Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

এস. আই. আর –২০২৬

একর্ষি

পূর্ব প্রকাশিতের পর, 

এই বহিরাগত সমস্যা তৈরী হওয়ার পিছনে কতগুলো ঘটনা অনুঘটকের কাজ করে৷ যেমন -প্রাকৃতিক দুর‌্যোগ মহামারী সামরিক অভিযান প্রভৃতি প্রতিকুল পরিস্থিতি৷ প্রাকবৈদিক যুগে ভারতবর্ষে আর‌্যদের আগমন ও আধিকেত্য আদিযুগের ভারতের অনেকিছুই পালটে যায়৷ ভারতবর্ষ হয়ে ওঠে আর‌্য-অনার‌্য সঙ্কর - সভ্যতা- সংস্কৃতির দেশ৷ মনে রাখতে হবে এই অনার‌্য শব্দটি কোন ভাবেই হীনার্থ বোধক নয়৷ নিছক আর‌্য নয় এমন আদিবাসী অর্থে ব্যবহৃত৷ পরবর্তী কালে মঙ্গল শক হৃন পাঠান শক হৃন পাঠান ইংরেজ -পর্তুগীজদের প্রভাবও ভারতীয় জনজীবনে কম নয়৷ ঘটনাচক্রে আদি বাসিন্দারা আজ তালিকাভুক্ত জাতি উপজাতি৷ সমাজে পিছিয়ে পিড়া, অনুন্নত শিক্ষার আলোককবর্জিত নিম্নবর্ণের নীচুতলার মানুষ৷ ইউরোপে গথ, ভ্যাণ্ডাল, মোঙ্গল দের আগ্রাসন অনেক কিছুই ওলট পালট করে দিয়েছে৷ এমনকি এশিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়৷ আফ্রিকা আমেরিকার কথা নোতুন করে বলার কিছু নেই৷ ভূ-রাজনীতি সামাজিক- অর্থনৈতিক বিন্যাস আমূল বদলে গেছে হারিয়ে গেছে অনেক কিছু৷ বলতে গেলে আধুনিক পৃথিবীর মানুষের ইতিহাস বহিরাগতদের আধিপত্যবাদের হতিহাস জয়ীদের ইতিহাস৷ অবশ্য আদি অবিমিশ্র বলে আজ জগত কিছু নেইও৷

আদিতে আধিপত্য সংঘর্ষ-সমিতি চলত নরগোষ্ঠীতে নরগোষ্ঠীতে (৩রেসিয়াল)৷ এখন তা দাঁড়িয়েছে এথ্রনিক জনগোষ্ঠীতে জনগোষ্ঠীতে৷ বিশ্বের ভৌগোলিক অঞ্চলগুলো এক একটা জনগোষ্ঠীর পরিচয় বহন করে৷ বিচিত্র জনগোষ্ঠী সমূহের বাস এই পৃথিবীতে৷ বৈচিত্রে্য ও স্বাতন্ত্রে্য তার প্রাকৃতিত্ব৷ কিন্তু মানুষের যাযাবরী বাঁধন ছেড়া স্বভাব যেমন যায়নি তেমনি উন্নত সভ্যতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার কালেও আধিপত্য, আগ্রাসী কায়েমী স্বভাবও যায়নি৷ এর নীট ফল হল বৈচিত্র্য বিকৃত হয়ে রূপ নিয়েছে বৈষম্যে৷ বৈচিত্র্য থাকে প্রভেদ-পার্থিক্যে কিন্তু তা বিভেদ-ভেদাভেদ নয়৷ আধিপত্যবাদী ক্ষুদ্রস্বার্থান্বেষী বহিরাগতদের অপকৃতিতে জন্ম নিয়েছে বিভেদ-ভেদাভেদ- বৈষম্য৷ সমস্যাটা এখানেই৷ বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার অর্থ যেমন জগতের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকেই অস্বীকার করা নয়, তেমনই সকলের কল্যাণের রাস্তাটাই বন্ধ করে দেয়া৷ এই পরিস্থিতির অন্যতম বিষফলটি হচ্ছে অভিবাসন সমস্যা৷ বহিরাগতদের শরণার্থী অনুপ্রবেশকারী অভিবাসী, পরিযায়ী, পররাজ্যগ্রাসী উপনিবেশকারী বা দখলদারী তা যে নামেই পরিচয় দেয়া হোকনা কেন আসল পরিচয় হচ্ছে তারা বহিরাগত৷ সুদূর অতীতে এটা সমস্যা হয়নি৷ ব্যতিক্রম থাকলেও, পশু -পক্ষীর মধ্যেও দেখা যায়৷ নানা কারণে স্থান থেকে স্থানান্তরে যাওয়া আসা, বাসা বদল জীবের একটা প্রকৃতিগত স্বভাব৷ যখন লোক সংখ্যা কম ছিল, তেমন ভাবে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, জীবন যাতায় তেমন বৈচিত্র্য আসেনি জীবন চর‌্যায় উদ্বর্তিত কৃষ্টি-সংস্কৃতির রঙ লাগেনি চাওয়া - পাওয়াটাও ছিল খুবই সীমাবদ্ধ তখন সমস্যা তেমন ভাবে দেখা দেয়নি৷ তবে লড়াইটা জারি ছিল৷ কেঊই নবাগতদের এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েনি৷ এই লড়াই সংঘর্ষ-সমিতি তো চিরকালীন ব্যাপার৷ তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পাশাপাশি হাজার হাজার বছর থাকতে থাকতে, সংঘর্ষ-সমিতি সূত্রে জলীয় দ্রবণের মত মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে৷ তারা আশ্রয়স্থলটাকে মাতৃভুমি হিসেবে গ্রহণ করছে৷ স্থানীয় অর্থনীতি -ভাষাসংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে৷ প্রকৃতিও তাদের দিয়েছে স্বতন্ত্র দেহভঙ্গিমা-আদল, জীবনধর্ম ও জাতিকসত্তা৷ গোল বেধেছে একালে স্থানীয় অঞ্চলে নবাগতদের নিয়ে৷ তারা ফেলে আসা অঞ্চলকে ও তার প্রতি আনুগত্যকে ভোলেনি ভোলেনা৷ আবার আশ্রয় নেয়া অঞ্চলকে নিজে স্বভূমি হিসেবে গ্রহণ করেনি, স্থানীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ভাষা - সংস্কৃতির সঙ্গেও একাত্ম হয়নি৷ বনষ্পতির পরগাছার মত অবস্থান করছে৷ শুধু তাই নয় জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি বহিরাগতদের কব্জায় চলে যাচ্ছে স্থানীয় ভাষা সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করছে৷ দৃষ্টান্ত কেবল বাঙলা নয় ( খোদ বাঙলাতেই বাংলা ভাষা সংস্কৃতি আজ বাত্য অর্থনীতির চাবিকাঠি ভিনদেশীদের হাতে ) দুই আমেরিকা আফ্রিকা, ওয়াশিনিয়া প্রভৃত বিস্তর উদাহরণ রয়েছে৷ তবে এই বহিরাগত তত্ত্ব এতটাই গভীরে ক্রিয়াশীল যে এর তল পাওয়া ভার৷ এটা সহজে ধরা ও চেনা কঠিন৷ আজকের পৃথিবীতে প্রধান সমস্যা যে দারিদ্র্য তার অন্যতম প্রধান কারণ স্থানীয় তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রন৷ স্থানীয় অর্থনীতি তথা বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণভোমরা হচ্ছে উৎপাদন-বণ্টন --- ভোগব্যবস্থা- পরিষেবা ও বৈজ্ঞানিক -বিচারশীল মানসিকতা৷ কিন্তু এর রিমোট কন্েন্টালার হচ্ছে বাইরের লম্বা হাত৷

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বের প্রায় সকল দেশই এই উৎকট পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কতকগুলো ব্যবস্থা নিয়ে থেকে৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে স্থায়ী বাসিন্দাদের চিহ্ণিতকরণ ও লিখিত নাগরিকত্ব ( সিটিজেনশিপ আইডেনটিটি কার্ড ) প্রদান৷ এ বিষয়ে দেশ বিশেষে নিজস্ব আইন-কানুন নিয়মাবলীও থাকে৷ প্রায় সব দেশেই জন্মসূত্র ও শর্ত সাপেক্ষ নাগরিকত্বের স্বীকৃতি বহাল রয়েছে৷ সর্বত্রই নাগরিকত্বের মূল সুরটা মোটামুটি একই৷ অর্থাৎ দেশের বা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের (স্থানীয়) স্বার্থ, অর্থনৈতিক ভাষা-সাংস্কৃতি সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া, আইন- কানুনকে মান্যতা দেয়া৷ দেশটাকে মাতৃভূমি রূপে মনে প্রাণে গ্রহন করা৷ দেশের বাসিন্দা হয়েও, খেয়ে পড়ে বড় হয়েও ভূমিপুত্র হলেও যারা তার বিপরীত মেরুতে থাকে তারাই অনাগরিক / বেনাগরিক৷ তারাই, স্থানীয় নয়, তারাই প্রকৃত বহিরাগত বলে বিবেচ্য৷ দেশের স্বার্থ নিরাপত্তার খাতিরে এরা বিপদজনক৷ তাই বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ( জিও-পলিলিক্সে ) নাগরিকত্ব ও এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেমন সংবেদনশীল তেমনি গুরুত্বপূর্ণ৷ বিষয়টা ভারতের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ৷ (চলবে)

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved