Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

এস. আই. আর – ২০২৬

একর্ষি

পূর্ব প্রকাশিতের পর, 

কিন্তু ভারতবর্ষে নাগরিকত্ব-পরিচয়-স্মারক নির্দিষ্ট কোন পত্র (কার্ড) নেই৷ এখানকার সমস্যাটাও একটু অন্য ধরণের৷ শত শত বছরের বিদেশী শাসন , পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্মমতের ও মতবাদের সহাবস্থান, ৪৪টি প্রধান জনগোষ্ঠীর বসবাস ও তাদের মুখের ভিন্ন ভিন্ন ভাষা স্বতন্ত্র সাহিত্য সংস্কৃতি রাজ্যে রাজ্যে শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈষম্য এযাবৎকাল সুনির্দিষ্ট নাগরিক সংক্রান্ত আইনের অভাব সর্র্বেপরি ধর্মের নামে ভারত ও পাকিস্থান নামে ভারতবর্ষকে (বাঙলা ও পঞ্জাবকে প্রদেশকে ) দু- ভাগ করে স্বাধীনতা লাভ৷ কার‌্যতঃ ভারত ভাগের বিনিময়ে সমকালীন ক্ষমতালোভী গদী-লোভী সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ইংরেজদের পদলেহন করে স্বাধীনতা ভিক্ষা নিয়েছে৷ উপরন্তু, স্বাধীনতা লাভের পর তথাকথিত ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন দেশটার সমস্যাগুলোকে জটিল করে তুলেছে৷ এই আবহে ভারতে এস আই আর প্রসঙ্গ৷ গণতান্ত্রিক দেশে জাতীয় স্বার্থে এস আই আর দরকার৷ আগেও হয়েছে বর্তমানেও হচ্ছেই৷ পৃথিবীর সব দেশেই হয়ে থাকে চলনও রয়েছে৷ কথাটা তা নয়৷ কথা হচ্ছে যে পদ্ধতিতে যে লক্ষ্য নিয়ে ( মোটিভ -এ) বর্তমানে এস আই আর হচ্ছে তা নিয়ে৷ হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে সরকার আপামর ভারতীয় জনগণের সরকার নয়, উদ্দেশ্য জাতীয় স্বার্থ নয়৷ তাছাড়া ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যে এস আই আর লাগু হলেও খণ্ডিত বাঙলার পূর্ব পাড়ের খণ্ডটার সমস্যাটা যে আলাদা তাকে গ্রাহ্য করা হয়নি কোন গুরুত্বও দেয়া হয়নি৷ এটা অবশ্য প্রথমাবধিই বিরোধীদের নানা অভিযোগের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে৷

দেশী-বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীরা স্বীকার না করলেও তাদের কাছে আতঙ্কের অপ্রিয় সত্য ও তথ্য হ’’ল বাঙালী পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী৷ বাঙলা ভাষাভাষীর সংখ্যা ও স্থান মান্দারিণ ভাষীদের পরেই৷ বিশ্বের প্রধান ভাষাগুলোর মধ্যে সম্ভাবনার ( প্রোটেনোয়ালিটি) বিচারে বাংলা ভাষার স্থান পথম বর্তমানে -- সাহিত্য সম্ভারের বিচারে চতুর্থ৷ বাঙলা চিরকালই বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী, অতুল ঐশ্বর‌্যের দেশ৷ কী নেই এখানে ! আধুনিক মানুষের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরণের সম্পদই রয়েছে বাঙলায়৷ বাঙালী কেবল বুদ্ধিমান জাতি নয় সামরিকজাতিও বটে৷ গঙ্গারিডির সামরিক বলের ভয়েই গ্রীকবীর আলেকজাণ্ডার আর এগোতে ভরসা পাননি৷ যে আরবীয় যোদ্ধারা হেলায় ইউরোপ অবধি জয় করেছিল তাদের সারা ভারত দখল করতে ১১০০বছর চেষ্টা করতে হয়েছিল৷ স্মরণীয় উত্তর-পশ্চিম-মধ্য ভারত জয়ের পরও আরো প্রায় কয়েকশ বছর সময় লেগেছে বাঙলা জয় করতে তাও বাঙালীর অনৈক্যের সুরঙ্গ দিয়ে৷ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সব চেয়ে বেশী আত্মবলিদান দিয়েছে বাঙালী৷ ধর্মমতকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ছুরি দিয়ে বাঙলা ভাগ করা হলেও পূর্ব পশ্চিম দুই পাড়ের মানুষেরই অর্থনৈতিক স্বার্থ এক ভাষা সংস্কৃতি এক চেহারায় আদলে এক জীবনধর্মও এক৷ ধর্মমতের পরিচয়টা বাইরের পোশাক মাত্র৷ মনটা আবেগটা তো গড় বাঙালীর একই রকম বিশিষ্ট৷ বলাবাহুল্য সাম্প্রতিক উগ্রপন্থীদের বিরোধ সত্ত্বেও ধর্ম চেতনায়ও বাঙ্গালী স্বতন্ত্র স্বরাট৷ বাঙালীর ধর্ম মানবধর্ম৷ দার্শনিক পরিভাষায় বৃহতের প্রতি এষণাআব্রহ্মস্তম্ব ( জগতের সমস্ত মানুষ বা যা কিছু --- অর্থাৎ ঈশ্বর থেকে শুরু করে সাধারণ ’’ স্তম্ব ’’ ---অর্থাৎ ঘাসের পাত - - এ সমস্তই পরমাত্মার বিকাশ)৷ বৌদ্ধ ধর্ম, ইসলাম ধর্ম জৈন ধর্ম খীষ্ট ধর্ম অন্যান্য সংখ্যা লঘু ধর্ম ও তথাকথিত হিন্দুধর্ম কোনোটাই বাঙালীর মাটির বা জীবনের ধর্ম নয়৷ ঈ আর‌্যরা সিন্ধুতীরে এসেই প্রথম বসতি স্থাপন করে৷ সিন্ধু বাসীরাই হিন্দু বলে পরিচিত হয়, আর সিন্ধু অববাহিকা অঞ্চলই হিন্দুস্থান নামে প্রসার লাভ করে৷ ব্রাহ্মণ্যধর্ম তথা আর‌্যধর্মমতকেই ধর্ম ব্যবসায়ীরা হিন্দু ধর্ম বলে চালিয়ে দিয়েছে৷ (যেখানে গো- ব্রাহ্মণ-বেদ পূজ্য )ঋ৷ তাই কোনো ধর্মমতই বাঙালীর কল্যাণ করেনি৷ এগুলো যুগে যুগে বাঙালীর সর্বনাশ করেছে৷ সর্বনাশের পালা শুরু হয়েছে বৌদ্ধযুগ থেকে, তা আজো হিন্দু- ইসলামের ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে এপার ওপার দুই বাঙলাতেই চলছে৷ এখন বাঙালীস্থান তথা অখণ্ড বাঙলা জুড়ে যা ঘটছে তা দেশী বিদেশী সাম্রাজ্যবাদ বিশেষ করে আরবীয় ভাষা -সংস্কৃতি- ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ ও আর‌্যাবর্তীয় ভাষা-সাংস্কৃতিক- ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ -পরোক্ষ অঙ্গুলি হেলনে৷ সভ্য আধুনিক, শ্রেষ্ঠ ও মানবিক ধবজার পট্টিবাঁধা বর্ণচোরা, সম্পদলোভী সাম্রাজ্যবাদীরা বাঙলার এই ট্র্যাক রেকর্ড ও ঐতিহাসিক সত্য ও তথ্যগুলো মেনেনিতে পারেনা, সহ্য করতেও পারেনা ইর্ষায় আগুনে জ্বলে পুড়ে মরে৷ ওদের সমস্যাটা এখানে৷ বাঙলায় এস আই আর এর বর্তমান কর্মকাণ্ড তারই সংকেত বহন করছে৷

এস আই আর সাধারণত লাগু হয় মৃত, এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া,নিরুদ্দেশ হুয়ে যাওয়া ও নানা কারণে স্থানান্ত্ররিত হয়ে ভোটার হওয়া নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া এবং নোতুন ভোটার দের নাম তোলা, ভোটার তালিকা কে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা৷ কিন্তু ২০২৬ এর ভোটের আগে বাঙলায় চলতি এস আই আর যজ্ঞ যে ভাবে হাঁকডাক করে চলছে তাতে এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধি পরিষ্কার৷ এই অভিসন্ধি ধরতে হলে বাঙলা ও বাঙালী সংক্রান্ত কিছু তথ্যের দিকে নজর দেয়া দরকার৷ ১৯৪৭ সালের বাঙলা ভাগের অনেক আগে থেকেই ব্রিটিশ তার সাম্রাজ্যবাদী তথা ঐপনিবেশিক স্বার্থে আদি-অখণ্ড- ভৌগোলিক তথা প্রাকৃতিক বাঙলাকে টুকরো করা শুরু করেছিল৷ ভঙ্গবঙ্গের কফিনে ব্রিটিশ শেষ পেরেকটা পোঁতে ১৯৪৭ -এর ১৫ই আগষ্ট৷ ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকেনি স্বাধীনতার পর আর‌্যাবর্তীয় সাম্রাজ্যবাদ খেয়াল খুশি মত সেই খণ্ডগুলো আরো খণ্ড খণ্ড করে ১৯৫৬ সনে রাজ্য পুনর্গঠনের নামে৷ একটা ঐতিহ্যমণ্ডিত সুপ্রাচীন ( কম পক্ষে পাঁচ হাজার বছরের ) দেশকে এমন ছিন্নভিন্ন করার নজির বিশ্বের ইতিহাসেই নেই৷---

ব্রিটিশ ১৯১২ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ব্যর্থতা মেটাতে সুবা বাঙলা থেকে বিহার নামে পৃথক প্রদেশ গঠন করে৷ আদি বাঙলার সিঙ্গভূম মানভূম ধবভূম, পূর্ণিয়াদি বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চল বিহারের সঙ্গে জড়ে দিয়েছে ৷ ২০০০ সালে এই বিহার কেটে ঝাড়খন্ড রাজ্য গঠন হল৷ অথচ এই রাজ্যের ১৮টি জেলার মধ্যে ১১টি জেলাই বাঙলার ও বাঙালী অধ্যুষিত৷ সেই তথ্য অগ্রাহ্য করা হল৷

১৯৩৬ সালে উড়িষ্যা পৃথক প্রদেশ হিসেবে তৈরি হয়৷ অথচ ময়ূরভজ্ঞ,কেয়নঝড়- এর মত সুপ্রাচীন রাঢ়বঙ্গের বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চল গুলো ওড়িষ্যায় ঢুকিয়ে দেয়া হল৷

১৮২৬ সালে অসমকে ব্রিটিশ ভারতের ব্রিটিশ ভারতের অধীনে পৃথক প্রদেশ রূপে ঘোষণা করা হয়৷ ১৯৪৭ সালে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আসে৷ তবে বাঙলার ও বাঙালী অধ্যুষিত কাছাড় গোয়ালপাড়া লামডিইং জোহাই, মিকির পাহাড়ের সমতল অংশ আসাম রাখা হল৷

পরবর্তী কালে আসাম কেটে--* ১৯৬৩ সালে মেঘালয় নামে স্বয়ত্বশাসিত অঞ্চল ও ১৯৭২ সালে পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হয়৷ এখানেও আসাম ভুক্ত বাঙলার অঞ্চল মেঘালয়ে চলে গেল৷ * ১৯৭২ সালে অরুণাচল প্রদেশ নামে কেন্দ্রশাসিত গঠিত হয়, ১৯৮৭ তে হয় পূর্ণাঙ্গ রাজ্য৷ এখানেও আদি বাঙলার কিছু অঞ্চল চলান করা হল৷ মণিপুর --- ১৯৭১ সালে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে মর‌্যাদা পায়৷ এখানেও অখণ্ড বাঙলার কিছু অংশ থেকে গেল ৷

ত্রিপুরা রাজ্যটাই প্রাচীন বাঙলার পঞ্চগৌড়ের এক গৌড় শ্রীভূমি’’ র মূলত পাহাড়ী অংশ৷ বাকিটা শিলেট নামে বর্তমান বাঙ্গলাদেশে৷ এখনো ত্রিপুরার সিংহভাগ অধিবাসীই বাঙালী৷ রাজ্যটি ভারতের ১৯৭১ এ পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর‌্যাদা পায়৷৷

এইযে দফায় দফায় বঙ্গভঙ্গ --- এর অনিবার‌্য ফলাফল বাঙলা বাঙালীর ওপর যা বর্তাল তা শুধু বিষ্ময়করই নয় এক কথায় ভয়াবহ৷ বাঙালী জাতিসত্তার বা বাঙালী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব বাসভূমি বলে কিছু থাকল না৷ ছোট খণ্ডগুলিতে বাঙালীত্বের কোন স্বীকৃতি নেই৷ পূর্ববঙ্গ যেন কোথাকার কোন মুসলিমদের দেশ বাঙালী সত্তা অবাঞ্ছিত৷ হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের কোন জায়গা নেই৷ ’’৪৭ থেকে আজো বার বার তাই প্রমান হচ্ছে৷ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ? উত্তরটা বানিয়ে দেয়া হয়েছে৷ বিহার বিহারীদের উড়িষ্যা ওড্ডদের পঞ্জাব পাঞ্জাবীদের গুজরাট গুজরাটিদের, মহারাষ্ট্র মারাঠীদের, আসাম অহমদের ,আর পশ্চিমবঙ্গ যেন বাঙালী বাদে বাদবাকী ভারতীয়দের নিজস্ব ভূমি৷ যেমন খুশি থাকা যায় লুটেপুটে খাওয়া যায়৷ অর্থাৎ বাঙালী ৫০০০ বছরেরও অধিক কালের ভূমিপুত হয়েও রাষ্টহীন, বিদেশী৷ ভারতবর্ষ জুড়ে বাঙলাদেশী সন্দেহে বাঙালী নির‌্যাতন- বিতাড়ন চলছে৷ আর‌্যাবর্তীয় আধিপত্যবাদীরা ও তাদের উচ্ছিষ্টভোজী দালালরা মায় কেন্দ্রীয় সরকার মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে৷ ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আর‌্যাবর্তীয় সাম্রাজ্যবাদের পোষ্য ইলেকশন কমিশন সেই পথেই হাটছে৷এস আই আর একটা বড় হাতিয়ার করেছে৷ একটা ঐতিহাসিক তথ্য এর বড় প্রমাণ৷ তড়িঘড়ি গোদির লোভী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভাগ বাটোয়ারা করে স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে অর্থাৎ৷ ১৯৪৬ সালের বোম্বাই কংগ্রেসে একটা ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন যে ধর্মের কারণে নির‌্যাতনের বলী হয়ে যখনই হিন্দুরা এপারে আসুকনা কেন সাদরে ভারতের নাগরিক হিসেবে গন্য করা হবে৷ কিন্তু স্বাধীন্তার পরপরই তা ভুলে যাওয়া হল৷ এই ঐতিহাসিক বিস্মৃতির ও বিশ্বাস হন্তার মাসুল গুণতে হচ্ছে বাঙালীকে৷

দুর্ভাগ্যের বিষয় বাঙালী কেবল অতীত-স্মৃতি বাঙালী কেবল অতীত-স্মৃতি বিস্মৃত বা আত্মস্মৃতি বিস্মৃতই নয়, নিজের প্রকৃত ইতিহাস-ভূগোল বিস্মৃতও বটে৷ বিশ্বের একটা সম্বিত হারা জনগোষ্ঠী৷ এই সম্বিত ফেরা দরকার মনে রাখাও দরকার৷ প্রকৃতির অকৃপণ দানে বাঙালী পেয়েছে লক্ষ লক্ষ বছরের তিল তিল করে গড়া মহাভুমি তথা বঙ্গ বেসিন বা ভৌগোলিক এলাকা - চৌহদ্দি৷( উত্তরে হিমালয় দক্ষণে বঙ্গোপসাগর চিল্কাহ্রদ থেকে নাফ নদীর মোহানা, পূর্বে ব্রহ্মদেশ, পশ্চিমে কোশী নদী- রাজমহল পাহাড়-মহানদী )৷ নয় নয় করে পাঁচ হাজার বছরের বহু কাল আগে থেকেই প্রকৃতি বাঙালীকে দিয়েছে স্বতন্ত্র জাতিক সত্তা ও আইডেনটিটি স্বভাবে ও দেহ ভঙ্গিমা -আদলে বিশেষত্ব-স্বকীয়তা একথায় বাঙ্গালীয়ানা৷ কালে কালে নানা রাজনৈতিক ভাঙাগড়া উত্থান-পতন ঘটলেও বঙ্গমহাভূমিটি মাটির গুণ পরিচয় বাঙলা৷ আর এই মাটির ভূমিপুত্ররা তথা শঙ্কর জনগোষ্ঠীটা ভৌম বৈশিষ্ট্যে অর্থাৎ বুঝত না৷ এস আই আর-এ দ্রষ্টব্য ইলেকশন কমিশনের মান্য ১১টি নথির তালিকা দেখলে এটাই পরিস্কার যে মানুষের এই অক্ষমতাকেই মূন্ধন করেছে কমিশন৷

বঙ্গমহাভূমির যে খণ্ডেই হোকনা কেন বাঙালী চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি চলে এসেছে বা আসছে৷ এটা যে বাপের জায়গা এখানে মাটি কামড়ে পড়ে থাকাটা প্রকৃতিওদত্ত অধিকার ও জন্মগত অধিকার --এই দৃঢ়তায় অধিকার রক্ষায় লড়াই করেনি৷ তৎকালন কেন্দ্রীয় ভণ্ড নেতাদের পুনর্বাসনের সুরক্ষার নিরাপত্তার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সরল বিশ্বাস করে নিজের এলাকে ছেড়ে এসে বাঙালী মরেছে ( ’’৪৭-এ ওপাড়ে যে হিন্দু বাঙালীর সংখ্যা ছিল ৪৩ শতাংশ ওখানে সেই হিন্দু বাঙালী এখন মাত্র ৭ শতাংশ)৷ এটাই বাঙালীর বড় অপরাধ৷ আজ তারই মাশুল গুনতে হচ্ছে নিজেকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে সে ভারতের নাগরিক কিনা! একই জাঁতাকলে আসামে লক্ষ লক্ষ বাঙালীকে ডিটেনশন ক্যাম্পে গরু-ছাগলের মত বেনাগরিক হয়ে বন্দীদশায় কাটাতে হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গে এস আর আই এর আড়ালে তারই মহড়া চলছে না তো? এস আই আর -এ হিয়ারিং এ দেখানোর জন্যে যে এগার দফা নথির তালিকা বেঁধে দেয়া হয়েছে তা এপার বাঙলায় আসা অধিকাংশ মানুষের নেই৷ যা প্রায় সবার আছে তা কমিশন মান্যতা দেয়নি৷ এমন কি সরকারের দেয়া এমন কিছু নথিও যা নির্বাচন কমিশন হেয়রিং এর জন্যে বৈধতা দিয়েছিল তাও বাতিল করেছে৷ বাংলার বি-গ্রেড অধিকারিকদের দেয়া নথি গ্রাহ্য নয়৷ আরো অবাক করার বিষয় হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন যখনই দেখছে কোন একটা নথি অনেকেরই কাছে থাকার সম্ভবনা আছে দফার অন্তর্ভুক্ত করেনি৷ এস আই আর নিয়ে ওমনি তা অবৈধ বলে বাতিল করছে নির্বাচন কমিশন যা খামখেয়ালিপনা করছে তা মহম্মদ বিন তুগলঘের তুগলঘিপনাকেও হার মানায়৷ বস্তুতঃ মূল ভোটার লিষ্টে কোন ভোটারের নাম থাকবে কি থাকবে না ভোটারটি ভারতের নাগরিক কী নাগরিক নয়--- তা নির্ভর করছে ভোটারের যুক্তিগ্রাহ্য নথি অথবা ভোটারের সামাজিক-রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রনৈতিক নৈতিক অবস্থার ওপর নয় নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের মর্জির ওপর৷ কার্যতঃ এস আই আর নামে বাঙলার বৈধ ভোটারদের আজন্ম নাগরিকদের, ভূমিপুত্র-কণ্যাদের ডি-ভোটার অনুপ্রবেশকারী --- বিদেশী, রাষ্ট্রহীন প্রতিপন্ন করার মহাযজ্ঞ চলছে৷ এস আই আর ধরণ ধারণ গণতান্ত্রিক বা প্রজাতান্ত্রিক তো নয়ই, যেন সাম্রাজ্যবাদী ঐপনিবেশিক ! পশ্চিমবঙ্গ যেন দিল্লীর আর‌্যাবর্তীয় ভারতের উপনিবেশ৷ তাই বাঙালীকে সগৌরবে বাঁচতে হলে জাতি-বর্ণ-ধর্ম রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে বাঙালী জাতিসত্তাকে আশ্রয় করে আর্যাবর্তের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিবাদে মুখর হওয়া আশু প্রয়োজন৷ (সমাপ্ত )

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved