গত ৩১শে জুলাই ২০২৬ লোকসভায় বন্দেমাতরম বিল পাস হল৷ রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর হলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে৷ বন্দেমাতরম জাতীয় সংগীত হবে৷ এটি অখন্ড বাঙলার সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত৷ লেখক এখানে পরাধীন ভারতে অখন্ড বাঙলা মায়ের বন্দনা করেছেন৷
পরাধীন ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে বন্দেমাতরম দেশপ্রেমের মন্ত্র ছিল৷ এই মন্ত্র উচ্চারণ করলে ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ কারাগারে আটকে রাখত৷
জন্মভূমি হল মাতৃস্বরূপ৷ কারণ জন্মভূমির মাটি আমাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে রক্ষা করে৷ তাই মাটিকে বন্দনা করে সম্মান দেওয়ায় কোন অপরাধ নয়৷ কিন্তু বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ পুলিশ তা সহ্য করত না৷ মা বলতে সেদিন সাহিত্য সম্রাট বুঝিয়েছিলেন অখন্ড বাঙলাকে৷ আজ সেই বন্দেমাতরম দেশের জাতীয় সংগীত৷ একে অসম্মান করলে তিন বছরের কারাবাস৷
দেশের নাগরিক বন্দেমাতরমকে জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে৷ জাতীয় সংগীতের মর্যাদা অবশ্যই রাখতে হবে, কিন্তু নানা ঘটনায় নাগরিক সমাজ অসন্তুষ্ট৷ নাগরিক সমাজের মানসিকতার যাতে বিকাশ ঘটে, আর্থসামাজিক উন্নতি হয় সে দিকটাও দেশশাসকের দেখা উচিত৷ নাহলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হবে৷ যুক্তিবাদী নাগরিকরা এমনটাই মনে করছেন৷
দলত্যাগী তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই নিয়ে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতৃ সাংসদ প্রিয়াংকা গান্ধী ভাদ্রা৷ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাবা রাজীব গান্ধী দলত্যাগ আইন সংশোধন করেন ১৯৯১ সালে যাতে এক তৃতীয়াংশ সংসদ দল ত্যাগ করে অন্য দলে যুক্ত হলে সদস্য পদ বাতিল হতো না৷ রাজীব গান্ধীর আইন দলত্যাগে উৎসাহিত করে৷ ২০০৩ সালে দলত্যাগী আইন আবার সংশোধন হয়৷ দুই তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দল ত্যাগ করলে সদস্য পদ বাতিল হয় না৷ কিন্তু আইনের উধের্ব উঠে সংসদদের যদি সামান্য নৈতিকতা থাকে তবে যে দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছে সেই দল ত্যাগ করতে হলে অবশ্যই যে দলের সমর্থকদের ভোটে জিতেছে সেই সমর্থকদের সমর্থন নিতে আবার ভোটে দাঁড়াতেন৷ বর্তমানে তৃণমূলের যেসব সংসদরা বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে তারা কিন্তু বিজেপি বিরোধী ভোটে জয়ী হয়েছে৷ তাই তাদের উচিত তৃণমূল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ পদ ত্যাগ করে আবার নির্বাচনে দাঁড়ানো৷ কিন্তু সাংসদের সেই সৎসাহস ও বিন্দুমাত্র নৈতিকতা নেই৷ আসলে অনৈতিক বলেই দল ক্ষমতা হারাতেই আবার ক্ষমতাশীল দলে আশ্রয় নিচ্ছে৷ এইসব সংসদরা শুধু গণতন্ত্রের অমর্যাদা করছে তাই নয়,এরা নিজ নিজ কেন্দ্রে সেই সব ভোটারদের অসম্মান করেছেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, যাদের ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে৷
নতুন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা দীপক জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ চেয়েছেন৷ এই নতুন দলের সঙ্গে শাসকদল অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে৷ দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ অনেকের খারাপ লাগে৷ এটা মোটেই কাম্য নয়৷ অনেকের মত বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল তাই গণতন্ত্র এদের সহ্য হয় না৷
- Log in to post comments