Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

দ

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

(৩) একটু আগেই ৰলছিলুম, ‘দী’ ধাতুর মানে কাটা৷ কাপড় কাটা, বাঁশ কাটা, তরকারী কাটা---সব ক্ষেত্রেই ‘দী’ ধাতু চলৰে৷ তবে মারপিট কাটাকাটির জন্যে ‘দী’ ধাতুর ব্যবহার বড় একটা নেই৷

হ্যাঁ, তরকারী কাটা বলতে গিয়ে একটা ছোট্ট সামাজিক ইতিহাস মনে পড়ে গেল৷ প্রাচীন বাংলায় তরকারী ‘কাটা’-ই ৰলা হত (এসেছে সংস্কৃত ‘কর্তন’ থেকে৷ কর্তন> কট্টন> কাটান)৷ ৰাঙলাার সমাজে যখন বৈষ্ণবীয় প্রভাব ৰাড়ল তখন লোকে ভাবতে শুরু করলে কাটা মানে মারামারি কাটাকাটি খুনোখুনিও তো হতে পারে৷ আবার কাটা মানে পাঁঠা কাটা, মাছ কাটাও তো হতে পারে, অথচ তরকারী তো বৈষ্ণবেরা খাবেন৷ তাই তরকারী কাটা ৰলা যায় কোন যুক্তিতে! তাঁরা বলতে শুরু করলেন ‘তরকারী কোটা’ (কুটনো কোটা)৷ পরবর্তী কালে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে তাঁরা উত্তর ভারতের বৈষ্ণবদের অনুকরণে তথা অনুসরণে বলতে শুরু করলেন তরকারী বানানো’’৷ তাঁরা লাল রঙ-কে লাল ৰলতে অপছন্দ করতে লাগলেন, কারণ রক্তের রঙও তো লাল৷ তাই লাল রঙকে বলতেন রাঙা রঙ আলতা রঙ৷ আর জবা ফুল বৈষ্ণবীয় পূজার উপকরণ ৰলে গণ্য হয় না৷ জবা ফুল ও রক্তচন্দনের ব্যবহার মুখ্যতঃ কালী পূজায় ও সূর্য পূজায়কালী পূজা শাক্ততন্ত্রের ও সূর্যপূজা সৌর তন্ত্রের জিনিস কোনটাই বৈষ্ণব তন্ত্রের নয়৷ তাই কোন স্থানে জবা দেখলে তাঁরা উত্তর ভারতীয় শব্দের অনুকরণে বলতে লাগলেন ‘ওড় ফুল’ (উত্তর ভারতে জবা ফুলকে ‘ওড়’ বা ‘উড়হুল’ ৰলা হয়ে থাকে)৷ বৈষ্ণবেরা একটা ব্যাপারে একটু অসুবিধায় পড়ে গেলেন৷ কলমের সাহায্যে তাঁরা কাগজে লিখৰেন কী দিয়ে! সেজন্যে তো দরকার ‘কালি’-র৷ সুতরাং অবস্থার চাপে পড়ে ‘কালি’ শব্দের উচ্চারণ করতেই হচ্ছে৷ তাই তাঁরা উত্তর ভারতের অনুকরণে ‘কালি’কে ৰলতে লাগলেন ‘সেহাঈ’ (হিন্দীতে ‘সিহাঈ’, ঊর্দূতে ‘রওশনাই’)৷ তাঁরা বাংলা শব্দ ‘ঝোল’টির ব্যবহার ও ৰন্ধ করে দিলেন৷ ‘ঝোল’ বা ‘সালুন’ ৰললে মাছ বা মাংসের ঝোলকেও তো ৰোঝাতে পারে৷ ঝোল ৰলতে কেবল ঝালের ঝোলকেই যে ৰোঝাবে এমন তো কোন কথা নেই৷ তাই তাঁরা উত্তর ভারতের অনুকরণে ঝোলকে বলতে লাগলেন ‘রসা’৷ এই ধরণের অদ্ভুত নিষ্ঠা এককালে সমাজের খুবই চলেছিল৷ একজন বৈষ্ণব ৰললেন‘‘আমি কি আর মানুষ ! আমি বৃন্দাবনের পথের কেঁচো’’৷ আর একজন বললেন‘‘কেঁচোর তো তবু প্রাণ আছে৷ আমি নিজেকে কেঁচো মনে করে ঔদ্ধত্য দেখাতে চাই না৷ আমি বৃন্দাৰনের ব্রজরজঃরাস্তার ধুলো৷’’ আরেকজন একটু তারিফ নেবার জন্যে বললেন---‘আমি বৃন্দাবনের কাকবিষ্ঠা’৷ এ সম্বন্ধে রকমারি গল্প আছে৷ তাই ‘দী’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘দ’ পাই তার একটা মানে ‘যা কাটা হয়েছে’ ও আরেকটা মানে ‘যে কাটে’৷       (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved