শীর্ষ আদালত থেকে রাজপথ এস.আই.আর নিয়ে গুলজার সর্বত্র৷ ইতিমধ্যে আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছে বেশ কয়েকজন৷ কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথে বি.এল.ওরাও৷ পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও নির্বাচন কমিশনারের অমানবিক সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে বি.এল.ও. রা৷ গত ২৫শে নভেম্বর উত্তরপ্রদেশে ২৫ বছরের এক যুবক সাসপেণ্ড হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে৷ ওই যুবকের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরে৷
পরিবার সূত্রে জানা যায় ওই যুবকের নাম সুধীর কুমার৷ তিনি সরকারী কর্মচারী৷ গত ২৬শে নভেম্বর তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল৷ সেই কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্বাচন কমিশনারের ডাকা ২৩শে নভেম্বরের বৈঠকে তিনি যোগ দিতে পারেননি৷ ২৫ তারিখ সকালে এক আধিকারিক তাঁর বাড়িতে এসে বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কারণে সাসপেণ্ডের কথা জানিয়ে যান সুধীরকে৷ এরপরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সুধীর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন৷ পরিবারের অভিযোগ কমিশনারের হেনস্থার কারণেই সুধীর বিয়ের আগের দিনই আত্মহত্যা করেছে৷
পশ্চিমবঙ্গেও কাজের চাপ সামাল দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বি.এল.ওরা৷ বনগাঁ গোপাল নগর-১ পঞ্চায়েতের বি.এল.ও সুশান্ত টিকাদার মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হন৷ তাঁকে প্রথমে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কল্যাণী গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তিনি সেখানেই চিকিৎসারত আছেন৷ দক্ষিণ ২৪পরগণা জেলার নামখানা ব্লকের বি.এল.ও প্রধান শিক্ষক দেবাশিষ দাস ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্ত্তি হন৷ কিন্তু সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে ডায়মণ্ড হারবারে এক বেসরকারী হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়৷
পশ্চিমবঙ্গেও মৃত্যুর মিছিলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিও সক্রীয়৷ গত ২৬ তারিখে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির নেতারা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্ত হয় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে৷ ২৫শে নভেম্বর বনগাঁর মতুয়া গড়ে এক বিশাল জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হুংকার দিয়ে বলেন--- আঘাতের পর প্রত্যাঘাত থাকে৷ আমার খেলা ধরা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না৷ তিনি বলেন---বিহার যে খেলা ধরতে পারেনি আমরা বিজেপির সেই খেলা ধরে ফেলেছি৷