লবে* যারা নেতৃত্ব নেয়, বৈশ্যোত্তর যুগে শাসন ব্যবস্থা তাদের হাতেই আসে। এরা বীর, সাহসী। তাই দ্বিতীয়বার ক্ষাত্র–যুগের এরাই সূচনা করে।

বর্তমান পৃথিবীতে দু’একটি অনগ্রসর দেশে আজও ক্ষাত্র যুগ বা বিপ্র যুগ চলছে। অধিকাংশ প্রাগ্রসর দেশে চলছে বৈশ্য যুগ। দু’একটি দেশে শূদ্র–ভ্যুত্থানের পর দেখা দিয়েছে নোতন ক্ষাত্র যুগ। কোথাও বা নোতুন বিপ্র যুগের সূচনা দেখা যাচ্ছে। 

ইতিহাসের বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োগভৌমিক সিদ্ধান্ত

সভ্যতার বিবর্ত্তনের পরিঘূর্ণনে চারটি শ্রেণীর অবস্থিতি সুনির্দিষ্ট। এক একটি শ্রেণী এক এক যুগে আধিপত্য বিস্তার করে, আর সমাজচক্রের ঘূর্ণণের কারণে ক্রমশঃ সেই শ্রেণীর আধিপত্য কমে’ গিয়ে পরবর্ত্তী শ্রেণীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এইভাবেই চক্র ঘুরে চলেছে।

ইতিহাস রচিত হয় সামূহিক মনস্তত্ত্বের ভিত্তিতে। শূদ্র যুগের পরে এসেছে সর্দারদের যুগ, অর্থাৎ ক্ষাত্র যুগ, তারপর বিপ্র যুগ, তারপর বৈশ্য যুগ, আর তারপর, যে ক্ষত্রিয়রা শূদ্র–বিপ্লবে নেতৃত্ব করেছিল তাদের যুগ। চক্র এই ভাবেই ঘুরে চলবে। সমাজচক্রের এই প্রবাহ চিরন্তন।

অর্থাৎ শ্রেণীচক্র ক্রমাগত বিবর্ত্তিত হয়েই চলবে, শ্রেণীসংগ্রাম চলার সে৷ সে৷ কোন বিশেষ যুগে কোন বিশেষ গোষ্ঠী (শ্রেণী) প্রাধান্য বিস্তার করবে।

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved